বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
"দ্য সার্পেন্ট গর্ডেস"------ (চ্যাপ্টার ৯) শেষ চ্যাপ্টার
X
"দ্য সার্পেন্ট গর্ডেস"
আশরাফুল সুমন
-------------------
(চ্যাপ্টার ৯ঃ এ ভেরি নেসেসারি লাইসেন্স এর
শেষ অংশ)
‘সেটাও সোজা। বেলুনের একদম উপরে, মানে
মাথার দিকে একটা গোলাকার ছিদ্র থাকে। সেই
ছিদ্রের মুখে ওটার আয়তনের চেয়ে আকারে
আরো বড় একটা কাপড় গুজে দেয়া হয়। যখন
বেলুনে উত্তপ্ত গ্যাস থাকে, তখন সেই
ফুটোটার মুখে থাকা কাপড়কে গ্যাস ধাক্কা দেয়,
ফলে গ্যাসের চাপের কারণে কাপড়টা জায়গামত
থাকে। সেই কাপড়টাকে বলে প্যারাসুট ভেন্ট।
ওটার সাথে সুতো লাগানো থাকে যা উপর
থেকে একদম নিচে পর্যন্ত বিস্তৃত। যখনই নিচে
নামার প্রয়োজন হয়, সেই প্যারাসুট ভেন্ট এর
সাথে লাগানো সুতোয় টান দিলেই হবে। ছিদ্রটা
খুলে যাবে, এবং উত্তপ্ত গ্যাস বেরিয়ে গিয়ে
বেলুনের ভেতরের বায়ুর তাপমাত্রা কমিয়ে
দিবে। ফলে বেলুন নিচে নেমে আসবে
ধীরে-ধীরে,’ এক গাল হেসে বলল উইলিয়াম।
‘সে সবই তো বুঝলাম, কিন্তু বেলুন খালি উপরে
আর নিচে গেলেই হবে? সামনে না গেলে
আমরা খাদটা পার হবো কিভাবে শুনি?’ কুপার
জিজ্ঞেস করল।
‘সে নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। আমি সব
ভেবে রেখেছি। একটা প্রপেলার লাগবে
আমাদের। কাঠ দিয়ে তৈরি করবো ওটা। চিন্তা করিস
না। আমরা পারবো। এখন সবাই দয়া করে কাজে
লেগে পড়,’ উইলিয়াম সবাইকে নির্দেশ দিল।
ওরা নিজেদেরকে দুই গ্রুপে ভাগ করল।
জ্যাকসন, ইথেন আর গিবস এর উপর দায়িত্ব পড়ল
প্রপেলার তৈরি করার। প্রথমে ওরা জাহাজের কিছু
কাঠ কেটে তিনটা উইং বানাল। এরপর একটা গোল
করে কাটা কাঠের তিন দিকে তিনটা ফুটো করে
উইংগুলোকে ফুটোর ভেতর গাম দিয়ে
ভালোভাবে আটকে দিল। এরপর সেই গোল
কাঠের চাকতির পেছনের প্রান্তে একটা ফুটো
করে তার ভিতর খুব শক্ত করে লাগাল একটা লম্বা
হ্যান্ডেল। এটা দিয়ে প্রপেলারটাকে ঘোরাবে।
প্যাসেঞ্জার বাস্কেট বানানোর দায়িত্ব ছিল
ক্যাপ্টেন আর উইলিয়ামের উপর। দায়িত্বটা আসলে
শুরুতে ছিল জ্যাকসনদের গ্রুপের, কিন্তু
ক্যাপ্টেন নিজেই আগ বাড়িয়ে এই দায়িত্বটা
নিয়েছে। আরো বলে দিয়েছে যে এসব
ছোটখাট কাজ করতে ওর একজনের বেশি
সহযোগী লাগবে না। কেন সে আগ বাড়িয়ে
দায়িত্বটা নিয়েছে সেটা বোঝা গেল একটু পর।
বাকি ৩ জন যখন কাজ করছে খুব মনোযোগ
দিয়ে, তখন ক্যাপ্টেন, উইলিয়ামকে বলল জাহাজে
উঠে আসতে। এরপর ওকে সোজা নিয়ে গেল
জাহাজের নিচের দিকের একটা রুমে। মিশরে
এক্সপোর্ট করার জন্যে যেই পণ্যগুলো সে
এনেছিল সেগুলো এই রুমেই রেখেছিল সে।
দেখা গেল, যে পন্যগুলো বিশাল-বিশাল
বাস্কেটের ভেতর রাখা। প্রত্যেকটা বাস্কেটের
নিচে চাকা বসানো আছে, পরিবহন এর সুবিধার
জন্যে। সেখান থেকে মাঝারি মাপের একটা
বাস্কেট এর কাছে গিয়ে দাঁড়াল ক্যাপ্টেন। এরপর
সেখান থেকে পণ্যগুলো সরিয়ে ফেলে খালি
বাস্কেটের পেছনের প্রান্ত ধরে উইলিয়ামকে
বলল, ‘আই লাইক শর্টকাটস!’
