বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নীলাকাশ-2

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X এক ঘন্টার পরও নীলা রিপ্লাই না দেওয়াতে আকাশের চারপাশে চিন্তারা যেন হরতাল ডাকলো... দুই-পাঁচ না ভেবেই আকাশ নীলার নাম্বারে ডায়াল করলো... পরপর তিনবার কল দেওয়ার পরেও কল রিসিভ করলো না অন্যপাশের মানুষটা... আকাশ ভাবে সে যদি সত্যিই আকাশ হতে পারতো অন্তত একটা মানুষের মাথার উপর থেকে সারাক্ষণ নজরে রাখতে পারতো। ''হুহ, মানুষ চাইলেই কি সব পারে নাকি..." ভাবে মনে মনে। *** পৃথিবীর এই প্রান্তে আঁধার নামে আর অন্যপ্রান্তে নামে আলো... আলো আঁধারের কি দুষ্টামি খেলা, নীলা ভাবে মনে মনে... প্রকৃতির এই খেলাটা ব্যালকনির এক প্রান্তে বসে দেখছে সে, সাথে স্মৃতির জানালাগুলো খুলে হাতরিয়ে বেড়াচ্ছে কিছু । আকাশ, এই ছেলেটা বড়-ই অদ্ভুত, কেমন যেন, নীলা ভাবে... ছেলেটাকে সে নিজেই পাগল বানালো কিনা এই ভাবতে ভাবতে কোথা থেকে এই চিলতে হাসি তার ঠোঁটে এসে স্থান করে নিয়েছে হঠাৎ তার বেখেয়ালেই । সেটা ম্লান হতে সময় নিলো না তার... কিসব ভাবছে বলে নিজেই নিজেকে বকা দিলো নীলা... একটা দীর্ঘশ্বাস স্থান করে নিলো সেই হাসিটার জায়গায়... আজকের শহুরে আকাশটা কেমন যেন বিষণ্ণ, পাখিগুলো কেমন যেন আজ বাড়ি ফিরছে না... চারিদিকে মনখারাপের মুখোশ। তার ভাবনায় বাধ সাধল তার মায়ের কন্ঠে... "নীলা, মা আমার... এইদিকে আসো তো..." শাড়ীর আঁচল ঠিক করতে করতে নীলা তার ভাবনায় ছাই চাপা দিয়ে অভিনয়ের হাসি মুখ করে এগিয়ে গেল তার মায়ের কণ্ঠস্বরের ঘরটার দিকে... আজ তাকে পাত্রপক্ষ দেখতে এসেছে । *** কখন যে চিন্তা করতে করতে আকাশ ঘুমিয়ে গিয়েছিলো সে তা নিজেও জানে না। ঘুম ভাঙতেই তড়িঘড়ি করে মোবাইলটার দিকে তাকালো সে... "ধুরর... এখনো কোন রিপ্লাই নাই ওপাশের মানুষটার কাছে ।", মনে মনে বলে আকাশ... দুশ্চিন্তা আর অভিমান দু'টো অনুভূতি একসাথে মিশালে যেমনটা লাগে ঠিক তেমনটাই লাগছে তার কাছে। মোবাইলটা হাতের তালুতে হালকা ভাবে বাড়ি দিতে দিতে এগিয়ে গেল সিংকের দিকে... ফ্রেশ হওয়া দরকার । "আকাশ..." বাবার ডাকে পাশ ফিরলো সে... "জ্বী বাবা..." "তোমার কি কিছু হইছে ? দেখলাম বিকেল থেকে ঘরেই... অফিস ছিলো না...?" ''না, বাবা... কিছু হয়নি, এমনিই অফিস থেকে আগে ফিরলাম..." মৃদু হাসি দিয়ে মিথ্যেটাকে ঢাকার চেষ্টা করলো আকাশ । তার বাবা জসিম সাহেব চশমার ফাক দিয়ে কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে বললেন, ''যা ফ্রেশ হয়ে খেয়ে নে... সারাদিন তো মনে হয় কিছুই পেটে পড়ে নি...'' ''জ্বী বাবা,যাচ্ছি..." একরকম দৌড়েই পালালো যেন সে... বাবার এই তাকানোর ভঙ্গিটা তার খুব ভালো করেই চেনা... নিশ্চিত কিছু একটা ভেবে বসে আছে... আল্লাহ জানে কি ভাবলো... চিন্তা করতে করতে এগিয়ে যায় সে... *** সবশেষে যখন নীলা তার ঘরে প্রবেশ করলো, তখন তার হাতে একটা সোনালী আংটি চকচক করছিলো... চোখের কোণে যে জলটা এতক্ষণ লুকোচুরি খেলছিলো সেটা যেন 'টুকি' বলে গড়িয়ে পড়লো গাল বেয়ে... চারপাশের জড় পদার্থের দেয়ালগুলো ছাড়া তা কেউ দেখার জন্য কেউ ছিলো না । কারো পছন্দের শাড়ীটা না খুলেই বাথরুমে ঢুকে শাওয়ারটা ছেড়ে দিলো... এখন দেখছে কেউ না এমন একটা ভাবে নিশ্চুপ কিছু অশ্রুবিসর্জন দিয়ে চললো নীলা। একঘণ্টা পর যখন সে বের হলো, তখন দেখলো তার বিছানার উপরে থাকা মোবাইলটার ইনডিকেটর লাইটটা জ্বালিয়ে যাচ্ছে অনবরত । জলদি হাতে