বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

"দ্য সার্পেন্ট গডেস"----- (চ্যাপ্টার ৮)

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X "দ্য সার্পেন্ট গডেস" আশরাফুল সুমন ------------------- (চ্যাপ্টার ৮:দ্য আল্টিমেট সেক্রিফাইস এর বাকি অংশ) ‘লাভ নেই উইলিয়াম, আমাকে মারতে পারবে না তোমরা। কিছুতেই না...’ অ্যাঙ্গুইসিয়া চিৎকার করে উঠল। এক নাবিক তলোয়ার উঁচিয়ে উন্মত্ত চিৎকার করতে- করতে অ্যাঙ্গুইসিয়ার দিকে ছুটে এলো। তলোয়ারের সামনের দিকটা অ্যাঙ্গুইসিয়ার পেটে ঢুকিয়ে দিল হাতলসহ। কিন্তু ও একটু দেরি করে ফেলেছে। অ্যাঙ্গুইসিয়া তার ঠিক আগ মুহুর্তেই নিজেকে ট্রান্সপারেন্ট করে ফেলেছে। ভয়ঙ্কর একটা হাসি উপহার দিল সে নাবিকটার দিকে তাকিয়ে। সে হাসি দেখে ভয়ে গায়ের লোম দাড়িয়ে গেল নাবিকটার। মুহুর্তেই চোষক বেরিয়ে এলো অ্যাঙ্গুইসিয়ার মুখ থেকে। কেউ কিছু বুঝে উঠার আগেই চোষকের মুখে লাগানো কাঁটাটা সোজা নাবিকটার গলার রক্তনালির এক পাশ দিয়ে ঢুকিয়ে আরেক পাশ দিয়ে বের করল সে। প্রচণ্ড এক টানে ছিঁড়ে ফেলল ওর রক্তনালী। তাজা রক্ত ছিটকে এসে ওর মুখে পড়ল। এরপর সোজা মুখ ঢুকিয়ে দিল ঐ নাবিকের গলায়। অদ্ভুতভাবে শব্দ করে-করে টেনে নিতে লাগল ওর সমস্ত রক্ত। এরপর নাবিকটাকে এক হাতে শুন্যে উঁচিয়ে ধরলো, সোজা নিয়ে চলল খাদটার ঠিক উপরে। এরপর ওর মাথা লক্ষ্য করে ওর অপর হাতটা ছুরির মত সাঁই করে চালিয়ে দিল। সাথে-সাথে নাবিকটার মাথাটা উড়ে গিয়ে সোজা পড়লো লাভার ভেতরে। উত্তপ্ত লাভা গলিয়ে দিল ওর কাটামুন্ডুটাকে। এরপর ওর ধড়হীন শরীরটাকে সোজা ছুঁড়ে দিল নিচে। উত্তপ্ত লাভার ভেতরে হারিয়ে গেল অসহায় নাবিকের শরীরটা। নাবিকরা সবাই পালাতে শুরু করেছে ততক্ষণে। ওরা দরকার হলে ক্ষুধা তৃষ্ণায় মরবে, কিন্তু এই রকম ভয়াবহ মৃত্যু কেই বা চায়? সাথে-সাথে দরজার মুখে এসে দাঁড়াল অ্যাঙ্গুইসিয়া। নাবিকরা ওকে দেখে থর-থর করে কাঁপতে লাগল। উল্টো দিকে দৌড় লাগাল সবাই। চোখের নিমিষেই দুই জন নাবিককে দুই হাতে ধরে মধ্য আকাশে তুলে ফেলল অ্যাঙ্গুইসিয়া। এরপর কোন ভ্রুক্ষেপ না করেই সোজা ছুঁড়ে দিল খাদের দিকে। লাভার ভেতর হারিয়ে গেল আরও দুই জন হতভাগা নাবিক। এ দৃশ্য দেখে বাকি দুইজন আরও ভয় পেয়ে যে যেদিকে পারে সেদিকে দৌড়াতে শুরু করল। পালাতে থাকা নাবিকদের মধ্য থেকে আরও এক নাবিককে তুলে নিলো অ্যাঙ্গুইসিয়া। এরপর চোখের নিমিষেই ওর শরীরটাকে শুন্যে তুলে নিলো সে। মৃত্যু ভয়ে প্রচণ্ড ছটফট করছে নাবিকটা। কিন্তু অ্যাঙ্গুইসিয়া একটুও দয়া দেখাল না। এক হাতে ওর মাথা আর অপরহাতে ওর কোমর ধরে ওকে মধ্য আকাশেই মট-মট করে ভেঙ্গে ফেলতে লাগল। পশুর মত চেঁচাচ্ছে লোকটা। কিন্তু নিষ্ঠুর শিরিশিরে হাসি দিয়ে যাচ্ছে অ্যাঙ্গুইসিয়া। বাকিদের বিস্ফারিত চোখের সামনেই লোকটার শরীরটাকে ভেঙ্গে ফেলল ডেমি গডেস অ্যাঙ্গুইসিয়া। এরপর ভাঙ্গা অংশ দুইটিকে দুই হাতে ধরে সোজা ছুঁড়ে দিল উত্তাল লাভার ভেতরে। উইলিয়াম ওর তলোয়ার নিয়ে সোজা তেড়ে এলো অ্যাঙ্গুইসিয়ার