বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
"দ্য সার্পেন্ট গর্ডেস"
আশরাফুল সুমন
------------------
(চ্যাপ্টার ৭:ফাইন্ডিং দ্য ডেমি গডেস এর বাকি অংশ)
ধুপ করে একটা শব্দ হলো। কুপারের ডান পাশ
থেকে জ্যাকসন লাফ দিয়েছে ম্যাক্স এর গায়ের
উপরে। ওকে ফেলে দিয়েছে বালির উপরে।
দুই হাত দিয়ে বালির উপর চিপে ধরলো ম্যাক্স এর
দুই হাত। ম্যাক্স পশুর মত চিৎকার করছে।
জ্যাকসনের মত বিশাল দেহী দানবও ওকে ধরে
রাখতে পারছে না। জ্যাকসনের দিকে তাকিয়ে
একটা গর্জন করে উঠল ম্যাক্স। এরপর মাথা দিয়ে
ধড়াম করে মারল জ্যাকসনের কপালে। চোখে
তারা দেখছে জ্যাকসন। মাথাটা ঘুরছে ওর। যেন
কেউ হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়েছে ওকে। এরপর
ম্যাক্স জ্যাকসনকে ঘুষি মারতে লাগলো পাগলের
মত। একটাও আটকাতে পারছে না জ্যাকসন। কপাল
ফেটে সবুজ রঙের রক্ত পড়ছে ওর। এরপর
জ্যাকসনের গলাটা চিপে ধরলো ম্যাক্স। ধরে মাটি
থেকে জ্যাকসনকে ধরে উঠে গেল। এরপর
গলাটা চিপে ধরেই জ্যাকসনকে তুলে নিলো এক
হাতে। এরপর খুব জোরে ছুঁড়ে ফেলে দিল
জাহাজের গায়ে।
ধড়াম...
জাহাজের ডেকের নিচের দিকের একটা অংশ
ফুটো হয়ে তার ভেতরে ঢুকে গেছে
জ্যাকসন। উঠে দাঁড়াতে পারছে না আর।
ধুম, ধুম, ধুম......
পরপর ৩টা শটগানের শব্দ হলো। উইলিয়াম এটা
আগেই নিয়ে এসেছিল, ইন কেইস অফ
ইমারজেন্সি হিসেবে। ম্যাক্স চিৎকার করে উঠল।
টপটপ করে রক্ত পড়ছে ওর বিশাল শরীর
থেকে। বালু ভিজিয়ে দিচ্ছে। আরেকটা গুলি করল
উইলিয়াম। এবারের গুলিটা ম্যাক্স এর কাঁধে গিয়ে
বিঁধল। অমানুষিক একটা আর্তনাদ করে সোজা দুরের
গুহাটার দিকে ছুটল ম্যাক্স। এরপর হারিয়ে গেল
অন্ধকারের ভেতরে।
***
জ্যাকসনের ক্ষতগুলো পরিষ্কার করছে কুপার।
মাথায় আর পিঠে কয়েক জায়গায় চোট
পেয়েছে সে। তবে খুব বেশি ব্যথা পায়নি
বলে জানিয়েছে। দানবীয় শরীর। খুব বেশি
ব্যথা পাওয়ার কথাও না।
‘এখন কি করবি? ঐ দানবতো সরাসরি অ্যাঙ্গুইসিয়ার
কাছেই যাবে। সে টের পেয়ে যাবে যে
আমরা এখানে আছি। আমরা তো শেষ...’ একরাশ
হতাশা নিয়ে বলল ইথেন।
চিন্তিত হয়ে ভাবছিল সবাই। ধীরে-ধীরে সময়
বয়ে যাচ্ছে। সেই সাথে বাড়ছে ঠাণ্ডা। কিন্তু
সেইদিকে কারই এখন নজর নেই। ক্ষুধার জ্বালায়
সবাই কাতর। নিচের ডেকে এসে কিচেনে যা যা
অক্ষত পেয়েছে, বন্যার্ত মানুষের মত খেয়ে
ফেলেছে। এখন সবাই নিচের ডেকেরই একটা
রুমে বসে আছে।
‘ব্যাপারটা খুব হতাশাজনক। সবার ক্ষেত্রে প্ল্যানটা
কাজ করল, খালি ম্যাক্স এর ক্ষেত্রেই করল না,’
এক নাবিক বলল। বাকিরাও মাথা নেড়ে ওর কথায় সায়
দিল। ওদের পাশেই ওরা অস্ত্র আর তলোয়ার
রেখেছে। যদিও অ্যাঙ্গুইসিয়া এলে ওগুলা
ওদেরকে কতটা রক্ষা করতে পারবে সেটা
নিয়ে ওদের যথেষ্ট সন্দেহ আছে।
সময় গড়িয়ে চলল, সেই সাথে ঠাণ্ডাও হু হু করে
বেড়ে গেল। এখনও অ্যাঙ্গুইসিয়ার কোন খবর
নেই। যেন সে ওদের কথা ভুলেই গেছে।
‘ব্যাপারটা সন্দেহজনক। প্রায় তিন ঘণ্টা হয়ে গেল।
এখনো অ্যাঙ্গুইসিয়ার কোন পাত্তা নেই। নিশ্চয়ই
এখানে কোন একটা ব্যাপার আছে...নিশ্চয়ই..
