বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
.
.
আজ একটা চাকরির ইন্টারভিউ দিতে যাচ্ছি।ফাষ্ট টাইম।তাই একটু ভয় করছে।তবে মনে সাহস নিয়ে যাচ্ছি।কারন কিছু ভূল করলে কিছু শেখা যায়।তেমনি কিছু জানার জন্য সেই বেপারে বেশি বেশি মাথা ঘামানোটাও সঠিক কাজের মাঝেই পড়ে।কিছু ভূল মানেই অভিজ্ঞতা বাড়া।
ইন্টার'টা কমপ্লিট করে চাকরি করার ইচ্ছে ছিলো।তাই আজ যাওয়া।জানিনা কেমন হবে ইন্টারভিউ।
যেখানে ইন্টারভিউ দিব সেই অফিস এর সামনে চলে এসছি প্রায়।
আর পাঁচ মিনিট হবে।
-
রিক্সা থেকে নেমে অফিস এ ঢুকলাম।অনেক রকমের মানুষ সেখানে বসে রয়েছে।দামি দামি মানুষ।সবার ভিরে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে বসলাম।
পাঁচ মিনিট বসে থাকার পর একজন লোক আমার কাছে এসে বসল।বয়সটা বেশি না পচিঁশ হবে।তিনি আমাকে বল্লেন,
--"কি ভাই কোথায় থেকে আসছেন?
অচেনা তবু কথা বল্লাম।কারন তার কাছ থেকে যদি কিছু জানতে পারি।তাই তাকে বল্লাম আমি,
--"এইতো ভাই গ্রাম থেকে,আপনি?
--"এইতো শহরের মধ্যেই,আপনি চিনবেন না।
কিছুক্ষন নিশ্চুপ থাকলাম দুজন।তার ওনি বলে উঠলেন,
--"কতো টাকা এ্যাডভান্স করবেন বস কে?
আমি কিছুটা অবাক হয়ে গেলাম।বস?আবার টাকা?
--"আপনি কি এই অফিসে চাকরি করেন?
--"কি মনে হয়?
তার পর লক্ষ্য করলাম তার গলার সাথে অফিস এর ব্যাস দেওয়া আছে।তাতে লেখা আছে তার নাম।এবং এতেই বুঝে গেলাম সে এখানে চাকরি করেন।একটু মন ধক ধক করা থামল।করন এনার কাছে থেকে সব কিছু জেনে নেওয়া যাবে।তাই আগ্রহী হয়ে বল্লাম,
--"কতো বছর যাবৎ চাকরি করছেন?
--"পাঁচ বছর।
-
আধা ঘন্টা পর অফিস থেকে বের হয়ে চলে যেতে হচ্ছে।সেই লোকটিকে থেকে যা জানতে পারলাম তা হলো;এখানে চাকরি করতে হলে,এখানে পাঁচ লক্ষ টাকা জমা দিয়ে চাকরিতে জয়েন করতে হবে।গাড়ি থাকতে হবে নিজেস্ব।এসন শুনে মনটা যা বলল,
--"মধ্যবিত্ত এর জন্য এই চাকরি নয়।এটা বড় সোসাইটির মানুষদের জন্য।
আসলেই মধ্য বিত্তের বড় স্বপ্ন দেপখতে নাই।তা পূরন এর হার মাত্র ১০%।
এদিকে তুলি কে অপেক্ষায় রেখেছি।এক সপ্তাহ এর মধ্য একটা ভালো চাকরি জোগাতে হবে।এদিকে বাবা-মা তারাও আমার দিকে চেয়ে আছেন।
তুলির সাথে আমার সম্পর্ক হলো প্রেম।
গ্রামেই দুজনের বাড়ি।তারাও মধ্যবিত্ত এবং আমরাও।
তবে তুলি তার বাবা-মা এর আদরের একমাত্র মেয়ে।এবার তুলি ইন্টার ফাষ্ট ইয়ার।
গ্রামে এই বয়সটা অনেক।ধরা চলে বিয়ের জন্য উপযোগ্য।তবে তুলির জন্য তেমন কোন সমন্ধ আসেনি।তবে আসতে কতক্ষন।তাই তারাতারি চাকরিটা পেলে, তুলির বাবাকে বলে;বিয়ে এক বছর পিছিয়ে করলেও হবে।কিন্তু চাকরিটাইতো পাচ্ছি না।
-
রাতে একটা হোটেল এ উঠলাম।কাল আরেকটা চাকরির ইন্টারভিউ দিতে হবে।একটা কাজিন এবেপারে সাহায্য করছে।
আপন মানুষগুলো যখন কোন কাজে লাগল না,তখন বন্ধু কাজিনদের দ্বারা চাকরিটা যদি হয়।
রাতে হোটেল থেকে খাবার কিনে আনলাম।খেতে বসলাম।তখন ফোনটা নেজে উঠল।স্কিনে তাকিয়ে দেখি তুলি ফোন করেছে।তুলির নিজেস্ব কোন ফোন নেই।বাবার ফোন দিয়ে ফোন দেয়।হয়তো তুলির আব্বু কাছে নেই তাই ফোন করেছে।তারাতারি ফোনটা ধরলাম,
--"কেমন আছো?
