বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

প্রেমময়,,,,,,, পর্ব(৮)

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md mainul islam (sagor) (০ পয়েন্ট)

X লেখিকা - Polok Hossain পলক হোসাইন ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~ নিহিলা রুমের দরজা আটকে বসে আছে।বের হতে ইচ্ছে করছে না।সে বাড়তি কথা বলার মেয়ে না কিন্তু আজ কিভাবে যেন হেমন্ত ছেলেটির সাথে একটু বেশী-ই কথা বলে ফেলেছে।কতোগুলো ফালতু টাইপ প্রশ্নও করে ফেলেছে।কিন্তু ভাববার বিষয় ছেলেটি কি সত্যি-ই কিছু মনে করে নি!নাকি শুধু মুখেই বলেছে সে কিছু মনে করে নি কিন্তু মনের ভেতর একরাশ রাগ জড়ো করে রেখেছে।এসব বলা হয়তো ঠিক হয় নি।ভালো পরিবারের ছেলেরা কুচরিত্র হতে পারে না কখনোই।হেমন্ত ছেলেটিকে তার ভালো লেগেছে।হাসিখুশি শান্ত মেজাজের ছেলে।কয়েক মিনিটে এইটুকুই চেনা হয়েছে। নিহিলার রুমের দরজা কে যেন ধাক্কাচ্ছে।নিহিলা দরজা খুলে দেখলো মা রোকসানা এসেছেন।এসেই হাসি হাসি মুখ নিয়ে নিহিলাকে বললেন- -কি রে ছেলেটা কখন এসেছে? -আধা ঘন্টার মতো তো হবেই। -একটা ফোন করলি না কেন?আমরা তাড়াতাড়ি চলে আসতাম। -তাড়াতাড়ি আসলে কি হতো? -তোর বুদ্ধিশুদ্ধি কি সব গেছে নাকি!তাড়াতাড়ি আসলে কি হতো মানে!জামাই সাদর করবো না? -জামাই বলছো কেন?এখনো বিয়ে হয় নি মা। -বিয়ে হয় নি কিন্তু হবে তো। -বিয়ের পরই তাকে জামাই ডেকো। রোকসানা লক্ষ্য করলেন নিহিলার পরনের জামাটা পুরোনো ও খুব বেশী ময়লা দেখাচ্ছে।তিনি বললেন- -শোন,পরনেই এই জামাটা বদলে নে। -কেন এই জামাটা কি দোষ করেছে? -পুরোনো আর ময়লা দেখাচ্ছে।জামাইয়ের সামনে এই জামা পরে যাবি না।নতুন একটা জামা বের করে নে আলমারি থেকে। -কিছুক্ষণ আগে এই জামা পরেই তো চা দিয়ে এসেছিলাম তাকে। -তখন যা হবার হয়েছে।এখন আর এই জামা পরে জামাইয়ের সামনে যাবি না।অন্য একটা জামা পরে নে জলদি। -কিন্তু মা.. রোকসানা ভ্রু কুঁচকে মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন- -বেশী বাড়াবাড়ি করিস না।যা বলেছি তা কর। -আচ্ছা।ঠিকাছে।খুশি হয়েছো এখন? রোকসানা এইবার শান্ত হয়ে বললেন- -রাগ করেছিস পাগলী? নিহিলা অন্য দিকে তাকিয়ে না সূচক মাথা নাড়ালো।রোকসানা বললেন- -তোকে নিয়ে খুব বেশি ভয়ে থাকি।আমি চাই না এই বিয়ে নিয়ে কোনো কিছু উঁচু নিচু হোক। -এসব চিন্তা করবে না তো মা।এইগুলো বাজে চিন্তা। -ঠিকাছে করবো না।তুই ঝটপট কপড় বদলে আয়। নিহিলাকে বাধ্য হয়ে একটি নতুন জামা বের করে পরে নিতে হলো।সালোয়ারকামিজে সাদা আর নীল রঙের মিশ্রণ। . . অরনিতা সবজি রান্না করছে।চুলায় সবজি আর কড়াইয়ের খেলা চলছে।বেশ আগ্রহ নিয়ে রাঁধছে সে।পাশে হালিমা দাঁড়িয়ে আছে।