বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
নীলার মনটা আজ অদ্ভুত রকমের খারাপ। দিনটাও
কেমন যেন খামখেয়ালি রকমের মেঘলা হয়ে
আছে.. এই বৃষ্টি নামবে নামবে ভাব ধরে আছে।
***
আকাশ আজ অফিসে বসে কিছুতেই কাজে মন
বসাতে পারছে না। কারণটা আর কেউ-ই না.. নীলা।
মেয়েটার হঠাৎ করে কি কারণে মন খারাপ হয় আকাশ
কোনভাবেই কিছু ধরতে পারে না।
***
প্রথম যেদিন নীলার সাথে দেখা হয়েছিলো...
ভার্সিটির শুরুর দিকে...
সেই প্রথম দিনটায় ঝুম বৃষ্টি হচ্ছিল.. পুরো আকাশটা
কালো মেঘে ঢাকা ছিলো... জ্যামের জন্য
আকাশের আসতে দেরী হয়ে যায়... মাথার উপর
হাতের ফাইলটা দিয়ে বৃষ্টিজল আটকানোর ব্যর্থ
চেষ্টা করছে ঠিক তখন-ই নীলার সাথে অচমকা
ধাক্কা খায় ও। এখনও ব্যাপারটা মনে করে মুচকি হাসে
আকাশ। পথের মাঝখানে ভোজবাজির মতো উদয়
হয়েছিলো নীলা.. হাতপা ছড়িয়ে উপর দিকে
তাকিয়ে কি যেন করছিলো.. ধাক্কা খাওয়ার পর
নীলার হুশ ফেরে.. মেয়েটা আর কিছুই না ঝুম
বৃষ্টিতে বাচ্চা ছেলেমেয়েদের মতো
ভিজছিলো ।
আকাশ অদ্ভুদ চোখে কালো চুড়ি পড়া লাল
সালোয়ার কামিজের নীলার দিকে তাকিয়ে থাকতে
থাকতে কোথায় যে হারিয়ে গিয়েছিলো...
চোখের সামনে হঠাৎ মেয়েটির তুড়ি
বাজানোতে হুঁশ ফেরে আকাশের । কি অদ্ভুদ!
মেয়েটির তুড়ি বাজানোর শব্দটাতেও যেন কে
সুরের ঝংকার মেখে দিয়েছে... ক্যাম্পাসের
চারিদিকের সময় যেন হঠাৎ করে থেমে
গিয়েছিলো ঐদিন ।
নীলা বৃষ্টি ভেজা আলতো খোলা চোখে
প্রশ্ন করে...
-ফ্রেশারস...?
-হুম...।
-আমিও...
-ও আচ্ছা...
-ক্লাসে যাচ্ছেন...?
-হ্যাঁ...
-কি দরকার,ক্লাস করার । ভিজেই তো গেছেন...
চলুন না আজ একটু পুকুর পাড়ের ঐ কদম গাছটা
থেকে ফুল পেড়ে দিবেন ।
আকাশ চোখভর্তি বিস্ময় নিয়ে নিয়ে নীলার দিকে
তাকিয়ে বলে...
-আমি...এখন...?
-হ্যাঁ... আপনাকেই তো বললাম... বর্ষার প্রথম ঝুম
বৃষ্টি আজ কদম ছাড়া কি চলে... আচ্ছা, আপনি যদি কদম
ফুল পেড়ে দিতে সাহায্য করেন তাহলে ঐ যে টং
এর দোকানটায় চা খাওয়াবো... তবে যদি বৃষ্টি
থাকে...।
......রহস্যময় হাসি ঠোঁটে নিয়ে বলে নীলা
কি ভেবে যেন রাজি হয়েই গেল আকাশ...মুচকি হাসি
হেসে উত্তর দিলো
-চলুন সাহায্য করা যাক...
সেই দিনটা আজো ভাবে আকাশ... পুকুড় পাড়ের
সেই কদম গাছটা থেকে ফুল পাড়া...টং এর
দোকানে বৃষ্টিসিক্ত চা খাওয়া... নীলার সেই
ছেলেমানুষি...
সেই দিনটা থেকেই নীলার সাথে পরিচয়... তাদের
মাঝে গল্পটা শুরু হয় বন্ধুত্বের মাঝে দিয়ে...।
তারপর কেটে যাওয়া চারটি বছর একসাথে । প্রতি
বর্ষাকালেই নীলার পাগলামি শুরু হতো । চুলটানাটানির
বন্ধুত্বের জন্য ওদের একত্রে নীলাকাশ ডাকত
সবাই ।
ওদের সম্পর্কটা বন্ধুত্বের মাঝেই থেকে
গেছে আজ পর্যন্ত, দীর্ঘশ্বাস ফেলে আকাশ ।
আজ আর অফিস করবে না ভাবে আকাশ । বর্ষা শুরু
হয়েছে সবেমাত্র... আজকের দিনটাও মেঘলা...
যদি বৃষ্টির দেখা পাওয়া যায় তাহলে কিছু কদম ফুল নিয়ে
নীলার মন খারাপটা ঠিক করতে যাওয়া যায়, ভাবে আকাশ
।
যেই ভাবা সেই কাজ... বসের কাছে থেকে বাহানা
বানিয়ে ছুটি নিয়ে ছুটলো আকাশ হলুদ কদম ফুলের
সন্ধানে সেই ভার্সিটির পুকুর পাড়টায়...