তুলি নরম শুর নিয়ে বল্ল,
--"ভালো,তুমি?
--"ভালো,কি করছো?
--"শুয়ে আছি,ও হ্যাঁ চাকরির খবর কি?
মনটা কিছুটা খারাপ হয়ে গেলো।
কারন চাকরিতো অতো সহজ না।টাকা লাগে।সেগুলা লুকিয়ে তুলি কে বল্লাম,
--"না হয়নি।কাল আরেকটা আছে,ওইটাতে হবে বলে মনে হচ্ছে।
তুলি একটু হাসি দিয়ে বলল,
--"মন দিয়ে ইন্টারভিউ দিবা কিন্তু।
--"আচ্ছা।
ফোনটা রেখে দিয়ে,নিজেকে কেমন জানি লাগছে।যাকে কখনও মিথ্য বলিনি,তাকে আজ মিথ্য বল্লাম।তবে সত্যটা বল্লে হয়তো তুলির মনটা খারাপ হয়ে যেত।
বিপদ,বা খুশি করার জন্য দু একটা মিথ্য বল্লে কিছু হয় না।তবে মন খারাপ হবে জেনপ সত্যটা বল্লাম না।মিথ্যটা বলে কি ভূল করেছি?এরকম প্রশ্ন আমার মাথায় ঘুর পাক খাচ্ছে।কিন্তু কোন উওর নাই।
-
খাওয়া শেষ করে ঘুমাতে গেলাম।কাল আবার একটা ইন্টারভিউ আছে।কি জানি কালকেউ যদি টাকার প্রসঙ্গ তোলে।কি করব ভাবছি।এদিকে বাবা কেও এসব বলতে পারছি না।কারন বাড়ির অবস্হা একদম ভালো না।কোন রকমে বাবা সংসারটা চালিয়ে নিচ্ছে।
শহরে আসবার সময় বাবার খুব মন খারাপ ছিলো।কারন শহরে আসতেও টাকার প্রয়জন।কিন্তু বাবার কাছে তেমন টাকা ছিলো না।আমার একটা ছাইকেল ছিলো,সেই সাইকেল বিক্রি করে শহরে আসছি।
১৫-২০ দিন চলে যাবে।
আর এই কদিনের মধ্য আমার একটা চাকরি জোগাতে হবে।
কিন্তু চাকরিরতো কোন খবরই নাই।চাকরির ইন্টারভিউ দিতে গেলেই বলে;তিন লক্ষ বা চার লক্ষ টাকা দিয়ে জয়েন করতে হবে।
রেজাল্ট+সব কাগজ পত্র ঠিক আছে।কিন্তু টাকা'টাই ঠিক নাই।তাই চাকরি হচ্ছে না।
-
পরের দিন সকালে উঠে রওনা দিলাম।আমার সাথে আমার কাজিনও গেলো।
অফিসএ দুজন ঢুকলাম।অনেকেই বসে আছে সেদিনের মতো।আমার কাজিন এর একজন চেনা আছে।আর সেই চেনা মানুষটার সাথে কথা বলতে চলে গেলো আমার কাজিন।
আমি চেয়ার এ বসে আছি।একজন করে ভেতরে ঢুকছে আর আরেক জন বেরিয়ে আসছে।কারো মুখে সুখের হাসি,কারো মুখে বিষন্নর ছায়া।কাঁদছেনা ঠিকিই।তবে ভেতরটা কাঁদছে।আমি তাদের চোখের তাকিয়েই বুঝতে পারলাম।
তার পর নীল(কাজিন) ডাক দিলো আমাকে,তোরিয় বলে।আমি সেখানে গেলাম।নীল বলল,
--"তোরিয় দেখ এখানে চাকরি নিতে গেলে, এক লক্ষ টাকার প্রয়জন।আমি জানি তোর এতো টাকা দেওয়া সম্ভব না।
আমি মাথাটা নিচু করে শুধু নীল কে বল্লাম,
--"চল এখন যাই।
তার পর সেখান থেকে বাসায় চলে এলাম।
বাসায় এসে ভাবছি।কি করব।তুলি কে কি জবাব দিব?আজও চাকরিটা হয় নি।
