বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
#Writer : Pantha Shahria!!
প্রতিদিন বিকেলে একা একা বসে থাকি নদীর পারে।
অনেকে তাদের আপনজন দের নিয়ে বসে গল্প
করে, আবার কেউ প্রেমিক প্রেমিকা নিয়ে গল্প
করে। আর এর মাঝে শুধু মাত্র আমিই একা
একা বসে থাকি আর এদিক ওদিক নানা
ধরণের মানুষ দেখি।
প্রতিদিন আমি আসি একা একা বসে থাকি
আর সন্ধার পড়ে চলে যাই।
গ্রামের ছেলে আমি, বাবা মাঠে
কাজ করে আমার পড়াশুনার খরচ
চালাই,
তাই বারতি কোন বিলাশীতা আমার
জন্য প্রযোজ্য নয়।
এমনি একদিন বিকেলে বসে আছি
হাতে শখের রুবিক্স কিউবটা ও আছে।
ছোটবেলা থেকে আমার গিটারের
শখ ছিল কিন্তুু বাবার টাকা না থাকাই।
নতুন শখের জিনিসটা হয়ে উঠে ছিল
রুবিক্স কিউবটা।
তাও ৫ দিন সকালের টাকা বাঁচিয়ে কিনছি
আমার মতো মধ্যবিত্ত ছেলেদের সব সময়
শখের জিনিসটা ছোটখাটো হওয়া দরকার।
যাই হোক সেদিন বিকেলে হাতে রুবিক্স
কিউবটা নিয়ে বসে আছি।
হঠাৎ পিছন থেকে কারো ডাক শুনতে
পেলাম,
পিছনে ফিরে দেখি এটাতো লিপা,
আমার ক্লাসমেট হওয়া শর্তে কোনদিন
কোন কথা হয়নি।
আসলে আমি সব সময় মেয়েদের থেকে
দূরে থাকতাম।
একা থাকতেই ভাল লাগত।
লিপা মনে হয় দৌড়ে আসছে আমার কাছে
অনেক হাঁফাচ্ছে।
- এই যে তোমার নাম কী হুমমমমম।
- আমাকে বলছেন।
- হুমমমমম তোমাকেই, আর আমাকে আপনি
করে বলছ কেন, আমরা তো একই সাথে
পড়ি।
- হুমমমমম, এবার থেকে তুমি করে বলব।
- আমি না তোমার নাম জিজ্ঞেস করলাম,
নাম কী।
- আমার নাম সাহরিয়া।
- ওই আমার নাম শুনবা না।
- আমি তোমার না শুনছি।
- কই শুনছ।
- স্যার যেদিন ক্লাসে তোমার নাম বলছিল।
- ওহহহহহ আচ্ছা, জানো আমি কে।
- হুমমমমম, তুমি আমাদের পিনসিপাল এর
মেয়ে।
- কেমনে জানলে।
- যেদিন স্যার তোমাকে লিপা মা বলে ডাক
দিছিল সে দিন বুঝতে পারছিলাম।
- হুমমমমম, কিন্তুু তোমার চুলের এই অবস্থা
কেন।
- কেন কীইইই হইছে।
- কেমন কাকের বাসার মতো।
- ওহহহ আসলে আয়নাটা ভেঙে গেছে
তো তাই।
- তো নতুন একটা কিনে নিবা।
- এখন টাকা নাই সামনের মাসে
কিনে নিব।
- হুমমমমম, আচ্ছা তুমি প্রতিদিন এই একই
জায়গায় বসে থাকো কেন।
- আমার ভাল লাগে তাই।
- ক্লাসের সব ছেলে আমার দিকে
তাঁকাই থাকে তুমি তাকাও না কেন হুমমমমম।
- সবার বাবার টাকা আছে আমার বাবার
নেই সে জন্য।
- আচ্ছা তোমার বাবা কী করে।
- মাঠে কাজ করে।
- আচ্ছা তুমি কী এমন সব সময় চুপ চাপ
থাকো।
- কই নাতো এই তো কথা বলছি।