.নাহলে সে এত নিশ্চিন্তে কিভাবে আছে...যদি
না...ওহ...’ হঠাত উইলিয়ামের চোখগুলো বড়-বড়
হয়ে গেল। কিছু একটা ধরতে পেরেছে ও।
‘কি হলো? চোখগুলো হাতির চোখের মত
করে ফেললি কেন? কি হয়েছে বল?’ ইথেন
আর কুপার একসাথে জিজ্ঞেস করল।
‘অ্যাঙ্গুইসিয়া কেন এত নিশ্চিন্তে বসে আছে
জানিস?’ উত্তর না দিয়ে উইলিয়াম ওদেরকে পাল্টা
প্রশ্ন করল।
‘না কেন?’
‘কারণ...ও জানে আমরা এখান থেকে সারা
জীবনেও বেরোতে পারবো না। ও জানে
বেরোনোর রাস্তাটা নিরাপদেই আছে, আমাদের
হাতের নাগালের বাইরেই আছে। সে সম্পুর্ণ
নিশ্চিত যে আমরা ঐ পথে যাইনি, আমরা এখনও
এখানেই আছি।’
‘কিন্তু কিভাবে? ওর কী সব জায়গায় চোখ আছে
নাকি? ও কী তাহলে দেখতে পাচ্ছে এখন
আমাদেরকে? আমার তো মনে হচ্ছে এই
জায়গাটার কোনায়-কোনায় ওর শয়তানি চোখ ফিট
করা আছে...’ বলেই কুপার ভয়ে-ভয়ে ঘাড়
ঘুরিয়ে এদিক সেদিক দেখল।
‘চোখ নেই, সে আমাদেরকে দেখতেও
পাচ্ছে না...কিন্তু এরপরও সে নিশ্চিন্তে বসে
আছে, সেইখানে, যেখানে সে সব সময় বসে
থাকে...’
‘তার মানে...তুই বলতে চাচ্ছিস...সে এত
নিশ্চিন্তে বসে আছে কারণ...’ কপাল চাপড়ে
উইলিয়ামকে বলল ইথেন। সেও ব্যাপারটা ধরতে
পেরেছে।
‘কারণ সে ঠিক বের হওয়ার রাস্তার মুখেই বসে
আছে...’ ইথেনের বাক্যটা কমপ্লিট করল
উইলিয়াম। সবাই উত্তেজিত হয়ে উঠল। এতক্ষণ
তাহলে ওরা সময় নষ্ট করেছে।
‘তা বের হওয়ার রাস্তাটা তাহলে কোথায় হবে?
এখানে কয়েকশ ছোট-বড় টানেল আছে।
কোথায় খুঁজবো ওকে?’ এক অল্প বয়সী নাবিক
বলে উঠল।
‘আচ্ছা, একটা কথা...বলবো?’ কুপার জিজ্ঞেস
করল।
‘হুম, বল?’