তুলি'কে তো আমি "প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম;তাকেই আমি বিয়ে করব।তুলি'ও আমার "প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো;সে শুধু আমার।আমার ছাড়া তুলি অন্য করে হবে না।
কিন্তু আমি কি আমার "প্রতিশ্রুতি রাখতে পারব?নাকি পারব না।
ভেতটা কেমন জানি মোচর দিয়ে উঠল।
রাতে খেলাম না।ফোনটাও অফ করে রাখলাম।
কারন তুলি যদি ফোন করে।তাহলে তাকে আজও আমি মিথ্য বলতে পারব না।তার চেয়ে ফোন টা অফ থাকুক।
-
সকালে উঠে ফোনটা খুলার সাথে সাথে তুলির ফোন।আমি ভাবলাম;হয়তো কাল থেকে মেয়েটা ফোন করে অস্হির অবস্হা।চিন্তাও করেছে,এটা নিশ্চিত।ফোনটা ধরব কি না তা ভাবছি।আর ফোন না ধরলে কান্না করবে এটা নিশ্চিত।তাই ফোন টা ধরলাম,
--"হ্যালো।
ওপাশ থেকে তুলি কান্না জরিত কন্ঠে বলল,
--"এই তোমার কি হয়েছে?শরীর ঠিক আছে তো?আর কাল রাতে ফোন অফ ছিলো কেন?রাতে খেয়েছিলে?
এবার মনে হচ্ছে মেয়েটা রাতে কান্না করেছে।তা ছাড়া এত্তগুলা প্রশ্ন একবারে জিজ্ঞাসা করতো না।ভাজ্ঞিস চাকরির কথাটা বলেনি।তা না হলে কি জবাব দিতাম।যাই হোক সব প্রশ্নের উওর দিতে হবে।নইলে কান্না করবে।আমি স্বচ্ছ গলা নিয়ে বলল্লাম,
--"আরে আমার কিছু হয়নি।কাল চাকরিটা।
সেখানে আমাকে আর কথা না বলতে দিয়ে তুলি বলে উঠল,
--"তার মানে চাকরি হয়ে গিয়েছে।
তুলি অনেক খুশি হয়েছিলো।কিন্তু পুরো কথাটাতো শুনলোই না।আমিও আর বল্লাম না।তার এই হাসিটা আমি কেড়ে নিতে চাই না।তাই চাকরির বিষয় বাদ দিয়ে,অন্য কথা বলে ফোনটা রেখে দিলাম।
ফোনটা রেখে মনে হচ্ছে,আমি কি কোন ভূল করছি?সত্যটা কি বলে দিব তুলি কে?কিন্তু তুলে যে কষ্ট পাবে।না এটা আমি করতে পারব না।
এ কদিনের মধ্য একটা না একটা চাকরি পেয়েই যাব।তখন সত্যটা বলে দিব।
তখন তুলি আংশিখ মন খারাপ করলে,পরে মনটা ভালো হয়ে যাবে।চাকরির কথা শুনে।
-
এভাবে আরো দশদিন কেটে গেলো।দশদিনের মাথায় তুলি ফোন করে বলছে,
--"তোরিয় আমার বিয়ে ঠিক করেছে বাবা।তুমি কিছু করো।আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচব না।তুমি তোমার বাবা-মা কে বলো;তারা আমার বাবা-মা'র সাথে কথা বলতে।
আমি কি বলব বুঝতে পারছি না।কথাগুলো শুনে মনে হলো,আমি আঁকাশ থেকে পড়লাম।চোখটা লাল বর্ন হয়ে গেলো।যখন তখন অশ্রু ঝরবে।কাউকে হাড়ানোর ভয়ের অশ্রু।
তার পর তুলিকে সত্যটা বলে দিলাম।
তুলি আমাকে বলল,
--"আরে পাগল।এই কথা ভয়ে বলোনি।আমাকে বল্লে কি তোমায় খেয়ে ফেলতাম?