দীর্ঘশ্বাস ফেলে উইলিয়ামও বাস্কেটের
পেছনের প্রান্ত ধরলো। এরপর ধাক্কা দিয়ে-
দিয়ে সেই রেডিমেড বাস্কেটকে সোজা
নিয়ে এলো সেখানে, যেখানে সবাই প্রপেলার
তৈরি করছিল। আসার আগে অবশ্য উইলিয়াম বাকি
ঝুড়িগুলোতে উঁকি ঝুকি দিয়ে দুটি খুবই
প্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে নিয়েছে।
এক্সপোর্টের জন্যে রাখা দুটি ব্যাটারি চালিত
টেবিল ফ্যান।
এরপরের কাজটা সবচেয়ে কঠিন। এনভেলপ তৈরি
করা।
‘এখান একটু হিসেব কষতে হবে, দাঁড়া...আমরা
এখানে আছি ৫ জন মানুষ। এনভেলপ এর আয়তন
এমন হতে হবে যে যাতে করে ওটার ভেতর
ঠিক সেই পরিমাণ গরম বায়ু থাকতে পারে, যেই
পরিমাণ বায়ু আমাদের ৫ জনকে তুলার জন্যে
যথেষ্ট,’ উইলিয়াম বলল। সবাই খুব মনোযোগ
দিয়ে ওর কথা শুনছিল।
‘তার মানে হচ্ছে যে বেলুনের ভেতরের
আয়তনটা সঠিক হওয়া খুবই দরকার। নাহলে ওটা
আমাদেরকে আকাশে তুলতে পারবে না। এখন
হিসেবটা আমি বরং খাতাতেই করে দেখি...’
কিছুক্ষণ খাতায় খস-খস করে কী যেন লেখল
উইলিয়াম। খুব মনোযোগের কারণে কপালের
ভ্রু কুঁচকে এলো ওর। প্রায় ১০ মিনিট পরে খাতা
থেকে মুখ তুলল সে।
‘আমি এনভেলপ, বাস্কেট, বার্নার, প্রোপেন
সিলিন্ডার, প্রপেলার এবং আমাদের ৫ জনের
আনুমানিক ভর হিসেব করলাম। টোটাল এসেছে
মোটামুটি ৫৮৫ কেজি। এখন, ৯৯ ডিগ্রী
সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় প্রতি কেজি ভর তোলার
জন্যে একটা হট এয়ার বেলুনের এনভেলপের
আয়তন হতে হয় প্রায় ৩.৯১ কিউবিক মিটার। সে
হিসেবে ঐকিক নিয়মে ৫৮৫ কেজি ভর তোলার
জন্যে এনভেলপের আয়তন হতে হবে
২২৮৭.৩৫ ঘন মিটার,’ এক মনে বলে যাচ্ছিলো
উইলিয়াম। ‘তো, আমাদের বেলুনকে যদি একটা
বৃত্ত ধরি তাহলে বৃত্তের আয়তন হতে হবে
২২৮৭.৩৫ ঘন মিটার। বৃত্তের আয়তনের সুত্র
থেকে বৃত্তের ব্যাসার্ধ পেলাম ৮.১৭৩৬ মিটার।
অতএব আমরা সেইল ফেব্রিকগুলোকে কেটে
যখন জোড়া দেব, তখন যে বেলুনটা তৈরি হবে,
তার ব্যাসার্ধ হতে হবে ৮.১৭৩৬ মিটার। তার মানে
হচ্ছে, আমাদেরকে এই মাপটার কথা মাথায়
রেখেই সেইল ফেব্রিকগুলোকে কাটতে
হবে।’
এরপর উইলিয়ামের নির্দেশ মত সেইল
ফেব্রিকগুলোকে পরিমাণমত অংশে কেটে
জোড়া লাগিয়ে ৮.১৭৩৬ মিটার ব্যাসার্ধ বিশিষ্ট একটা
বেলুন আকৃতির রুপ দেয়া হলো।
এরপর ওরা বাস্কেট এর ভেতর সিলিন্ডার, বার্নার,
এনভেলপ এবং বাকি প্রয়োজনীয় টুকটাক
জিনিসপত্র রেখে সেটাকে ধাক্কা দিয়ে-দিয়ে
নিয়ে চলল সেই খাদের কাছে। খাদটা অত কাছে