দিকে। এতগুলো ভয়ঙ্কর মৃত্যু দেখার পর মাথা আর কাজ করছে না ওর। তলোয়ারটা সোজা অ্যাঙ্গুইসিয়ার ঘাড় লক্ষ্য করে চালিয়ে দিল ও। তলোয়ারটা সোজা ওর গলার ভেতর দিয়ে বেরিয়ে গেল। একটুও আঁচড় ফেলতে পারলো না। ‘আমি তোমাকে আবারও বলছি উইলিয়াম, চেষ্টা করে লাভ নেই। আমাকে হত্যা করা দূরে থাক, আমার গায়ে আঁচড় ও ফেলতে পারবে না তুমি,’ হিসহিস করে বলল অ্যাঙ্গুইসিয়া। ‘এখনও তুমি যথেষ্ট স্ট্রং আছো দেখছি। বাকিদের মতো ভেঙ্গে পড়নি। কেন উইলিয়াম, কেন? আমি চাই তুমি এসব দেখে মাটিতে পড়ে মাথা কুটবে। চিৎকার করবে, চেঁচামেচি করবে। আমার কাছে আকুতি জানাবে তোমাকে ক্ষমা করে দেয়ার জন্যে। কেন করছো না তুমি এমন? কেন...’ ভয়ঙ্করভাবে চিৎকার দিয়ে-দিয়ে কথাগুলো বলছিল অ্যাঙ্গুইসিয়া। ওর প্রতিটি কথা সিলিঙে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল। ভয়ঙ্কর ক্ষেপে গেছে সে। ‘আর কয়জনকে ভয়ানকভাবে হত্যা করলে তুমি ভয় পাবে উইলিয়াম, আর কয়জন নাবিকের শরীরকে দুমড়ে- মুচড়ে ভেঙ্গে ফেললে তুমি আমার কাছে ক্ষমা চাইবে উইলিয়াম? বল?’ ঘৃণাভরা দৃষ্টিতে উইলিয়ামকে দেখতে- দেখতে বলল অ্যাঙ্গুইসিয়া। ‘সম্ভবত, তোমার খুব কাছের কেউ মারা যায়নি বলেই তুমি এখনো এতোটা শক্ত আছো উইলিয়াম। চল তাহলে, দেখি যে খুব কাছের কেউ মারা গেলে উইলিয়াম দ্য গ্রেট এর কি অবস্থা হয়,’ বলেই মুখটা একটু বাঁকিয়ে ভ্রুকুটি করল উইলিয়ামের দিকে তাকিয়ে। পরমুহুর্তেই ইথেন আর কুপার দুইজনেই শুন্যে উঠে গেল। অদৃশ্য কিছু একটা যেন ওদের গলা চিপে ধরেছে। প্রচণ্ড হাঁসফাঁস করছে ওরা। হাওয়ায় ভাসতে-ভাসতে ইথেনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে অ্যাঙ্গুইসিয়া। ওর খোলা মুখ দিয়ে লম্বাকৃতির জিহ্বাটা বেরিয়ে এসেছে। চোষকটা প্রায় ইথেনের গলার কাছাকাছি চলে এসেছে... ‘নাআআআআআ...অ্যাঙ্গুইসিয়া...প্লিজ স্টপ ইট! আমি আর সহ্য করতে পারছি না! আর দেখলে আমার মাথা ফেটে যাবে,’ মাথা চেপে ধরে হাঁটু গেড়ে মাটিতে পড়ে গেল উইলিয়াম। ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল ও। চোষকটা মাঝ পথেই থেমে গেল। অ্যাঙ্গুইসিয়া ঘাড় ঘুরিয়ে উইলিয়ামের দিকে তাকাল। আত্মতৃপ্তির একটা হাসি ফুটে উঠল ডেমি গডেস এর মুখ দিয়ে। সাথে-সাথেই কাটা গাছের মত মাটিতে পড়ে গেল ইথেন আর কুপার। ওরা মাটিতে পড়ে যেতেই আরও জোরে- শোরে কেঁদে উঠল উইলিয়াম, ‘না, প্লিজ অ্যাঙ্গুইসিয়া, ওদেরকে ছেড়ে দাও, ওরা কোন দোষ করেনি। পুরো আইডিয়াটা আমারই ছিল। আমিই তোমার সমাধি অপবিত্র করেছি। আমাকে ক্ষমা করে দাও দেবী! আমি বুঝতে পারিনি তোমার কত ক্ষমতা। ক্ষমা করো দেবী, ক্ষমা করো আমাকে। প্লিজ...আর নিতে পারছি না, সহ্য করতে পারছি না, আর এসব দেখতে পারছি না...’ অ্যাঙ্গুইসিয়ার হাসি ধীরে-ধীরে চওড়া হচ্ছে। খুব মজা পাচ্ছে পুরো ব্যাপারটায়। ‘আমি আর এসব দেখতে পারবো না, আমি মৃত্যু চাই, মৃত্যু! আমাকে মৃত্যু দাও হে ডেমি গডেস...হে মহা শক্তিশালী সারপেন্ট গডেস...