বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মাগরিবের আজানের ছুঁই ছুঁই করছে সময়টা... নীলা
বলে উঠলো বাড়ি যাবে... আকাশের মুখে সন্ধ্যা
নামার ক্ষণে দিনের আলোর মিয়্রমাণ যে একটা
আভাস দেখা দেয় সন্ধ্যার অন্ধকার ছুঁয়ে ঠিক
সেটাই শোভা পাচ্ছে...
আকাশ বলে উঠে,'...চল আগিয়ে দেই...'
-চল, রিক্সাটা ঠিক করে দে... মৃদু হেসে বলে
মেয়েটি
আনমনেই আকাশ বলে উঠে, তোর হাসিটা
এত্তো সুন্দর ক্যান...?
বলার পরেই যেন ধ্যান ভাঙ্গে তার... মনে মনে
নিজেকে একশো একটা গালি দিয়ে আবার বলে
উঠে
-ইয়ে মানে, মজা করতেছিলাম ...
দরজার দিকে এগিয়ে যেতে যেতে নীলাও
উত্তর দেয়, হ্যাঁ বুঝি আমি... তুই মজা ছাড়া জীবনে
কিছু করতেও পারবি না... ।
ফুটপাথ ধরে এগিয়ে যেতে থাকে দু'জন...
চারপাশের সোডিয়ামের আলোয় কেমন যেন
নীরবতা আঁকড়ে ধরেছে তাদের... রিক্সাস্ট্যান্ড
ের কাছে পৌঁছাতেই নীলা বলে ওঠে আস্তে
করে, 'আকাশ, তোকে একটা কথা বলার ছিলো...'
আকাশের বুকে যেন ড্রাম বাজানো শুরু হয়ে
গেল... নীলা এমন করে কথা বলার মানে হচ্ছে
কোন একটা ঝড় আসছে...
-হ্যাঁ বল...
-আকাশ,আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে...
তিন সেকেন্ডের জন্য আকাশের কাছে মনে
হলো শত সহস্র বছর সময়... নিজেকে কোন
মতে ধাতস্থ করেই উত্তর দিলো আকাশ...
-তা বেশ ভালো তো... কনগ্রাটস ম্যান...
নীলা চোখ ত্যাড়া করে তাকাতেই বলে উঠলো
আকাশ, "উপ্সস... সরি... ওম্যান"... জোর করে আনা
হাসিটা হাসলো আকাশ...
-'আচ্ছা যাই রে দেরি হয়ে যাচ্ছে...' বললো
নীলা...
- 'আচ্ছা...' ,আস্তে করে উত্তর দিলো সে...
রিক্সায় উঠতেই আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে
উঠলো
-আজ...সাবধানে যেতে বলবি না...?
-'হ্যাঁ... কেন বলবো না সাবধানে যাইস, বাসায়
যেয়ে টেক্সট দিস...।', চাপা হাসি হাসি মুখটা এখনো
করে রাখেছে এখনো অনেক কষ্ট করে...
রিক্সাটা এগিয়ে যাচ্ছে...
সেখানে ছিল দুজন মানুষ...
পিছনে একজন নিজেকে নিজের সাথে মানিয়ে
নেওয়ার চেষ্টারত কেউ... আর রিক্সাতে কেউ
চোখের কাজল রক্ষার একান্ত চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া
কেউ... আর ছিলো ডাস্টবিনের কোনায় পড়ে
থাকা কিছু না বলা কথা ...
***
১৩ ই জুন...
রাত ১২ঃ০১...
আকাশের জন্মদিনটা সবেমাত্র শুরু হলো...
অনেকদিন পড় যেন কিছু একটার ব্যতিক্রম হচ্ছে...
এখন আকাশের মোবাইলটা ভাইব্রেট করার কথা...