নয়। অনেক দূরে। ওদের গলদঘর্ম হয়ে যাচ্ছে
ওটাকে ধাক্কা দিয়ে এত দূরে নিয়ে যেতে।
অবশ্য, ওটার তলায় চাকা থাকায় সুবিধা হয়েছে।
আসলেই ওদের পরিবহনে সুবিধে হচ্ছে! তাছাড়া
হাতে মশাল থাকার কারণে অন্ধকারে দেখতেও
সমস্যা হচ্ছে না।
ঘন্টাখানেক পরিশ্রম করে ওরা অবশেষে সেই
খাদের মুখে এলো। এরপর বাস্কেটের উপর
থেকে সবকিছু নামিয়ে আবার কাজে লেগে
পড়ল।
এনভেলপের মাথার দিকের খানিকটা অংশ গোল
করে কেটে ফেলে সেই অংশে প্যারাসুট
ভেন্ট বসিয়ে দিল ওরা। প্যাসেঞ্জার বাস্কেটের
উপরে কাঠের তক্তা দিল ছাদ হিসেবে। সেই
তক্তার উপর শক্ত করে বসালো একটা বার্নার।
এরপর একটা প্রোপেন সিলিন্ডার বসিয়ে দিল
প্যাসেঞ্জার বাস্কেটের ভেতর এক কোণে।
সিলিন্ডারের মুখে লম্বা রাবারের নল ফিট করে
সেই নলের অপর প্রান্ত লাগিয়ে দিল বার্নারের
সাথে।
তারপর বাস্কেটের পেছনে ছোট্ট একটা
ফুটো করে সেখানে প্রপেলারটা বসালো
ঠিকমতো। প্রপেলারের ডানাগুলো থাকলো
প্যাসেঞ্জার বাস্কেটের বাইরে আর হ্যান্ডলটা
থাকলো বাস্কেটের ভেতরে। শুনতে সহজ
শোনালেও, কাজটা যে করতে যাবে, সেই শুধু
বুঝবে যে ওটা আসলে কতটা কঠিন! প্রপেলারটা
বসানো হলে ওরা সেইলিং রোপগুলো দিয়ে
এনভেলেপটাকে খুব ভালোভাবে বাঁধল
বাস্কেটের সাথে।
এখনো বেলুনটা ফুলে উঠেনি। সে কারণে
বেলুন এবং প্যাসেঞ্জার বাস্কেট এখনো কাত
হয়ে মাটিতে পড়ে আছে। অতএব একে
প্রাথমিকভাবে ফোলাতে হবে। সেই কাজটা
করতে যথেষ্ট বেগ পেতে হলো।
প্রোপেন সিলিন্ডারের কাজ হচ্ছে প্রাথমিকভাবে
ফোলানোর পরে। প্রাইমারি ইনফ্লেশান বা
প্রাথমিক স্ফিতি দেয়ার জন্যে ব্যাটারি চালিত টেবিল
ফ্যান দুটি ব্যবহার করলো ওরা। হট এয়ার বেলুনকে
প্রাইমারি ইনফ্লেশান দেয়া সহজ কথা নয়। পাক্কা ২০
মিনিট লাগল ওদের। অবশেষে বেলুনটা স্ফিত
হয়ে উঠল। বেলুনটা ফুলে উঠা মাত্রই বেলুন আর
বাস্কেটটা নিজে-নিজেই সোজা হয়ে গেল।
এরপর সাথে-সাথেই তাতে চেপে বসল সবাই।
এনভেলপটা ফোলানোর আগেই অবশ্য ওরা
বাস্কেটকে দড়ি দিয়ে মাটির সাথে খুব
ভালোভাবে বেঁধে রেখেছিলো যাতে করে
ফুলে উঠার সাথে-সাথেই উড়ে যেতে না পারে।
‘রেডি?’ সবার দিকে তাকিয়ে বলল উইলিয়াম। সবাই
সম্মতি সূচক মাথা নাড়ল। এরপর ছুরি দিয়ে মাটির সাথে
লাগান দড়িটা কেটে দিল উইলিয়াম।
প্রোপেন গ্যাসের সিলিন্ডারটা খুলে দিল ওরা।
প্রোপেন, রাবারের টিউব দিয়ে বার্নারে গিয়ে
পৌঁছল, কিছুক্ষণ অপেক্ষা করল উইলিয়াম,
প্রোপেন ভালোভাবে অক্সিজেনের সাথে
মিশ্রিত হোক। এরপর হাতে থাকা মশালটাকে