মোবাইলটা তুলেই দেখে, আকাশের তিনটা মিসড কল আর একটা মেসেজ । এই ছেলেটা এমন ক্যান ভাবে সে, তিনটার বেশি একবারও কল দিবে না... মেসেজটা অন করলো সে... ছন্দমাখা সেই মেসেজটার দিকে একমিনিট তাকিয়ে থাকলো নীলা... তারপর টিক-টিক শব্দ তুলে কিবোর্ডে টাইপ করে গেল সে... "শব্দগুলো যে হারিয়ে গেছে... কথাগুলো তাই জ্ঞান হারিয়েছে, চারপাশের নীরবতাকে হার মানিয়ে..." নীলা সেন্ড অপশনটা চেপেই মোবাইলটা শক্ত করে চেপে ধরলো... "আকাশ, আমি তোকে কখনো বলতে পারবো না... তোকে ঠিক কতটা... ঠিক কতটা......" মনের মাঝে কথাগুলো বাজতে বাজতে কেমন যেন নিশ্চুপ হয়ে গেল নীলার। *** মোবাইল ভ্রাইবেটের শব্দে হুশ ফিরলো যেন আকাশের। নীলার মেসেজটা দেখে কি রিপ্লাই দিবে ভেবে পায় না সে... এক দুই না ভেবেই কল দিয়ে দিলো তাকে... -হ্যালো... -হ্যাঁ বল... -কিরে, কি হইছে তোর...? -না দোস্ত, কিছু হয় নি... -বলবিনা বললেই হয়... -না, তেমন কিছু না... শুন... -হ্যাঁ, বল... -কাল দেখা করতে পারবি...? -"তুই তো জানিস... অলওয়েজ এ্যাট ইউর সার্ভিস'', হাসতে হাসতে বলে আকাশ -তোর তো পাঁচটা পর্যন্ত অফিস... তারপর কফি হাউজটায় চলে আসবি... আকাশ জানে, এই মেয়েটার কফির প্রতি আলাদা ভালোবাসা আছে... তাই আর দেরি না করে বলে ফেলল -জ্বি, জনাব চলে আসবো... -আচ্ছা, রাখি তাইলে এখন... -আচ্ছা, দেরি না করে খেয়ে নিস... আকাশ জানে মেয়েটা এখনো না খেয়েই আছে... আজ তার মন খারাপের দিন বলে কথা... কিছুক্ষণ নিশ্চুপ থেকে উত্তর দেয় নীলা, ''আচ্ছা খেয়ে নেব... তুই তাড়াতাড়ি খেয়ে ঘুমায় যাস...'' -''ওকে ম্যাডাম'', অপর পাশ থেকে উত্তর দেয় সে । -আচ্ছা, রাখি রে... -আচ্ছা... আস্তে করে কেটে যায় ফোনকলটা... দু'পাশের নীরবতাটা যেন পেয়ে বসল এই দুজনকে... আঁড়ালে থাকা অন্ধকার ছাড়া সেটা দেখার জন্য অন্য কেউ সেখানে ছিলো না । *** বিকাল সাড়ে চারটার আগেই অফিস ছুটি নিয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই পৌঁছে গেল কফি হাউজটায়... কাঁচের জানালাটার কাছের টেবিলটায় বসলো আকাশ... এখান থেকে রাস্তার ব্যস্ত গাড়িগুলো দেখতে ভালোই লাগে তার... সময় কাটানোর জন্য পারফেক্ট একটা জায়গা... নীলা, এই মেয়েটা কোন সময়েই আগে এসে পৌঁছাবে না ভালো মতোই জানে আকাশ... কফি হাউজের মাঝে বাজতে থাকা হাল্কা সাউন্ডে জেমস আর্থারের, 'সে ইউ ওন্ট লেট গো ' গানটা ভালোই মানিয়ে গেছে পরিবেশটার সাথে... মনে মনে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে আকাশ, ঠোঁটে ঠোঁটে লাইনগুলো মিলাতে থাকে সে... ১৫ মিনিট পর কফিশপে ঢুকতেই নীলার দিকে তাকিয়ে হাত দিয়ে ইশারা করলো ও... নীলা এসে বসতেই বলে উঠলো -তা ম্যাডাম, কি খবর ? -এইতো, তোর কি অবস্থা?... - এইতো... তা বল কি খাবি...? - 'আমরা যা খাই...', মৃদু হেসে উত্তর দিলো নীলা... ওয়েটারকে ডাক দিয়ে দুই কাপ কাপাচিনো কফির অর্ডার দিলো আকাশ... এইটাই তাদের ফেবারিট আইটেম এখানে... - 'তারপর তোর চাকরি কেমন চলছে...?', নীলা জিগ্যেস করে... -এইতো চলছে কোনরকম খুটেমুটে... এই কথা সেই কথায় সময় কাটতে থাকে নীলাকাশের... সন্ধ্যা গড়িয়ে নামে পশ্চিম দিকে... দিনশেষে বাড়ি ফেরা পাখিগুলো যেমন ঝাক ধরে একসাথে বাড়ি ফেরে তেমনি করে হয়তো হাত ধরে বাড়ি ফেরা হয় না কারো, আক্ষেপগুলো তাই হয়তো অন্ধকার হয়ে দিনের আলো গ্রাস করে ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮০ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now