কাল অবশ্য একটা চাকরির ইন্টারভিউ আছে।ভালো একটা কোম্পানি।নতুন।টাকা লাগবে না শুনেছি।তাই তুলিকে কথাটি বলব ভাবছি,
--"কাল একটা চাকরির ইন্টারভিউ আছে।টাকা লাগবে না শুনেছি।আর আমার একটা ভালো কাজিন আছে সেই অফিসে।আমার মন বলছে চাকরিটা হয়ে যাবে।তুমি কোন চিন্তা করো না।চাকরিটা পেলেই তোমার বাবা-মা'র কাছে আমার বাবা-মা'কে পাঠাব।তুমি একটু মেনেজ করো?
তুলির একটু হাসল।হয়তো কথাটি শুনে মনটা একটু ভয় মুক্ত হলো।তাই আমাকে বলল,
--"ওকে।এখন রাখছি,বাবা যখন তখন চলে আসতে পারে।ভালো থেকে।ঠিক মতো খাবে।
--"হুমম থাকব এবং তুমি ভালো থেকো।
তার পর উঠে ফ্রেস হয়ে খেয়ে নিলাম।
-
পরের দিন সকাল সকাল উঠে,রেডি হয়ে ইন্টারভিউ দিতে চলে গেলাম।এই দিয়ে ৭ টা ইন্টারভিউ।
আজ একটু বেশি কনফিডেন্স মনে।কাজিনটা বলল;কনর্ফাম চাকরিটা হবে।
তার কথা মতো সেই অফিসে গেলাম।
অফিসটা নতুন।তাই মানুষও কম।কাল অবশ্য কাগজ পত্র নিয়ে গেছে রিহান ভাই(কাজিন)।আজ শুধু উওর এবং কিছু টেস্ট দেবার জন্য আসছি।
অফিসে ঢুকতেই দেখলাম,দেওয়ালে লেখা আছে, ফোন বন্ধ রাখুন।আমি বন্ধ না করে সাইলেন্ট মুড করে ঢুকলাম।
তার পর বস এর রুমে গেলাম।ভয় করছে না।কারন ৬টা দিয়ে অভিজ্ঞতা বেড়ে গেছে।
বস এর রুমে নক করে ভেতরে ঢুকলাম।
--"বস্ আসতে পারি?
--"হুম,বসো।
বস্ কার সাথে যেন কথা বলছিলো।ফোনটা রেখে আমাকে বলল,
--"তোমার ফোনটা দেখি?