কিন্তু কিসের কি মোবাইলটা যেন মন খারাপ করে
আছে... নীলার এখন কল করার কথা কিন্তু কোথায়
তার কোন খবর-ই নাই ।
কফির মগটা নিয়ে জানালার পাশে বসে বাইরের
ল্যাম্পপোস্টের দিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস
ফেলতেই মোবাইলটায় টুন শব্দ করে মেসেজ
টোন বেজে উঠলো ।
সেখানে ছোট্ট করে লেখা, "শুভ জন্মদিন.."।
আস্তে করে কফির মগটা টেবিলে নামিয়ে আকাশ
তার প্রিয় সেই ডায়েরিটা টেনে নিল...
"আজ না হয় কিছু লেখা হয়ে যাক বিষাদকাব্য..."
চোখের কোনে জমতে থাকা জলগুলো
আস্তে করে হারিয়ে গেল ছেলেদের কাঁদতে
নেই এই বাহানা দিয়ে ।
দূরে কোথাও কোন বারান্দায় ভায়োলিনের
শব্দে আস্তে আস্তে এগিয়ে যেতে থাকে
আকাশের আকাশকাব্য...
***
২২ ই জুন...
"আজকে নীলার হলুদ"
ডায়েরীর টাইটেলটা ঠিক এভাবেই শুরু হয়েছিলো
আকাশের... দেখতে দেখতে দিনগুলো কেমন
যেন ঝটপট কেটে যাচ্ছিলো তাদের মাঝে...
চাকরির ব্যস্ততা... মাঝে মাঝে নীলার সাথে সেই
আলাপ... ধোঁয়া ওঠা কফির কাপটা যেন কেমন
ঠান্ডাময় হয়ে গিয়েছিলো তাদের মাঝে...
এর মাঝে আবার নীলার বাসা থেকে বিয়ের
কার্ডটারও টেবিলে পড়ে থাকতে থাকতে ধূলো
জমে গিয়েছিলো... তারপর হঠাৎ আগের রাত্রে
নীলার ছোট্ট টেক্সট মেসেজ... "কালকে
আসবি তো...?"
আকাশও মজা করে-ই উত্তর দিয়েছিলো, "বিয়ে
করতেছিস, কিডন্যাপ হয়ে যাচ্ছিস না..."
সন্ধ্যা ছুঁয়ে ছুঁয়ে যখন রাত নামছে ঠিক সেই সময়
আকাশ পৌঁছালো তার বাসার সামনে... সুন্দর লাইটিং
জ্বলছিলো নীলার বাসার সামনে... নামের জন্য-ই
কিনা, নীল লাইটগুলোর আলো সেখানে একটু
বেশি-ই ছিলো ...
গেট পেড়িয়ে ঢুকতেই চেনা সব বন্ধু-বান্ধবীর
মুখের দেখা... আস্তে আস্তে আড্ডা জমে
উঠতেই এক ফাঁকে আকাশ বেড়িয়ে গেল সেখান
থেকে... একটু এগোতেই নীলার স্টেজ...
মুখে তার বিখ্যাত মুচকি হাসি নিয়ে স্টেজ-এর দিকে
এগিয়ে যেতে যেতে হাতের দুই আঙ্গুল দিয়ে
গোল করে অসম্ভব সুন্দর লাগার সাইনটা দিয়ে
দিলো সে...
"দোস্ত... শুনছি বিয়ের পর সুন্দর হয়, তুই আগেই
হয়ে গেলি কিভাবে...?"
"ফাজিল, একদম ফাজলামি না আজকে..."
"ক্যান?? আজকে কি শোক দিবস...?"
"হ্যাঁ..."
একটু চুপ থেকে... "শুন, কালকে কাঁদবি না ঠিক
আছে... মেকাপ নষ্ট হবে... তখন আমার
ক্যামেরায় ছবি ভালো আসবে না কিন্তু... " বলেই
হা-হা করে হেসে ওঠে আকাশ...
নীলার ঠোঁটের এক চিমটি ফাঁক দিয়ে ফ্যাকাসে
হাসিটা চোখ এড়ালো না আকাশের ...
হঠাৎ-ই আলতো করে হলুদ মাখা আকাশে হাত ছুঁয়ে
দিলো দিল নীলার গালটা...