‘সবুজ দানবটা নিশ্চয়ই অ্যাঙ্গুইসিয়ার কাছেই গেছে।
আমরা ঐ দানবের ট্রেইল ফলো করতে পারি। ওর
শরীর থেকে তো রক্ত ঝরছিল অনেক।
নিশ্চয়ই ঐ রক্তগুলোই আমাদেরকে ঠিক পথের
সন্ধান দেবে,’ কুপার বলল।
‘তুই...তুই কি জানিস যে তুই জীবনে এই একটা
কথাই সঠিক বলেছিস? তুই আসলেই একটা জিনিয়াস,’
বলেই খুশিতে কুপারকে জড়িয়ে ধরল উইলিয়াম।
‘ছাড়...ছাড় তুই আমাকে...আসলে আমার কথার খুব
একটা মুল্য তোরা দিস না, তাই এখান থেকে এখনও
বেরোতে পারিসনি, নাহলে কত আগেই
বেরিয়ে যেতে পারতি...’ হাহ করে একটা
দীর্ঘশ্বাস ফেলে কুপার বলল।
বুড়ো এক নাবিক আপন মনে বিড়-বিড় করে,
‘আবার শুরু করে দিয়েছে...’ জাতীয় কি যেন
বলা শুরু করেছিল সবে, কিন্তু কুপার সাথে-সাথে
কটমট করে সেদিকে তাকাতেই বুড়ো চুপ হয়ে
গেল।
***
‘সবুজ রঙের রক্তের ফোঁটাগুলো সোজা
খাদের দিকে গিয়েছে, দেখ। তারমানে হচ্ছে
সে ঐ ব্রিজ দিয়ে সেই বিশাল দরজাটা পেরিয়ে
সামনে গিয়েছে,’ সবুজ দাগটা পর্যবেক্ষণ
করতে-করতে বলল উইলিয়াম। ফসফোরেসেন্ট
এর আলোয় এই সবুজ দাগগুলোকে খুঁজে পাওয়া
এত সোজা নয়। তাই ওরা হাতে মশালও নিয়ে
এসেছে। সেই সাথে প্রয়োজনীয় অস্ত্রও
আছে।
সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামছে ওরা। অন্ধকার দেয়ালে ১১
জন মানুষের পায়ের শব্দ বার-বার প্রতিধ্বনিত
হচ্ছিল। সিঁড়ির একদম শেষ ধাপে গিয়ে দাঁড়িয়ে
গেল সবাই।
‘এবার? ডানে, না বামে?’ জিজ্ঞেস করল এক
নাবিক।
‘বামে আমরা আগেও গিয়েছি। ওখানেই
অ্যাঙ্গুইসিয়ার সাথে দেখা হয়েছিল আমাদের। কিন্তু
অ্যাঙ্গুইসিয়া ওখানে নেই। থাকলে জ্যাকসন যখন
দানবগুলোকে ডাকার জন্যে ওখানে আবার
গিয়েছিল, তখন ওর সাথে তার দেখা হয়ে যেত।
অতএব আমাদের লক্ষ হচ্ছে ডানের রাস্তাটা,’ রায়
দিল উইলিয়াম। এরপর সবাই ওকে অনুসরণ করতে
লাগল।
কিছুদূর হাঁটার পর ওরা সেই ছোট্ট রুমে পৌঁছে
গেল, যার ডান পাশের অন্ধকার সেলের ভিতর
বন্দি ছিল উইলিয়ামরা। এখন ওদের লক্ষ্য হচ্ছে
সোজা সামনের টানেলটা। ধীর পায়ে একজন-
একজন করে সেই টানেলে ঢুকল। টানেলটা
বেশি মোটা নয়। মোটামুটি একজন মানুষ দাঁড়াতে
পারে মত জায়গা আছে। তাই ওরা একজন
আরেকজনের পেছনে হাঁটতে লাগল। কিছুদূর
যাওয়ার পরেই একটা দরজা দেখতে পেল। সেই
দরজা পেরিয়ে ভেতরে ঢুকতেই একটা
গোলাকার রুম চোখে পড়ল। রুমটা গাঢ় অন্ধকারে
নিমজ্জিত। মশালের আলোয় ওরা দেখল, রুমের
মাঝখানে একটা ছাউনি দেয়া উঁচু জায়গা। সেই উঁচু
জায়গাটার উপর এক পাশে একটা বেদি, তার পাশেই
একটা পাথরের মুর্তি। ওর মুখটা শৃগালের মত।
হাতের মাসলগুলো বেশ বড়-বড়। হা করা মুখের
ভেতর থেকে ওর ভয়ঙ্কর তীক্ষ্ণ দাঁত
বেরিয়ে এসেছে।
‘আনুবিস?’ বেশ অবাক হয়ে বলল কুপার। ‘তার মানে
এটা...’