আমাকে হত্যা করে এই তীব্র মানসিক যন্ত্রনা থেকে মুক্তি দাও, প্লিজ, হাত জোড় করি তোমার কাছে,’ দু হাত জোড় করে বলল উইলিয়াম। ‘তাহলে...অবশেষে...আমি উইলিয়াম দ্য গ্রেটকে মানসিকভাবে ভেঙ্গে ফেলতে পেরেছি। আমারই জয় হলো শেষমেশ,’ আত্মতৃপ্তির হাসি দিয়ে বলল অ্যাঙ্গুইসিয়া। ‘হ্যাঁ দেবী, তুমিই জিতেছো, আমি হেরেছি...এখন আমার শেষ অনুরোধটা রাখো প্লিজ,’ উইলিয়াম চোখ মুছতে-মুছতে বলল। ‘অবশ্যই মাই ডিয়ার উইলিয়াম, বলে ফেল,’ ক্ষুধার্ত দৃষ্টিতে উইলিয়ামকে দেখতে-দেখতে বলল অ্যাঙ্গুইসিয়া। ‘আমি নাবিকদের মত ভয়ঙ্করভাবে মরতে চাই না। আমি অমর হতে চাই। তুমি তোমার ভেতর আমাকে শুষে নাও। তোমার সেই ভয়ঙ্কর সর্প আকৃতি ধারণ করো। আমাকে তোমার ভেতর নিয়ে নাও। আমি তোমার অস্তিত্বের সাথে এক হয়ে থাকতে চাই। অমর হয়ে থাকতে চাই আমি,’ উইলিয়াম বলল। অ্যাঙ্গুইসিয়া চোখ পিটপিট করে ভাবছিল উইলিয়ামের অদ্ভুত অনুরোধের কথা। ‘ভেবে দেখ অ্যাঙ্গুইসিয়া। আমি কোন সাধারণ মানুষ নই, আমার বুদ্ধিমত্তা সাধারণ মানুষের চেয়েও অনেক- অনেক উপরে। আমার ভেতর এমন জ্ঞান আছে যা তুমি কখনও স্বপ্নেও ভাবতে পারবে না। তোমার শক্তি আর আমার বুদ্ধি এই দুয়ে মিলে তোমার তুল্য আর কেউ থাকবে না এ ধরণীতে! ভেবে দেখ অ্যাঙ্গুইসিয়া, ভেবে দেখো...’ অ্যাঙ্গুইসিয়ার সামনে মাথা নত করে বলল উইলিয়াম। অ্যাঙ্গুইসিয়া মাথাটা এদিক ওদিক দুলিয়ে কি যেন ভাবল। জিহ্বাটা দিয়ে গালটা চাটল কিছুক্ষণ। ‘তুমি আসলেই খুব বুদ্ধিমান উইলিয়াম। বাকিদের মত করুণভাবে মরার চেয়ে আমার অস্তিত্বের সাথে মিশে গিয়ে অমর হয়ে থাকাটাই বেশি বুদ্ধিমানের কাজ, এটা তুমি ধরতে পেরেছ। ঠিক আছে উইলিয়াম। আমি তোমার শেষ অনুরোধটা রাখলাম। দেখ...মুখ তুলে তাকাও...আমাকে দেখ...’ ভয়ঙ্কর একটা হাসি দিয়ে বলল অ্যাঙ্গুইসিয়া। উইলিয়াম মাথা তুলল। অ্যাঙ্গুইসিয়ার শরীরটা খুব দ্রুত পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। ওর শরীরটা পাইপের মত হয়ে উপরে দিকে উঠে যাচ্ছে। চামড়া শক্ত হয়ে সবুজ রঙ ধারন করেছে। মাথাটা লম্বাটে হয়ে যাচ্ছে। লম্বা-লম্বা দাঁত দেখা যাচ্ছে ওর। চোখগুলো বড়-বড় হয়ে যাচ্ছে। ওগুলোকে দেখতে এখন আগের চেয়েও ভয়ঙ্কর লাগছে। বিশাল আকৃতির একটা সাপ দাঁড়িয়ে আছে উইলিয়ামের সামনে। বিভাজিত জিহ্বাটা বের করে হিসহিস শব্দ করে বাতাস টেনে-টেনে নিচ্ছে সে। এরপর তার বিশাল মুখটা সে হা করল। ভয়ঙ্কর একটা হিসহিস শব্দ করে সে এগিয়ে আসছে উইলিয়ামের দিকে। আর বেশি সময় নেই হাতে... কোমরের বেল্টের সাথে পেঁচানো রিভলভারটা হেঁচকা টানে বের করে আনলো উইলিয়াম। এরপর একে- একে ৬টা গুলি করল সে সাপটার খোলা মুখ লক্ষ্য করে। অদ্ভুত শব্দ বের হচ্ছে ওটার মুখ থেকে। সাধারণ কোন সাপ এরকম শব্দ করতে পারবে না। কেমন যেন পশুর মত গর্জন করছে ডেমি গডেস অ্যাঙ্গুইসিয়া। উইলিয়াম ভেবেছিল ও অ্যাঙ্গুইসিয়াকে কাবু করে ফেলেছে। কিন্তু ওর ধারণা ভুল প্রমাণিত করে অ্যাঙ্গুইসিয়া ঐ অবস্থায় খোলা মুখটা বাড়িয়ে পাগলের মত ডাইভ দিল উইলিয়ামের দিকে। উইলিয়াম একটুর জন্যে বেঁচে গেল। সরতে গিয়ে হাঁটুতে ব্যথা পেয়েছে ও। এখন আর ওর পা দুটো কাজ করছে না। অ্যাঙ্গুইসিয়া আবার ডাইভ দিল ওর দিকে। উইলিয়াম যেন স্লো মোশনে দেখতে পেল পুরো ঘটনাটা। অ্যাঙ্গুইসিয়ার বড়-বড় দাঁত এগিয়ে আসছে ওর দিকে। ওকে ছিন্ন-ভিন্ন করে দেয়ার জন্যে...