"এই যে হলুদ দিয়ে দিলাম... এখন মিষ্টি খাবি... "
নীলা ছোট বাচ্চাদের মতো ঘাড় একদিকে কাত
করে হ্যাঁ সম্মতি দিলো...
মিষ্টিটা খাওয়াতে খাওয়াতে তার সেই বিখ্যাত মুচকি হাসি
হেসে বলে উঠলো,"এতো মিষ্টি খাচ্ছিস, মোটা
হয়ে যাবি কালকেই..."
"চিন্তা নেই, এখন সব জামাইয়ের চিন্তা... আমি তো
ফ্রী..." নীলা তার চাপা বাঁকানো হাসি হেসে
বললো...
"আচ্ছা, তোদের হাত ধোঁয়ার ব্যবস্থাটা
কোথায়...?" হাসি হাসি ভাবটা ধরে রেখে
জিজ্ঞ্যেস করে সে...
"ঐ যে বাগানের ঐদিকে... বাবা রে, একটু হলুদ বাটা
লাগিয়েই দৌড় লাগাতে হবে হাত ধুঁয়ার জন্য?",
আলতো অভিমান ভরা প্রশ্ন করে নীলা...
"নইলে যে হলুদের দাগটা আরো বেশি লেগে
যাবে যে হাতে...", দীর্ঘশ্বাসের আভাস দেওয়া
সে কথাটার পর উঠে হাঁটা দেয় সে...
কোথাও সাউন্ডবক্সে বাজতে থাকা "সে যে
বসে একা একা... " গানটা পরিবেশটার সাথে কেমন
করে মানিয়ে গিয়েছিলো সবার অজান্তে-ই...
বাগানের দিকে এগোতেই আকাশ দেখে এক
কোণায় আলোর আড়ালে অরন্য তার চিরচেনা
রূপে সিগারেট টানছে... আলগোছে ওদিকে
এগিয়ে গেল সে... তারপর যা হয়... সেই পুরনো
দিনের স্মৃতিচারণ...
অরন্য আকাশকে সিগারেট অফার করেই জিহ্বাতে
কামড় কেটে ভেঙিয়ে বলে উঠলো,"ওহ
হো... তুই তো সিগারেট খাওয়া বাদ দিয়েছিস..."
খোঁচানিটা হজম করে আকাশ তার হাতটা বাড়িয়ে দিল...
অরন্য অবাক হবার ভান করে জিজ্ঞ্যেস
করলো,"দোস্ত আর ইউ ওকে...?"
"ওরে সালা আমার, এত্তো ইংলিশ না মারাই সিগারেট
দে..." বকে উঠে আকাশ...
সিগারেটটা জ্বালাতেই পিছন থেকে নীলার
কণ্ঠস্বর কানে আসলো ওর...
"অরন্য, তোকে সুরভী ডাকছে, গেটের
ঐদিকটায় আছে..."
সিগারেটটা পায়ে পিসতে পিসতে উত্তর দেয় ও,
"হ্যাঁ যাচ্ছি বাবা...উফ এক মূহুর্ত শান্তি পাওয়া যাবে না এই
মেয়েটার থেকে..." আনমনে বকতে বকতে
গেটটার ঐদিকে যেতে থাকে অরন্য ।
এই মুহূর্তে আকাশের মনে হচ্ছে মাটিটা দুভাগ
হয়ে গেলে ভালো হয় তার জন্য... পিছনে ফিরে
তাকানোর সাহস নেই একদম-ই...
একটু সময় নীরবতা তারপর নীলা বলে উঠলো,
"বাব্বাহ... আমার বিয়েটাও হয়ে যাচ্ছে আর আমার
কাছে করা সব প্রমিস-ই ভাংতে হবে তোর এখন...
আমার আর দাম নেই এখন, তাই নাহ...?" কন্ঠে একরাশ
অভিমানের আভাসটা ছিলো পরিষ্কার ।
সিগারেটটা পাশে ফেলে অপরাধীদের মতো
হাতদুটো উপরে তুলে চোখ দুটো বন্ধ করে
পিছন ফিরে আকাশ...