অরনিতা হালিমাকে বললো- -এখন কি করতে হবে? হালিমা বললো- -লবন দেন। -দিলাম এরপর? -মশলা ঢাইলা,আরেকটু পানি মিশাইয়া নেন। -সব কিছু ঠিকঠাক মতো করছি তো আমি? -জ্বে। -থ্যাংক গড।ভাগ্যিস তোমার মতো একজনকে আমি এই বাড়িতে পেয়েছি।নয়তো আমাকে এতো কিছু শিখিয়ে দিতো কে!তুমি না থাকলে হয়তো রুনা আন্টি শেখাতেন।কিন্তু রুনা আন্টির কাছে রান্না শিখতে আমি আনইজি ফিল করতাম।কারন সে আমার শাশুড়ি।আর শাশুড়ি মানুষ কখন কোন বিষয়ে মাইন্ড করে বসেন তা বোঝা কঠিন। হালিমা কিছুই বললো না।শুধু পিট পিট করে তাকিয়ে অরনিতার কথা শুনে গেলো।অরনিতা আবার বললো- -আমার ছোট বোনের নাম কাশফিয়া।আমি আর কাশফিয়া তিনটা জিনিস খুব ভালোভাবে করতে পারি।একটা হচ্ছে নুডুলস বানাতে,আরেকটা ডিম ভাজতে আর চা বানাতে।এই তিনটা জিনিস আমাদের দুই বোনের জন্য প্রধান খাবার।যেদিন রাত জেগে মুভি দেখতে গিয়ে ঘুমাতে ঘুমাতে দুইটা আড়াইটার মতো বেজে যেতো তখন রাত করে আমাদের খুব ক্ষুদা পেতো আর আমরা দুইবোন মিলে লুকিয়ে রান্নাঘরে গিয়ে নুডলস বানিয়ে খেতাম। হালিমা চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে।অরনিতা কড়াইয়ে তরকারি নাড়তে নাড়তে বললো- -আমি মনে হয় একটু বেশীই বক বক করে ফেলছি।তোমার হয়তো শুনতে বোরিং লাগছে।তাই না হালিমা? হালিমা কিছু বলার আগেই রুনা আসলেন।তিনি হালিমাকে ডেকে নিয়ে গেলেন।হয়তো কাজের জন্যই ডেকেছেন। চুলায় বসানো তরকারিটা প্রায় হয়ে এসেছে।এই মুহূর্তে উদয়ের কণ্ঠস্বর শোনা গেল।এইবার 'অরু' 'অরু' বলে ডাকছে।অরনিতা কড়াই চুলো থেকে নামিয়ে রুমে গেলো। উদয় শার্ট জিন্স পরে কোথাও যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।অরনিতা এসে বললো- -কি হয়েছে?আজ সকাল থেকেই দেখছি ডাকাডাকি করে যাচ্ছেন আমাকে। -কারন ছাড়া আমি তোমাকে নিশ্চিয়ই ডাকবো না। -বলুন কি হয়েছে?আমার হাতে সময় নেই।তিন মিনিটের মাথায় যা বলার বলে ফেলুন।আমি রান্নার জরুরি কাজে আছি। -ঠিকাছে,অরু।চটজলদি রান্না সেড়ে আসো। -আমাকে বার বার 'অরু' বলে ডাকছেন কেন?এই নামে আমাকে ডাকতে পারবেন না। -ঠিকাছে।অরনিতা,তুমি রান্না সেরে আসো জলদি। -জলদি কেন?কাজ করতে হয় ধীরে ধীরে। -তোমাকে এক জায়গায় নিয়ে যাবো। -সেটা কোথায়? -আমি যেখানে যাচ্ছি সেখানে। -আপনি কোথায় যাচ্ছেন? -প্রশ্ন করা বন্ধ করো হিটলার মহাশয়া।এইটা সিক্রেট।যখন যাবে তখনি জানবে। অরনিতা অবাক হলো না।স্বামী তার স্ত্রীকে কোথাও ঘুরতে নিয়ে যেতে চাইবে এইটাই তো স্বাভাবিক।অরনিতা বললো- -ঠিকাছে।আপনি একটু অপেক্ষা করুন।আমি কাজ সেরে আসছি। -কি কাজ করছো? -রান্না করছিলাম।হালিমা আমাকে রান্না শিখাচ্ছে। -বাহ...ভালো কাজ।রান্না পুরোপুরি শিখে গেলে আমি তোমাকে পুরস্কার দেব।