বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অনুগল্প নিলিমা

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান MD Shohidul Islam Sahid (০ পয়েন্ট)

X অনুগল্প_____♥♥♥ ...................... . ওই - কি ? - চলো। - কোথায় ? - বাসায় যাবো না ? - আরেকটু থাকো না আমার সাথে। - না গো, অনেক দেরি হয়ে গেছে। আর দেরি করলে বাসায় বকা শুনতে হবে। - আরেকটু থাকো না, প্লিজ। - নাহ…. চলো কথাটা বলেই সিয়ামের হাত ধরে টান দিলো নিলিমা । গোমরা মুখ করে নিলিমা একটু পিছু পিছু হাটতে শুরু করল সিয়ামের। নিলিমাকে পাগলের মত ভালোবাসে সিয়াম। নিলিমাকে এক নজর দেখার জন্য সিয়াম প্রতিদিন ১৬ কি.মি. পথ পাড়ি দিয়ে যায়। আর ঢাকা শহরের ১৬ কি.মি. মানে ২/৩ ঘন্টার জ্যামে বসে থাকা। কিন্তু তবুও সিয়াম নিলিমাকে একটু দেখার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা জ্যাম উপেক্ষা করে নিলিমার কোচিং এর সামনে যায়। কখনো কোচিং এর সামনে ২ মিনিট এর জন্য দেখা, কখনো বা কোচিং থেকে বাসায় যাওয়ার পথে নিলিমার পিছু পিছু হাটা, কখনো বা নিলিমার জানালার সামনে গিয়ে ঘুর ঘুর করা, কখনো বা নিলিমাকে দেখতে গিয়ে নিলিমার আপুকে দেখে চলে আসা, আবার কখনো বা নিলিমার আন্টির দৌড়ানি খেয়ে পথ হারিয়ে ফেলা। এভাবে চলত সিয়ামর প্রত্যেকটা দিন কিন্তু নিলিমাকে বড়জোর এক নজর দেখা ছাড়া কোন কথাই হতো না তাদের। তবুও সিয়াম প্রতিদিন যেত একটি বার নিলিমাকে দেখতে। সপ্তাহের একটা দিনই তাদের এক সাথে ঘুরা হয় কিন্তু আজ নিলিমা এক ঘন্টা সময় দেওয়ায় সিয়াম মুখটা ভার করে রাখল। হঠাৎ পিছন থেকে সিয়াম, - ওহ - কি হলো ? - এতো তাড়াতাড়ি হাটছো কেন ? বাসায় কি তোমার ছেলেমেয়ে রেখে আসছো নাকি ? - দেখো অনেক দেরি হয়ে গেছে। যেতে হবে। - আমার পা ব্যাথা করছে, আমি হাটতে পারছি না। একটু আস্তে হাটো না, প্লিজ। - তোমার পা ব্যাথা করছে না এটা আমি ভালো করেই জানি। এটা তোমার পুরানো অজুহাত আমাকে দেরিতে বাসায় পাঠানোর জন্য। - জানো যেহেতু আরেকটু থাকলেই তো পারো ? - দেখো বুঝতে চেষ্টা করো। দেরী করলে আপু বকা দিবে। - আপুর কি তোমার পিছনে ছাড়া আর কোন কাজ নাই ? - দেখো আপুর নামে কিছু বলবা না কিন্তু। - আচ্ছা বলব না। চলো ফুসকা খাই। কতো দিন একসাথে ফুসকা খাই না। - ওকে চলো … …thank you……..thank you……. thank you…….!!!! . কথাগুলো বলে নিলিমাকে কিছু না বলতে দিয়েই ফুসকার দোকানে দিকে দৌড় দিলো সিয়াম। সিয়াম জানে নিলিমাকে কথা বলার সুযোগ দিলে “না” ছাড়া কিছুই বলবে না। পকেট থেকে মানিব্যাগটা বের করল সিয়াম। মানিব্যাগে মাত্র ১১৫ টাকা আছে। দুই প্লেট ফুসকার অর্ডার দিলে রিকসা ভাড়া আর সিয়ামর বাস ভাড়া হবে না। তাই সিয়াম এক প্লেট ফুসকার অর্ডার দিয়ে টেবিলে এসে বসে পড়ল। নিলিমা এসে সিয়ামর পাসে বসল। একটু পরে এক প্লেট ফুসকা দিয়ে গেল মামা। - কি ব্যাপার এক প্লেট কেন ? - তোমার জন্য। - তোমার টা ? - ও আসলে ফুসকা খেলে আমার গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হয়। তাই আমি এই সব খাই না। - ফুসকা খেলে তোমার গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হয় ??? - তেল