চোখ বন্ধ করে ফেলল উইলিয়াম। চোখ বন্ধ করার ঠিক আগ মুহূর্তেই দেখতে পেল একটা সবুজ হাত এগিয়ে আসছে... জ্যাকসন আবার উঠে দাঁড়িয়েছে। দুই হাতে সাপটাকে শক্ত করে ধরে রেখেছে। সাপটা উইলিয়ামের দিকে যাওয়ার জন্যে সর্বশক্তি প্রয়োগ করতে লাগল। কিন্তু জ্যাকসনের কারণে যেতে পারছে না। পশুর মত গর্জন করতে-করতে ধ্বস্তাধস্তি করছে দুইজনেই। সাপটা হঠাত লেজ দিয়ে জ্যাকসনকে খুব জোরে একটা ধাক্কা দিল। জ্যাকসনের হাত ফস্কে গেল। এই সুযোগে আবার খুব জোরে আরেকটা ধাক্কা মারল অ্যাঙ্গুইসিয়া। জ্যাকসন তাল হারিয়ে ফেলেছে, ব্যালেন্স হারিয়ে পড়ে যাচ্ছে সেই লাভাপূর্ণ খাদে... যেন শুন্য থেকে একটা হাত ছুটে এলো। সবুজ, এবং বিশাল। সেই হাতটা জ্যাকসনের হাতটা ধরে ফেলল। এরপর চোখের নিমিষেই প্রচণ্ড হ্যাঁচকা টান দিয়ে জ্যাকসনকে তুলে আনলো মাটির উপরে। জ্যাকসনকে আড়াল করে অ্যাঙ্গুইসিয়ার সামনে এসে দাঁড়াল ম্যাক্স। দুই দানবই একজন আরেকজনের দিকে তাকিয়ে রণহুঙ্কার দিল একটা। এরপর প্রচণ্ড আক্রোশে ঝাঁপিয়ে পড়ল একে অপরের উপর। অ্যাঙ্গুইসিয়া বিশাল-বিশাল দাঁতগুলো বসিয়ে দিয়েছে ম্যাক্স এর শরীরে। অবিরাম ধারায় রক্ত ঝরছে ম্যাক্স এর শরীর থেকে। কিন্তু এরপরও সে দুই হাতে শক্ত করে চিপে ধরে রেখেছে অ্যাঙ্গুইসিয়াকে। কিছুতেই ছাড়ছে না। অ্যাঙ্গুইসিয়া ধীরে-ধীরে নিজের শরীরটাকে পাকিয়ে ম্যাক্স এর পুরো শরীরটাকে পেঁচিয়ে ধরলো। এরপর ম্যাক্স এর ঘাড়ে আরেকবার বিষ দাঁতগুলো বসিয়ে দিল। তারপর আরেকবার, এরপর...আরও একবার। ম্যাক্স এর শরীরটা থরথর করে কেঁপে উঠল। শেষ বারের মত মাথাটা এদিক-ওদিক ঘুরিয়ে কাকে যেন খুঁজল। ক্যাপ্টেন কুপার এর দিকে দৃষ্টি স্থির হলো ওর। কুপারের দিকে তাকিয়ে চোখ দুটো দুবার পিটপিট করল ও। এরপর মুখ দিয়ে অস্ফুট একটা আওয়াজ বের করল ম্যাক্স। যেন কিছু বলল ক্যাপ্টেনকে। এরপর গায়ের সমস্ত শক্তি দিয়ে ধাক্কা দিল অ্যাঙ্গুইসিয়াকে। ধাক্কার তীব্রতা সইতে না পেরে তাল হারিয়ে খাদে পড়ে গেল অ্যাঙ্গুইসিয়া। তখনো ম্যাক্সকে পেঁচিয়ে ধরে রেখেছিল সে। দুইজনই একসাথে পড়ল লাভার ভেতরে। গলে যেতে লাগল উভয়ের শরীর। অ্যাঙ্গুইসিয়ার চিৎকারকে ছাপিয়ে শোনা যাচ্ছে আরেকটা গর্জন। ম্যাক্স এর শেষ গর্জন। লাভায় ডুবে যাওয়ার আগ মূহুর্তে ডান হাতটা সামনে বাড়িয়ে দিল ম্যাক্স। যেন সে যেতে চাচ্ছে না। থেকে যেতে চাচ্ছে ওদের সাথে। ফিরে যেতে চাচ্ছে ওর ফুটফুটে দুই শিশুর কাছে। পরমুহুর্তেই হিসহিস শব্দ তোলা লাভার ভেতরে ডুবে গেল ম্যাক্স। এক বিষণ্ণ নীরবতা ঘিরে ধরলো বেঁচে যাওয়া মানুষগুলোকে। **************** চ্যাপ্টার ৯ঃ এ ভেরি নেসেসারি লাই ওরা এখন বসে আছে জাহাজের নিচের ডেকের একটা কামরার ভেতর। ঠাণ্ডা আরো বেড়ে গেছে। এখন