পুরস্কার হিসেবে থাকবে 'মিসেস হিটলার রন্ধন গোল্ড মেডেল'। -আপনি কি মজা করছেন আমার সাথে?কেউ যদি কোনো নতুন কাজে আগ্রহ প্রকাশ করে তবে তাকে ইন্সপায়ার করা উচিত। -আমি তো তাই করলাম।পুরস্কার পাওয়া কি সম্মানের ব্যাপার না? -আপনি আমাকে তিরস্কার করে বলেছেন।তিরস্কার করে বলা মোটেও সম্মানের ব্যাপার না। -ঠিকাছে।আর তোমাকে তিরস্কার করবো না।এইবার কাজ সেরে আসো।কথা বলে অর্ধেক সময় পার করে দিচ্ছ।এখন দ্রুত যাও এবং দ্রুত আসো। . অরনিতা হলুদ রঙের একটি শাড়ি পরলো।উদয় তাকিয়ে দেখলো খোলা চুল আর হলুদ শাড়িতে কেমন যেন সাদামাটা দেখাচ্ছে অরনিতাকে।মনে হচ্ছে কিছু একটা বাদ পরেছে।কিছু একটা বললে ভুল হবে।অনেক কিছুই বাদ পরেছে।আয়নায় দাঁড়িয়ে চুল আছড়াচ্ছে অরনিতা।আয়নায় উদয়কে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।হঠাৎ অরনিতার চোখে পরলো উদয় ওর দিকেই অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।কেউ এইভাবে তাকিয়ে থাকলে কেমন যেন অস্বস্তি লাগে।অরনিতারও এমনটাই লাগছে।অরনিতা উদয়ের ঘোর কাটানোর চেষ্টা করে বললো- -চলুন ঝগড়া করি। এই বলে নিজে নিজেই হেসে দিলো। কিন্তু উদয় আগের মতোই তাকিয়ে রইলো অরনিতার দিকে।অরনিতা তা লক্ষ্য করতেই হাসি থামিয়ে দিলো।উদয় এইবার অরনিতাকে চমকে দিয়ে বললো- -তোমরা মেয়েরা চোখের উপরে কিসের যেন রেখা একে রাখো।ওইটার নাম কি? অরনিতা আয়নার দিকে তাকিয়ে উদয়কে জবাব দিলো- -কাজল -তুমি চোখে কাজল দিচ্ছ না কেন? -কাজল চোখে আমাকে ভালো দেখায় না। -কে বলেছে তোমাকে?আমার কাছে ভালো দেখালেই হলো।আর কারো কাছে ভালো লাগাতে হবে না তোমাকে। অরনিতা চোখে কাজল একে নিলো।অরনিতা যতোক্ষন পর্যন্ত আয়নার দিকে তাকিয়ে কাজল লাগিয়ে গেলো উদয় ঠিক ততোক্ষণ পর্যন্তই অরনিতার দিকে তাকিয়ে রইলো।তার কাছে মনে হচ্ছে সে যেন একটি ছবি দেখছে।ক্যানভাসে আঁকা একটি সুন্দরী রমণীর ছবি।ছবিতে হলুদ রঙ ছিটিয়ে শাড়ি আঁকা হয়েছে।চোখ সরু করে আঁকা হয়েছে যেন কাজল মাখা মায়াবতী এক জোড়া চোখ।আরেকটা জিনিস বাদ পরেছে।কিন্তু এইবার কোন জিনিসটা বাদ পরলো ধরতে একটু সময় লাগছে।উদয় বললো- -অরনিতা, -বলুন.. -কপালে একটি টিপ পরো।লাল বা কালো রঙের। -টিপ নেই।থাকলে পরতাম। -রেডি হয়েছো?নাকি আরও কিছুক্ষণ সময় লাগবে? -আমি রেডি। -তাহলে চলো।আমারা সন্ধ্যার আগে বাড়ি ফিরবো না। -আমরা যে বাহিরে বের হচ্ছি তা কি রুনা আন্টি জানেন? -হু।জানেন।তোমাকে বাহিরে কোথাও নিয়ে যাওয়ার কথা মা নিজেই আমাকে বলেছেন। -কোথায় যাচ্ছি আমরা সেইটা তো বলুন। -আগেই বলেছি,এখন কিছু বলা যাবে না।সিক্রেট এন্ড সারপ্রাইজ। অরনিতা অবাক হয়ে তাকিয়ে বললো- -ঠিকাছে চলুন।আপনার সিক্রেট এন্ড সারপ্রাইজ আমিও দেখতে চাই। . . একটি রিকশা ডাকা হলো।