বার্নারের মুখে ধরলো। সাথে-সাথে বার্নার এর
মুখ দিয়ে দাউ-দাউ করে আগুন জ্বলে উঠল।
ধীরে-ধীরে উত্তপ্ত হতে লাগল বেলুনের
ভেতরের বায়ু।
বার্নারটা পুরো তীব্রতায় ছেড়ে রেখেছে
ওরা। দাউ-দাউ করে বার্নারের মুখ দিয়ে আগুন
উঠছে। কিন্তু বেলুনটা উঠছেই না। সবাই খানিকটা
নার্ভাস বোধ করছে। এমনকি উইলিয়াম নিজেও।
উত্তেজনায় নিজের নখ কামড়াচ্ছিল সে। এত কষ্ট
করে বেলুনটা বানিয়েছে ওরা, এখন যদি কাজ না
করে? এক মিনিট...২ মিনিট...৫ মিনিট...১০ মিনিট...১৫
মিনিট...
বেলুনটা হালকা একটা ঝাঁকুনি দিয়ে উঠল হঠাত করে।
এরপর ধীরে-ধীরে আকাশে উঠতে শুরু
করলো। কান ফাটানো খুশির চিৎকার দিয়ে উঠল ওরা
সবাই।
‘বেলুন যথেষ্ট উপরে উঠেছে। এখন
প্রপেলারটা ঘুরা কেউ একজন। যথেষ্ট জোরে
ঘুরাতে হবে কিন্তু, ক্যাপ্টেন তুই যা...’
ক্যাপ্টেন কুপার প্রপেলারের হ্যান্ডেল ধরে
অনেক জোরে-জোরে ঘুরাতে লাগল।
প্রপেলারটা বোঁ-বোঁ শব্দ করে ঘুরছে। সেই
সাথে বেলুনটাও খুব ধীরে-ধীরে সামনের
দিকে খানিকটা এগিয়ে গেল। কিন্তু খানিক বাদেই
ওটা আবার থেমে গেল!
‘ওকি, থেমে গেল কেন? প্রপেলার জ্যাম
হয়ে গেছে নাকি?’ ভয়ে-ভয়ে বলল ইথেন।
‘আরে নাহ! প্রপেলার ব্যাটা জ্যাম হয়নি, আমিই
জ্যাম হয়ে গেছি! আর পারছি না। তাই একটু জিরিয়ে
নিচ্ছি,’ হাঁপাতে-হাঁপাতে বলল ক্যাপ্টেন।
‘ওরে উজবুক, ঐ প্রপেলার না ঘোরালে যে
ওটা সামনে যাবে না...জ্যাকসন, তুই একটু
প্রপেলারটা ঘুরাতো। তুই হাঁপিয়ে গেলে
আরেকজন ঘুরাবে, এইভাবে চলবে। কিন্তু
প্রপেলার যাতে না থামে,’ বিরক্ত কণ্ঠে বলল
উইলিয়াম।
ওরা প্রপেলার ঘোরাতে লাগল। সেই সাথে
বেলুনটাও ধীরে-ধীরে সামনে যেতে
থাকল। এবং দেখতে-দেখতে ওরা লাভায় পরিপূর্ণ
খাদটা পেরিয়ে এলো।
এবার বেলুনটা নিচে নামানোর পালা। উইলিয়াম প্যারাসুট
ভেন্ট এর সুতোর সাথে লাগানো হ্যান্ডেল এ
খুব জোরে একটা টান দিল। এরপর ওভাবেই ধরে
রাখল। ছিদ্রটা খুলে গেছে। ভেতরের গরম বায়ু
সব বেরিয়ে যাচ্ছে। বেলুনটাও ধীরে-ধীরে
নেমে এলো মাটিতে।
লাফ দিয়ে বেলুন থেকে নামল ওরা সবাই। মুক্তির
আনন্দে ছটফট করছে ওরা। এরপর আর সময় নষ্ট
না করে সবাই একযোগে গোলাকার সিঁড়ি বেয়ে
উপরে উঠতে লাগল। সিঁড়ির ধাপ যেন শেষই
হচ্ছে না। এভাবে বেশ কিছুক্ষণ উঠার পরে
অবশেষে ওরা সামনে একটা দরজা দেখতে
পেল।
দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকে ওরা অবাক হয়ে
গেল। চারপাশে নরকঙ্কাল এর স্তূপ পড়ে আছে