সেটা প্রায় অসহ্য পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। ম্যাক্স এর মৃত্যুর পর ওরা বিশেষ একটা কথা বলেনি। নীরবে হেঁটে-হেঁটে জাহাজের কাছে চলে এসেছে। অ্যাঙ্গুইসিয়া মারা গেলেও ওরা এখনও পুরোপুরি মুক্ত নয়। ওদের সামনে অনেক বড় এক চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। সেটা হচ্ছে, প্রায় ২০ মিটার চওড়া খাদটা অতিক্রম করা। সেটা কিভাবে করা যাবে তা কারো মাথাতেই আসছে না। জ্যাকসন বেশ ভালোই লাফাতে পারে, কিন্তু সেটা ২০ মিটার যাওয়ার মত না। বিকল্প ব্যাবস্থা ভাবছে ওরা। এখনও পর্যন্ত ফলাফল শুন্য। এমনকি উইলিয়ামের মাথাতেও কিছুই আসছে না। ম্যাক্স এর হঠাত মত পরিবর্তন ওদের কাছে বিস্ময়ের মতই লেগেছে। তবে ওরা আরও অবাক হলো যখন ওরা জানতে পারলো যে ম্যাক্স এর মত পরিবর্তন এর আসল কারণ ছিল, কুপার। উইলিয়াম তখন সবে মাত্র বুঝতে শুরু করেছে যে অ্যাঙ্গুইসিয়াকে ওর মানবিক রুপে হত্যা করা সম্ভব নয়, কারণ ওর অসম্ভব দ্রুত গতি, যার কাছে ওরা বারবার মার খেয়ে যাচ্ছিল। ওর দ্রুত গতির সাথে ওর হঠাত-হঠাত অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার ক্ষমতা এবং ২,৩ সেকেন্ড এর জন্যে নিজের শরীরকে ট্রান্সপারেন্ট করে ফেলার শক্তি, এইসব মিলিয়ে সে ছিল ওই রুপে প্রায় ইনভিন্সিবল। কথাটা সে আগে একবার উইলিয়ামকে বলেও ছিল, ‘আমি এই রুপে...প্রায় ইনভিন্সিবল বলতে পারো।’ ওর সাথে ফাইটিং এর এক পর্যায়ে সে কথাটা আবার বলেছিল। তখনই উইলিয়াম এর মাথায় আসে ব্যাপারটা। অ্যাঙ্গুইসিয়া যদি এই রুপে প্রায় ইনভিন্সিবল হয়, তাহলে ভালনারেবল কোন রুপে? তখনই সে বুঝতে পারলো সত্যটা, যে কেন শুরু থেকে অ্যাঙ্গুইসিয়া নিজের দানবীয় রুপ না নিয়ে মনুষ্য রুপে মারামারি করছে। কারণ, সে যখন সাপ হয়ে যায় তখন সে আগের মত দ্রুত মুভ করতে পারে না, স্লো হয়ে যায়, আগের মত হূট হাট অদৃশ্য হয়ে যেতে পারে না, নিজের শরীরকে ট্রান্সপারেন্ট করে ফেলতে পারে না। উইলিয়াম তখন নিজের জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ অভিনয়টা করে দেখালো। অ্যাঙ্গুইসিয়াকে রাজি করালো নিজের সর্প রুপ ধরে ওর সামনে আসার জন্যে। কিন্তু এরপরও ও অ্যাঙ্গুইসিয়াকে কাবু করতে পারতো না, যদি না সময়মত জ্যাকসন আসতো। এমনকি জ্যাকসনকেও প্রায় মেরেই ফেলেছিল অ্যাঙ্গুইসিয়া। ঠিক সময়মত ম্যাক্স যদি না আসতো, তাহলে ম্যাক্স এর জায়গায় জ্যাকসন এর বিশাল শরীরটা লাভায় ডুবে যেত। ম্যাক্স এর সময় মত আসার পেছনে কুপারের শতভাগ অবদান ছিল। ম্যাক্স ছিল ওর অনেক কাছের এক মানুষ। ম্যাক্স এর মৃত্যু ওকে আজীবন তাড়িয়ে বেড়াবে। উইলিয়াম যখন অ্যাঙ্গুইসিয়ার কাছে অনুনয় বিনয় করছিল, তখনই কুপার খেয়াল করে যে ম্যাক্স নড়ছে। এখন যদি ম্যাক্স উঠেই অ্যাঙ্গুইসিয়ার পক্ষ নিয়ে মারামারি শুরু করে দেয় তাহলে ওরা সব মারা পড়তো। কেউ বাঁচতো না। তাই শেষ চেষ্টা হিসেবে কুপার দৌড় দিয়ে গেল ম্যাক্স এর কাছে। ওর মন বলছিল ওর কথা ম্যাক্স ফেলতে পারবে না। ম্যাক্স এর কাছে