দিয়ে ফুসকা বানায় তো। আর তেলের কিছু আমি খেতে পারি না। - তাহলে অন্য কিছু নেও ! - আরে না আমার তেমন একটা খিদা নাই। তুমি খাও তো। - তাহলে বলছো কেন একসাথে খাবো ? - এই যে একসাথে বসে আছি, কথা বলছি, এই তো অনেক। আমার আব্বু বলে খাওয়ার সময় কথা বলতে নাই, খাও তো তুমি। . তারপর তাদের মাঝে কিছুক্ষণ কথা চলতে থাকল। নিলিমা সিয়ামকে ফুসকা খাইয়ে দিতে চাইল কিন্তু সিয়াম ফুসকা খেল না। সিয়াম শুধু নিলিমার একটা হাত ওর হাতের মাঝে রেখে নিলিমাকে অনুভব করতে লাগল আর নিলিমার কথা শুনতে লাগল। . একট পরে সিয়াম ফুসকার বিল (৪০টাকা) দিয়ে নিলিমার হাতে হাত রেখে ষ্টান্ডের দিকে গেল। ষ্টান্ডে গিয়ে সিয়াম একটা রিকসা নিল এবং দুজনে উঠে বসল। - কি ব্যাপার তুমি উঠলা কেন ? - তোমার সাথে যাব বলে। - আমার সাথে যেতে হবে না। তুমি এখান থেকে বাসে উঠে বাসায় চলে যাও নাহলে তোমার বাসায় যেতে অনেক দেরি হয়ে যাবে। - হলে হোক, চলো তো। ওই মামা, আপনি চালান (রিকসাওয়ালাকে বলল সিয়াম) - তুমি আমার সাথে আমার বাসা পযর্ন্ত যাবা আবার ব্যাক করে বাসষ্টান্ড আসবা!! কেন এত কষ্ট করবা ?? . - দূর কিসের কষ্ট। তুমি আমার হাতটা ধরো আর আমার কাধে মাথা রাখো দেখো আমার সব কষ্ট দূর হয়ে যাবে। আর তাছাড়া জীবনের শেষ মুহূর্ত পযর্ন্ত আমি তোমার পাশে থাকতে চাই আর তোমাকে অনুভব করতে চাই। - তুমি এত পাগল কেন ? - আমার পাগলির জন্য। - সবসময় এই ভাবে ভালোবাসবে তো ? - সারাজীবন…..!!!! - তিন সত্যি . সারাটা পথ সিয়াম নিলিমার হাত ধরে রাখল আর নিলিমা সিয়ামর কাধে মাথা দিয়ে রাখল। নিলিমার কাছে সিয়ামের শুধু এই চাওয়া, “সিয়ামর হাতটা ধরবে আর কাধে মাথা রাখবে”। দেখতে দেখতে নিলিমার বাসা চলে আসল... . - আচ্ছা আমি তাহলে যাই ? - যাও। - তুমি এই রিকসায় করে চলে যাও। মামা ওরে আবার বাসষ্টান্ডে নামিয়ে দিয়েন। (রিকসাওয়ালাকে বলল নিলিমা) - আচ্ছা আমি যাব।, তুমি যাও। - ওকে। - কাল দেখা হবে। - আবার ? - কোচিংয়ের সামনে !! - তুমি পারও বটে। পাগল একটা। - Yes I’M..... - byeee - byeee . নিলিমার বাসায় ঢুকা পযর্ন্ত সিয়াম এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকল। তারপর মামাকে বলল, - মামা কত হয়েছে ? - ৫০ টাকা। - (মানিব্যাগটা বের করে) এই নেন। - কেন আপনী যাবেন না ? - না মামা, আমার একটু কাজ আছে। . রিকসাওয়ালা চলে গেল। সিয়াম মানিব্যাগটার দিকে একবার তাকালো। মানিব্যাগে মাত্র ২৫ টাকা আছে। হাফ পাস দিয়ে যদি বাসে করে বাসায় যেতে হয় তাহলেও মিনিমাম ২০ টাকা লাগবে,,, তাহলে কি আর রিকসায় উঠার টাকা থাকে। কথা গুলো ভাবতে ভাবতে সিয়াম একটু সামনে থেকে ৫ টাকার বাদাম কিনল। তারপর কানে একটা ইয়ারফোন লাগিয়ে উল্টো পথ ধরে বাসষ্টান্ডের দিকে হাটতে শুরু করল...।। আর ভাবতে লাগলো, কাল আবার কখন নীলিমার সাথে দেখা হবে...!! সব কিছুর অন্ত আছে । কিন্তু এ দেখার তো অন্ত নেই... সিমাহিন অনন্তের কালজয়ীর অনন্যা । বুকের প্রকোষ্ঠে অনুর মতো আষ্টে পিষ্টে জড়িয়ে আছে আমার নিলিমা...।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৬ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now