এখানে-ওখানে। এই সেই গুহা, যেখানে
অ্যাঙ্গুইসিয়া শিশুদেরকে বলি দেয়ার জন্যে নিয়ে
আসতো! গুহাটার ডান পাশের দেয়ালে একটা মাঝারি
আকারের টানেল দেখতে পেল ওরা। সাথে-
সাথে অ্যাঙ্গুইসিয়ার একটা কথা মনে পড়ল
উইলিয়ামের, ‘...এরপর সম্পুর্ন ভিন্ন এক পথে
আবার ফিরে এলাম এই স্থানে।’
‘এই সেই টানেল! সমাধির ভেতর মরে পড়ে থাকা
সেই অসহায় শ্রমিককে বালুর ভেতর দিয়ে
টেনে নিয়ে যাওয়ার পর, ঠিক এই পথেই
অ্যাঙ্গুইসিয়া আবার এখানে ফিরে এসেছিল,’
ছোট্ট করে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল
উইলিয়াম।
গুহাটার প্রবেশ পথের সামনে দাঁড়িয়ে প্রথম দুই
মিনিট চোখে কিছুই দেখল না ওরা। চোখ ধাঁধানো
আলোয় ওদের চোখ বুজে এলো। এরপর
ধীরে-ধীরে চোখ সয়ে গেল।
অনেক উঁচু একটা পাহাড়ের উপর দাঁড়িয়ে আছে
ওরা। ভোরের আলো এসে পড়েছে গুহার
মুখে। অনেক-অনেক দিন পর যেন গায়ে খুব
জোরে বাতাসের ঝাপটা পেল ওরা। প্রাণ ভরে
মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নিলো সবাই। বেঁচে থাকার
আনন্দের চেয়ে বড় আনন্দ সম্ভবত এই
পৃথিবীতে আর দ্বিতীয়টি নেই।
***
কানাডার টরোন্টোয় উইলিয়ামের বিশাল বাংলো
বাড়িতে আজ প্রচুর সাংবাদিক এসে ভিড় করেছে।
এছাড়া অসংখ্য দর্শনার্থীও এসেছে। সবাই ওকে
এক নজর দেখতে চায়। একটা জাহাজ সমুদ্রের বুক
থেকে একদম
লাপাত্তা হয়ে গেল, তারপর আবার তার কয়েকজন
যাত্রী ফিরেও এলো, এ তো রীতিমত
লিজেন্ডারি ব্যাপার! সবারই উইলিয়ামের কাছে একটাই
প্রশ্ন। আর বারবার একই প্রশ্নের জবাব দিতে-
দিতে বিরক্ত উইলিয়াম বলল, ‘দেখুন, আমি আগেও
বলেছি, আবারও বলছি, আমাদের জাহাজ ডুবির সাথে
কোন অতিপ্রাকৃত কিছুর হাত নেই! সমুদ্রে ঝড়
উঠেছিল, আর তাতে আমাদের জাহাজ ঝড়ে পড়ে
ধ্বংস হয়ে যায়। আমাদের মধ্যে অনেকেই মারা
গেছে ঝড়ের কারণে। আমরা বাকিরা শুধু মাত্র
ভাগ্য গুনে বেঁচে এসেছি, এইতো।’
‘কিন্তু স্যার, সেই ভাগ্য গুনে মানে কিভাবে,
সেটা একটু জানতে চাচ্ছি, প্লিজ স্যার...’ বেশ
মধুর সুরে জিজ্ঞেস করলো এক রিপোর্টার।
‘আমরা লাইফ বোটে ছিলাম। চারটা লাইফ বোটের
ভেতর ৩টাই ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে
গেছে। শুধু আমরাই ভাগ্য ক্রমে বেঁচে
এসেছি। লাইফ বোটে ভাসতে-ভাসতে আমরা
ইজিপ্ট গিয়ে পৌঁছাই। আর এরপর সেখান থেকে
সোজা কানাডা, এইতো,’ এক রাশ বিরক্তি নিয়ে
বলল উইলিয়াম।
‘অ্যাঙ্গুইসিয়ার মমিটা কোথায় স্যার? ওটা নাকি ঐ
জাহাজেই ছিল? ঘটনা কি সত্য?’