- তা হলে প্রতিদিন এই একই জায়গায় বসে
চুপচাপ থাকো কেন।
- এমনি.. সন্ধা হয়ে গেছে এখন আমি যাই।
বলে চলে আসলাম, রুমে এসে শুয়ে আছি
ফোনটা বের করে দেখলাম ২ টাকা ব্যালেন্স
আছে, অনেকদিন কারো সাথে কথা
বলা হয়নি কার কাছে ফোন দেওয়া
যায় ভাবছি।
না থাক পরে হয়তো কাজে লাগতে পারে,
রাতে বাইরে গেলাম, বেশি টাকা
না থাকাই অন্য কিছু দিয়ে কাজ
চালাতে হবে।
রফিক মামার দোকান থেকে
২ টা রুটি আর ২ টা কলা নিয়ে
একটা ব্রিজে বসে বসে খাচ্ছি।
ফোনটা বেঁজে উঠল,বের করে
দেখি অপরিচিত নাম্বার।
ফোনটা কেঁটে দিলাম, একটু পড়ে
আবার ফোন,
এবার রিসিভ করে সালাম দিলাম।
- হ্যালো.. কে বলছেন।
- হুমমমমম এখন কই তুমি।
একটা মেয়ের কন্ঠ।
- নাম বলুন না হলে রেখে দিলাম।
- ওই দাঁড়াও দাঁড়াও আমি লিপা
বলছি।
- তুমি আমার নাম্বার কই পেলে।
- তুমি যেদিন রফিক স্যার কে দিছিলে
সেদিন।
- ওহহহ.. কেন ফোন দিছ।
- এমা কেন দিতে পারি না বুঝি।
- না না আসলে তা না, তুমি কত বড় ঘরের
মেয়ে, কত সুন্দর দেখতে, আমার কাছে
কী দরকার থাকতে পারে।
- ওই চুপ করো, কই আছ এখন।
- এই তো একটা ব্রিজ এর উপরে বসে কলা
আর রুটি খাচ্ছি।
- কীইইই কলা, রুটি, ছি ছি তুমি এই সব খাও।
- হুমমমমম কেন ভাল না।
- না ভাল কিন্তুু তবুও কলা রুটি দিয়ে ডিনার।
- আসলে পকেটে টাকা না থাকলে, অল্পতে
এর থেকে আর কোন কিছু দিয়ে কাজ চালানো
যায় না।হি হি।
- হুমমমমম ভাল এখন বাসাই যাও।
- আচ্ছা এই খাওয়া শেষ করেই যাব।
তারপর ফোনটা রেখে বাসা মানে ওটা আসলে
বাসা না একটা থাকার মতো রুম এর দিকে
রওনা দিলাম,
আর মনে মনে ভাবছি মেয়েটা শুধু শুধু আমার
সাথে কথা বলছে কেন।
দূর যাই হোক বাসাই এসে একটা পড়াশুনা
করে ঘুমাই গেলাম কালকে কলেজ আছে।
সকালে উঠে ফ্রেস হয়ে না খেয়েই কলেজে
গেলাম, ভাবলাম কলেজে গিয়ে দুইটা পরোটা
খেয়ে নিলেই হবে।
ক্লাসে বসে রাসেলের সাথে কথা বলছি।
এর মধ্যে জাহিদ এসে বলল সাহরিয়া তোকে
লিপা ডাকছে।
সবাই কেমন আমার দিকে হা করে আছে।
লিপার কাছে এসে বললাম।
- হুমমমমম বলো কী বলবা।
- সকালে কিছু খেয়েছ।
- হুমমমমম।
- মিথ্যা বল কেন
- না মানে এখন ও খাইনি খাব একটু পরে।
- কী খাবে শুনি।
- মাথা নিচু করে বললাম পরোটা।
- পরোটা তে কারো পেঁট ভরে হুমমমমম।
- কারো না ভরলে ও আমার ভরে।
- হয়েছে এবার চলো।
- কই যাব।
- কান্টিনে চলো।
- আরে আমার খিদে নেই, পরে খাব।
- আচ্ছা পরে খাবা এখন আমার সাথে চলো।