‘ঠিকই ধরেছিস কুপার, এটা আনুবিসেরই মন্দির।
অ্যাঙ্গুইসিয়া কি বলেছিল মনে আছে? আনুবিসকে
না ডাকলে সে কখনোই আসে না। আর ওকে
ডাকতে হয় ওর মন্দিরে এসেই। না হলে কারো
ডাকই ওর কানে যায় না। সম্ভবত এই মন্দিরে বসেই
অ্যাঙ্গুইসিয়া আনুবিসকে ডেকেছিল...আমাদে
রকে এখানে ধরে নিয়ে আসার জন্যে,’
মূর্তিটাকে পর্যবেক্ষণ করতে-করতে বলল
উইলিয়াম। ‘অ্যাঙ্গুইসিয়া যাতে কোন মতেই এখানে
আসতে না পারে, না হলে সে আনুবিসকে
ডেকে নিয়ে আসবে। আর একবার আনুবিস এসে
গেলে...আমাদের আর কেউ বাঁচাতে পারবে
না।’
‘অ্যাঙ্গুইসিয়ার নিজের উপর যা কনফিডেন্স, মনে
হয় না যে সে আনুবিসের কাছে দৌড়ে আসবে
সাহায্যের জন্য। তারপরেও...সাবধান থাকা ভালো,
কি বলিস?’ ইথেন বলল। এরপর ওরা আবার এগিয়ে
চলল।
মন্দিরটাকে পেরিয়ে ওরা আবার একটা সরু
টানেলে প্রবেশ করলো। পুরো প্যাসেজটা
মাটির তৈরি। ওখানকার মাটি ভিজে পিচ্ছিল হয়ে আছে।
হাঁটতে কষ্ট হচ্ছিল ওদের। কিছুদুর হাঁটার পর ওরা
দেখতে পেল যে টানেলটা দুইভাগে ভাগ হয়ে
গেছে। এক ভাগ গেছে ডানে, আর আরেক
ভাগ গেছে সোজা বামে।
‘এখন কি হবে? কোনদিকে যাবো? ভাগ-ভাগ
হয়ে দুইদল দুই দিকে যাবো?’ ইথেন জিজ্ঞেস
করল।
‘তার প্রয়োজন নেই। এই দেখ বাম পাশের
টানেলের মাটিতে দানবটার পায়ের ছাপ আছে,’
বলেই মাটিতে একটা বিশাল পায়ের ছাপ দেখাল
উইলিয়াম।
সবাই বাম পাশের টানেল ধরে খুব সন্তর্পনে
হাঁটতে লাগল। সামনেই একটা দরজা। কিন্তু ওটা
খোলা। কেউ একজন ওটা খুলে রেখেছে।
সম্ভবত ওদের জন্যেই। ওখানে আসার পর
ওদের হৃদস্পন্দন বেড়ে গেল। দরজার ওপাশেই
আছে ওদের শত্রু। কিংবা কে জানে, হয়তো
ওপাশে ওদের মৃত্যুও অপেক্ষা করছে।
খোলা দরজা দিয়ে খুব শীতল একটা কন্ঠস্বর
শুনতে পেল ওরা।
‘চিন্তা করো না ম্যাক্স, ওরা আসবেই, ওদেরকে
আসতেই হবে আমার কাছে...’ গায়ে হিম ধরিয়ে
দেয়া কণ্ঠস্বরটা বলল। জবাবে ম্যাক্স শুধু নাক
দিয়ে ঘোঁত করে একটা শব্দ করল।
‘রেডি?’ উইলিয়াম পেছনের দিকে তাকিয়ে
সবাইকে বলল। সবার হাতেই যার যার অস্ত্র আর
মশাল।
‘ওকে,’ ইথেন জবাব দিল। জ্যাকসনও বুড়ো
আঙ্গুল দেখিয়ে বুঝিয়ে দিল যে সে প্রস্তুত।
খুব বড় একটা শ্বাস নিয়ে দরজা দিয়ে ভেতরে
ঢুকল ওরা। দরজাটার এপাশেই নির্ধারিত হবে ওদের
ভাগ্য। ওদের জীবন।
**********
চ্যাপ্টার ৮:দ্য আল্টিমেট সেক্রিফাইস .