আমি একটু অবাক হলাম।একটু ভয়ও করল।কারন দেওয়ালে লেখা ছিলো;ফোন বন্ধ রাখুন।
আমিতো সাইলেন্ট রেখেছি।কি যে হবে আল্লাহ্ই জানে।
ফোনটা বের করে সামনে দিলাম।
তার পর বস্ ফোনটা হাতে নিয়ে বলল,
--"তুমি আজ থেকেই জয়েন করতে পারো।ভাবছো কেন ফোনটা চাইলাম?কারন দেওয়ালের কথা অনুযায়ী কাজ করলে তুমি আবুল হিসেবে গন্য হতে।কিন্তু তুমি তা করো নি।আর এটাই তোমার টেষ্ট ছিলো।আজ থেকেই তোমার অফিস।যাও তোমার রুমে যাও।
তখন আমার খুশি দেখে কে।মনে হচ্ছিলো বস্ কে নিয়ে ব্রেক ডান্স করি।কিন্তু উনিতো বস্।তাই হ্যান্ডসাপ করে আমার রুমে চলে এলাম।
-
রাত দশটা বেজে গেলো অফিস থেকে ফিরতে।
অফিসে কাজ একটু বেশিই করে ফেলছি।বস্ তা বলল।
রাতে এসে তুলিকে ফোন দিব ভাবছি।ফোনটা সারা দিন সাইলেন্ট ছিলো।ফোনটা বের করার সাথে সাথে দেখলাম একটা ম্যাসেজ।ওপেন করে দেখি তুলি ম্যাসেজ করেছে।
সেখানে লেখা ছিলো,
--"বাবা আমার কাল বিয়ে দিয়ে দেবে।আমার আর তোমার কথাগুলা সেদিন বাবা শুনতে পেয়ে, সেই ছেলের সাথে আমার জোর করে,কালকের মধ্যই বিয়ে দিয়ে দেবে।তুমি কিছু করো।আমি শুধু তোমার,তোমাকে ছাড়া আমও বাঁচব না।
--"
আমি ম্যাসেজটা পড়ে ফোন দিলাম।কিন্তু ফোনটা বন্ধ পাচ্ছি।
কি আর করব,সকাল না হলে তো আর দেশের বাড়ি যাইতে পরব না।রাত তো অনেক হয়েছে।
বাবা কেউ এতো রাতে ফোন দিতে পারব না।যদি তাদের ঘুমটা ভেঙে যায়।
তাই চিন্তায় চিন্তায় ঘুমালাম না।
শেষ রাতে একটু চোখ বুজেছিলাম।
এলার্ম দেওয়া ছিলো।তাই টের পেলাম,তখন ৮টা বাজে।
-
ফোন দিতে যাব তখনই বাবার ফোন,
--"হ্যালো,বাবা তোরিয় তুই কি তুলি কে ভালোবাসিস?
আমি কিছুটা অবাক হয়ে গেলাম।বাবা এ কথা কেম্নে জানল?বাবাকে সত্যটা বলে দিলাম,
--"হ্যাঁ বাবা বাসি।
বাবা তার পর বিষন্ন গলায় নিয়ে বলল,
--"তুলি কাল রাত থেকে বাসায় নেই।ওর বাবা মা তোকে দোষারপ করছে।তোর ওইখানে তুলি আছে?