আস্তে আস্তে চোখদুটো খুলতেই দেখে
নীলার চোখে পানি...
"নীলা, আর কোনদিন হবে না, এই যে কানে ধরছি
তো... কাঁদিস না... কি লাগবে তোর...? চকলেট না
আইস্ক্রিম...?" এক নিঃশ্বাসে বলে ওঠে আকাশ ।
চোখ দুটো মুছতে মুছতে নীলা বলে ওঠে,
"তোর মাথা..."
"কিভাবে দিবো...? কেটে নিয়ে আসবো...?"
"মাইর খাবি..."
"হ্যাঁ, খাবো...ক্ষুদা লাগছে..."
এটা বলেই হাহা... করে হেসে ওঠে দুজনেই...
তারপর হঠাৎ করেই নীলা জড়িয়ে ধরলো
আকাশকে...
তারপর বলে উঠলো... "প্লিজ... আমি চলে যাওয়ার
পর প্রমিসগুলো ভাংবি না... আমি খুব কষ্ট পাবো
কিন্তু..."
এরপরেই নীলা শক পাবার মতো তাকে ছেড়ে
দিয়ে পিছন ফিরে এক দৌঁড়ে বাসার মাঝে চলে
গেল...
আকাশ একদম হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে আছে... বুঝার
চেষ্টা করছে কিছুক্ষণ আসলে কি হল এই মাত্র...
মাথাটা হ্যাং মেরে আছে বলতে গেলে...
কোনকিছু কাজ করতেছে না... তার কাছে যেন
সময়টা থেমে গেছে...
কোথা থেকে যেন বৃষ্টিদলও খোঁজ পেয়ে
গেছে... ঝিরিঝিরি পড়তে শুরু করছে...
***
হঠাৎ-ই হাঁটতে শুরু করলো আকাশ... একদম গেট
পেড়িয়ে রাস্তায় এসে পড়লো...
বৃষ্টির বেগটাও যেন বেড়ে গেছে
ততক্ষণে... রাতটাও গড়িয়েছে ভালো-ই... রাস্তাঘাট
ফাঁকা প্রায়... ল্যাম্পপোষ্টের সোডিয়াম আলোয়
একা রাস্তাটায় হাঁটছে আকাশ... উদ্দেশ্যটা তার অজানা...
এই মুহূর্তে আকাশের মনে হচ্ছে একটা
ব্যাকগ্রাউন্ড গান বাজলে ভালো হতো... লর্ড হুরন
এর "দ্যা নাইট উই মেট " গানটা সবথেকে ভালো
মানাতো...
"কি অদ্ভুত...",ভাবে আকাশ... এই মুহূর্তে তার কিনা
মুভির মতো ব্যাকগ্রাউন্ড গান নিয়ে মাথাটা পড়ে
আছে... আবার লিরিক্সটাও বাজতেছে...
"আই হ্যাড অল এ্যান্ড দেন মোস্ট অফ ইউ...
সাম এ্যান্ড নান অফ ইউ...
টেক মি ব্যাক টু দ্যা
নাইট উই মেট..."
মাথাটা গেছে তার... ঠোঁটের কোণে ভেসে
ওঠা মুচকি হাসিটা অদ্ভুত কিছুর আভাস দেয়...
মাথার উপরের আকাশটা যেন বৃষ্টির ঝাপ্টা আরো
বাড়িয়ে দেয়... চলতে থাকে নিচের সোডিয়াম
আলোর নিচে থাকা আকাশটা... গন্তব্যটা আজকের
জন্য অজানা...
মানুষগুলো সবসময়-ই আশা করে নতুন কিছুর... নতুন
কিছু একটার অপেক্ষা... একটা মিরাকল... যা পাল্টে
দিবে তার সবকিছু...
বেচারা মানুষগুলো জানেই না এই নতুন কিছুর
অপেক্ষায় তারা হারিয়ে যাবে এই পৃথিবীর পথটা
থেকে ।
★★★পাগল-ছেলে★★★
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now