রিকশায় দুইজন বসে পরলো।রিকশার হুড নষ্ট।তাই আর টেনে বসা সম্ভব হলো না।রিকশা একটু দূর এগুতেই উদয় রিকশাওয়ালাকে উদ্দেশ্য করে বললো- -এইখানেই থামিয়ে দিন। অরনিতা বললো- -রাস্তার মাঝখানে রিকশা থামাতে বলছেন কেন? -রাস্তার মাঝখান না এইটা।এইটা রাস্তার কিনারা। -এইখানে রিকশা থামাতে বলার কারন? উদয় কিছু না বলেই রিকশা থেকে নেমে পরলো।আর রিকশাওয়ালাকে বললো- -এইখানে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। অরনিতা বললো- -বলুন তো আপনার উদ্দেশ্যটা কি?আমার তো মনে হচ্ছে একটা সাংঘাতিক মতলব আছে আপনার। -তুমি আমার বিবাহিত স্ত্রী।তোমাকে নিয়ে আমার সাংঘাতিক মতলব হতে যাবে কেন? -টেলিভিশনের ক্রাইম ফিকশন প্রোগ্রামগুলোতে এইরকম অহরহ কাহিনী দেখা যায়।স্বামী তার নতুন বধুকে বাড়ি থেকে ঘুরতে যাওয়ার ওজুহাত করে খালি প্রাঙ্গণে নিয়ে সাত টুকরো করে ফেলেছে। উদয় বললো- -এর মানে তুমি আমাকে খুনি ভাবছো? -তাহলেকি প্রেমিক ভাববো?অবশ্য এখনকার প্রেমিকদেরও ভরসা নেই।প্রেমের নামে প্রেমিকার সাথে যা তা করে। উদয় কিছু বললো না।রাস্তার পাশে ফুচকাওয়ালা বসেছে।উদয় ফুচকাওয়ালার পাশে দাঁড়িয়ে বললো- -দুই প্লেট ফুচকা বানান। অরনিতা আমতা আমতা করে বললো- -এই কারনেই এইখানে রিকশা থামাতে বলেছেন? উদয় ভাব ধরে বললো- -এই দেখো,তোমার খুনি তোমাকে ফুচকা খাওয়াতে নিয়ে এসেছে।দারুন না ব্যাপারটা? অরনিতা অপরাধীর মতো তাকিয়ে রইলো।উদয় বললো- -মেইন সারপ্রাইজ এইটা না।যাই হোক,মেয়েরা ফুচকা খেতে বেশী পছন্দ করে।যেহেতু তুমি আমার লাইফের সাতানব্বই তম মেয়ে সেহেতু মেয়েদের পছন্দ অপছন্দ সম্পর্কে আমার ধারণা আছে। -অন্যান্য মেয়েদের মতো আমাকে যদি ফুচকা প্রেমী মেয়ে ভাবেন তাহলে সেইটা আপনার ভুল ধরণা। -তুমি বলতে চাইছো তুমি বাকি মেয়েদের থেকে আলাদা।এইতো? -জী। উদয় হাসলো।উদয়ের হাসি শুনে খুব বেশী রাগ লাগছে।অরনিতাকে রাগানোর জন্যই হয়তো এই হাসিটাকে বার বার ব্যবহার করে সে। এক প্লেট ফুচকা এক হাতে নিয়ে অন্য প্লেট অরনিতাকে এগিয়ে দিলো উদয়। অরনিতা অর্ধেকটা খেলো।উদয় বললো- -বাকিটুকু রেখে দিলে কেন? -ফুচকা আমি খেতে পারি না।বেশী খেলে আমার বমি আসে। -তুমি সত্যি-ই অদ্ভুত মেয়ে। -আমি পুরোপুরি অদ্ভুত টাইপের মেয়ে।এখন হয়তো কিছু অংশ আবিষ্কার করতে পেরেছেন।বাকি অংশ ধীরে ধীরে আবিষ্কার করে নিবেন। -ঠিকাছে।তোমাকে এইবার রিয়েল সারপ্রাইজটা দেখাতে নিয়ে যাই।চলো.. -আবার কোন সারপ্রাইজ? -এইবার হবে খুনখারাবি।যেমনট া তুমি ক্রাইম ফিকশনে দেখো।ঠিক সেইরকমটা। এই বলে উদয় হাসতে লাগলো।অরনিতা রেগে গিয়ে বললো- -আমি তখন আপনার সাথে মজা করেছিলাম।তাই বলে এই একটা কথা নিয়ে মজা উড়াবেন এইটা ঠিক না। দাড় করানো রিকশাটায় আবার উঠে পরলো উদয়।