ইতিমধ্যে আকাশটা আরো মেঘলা হয়ে আসছে...
মনটা হঠাৎ করেই একটা প্রফুল্লতায় ভরে ওঠে
আকাশের । ক্যাম্পাসে পৌঁছাতে পৌঁছাতেই ঝিরিঝিরি
বৃষ্টি নামা শুরু করলো... শার্টের টাই এর গিটটা হাল্কা
করে নিলো আকাশ ।
ক্যাম্পাসের ছেলেগুলো অদ্ভুদ চোখে
আকাশের পাগলামি দেখছে... টাই শার্ট পড়া ফর্মাল
ড্রেসআপের পাগল... কদম গাছে উঠে কদম ফুল
পারছে।
গোটা কয়েক কদম ফুল নিয়ে রওনা দিল মুখে মুচকি
হাসি নিয়ে.. বৃষ্টিটাও জোরে পড়া শুরু করছে তখন
.. ভার্সিটি থেকে নীলার বাসাটা কাছেই। সময় নষ্ট
করবে না ভেবে রিক্সা-ই নিয়ে নিলো আকাশ।
নীলার বাড়ির নিচে নেমে ওকে কল দিলো..
-হ্যালো, নীলা?
-হ্যা,বল আকাশ।
-বাসার নিচে নামবি একটু?
-কেনো?
-আরে নাম না সারপ্রাইজ আছে।
-তুই অফিসে যাস নি?
-আরে এত্তো কথা বলিস না তো.. নাম
তাড়াতাড়ি..রাখলাম এখন।
আকাশ ঝুম বৃষ্টিতে ভিজছে.. অন্যরকম এক ভালো
লাগা কাজ করছে আজ ওকে ঘিরে.. কেমন যেন
এক ভালোলাগা।
বৃষ্টিটা বেড়েই চলেছে.. নীলা নামল
অবশেষে, গেটের বাইরে থেকে আকাশ একটা
হাত তুলে ইশারা দিলো ওর দিকে.. আর একটা হাতে
কদম ফুলগুচ্ছ লুকিয়ে রেখেছে পিছনের দিকে।
নীলা গেটের বাহিরে বের না হয়েই বললো
-এই যে জনাব.. এইভাবে বৃষ্টিতে ভিজছেন কেন?
ভিতরে আসেন।
নীলার ম্রিয়মান মুখের এই কথাগুলো শুনে
অনেকটা অবাক হয় আকাশ। নীলা সাধারণত এমন
মনমরা হয়ে থাকে না তার উপর আজ বর্ষার প্রথম
বৃষ্টির দিন।
আকাশ উত্তর দেয়..
-না ভিতরে যাবো না, চল আজ বৃষ্টিতে ভিজি।
-না ভিজতে পারবো না রে।
-কেন?
-এমনিই.. প্রাণহীন হাসি হেসে উত্তর দেয় নীলা।
পিছনে লুকানো কদমফুলগুলো বের করে
নীলার দিকে বারিয়ে বলে
-এই নে.. তোর জন্য.. এখন তো একটু মন
ভালো কর।
নীলা কদম ফুলগুলো হাতে নিতে নিতে বলে
-ধন্যবাদ...ধন্যবাদ!
আকাশ দেখে নীলার চোখদুটোতে কেমন
যেন মেঘ করছে... জল জমছে..
নীলা আকাশকে আর কিছু বললার সুযোগ না দিয়েই
বলে
-আমি যাই.. উপরে মা একা রান্না কররছে.. সাহায্য
করতে হবে। তুই বাসায় যা পরে কথা হবে। বাই...
আকাশ কিছু বলার সুযোগ-ই পেল না.. নীলা চলে
গেল। কি অদ্ভুদ মেয়েটা, ভাবে আকাশ...আজ
পর্যন্ত আকাশ ওকে ওর মন খারাপের দিনগুলোতে
কিছু জিগ্যেস করতে পারে নি। হয়তো পারবেও
না। চেষ্টা করেছে মন ভালো করার... প্রতিবার
সফল হলেও আজ কেমন যেন ব্যর্থতা ঘিরে
ধরছে ওকে। বৃষ্টিটা হালকা হয়ে আসছে
অনেকটা... আরো কিছুক্ষণ হেঁটে হেঁটে
আগানো যাক,ভাবলো আকাশ।
বাসায় পৌঁছে মোবাইলে নীলাকে টেক্সট
করলো ও।
"কিছু কি বলবি...
যা হয়েছে তোর...
মন ভালোর রঙ মিশাবো,
ইচ্ছেটা চাই তোর...।"
নীলাকে আকাশ মাঝে মাঝে এভাবেই টেক্সট
করে.. ছন্দ মিলিয়ে। জীবনের ছন্দ যখন
কেটে যায় তখন হয়তো ছন্দ মিলিয়ে হয়তো তার
আংশিক পূর্ণ করা যায়... অদ্ভুদ জীবনে অপ্রাপ্তি, না
পাওয়াগুলোকে বাদ দিলে হয়তো জীবনটা
অনেক সুখের হতো,ভাবে আকাশ । কী একটা
জীবন... তার আবার কতো চাওয়া পাওয়া ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now