আমি আরো অবাক হলাম।এসব কি বলে বাবা?তুলি কাল রাত থেকে বাসায় নেই।কোথায় গেলো তাহলে?বাবাকে বললাম,
--"না বাবা আমার কাছে তো তুলি নেই।
আচ্ছা তুমি ফোনটা রাখো আমি দেখছি।
তার পর ফোনটা রেখে গ্রামের দিকে রওনা দিলাম।বস্ এর কাছে থেকে ছুটি নিলাম।
তার পর রওনা দিলাম না খেয়ে।
-
বাস এ উঠলাম তখন সকাল ৪:৩০ বাজে।বাস ছাড়ল,৪:৫০ এ।আধা ঘন্টা যাওয়ার পর বাসটি হঠাৎ থেমে গেলো।সামনে তাকিয়ে দেখি অনেক মানুষ ভির করে আছে।সবাই বলা বলি করছিলো যে;কে যেন রাতে রাস্তা পার হবার সময় ট্রাক এর সঙ্গে ধাক্কা খায়।এবং মারা যায়।এম্বুলেন্স ও দাড়িয়ে আছে।জায়গাটা তদন্ত করছে পুলিশ।
আমি এবং কিছু যাত্রি বাস থেকে ঘটনা স্হলে গেলাম।
তার পর দেখলাম একটা বেড এর ওপর একজন কে শুইয়ে রাখা হয়েছে।মুখের ওপর সাদা কাপর দিয়ে ঢাকা।
হঠাৎই আচমকা বাতাস এসে কাপর টা সরে গেলো।
চোখটা তিরের গতিতে সেই মুখটির ওপর আটকে গেলো।
তাকিয়ে দেখি তুলি শুয়ে রয়েছে সেই বেডএ।
মনের আঁকাশে ঝর উঠে গেলো।হৃদয়ের স্পন্দন বেড়ে গেলো।চিৎকার করে সেখানে সবাইকে ঠেলে চলে গেলাম।বেড এর পাশে গিয়ে তুলেকি বুকে নিয়ে বল্লাম,
--"এই তুলি উঠো?এই দেখো আমি চাকরি পেয়েছি।তুমি কেন ঘুমিয়ে আছো?উঠো বলছি পাগলি।
কিন্তু তুলি উঠলো না।কথাও বলল না।আমি বল্লাম,
--"প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলে পাশে থাকবে।কিন্তু প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করলে কেন??
তার পর দুজন পুলিশ এসে আমাকে এম্বুলেন্স এ বসালো।এবং তুলিকে সেই এম্বুলেন্স এ নিয়ে গ্রামের বাড়ি চলে গেলাম।আমার কেমন জানি সব স্বপ্ন মনে হচ্ছিলো।নিস্বচুপ ছিলাম গাড়িতে।কিন্তু চোখের অশ্রু বেয়ে চলছিলো।পুরো শার্ট ভিজে গিয়েছিলো।
তার পর গ্রামে এসে তুলিকে মাটির ঘরে রেখে এলাম।সেদিন বৃষ্টি ছিলো।বৃষ্টির সাথে আমার গভীর সম্পর্ক ছিলো।তাই আমার কান্নার সাথে তার কান্নাও ফুটে উঠেছিলো।
-
দু বছর পর আজ ডাইরীটা খুল্লাম।তিথিকে গল্পটি বলছি।তিথি আমার বউ।তিন মাস হলো বিয়ে করেছি।পরিবারই ঠিক করেছিলো বিয়েটি।না করিনি।যা করার সবাই করেছে,আমি শুধু হ্যাঁ বলে গেছি।
বিয়ে করার পর তিথিকে নিয়ে শহরে চলে আসি।প্রায় সমই একা থাকতাম।রাতে ঘুমাতাম না।
তখনই বুঝতে পারে।মেয়েটি আমার খেয়াল নিতো।
আমি না খেলে তিথিও খেতো না।একটু মায়ায় পড়ে গিয়েছিলাম।তাই খেতাম।প্রায় সময়ই তিথি জোর করেই খাইয়ে দিত।
না করতে পারতাম না।না করলেই কাঁদতো।
শুধু শুনতে চাইতো আমার কষ্ট।তাই আমার কষ্টের কথাগুলো সব তাকে বল্লাম।আমার চোখ বেয়ে নিশ্চুপ অশ্রু ঝরছে।তিথি বলে উঠল,
--"তোমার কষ্টগুলো আমাকে দেবে?
এই বলে মেয়েটি আনাকে জরিয়ে ধরল।
তার পর দৌড়ে রুমে চলে গেলো।
অভিমান হয়েছে।আর অভিমান না ভাঙালে আজ রাতে খাবে না।তাই রুমে গেলাম।
তিথি কাঁদছে।পাশে গিয়ে মাথার হাত দিয়ে চুলগুলো বিলি করে দিলাম।তার পর তিথি আমার কোলের ওপর মাথা রাখল।
--"যাক অভিমান ভাঙছে কি তোমার?
--"না সারা রাত তোমার কোলের ওপর মাথা রাখলে ভাঙবে।
বাচ্চাদের মতো করে কথা বলে।
তাই মায়াটা বেশিই।হয়তো আমিও ভালোবাসি।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now