সাথে অরনিতাও। রিকশা পৌছলো মুন ফরেস্ট রেস্টুরেন্টে।অরনিতার কিছু বলতে ইচ্ছে হচ্ছে না।হয়তো এইখানে অরনিতাকে নিয়ে আসাটাই উদয়ের সারপ্রাইজ।দুইজন এক সাথে বসে খাবে,গল্প করবে,খুনসুটিগুলোকে বিদায় দিবে।এই তো!এর বেশী আর কি বা হবে!এইভেবে অরনিতা মনে মনে হাসলো।কিন্তু রেস্টুরেন্টে ঢুকার পরই চমকে দেওয়ার মতো ব্যাপার ঘটলো।অরনিতার ছোট বোন কাশফিয়া ও অরনিতার মা এসেছেন সেখানে।উদয়ের পক্ষ থেকে স্পেশাল ট্রিট এর আয়োজন করা হয়েছে।মূলত অরনিতার মা ও তার ছোট বোনকে এনে অরনিতাকে খুশি করানোটাই ছিল উদয়ের পক্ষ থেকে অরনিতার জন্য সারপ্রাইজ। বিয়ের দশ বারো দিনের মতো চলছে অথচ মা আর কাশফিয়াকে দেখে মনে হচ্ছে হাজার বছর ধরে এই প্রিয়মুখগুলোকে দেখা হয় না।উদয় ছেলেটা অরনিতাকে অবাক করে দিলো।লজ্জা হলো অরনিতার নিজের প্রতি।বুঝে না বুঝে উদয়ের সাথে বেহুদা কথা বলে মজা করাটা হয়তো খুব বেশী বেশী হয়ে গেছে। অরনিতার মা আর বোন এসেছে ঠিকই কিন্তু বাবা আসে নি।বাবাকে ব্যবসায়ের কাজে একেকবার একেক জায়গায় যেতে হয়।নিশ্চয়ই এইবারও অন্য কোথাও যেতে হয়েছে তাকে তাই বাবা আসতে পারেন নি।অনেকদিন পর প্রিয়জনদেরকে দেখে অরনিতার কান্না পাচ্ছে। . . নিহিলা নতুন একটি জামা পরে নিলো।সাবেরা এসে বললো- -বুবু,আপনেরে আপনের মামী ডাকে। -কিসের জন্য ডাকছে? -দুলাভাইয়ের সামনে খাবার আগাইয়া দেওয়ার কাম করতে মনে হয়। -এই কাজ আমাকেই কেন করতে হবে?তুইও তো করতে পারিস। সাবেরা বোকার মতো মুখ করে বললো- -এইডা কি কন!আমি আর আপনে কি এক?আপনে হইতাসেন তার বউ। -বউ বলছিস কেন?এখনো আমার বিয়ে হয় নি।তার বউ হতে আরও অনেক দেরী। রোকসানার আওয়াজ পাওয়া গেল।তিনিও নিহিলাকে ডাকছেন।সাবেরা বললো- -জলদি আহেন তো।দুলাভাই খাইতে বসছে।এহন আপনারে তার সামনে থাকতেই হইবো। -এইটা কোন আইনে লেখা আছে যে হবু বর তার হবু শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে আসলে তার হবু স্ত্রীকে সর্বোক্ষণ তার সামনে থাকতে হবে! সাবেরা কিছুক্ষণ মাথা চুলকে বললো- -আপনের কঠিন কঠিন কথা আমি কিছুই বুঝি না বুবু।এহন চলেন তো। নিহিলাকেও তাই বাধ্য হয়ে যেতে হলো।আর কোনো বাড়তি সাজসজ্জা করলো না সে।যাওয়ার আগে নিজের মুখটুকু একবার আয়নায় দেখে নেওয়ারও বিশেষ কোনো প্রয়োজন মনে করলো না।ছেলেটি যদি তাকে মন থেকে পছন্দ করে থাকে তাহলে সাধারণভাবে দেখেই সে একাধিকবার মুগ্ধ হবে।আলাদাভাবে সাজসজ্জা করে বাড়তি সৌন্দর্য প্রদর্শন করে প্রেমে পরানোর কায়দা খুব বেশী বাজে।এতে করে কেউ মন থেকে প্রেমে পরতে পারে না। To Be Continued..


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৩ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now