- আমি বসে আছি লিপা কী কী যেন খাবার
এর নাম বলল আমি কোনদিন খাওয়া তো
দূর নাম ও শুনছি বলে মনে হয় না।
খাবার এসে হাজির আমি ওর দিকে
তাঁকাই আছি।
- ওই আমাকে না দেখে খাও এবার।
- একবার
আপনারাই ফিল করেন, পেঁটে খিদা আর
সামনে এত্ত খাবার কেমনে খাবেন।
খাওয়া শেষ ৩৪৫ টাকা বিল, হায় হায় এত
খেয়ে ফেলছি, পকেটে হাত দিয়ে দেখি
৩৫ টাকা আছে।
লিপাকে বললাম মাত্র ৩৫ টাকা আছে আমার
কাছে।
- আরে গাধা আমি দিচ্ছি,
বলে বিলটা দিয়ে দিল।
- আমি চাকরি পেলে তোমাকে সব টাকা
দিয়ে দিব কেমন।
- হুমমমমম এবার চলো।
এভাবে ভালই দিন কেঁটে যাচ্ছিল,
আমার প্রায় সব টাকাই ও দিচ্ছিল।
আর আমি শুধু বলতাম ওর সব টাকা
আমি দিয়ে দিব।
একদিন হঠাৎ করে লিপাকে আর খুঁজে
পাই না, ফোন অফ আমি পাগলের
মতো তাকে খুঁজতে থাকি,কিন্তুু কোথাও
তাকে পাই না।
কিন্তুু হাল ছেঁড়ে দেই না সব সময় খুঁজতাম।
লিপা চলে যাবার পরের দিন গুলো খুব কষ্টে
কেঁটে গেছে।
এভাবে ৫ টি বছর কেঁটে যায়।
এখন আমি বড় একটা চাকরি করি, আর
লিপাকে ও খুঁজে যাই।
প্রথম যেই নদীর পারে আমাদের পরিচয়
হয়েছিল সেখানে বসে আছি।
সন্ধা হয়ে আসছে এমন সময়ে কারো হাত
আমার কাঁধে এসে পড়ল।
পিছনে তাঁকিয়ে দেখি।
চশমা পড়া একটা মেয়ে, অনেক কিউট
দেখতে, হুমমমমম এটাই আমার লিপা।
- কী বলব ভেঁবে পাচ্ছি না।মনে হয়
সব কথা আটকে গেছে।
- কেমন আছ।
- ভাল তুমি।
- আমি ও, ঠিক আগের মতোই আছ।
- হঠাৎ কোন এক অজানা মায়ায় লিপাকে
জরিয়ে ধরে কাঁদতে লাগলাম।
কি গেছিলে তুমি, কত্ত খুঁজেছি জানো,
পাঁচটা বছর এখানে বসে অপেক্ষা করছি
তুমি আসবে বলে কই চলে গেছিলে।
- সাহরিয়া একটা রাতে মা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে
পড়ে আর মার সাথে যাবার মতো কেউ ছিল না
তাই বাবা.. মা আর আমাকে কানাডা পাঠিয়ে দেই ফোনটা ও ফেলে গেছিলাম।
- হুমমমমম, নাও তোমার এক লক্ষ পাঁচ হাজার
টাকা। বলে ছিলাম না দিয়ে দিব।
- হি হি গাধা, টাকা দেওয়ার জন্য বসে থাকতে
না অন্য কিছু শুনি ।
- না মানে আমি তোমাকে ভালবাসি হুমমমমম
,বিয়ে করবে আমাকে।
- আরে আমার তো বিয়ে হয়ে গেছে।
- কীইইই সত্যি।
- হুমমমমম।
- আচ্ছা তা হলে আমি গেলাম।
বলে চলে আসছি।
- আরে গাধা কই যাও মজা করলাম তো হি হি।
বলে আমাকে আবার জরাই ধরল।
এই দিকে অন্ধকার হয়ে আসছে।
লিপা আর আমি হাঁটছি, ও আমার
হাত ধরে আছে।।।
>>সমাপ্তThe End
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now