হাঁটু গেড়ে বসেছিল কুপার। এরপর তাকে মনে করিয়ে দিয়েছিল তার অতীত জীবনের কথা, একসাথে ওরা কত অ্যাডভেঞ্চার করেছে সে কথা। মনে করিয়ে দিয়েছে ওর ছোট-ছোট বাচ্চাগুলোর কথা, যারা ওর আশায় পথ চেয়ে আছে। এরপর ওর কাছে কুপার শেষ প্রশ্ন করেছিল যে ওদের কাছে কি একবারও যেতে ইচ্ছে হয় না ওর? কুপারের শেষ কথার পরেই ম্যাক্স এর ভেতর ধীরে-ধীরে পরিবর্তন আসতে লাগল। মুখটা শক্ত করে মাটি থেকে উঠে দাঁড়িয়েছিল ম্যাক্স। এরপর সোজা দৌড়ে গিয়েছিল ওর মৃত্যুর দিকে। ম্যাক্স চলে যাওয়ার আগে কুপারের দিকে তাকিয়ে কি বলেছে তা কেউ না বুঝলেও কুপার ঠিকই বুঝেছে। ও তার বন্ধুর শেষ কথাটা রাখবে। দেখে শুনে রাখবে ওর ছোট্ট দুই শিশুকে। ওদেরকে কখনও বুঝতে দেবে না যে ওদের বাবা-মা কেউই নেই। ওরা জাহাজে এসেছে প্রায় ঘন্টাখানেক হলো। এখনও ওরা এখান থেকে বের হওয়ার কোন উপায় খুঁজে পায়নি। ইতিমধ্যেই জ্যাকসন তার শরীর থেকে পেরাসাইটটাকে বের করে দিয়েছে। ওর শরীর থেকে বের হওয়া মাত্রই ওটাকে অ্যালকোহলে চুবিয়ে মারল ওরা। নিজের স্বরূপে ফিরে আসতে পেরে বেশ খুশি জ্যাকসন। ক্যাপ্টেন জাহাজে আসার শুরুতে খুব গোমড়ামুখো হয়ে থাকলেও ২ বোতল মদ গেলার পর থেকে আবার ওর স্বাভাবিক অবস্থাতে ফিরে এসেছে। সমানে চেঁচিয়ে যাচ্ছে সবার সাথে। ‘কই, এখান থেকে বের হওয়ার উপায় কিছু খুঁজে পেলি তোরা? অ্যাঙ্গুইসিয়া নাহয় মারা গেল, কিন্তু এ জায়গা থেকে বেরোতে না পারলে আমরাও ধীরে-ধীরে মারা পড়ব, কিছু একটা করতে হবেতো...নাকি? এভাবে হাত গুটিয়ে বসে থাকলে চলবে?’ ক্যাপ্টেন সবার চারপাশে বাদুড়ের মত ঘুরতে-ঘুরতে বলতে লাগল। উইলিয়ামের প্রচণ্ড বিরক্তি লাগল, এমনিতেই সেই কখন থেকে না খেয়ে আছে, তারপর ক্যাপ্টেনের এসব ফ্যাচ-ফ্যাচ... ‘নাহ দোস্ত আর পারছি না, খুব ক্ষিধা পেয়েছে, আর কতক্ষণ খালি পেটে থাকা যায় বলতো...’ ইথেন বলল। ‘তাছাড়া প্রচণ্ড ঠাণ্ডা লাগছে। অন্তত আগুন জ্বালাতে পারলেও তো একটু আরাম পাওয়া যেত,’ কুপার বলল। শীতে ও জমে যাচ্ছে। ‘সে তো বুঝলাম। কিন্তু আমাদের কাছে লাইটার থাকলেও শুকনো কাঠ নেই, খড় কুটোও নেই...তাহলে আগুন জ্বালাবে কিভাবে?’ জ্যাকসন হতাশ হয়ে বলল। ‘কেন? এলপিজি গ্যাসের সিলিন্ডার দিয়ে? মিশর বন্দরে বেশ কিছু মালপত্র পৌঁছে দেয়ার কথা ছিল আমার। তার ভিতর এলপিজি গ্যাসের সিলিন্ডার ও আছে। কিন্তু আফসোস, জাহাজটা ধ্বংস হয়ে গেল...এখন ওদেরকে যে কি জবাব দেব...’ মাথা নেড়ে জবাব দিল কুপার। ‘হুম, তাই করুন। ওগুলো তো আপনার আর কোন কাজে লাগবে না, তাই ওখান থেকে একটা সিলিন্ডার খুলে জাহাজের থেকে একটা বার্নার এনে তার সাথে সংযুক্ত করে দিন। রান্না-বান্না নাহয় নাই হলো, একটু উত্তাপ অন্তত পাওয়া যাবে। এই শীতের ভেতর বেশিক্ষণ থাকলে এমনেই মরে যাবো,’ ঠান্ডায় কাঁপতে-কাঁপতে বলল ইথেন। ক্যাপ্টেনের কথা যেন উইলিয়ামের মনে পুরোনো স্মৃতির ঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছে, কিছু একটা ওর মনে আসতে চাচ্ছে, কিছু একটা... ‘ক্যাপ্টেন? তোর জাহাজের পালগুলো কি দিয়ে তৈরি জানিস? কটন নাকি পলিমার?’ উত্তেজনার সাথে বলল উইলিয়াম। ওর মনে হচ্ছে ও এই মৃত্যুপুরী থেকে বেরোনোর একটা ক্ষীণ সম্ভাবনা খুঁজে পেয়েছে। ‘পলিমার, কেন?’ ‘কি ধরনের পলিমার? জানিস?’ জিজ্ঞেস করল উইলিয়াম। প্রতিটা শব্দের সাথে বুক ধুক-পুক করছিল ওর। ‘নাইলন ৬, তো?’ ক্যাপ্টেনের ভ্রু কুঁচকে এলো। উইলিয়াম এসব কেন জিজ্ঞেস করছে সেটা সে বুঝতে পারছে না। ‘ক্যাপ্টেন...ক্যাপ্টেন...তুই আসলেই একটা জিনিয়াস...’ উত্তেজনায় চিৎকার করে উঠল উইলিয়াম। এরপর এক লাফে ক্যাপ্টেনকে জড়িয়ে ধরল। সবাই অবাক হয়ে উইলিয়ামের দিকে তাকালো। কে জানে, হয়তো ক্ষুধা তৃষ্ণায় পাগল হয়ে গেছে উইলিয়াম? ‘আমি? মানে আমি...আসলেই জিনিয়াস? মানে...মন থেকে বলছিস তো না? ফাজলামো করছিস নাতো, নাকি? দেখ উইলিয়াম...যদি এটা তোর আরেকটা ফাজলামো হয় তাহলে কিন্তু...’ কুপার সন্দেহের সাথে বলল। ‘আরে না...সত্যিই এবার আমি মস্করা করছি না। এবার আমি সিরিয়াসলিই বলছি, তুই আমাদেরকে এখান থেকে বেরোবার রাস্তা বাতলে দিয়েছিস! খুব চমৎকার একটা ক্লু দিয়েছিস আমাদেরকে,’ উইলিয়াম প্রচণ্ড আনন্দের সাথে বলল। ‘আমি, মানে...বলেছি? মানে আমি...’ আমতা-আমতা করতে লাগল ক্যাপ্টেন। এরপর হঠাত বাকিদের দিকে ঘুরে বুক ফুলিয়ে বলল, ‘তোমরা নিস্কর্মার দলগুলো এতক্ষণ ধরে এত এত চিন্তা ভাবনা করেও যা পাওনি, আমি তা চুটকিতেই পেয়ে গেছি! আমি আসলে স্রেফ একটা ক্লু দিয়েছিলাম তোমাদেরকে...হ্যাঁ, স্রেফ একটা ক্লু...’ ‘কিন্তু ক্যাপ্টেন, আমিতো এখনো বুঝতে পারছি না যে আপনি কি ক্লু দিলেন,’ বেঁচে যাওয়া একমাত্র নাবিক গিবস জানতে চাইলো। বেচারাকে হতভম্ব দেখাচ্ছিল। ওর অবশ্য দোষ নেই। বাকিদেরও একই অবস্থা। ‘সেটা বুঝলে...আজকে তুমি আমার জায়গায় থাকতে! বুঝলে হে ছোকরা?’ দাম্ভিকতা দেখিয়ে বলতে-বলতে নিঃশব্দে উইলিয়ামের পাশে সরে এলো ক্যাপ্টেন। এরপর গলাটা একটু নিচু করে ফিসফিসিয়ে বলল, ‘হ্যাঁরে উইলিয়াম...আমি যেন কি ক্লু দিয়েছি! মানে বের হওয়ার রাস্তার ব্যাপারে আরকি...জানিসই তো যে আমার কিছু মনে থাকে না...’ ‘তুই একটু আগেই গ্যাস সিলিন্ডার আর বার্নারের কথা বললি না? সেটাই ছিল ক্লু। ওটা শুনার পর পরেই আমার মনে একটা ক্ষীণ সম্ভাবনা উঁকি-ঝুঁকি দিচ্ছিল। সম্ভাবনা আরো উজ্জ্বল হলো যখন তুই বললি যে তোর জাহাজের পালগুলো নাইলন ৬ পলিমার দিয়ে তৈরি,’ একগাল হেসে বলল উইলিয়াম। ক্যাপ্টেন সব বুঝে ফেলার মত করে মাথা নাড়তে লাগল। ‘তুই আসলে কি বলতে চাচ্ছিস খোলসা করে বলবি?' জ্যাকসন সরু চোখে উইলিয়ামকে পর্যবেক্ষণ করতে-করতে বলল। ‘গ্যাস সিলিন্ডার, বার্নার আর ক্যাপ্টেনের জাহাজের পাল, ওগুলোই আমাদের প্রধান হাতিয়ার এখান থেকে বেরোনোর। এগুলোর মাধ্যমে আমরা উড়ে-উড়ে ঐ খাদ পেরোবো,’ স্মিত হেসে বলল উইলিয়াম। ‘কিভাবে শুনি?’ সবাই এগিয়ে এলো উইলিয়ামের দিকে। ‘হট এয়ার বেলুনে চেপে,’ ওদের সবার বিস্ময়ভরা মুখের দিকে তাকিয়ে বলল উইলিয়াম। ‘উফ, উইলিয়াম! মাথা তোর আসলেই গেছে! বেলুন দিয়ে উড়বিতো ভালো কথা, কিন্তু বেলুন কোথা থেকে আসবে শুনি?’ হতবাক ইথেন বলল। ‘বেলুন আসবে ক্যাপ্টেনের জাহাজের পাল থেকে,’ উইলিয়াম বেশ খুশি মনে জবাব দিল। ‘কিভাবে?!’ সবাই একসাথে জানতে চাইলো। আয়েশ করে বসলো উইলিয়াম। এরপর ব্যাখ্যা করা শুরু করল, ‘একটা হট এয়ার বেলুনের কয়েকটি অংশ আছে। উপরের বেলুন, বার্নার, প্রোপেন সিলিন্ডার, প্যাসেঞ্জার বাস্কেট এবং প্যারাসুট ভেন্ট। প্রোপেন সিলিন্ডার তো আছেই। বার্নার হিসেবে জাহাজের রান্না করার বার্নারগুলোকে কাজে লাগাবো। প্যাসেঞ্জার বাস্কেট জাহাজের কাঠ দিয়ে বানাবো। আর বেলুনটা, যাকে আসলে বলে এনভেলপ, ওটা তৈরি করাই সবচেয়ে কঠিন। অনেক হিসেব নিকেশ এর ব্যাপার আছে ওখানে, তবে ব্যাপার না, হয়ে যাবে। আর সেই এনভেলপটা তৈরি হবে...ক্যাপ্টেন ের জাহাজের পাল দিয়ে।’ ‘কি বলছিস তুই! জাহাজের পাল আগুনে পুড়ে যাবে!’ হতবাক হয়ে গেল কুপার। ‘না, পুড়বে না। কারণ, ওগুলো নাইলন ৬ দিয়ে তৈরি। এটার ফায়ার রেসিস্ট্যান্স ক্ষমতা আছে। এছাড়া নাইলন এর তৈরি প্রোডাক্টের সাথে বিভিন্ন ফায়ার রিটার্ডেন্ট ব্যাবহার করা হয়, ফলে এগুলোর ফায়ার রেসিসটেন্সি আরো বেড়ে যায়। তাছাড়া এর গলনাঙ্ক হচ্ছে ২২০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। আমাদেরকে মাটি থেকে তোলার জন্যে বেলুনের ভেতরের বায়ুর তাপমাত্রা ১০০-১২০ ডিগ্রি হলেই যথেষ্ট। তবে সবচেয়ে মজার কথাটা কি জানিস? বেলুনের এনভেলপ আসলেই নাইলন এর কাপড় দিয়ে তৈরি করা হয়,’ খুব প্রশান্তি নিয়ে কথাগুলো বলল উইলিয়াম। ‘আমার মনে হয় উইলিয়াম এর কথা ঠিকই আছে। আমাদের এখুনি কাজে লেগে যাওয়া উচিত,’ সব শুনে তরুণ নাবিক গিবস বলল। ‘ঠিক আছে, আমরা একটু পরেই কাজে নেমে পড়ব। কিন্তু তার আগে, আমাদের প্ল্যানে ভুল ভ্রান্তি রয়ে গেল কিনা সেটা সবাই মিলে একটু ১০টা মিনিট ভেবে দেখ, এরপর আমরা কাজ শুরু করব,’ উইলিয়াম সবাইকে বলল। সবাই চুপ করে ভাবতে লেগে গেল। উইলিয়ামের কথায় সবার ভেতরেই উৎসাহের জোয়ার এসে গেছে। সবাই বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখছে। অন্যসবার সাথে জ্যাকসন আর ইথেনও চুপ করে ভাবছিল। হঠাত করে নিরবতা ভেঙ্গে ইথেন বলে উঠল, ‘তো ঐ বেলুনকে নিয়ন্ত্রণ কিভাবে করবি তুই? তুই কি আগে কখনো বেলুন চালিয়েছিস?’ ‘না, চালাইনি। শুধু থিওরিটা জানি। আর ব্যাপারটা এত কঠিন কিছুই না। দেখ, হট এয়ার বেলুন উপরে উঠে কেন? প্রোপেন যখন জ্বলে তখন বেলুনের ভেতরের বায়ু উত্তপ্ত হয়ে হালকা হয়, এবং উপরে উঠে যায়। একসময় বায়ুর ঊর্ধ্বমুখি চাপ বেড়ে যায় আর তার ফলে প্লবতা সৃষ্টি হয়। এর জন্যেই বেলুন উপরে উঠতে থাকে। তো তারমানে হচ্ছে বেলুনকে উপরে উঠাতে হলে শুধু প্রোপেন সিলিন্ডারের মুখ খুলে দিলেই হবে। সাথে-সাথে বার্নার জ্বলে উঠেবে, আর বেলুন ধীরে-ধীরে নিজেই উপরে উঠতে থাকবে,’ উইলিয়াম বলল। ‘আর নিচে নামানোর ব্যাপারটা?’ জ্যাকসন জিজ্ঞেস করল। (চলবে) -------------------


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৯ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now