‘জি ছিল। ওটা আমি মিশর নিয়ে যাচ্ছিলাম, কারণ, ওটা
নিয়ে আপনারা একের পর এক আজগুবি গল্প
ফাঁদছিলেন যা ছিল খুবই বিরক্তিকর। তাই ওটাকে তার
নিজের স্থানেই ফিরিয়ে দিতে নিয়ে যাচ্ছিলাম।’
‘স্যার, আপনার কি মনে হয় না যে অ্যাঙ্গুইসিয়ার মমির
কারণেই আপনাদের জাহাজ ডুবি হয়েছিল,
এতগুলো ক্রু মারা গিয়েছিল?’ এক অল্পবয়সী
মেয়ে সাংবাদিক নিজের সোনালি চুলগুলো ঝাঁকিয়ে
বলল।
‘কে জানে, হতেও পারে...’ ঠোঁট উল্টিয়ে
পাত্তা না দেয়ার ভঙ্গিতে বলল উইলিয়াম। ‘এখন দয়া
করে একটু নিস্তার দিন, অনেক প্রশ্ন করেছেন
আপনারা, আমারও ব্যাক্তিগত জীবন বলে কিছু
আছে...’
এরপর আর কোন কথা না বলে উইলিয়াম সবার
মাঝখান থেকে উঠে সোজা নিজের রুমে চলে
গেল। তারপর রিপোর্টারদের মুখের উপর
সপাটে দরজা বন্ধ করে দিল। বন্ধ দরজার ওপাশে
রিপোর্টাররা চিৎকার করছিল। ওরা ওর উত্তরে
সন্তুষ্ট নয়।
সন্তুষ্ট সে নিজেও নয়। কিন্তু তার কীইবা করার
ছিল? ও যদি পুরো সত্যটা বলতো, তাহলে এই
মানুষগুলোই ওকে বদ্ধ উন্মাদ বলতো। বলতো
যে উইলিয়াম খ্যাতির জন্যে এসব মিথ্যা, আজগুবি এবং
আষাঢ়ে গল্প ফাঁদছে।
তবে...ওর সত্য না বলার কারণ অবশ্য পুরোপুরি
সেটাও নয়। কারণ আছে আরো একটা...
পৃথিবী খুব দ্রুত সামনে এগিয়ে যাচ্ছে।
বিজ্ঞানের উন্নতি হচ্ছে আলোর গতিতে। এ
অবস্থায় এসব অতিপ্রাকৃত বিষয় নিয়ে কথা বললে
মানুষগুলো লৌকিক দিক ছেড়ে অলৌকিক দিকে
বেশি করে ঝুঁকে পড়বে। আর একবার যদি তা হয়,
তাহলে মানব সভ্যতা আর কখনই সামনে এগোবে
না। আজীবন পেছাতেই থাকবে। বিজ্ঞানের
পূজারি হয়ে সে তার এত বড় ক্ষতি কিভাবে করতে
পারে? সে তাই করেছে যাতে মানুষের মঙ্গল
হয়, পৃথিবীর কল্যাণ হয়।
সব কথা সবার জানার প্রয়োজন নেই। কিছু কথা না
হয় আড়াল হয়েই থাক। তাতে যদি সবার মঙ্গল হয়,
তবে তা গোপন হয়ে থাকাই ভালো।
(সমাপ্ত)
------------------
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now