জায়গাটা সামনের দিকে সমতল, ডানে আর বামে
কিছু উঁচু-উঁচু ঢিবি। কিছুদূর সামনেই একটা খাদ। সেই
খাদটা প্রায় ২০ মিটার এর মত চওড়া। খাদের
অপরপাশে
ঠিক একই রকম একটা সমতল ভূমি। সেটার একদম
শেষ
মাথায় একটা গোলাকার সিঁড়ি। সেটা ঘুরে সোজা
উপরের দিকে উঠে গেছে।
খাদটার ঠিক সামনেই চোখ বন্ধ করে হাত মুষ্ঠি
বদ্ধ
অবস্থায় অদ্ভুত ভঙ্গিমায় শুন্যে দাঁড়িয়ে আছে
অ্যাঙ্গুইসিয়া। তার ডান পাশে একটু দূরে বসে
আছে
ম্যাক্স।
‘তাহলে অবশেষে জায়গাটা খুঁজে পেলে
উইলিয়াম?’
বিদ্রুপের স্বরে বলল অ্যাঙ্গুইসিয়া। ওর পিউপিল এবং
আইরিশবিহীন সম্পুর্ণ কালো চোখ দুটো খুলল
অবশেষে।
‘হ্যাঁ অ্যাঙ্গুইসিয়া, আসতেই হলো। আমাদের যাওয়ার
রাস্তা ঠিক এদিকেই তো, তাই! তা এখন সরে
দাঁড়াও,
তুমি আমাদের যাওয়ার রাস্তা ব্লক করে দাঁড়িয়ে
আছো,’ উইলিয়াম পাল্টা জবাব দিল।
হা হা করে হেসে উঠল অ্যাঙ্গুইসিয়া। ওর হাসিটা
ধীরে-ধীরে ভয়ঙ্কর হচ্ছে।
‘নাও সরে দাঁড়ালাম। যাও দেখি এবার,’ বলেই সরে
এক
পাশে চলে গেল অ্যাঙ্গুইসিয়া।
কারোই মনে হচ্ছে সামনে যাওয়ার খায়েশ নেই।
উইলিয়াম এক পা এক পা করে খুব সাবধানে হেঁটে
গেল
সামনের দিকে। খাদটার একদম কিনারায় এসে নিচের
দিকে তাকাল।
মাথা ঘুরে গেল উইলিয়াম এর। অনেক-অনেক
গভীর
একটা খাদ। তার নিচেই ফুটন্ত লাভা। আনুবিসের
আরেক
নিদর্শন। সাথে-সাথে পেছনে সরে এলো
উইলিয়াম।
অ্যাঙ্গুইসিয়া আবার হাসা শুরু করে দিল। হাসির
কারণে ওর লম্বা কালো রঙের জিহ্বাটা বারবার
বাইরে
বেরিয়ে আসছে।
‘কি হলো, ভয় পেয়ে গেলে নাকি? যাবে না?’
অ্যাঙ্গুইসিয়া জিজ্ঞেস করল।
‘তাহলে এই কারণেই গুহাটা থেকে কেউ
বেরোতে
পারতো না...কারণ সবাই এই জায়গাটায় এসে আটকে
যেতো, সামনে যেতে পারতো না আর! এই
কারণেই ক্ষুধা
তৃষ্ণায় মারা যেত সবাই,’ উইলিয়াম ধীরে-ধীরে
বলল।
‘তোমাদের কপালেও ঠিক একই পরিণতি অপেক্ষা
করছে,’ হিসহিস করে বলল অ্যাঙ্গুসিয়া। বলার সময়
ওর
লম্বা কালো জিহ্বাটা বারবার বেরিয়ে আসছিল। মনে
হচ্ছে যেন আর অপেক্ষা করতে রাজি না সে।
‘আমাদের পরিণতি নিয়ে ভাবতে হবে না তোমার।
তুমি তোমার পরিনতি নিয়ে ভাবো...ইডিয়ট
ডাইনী...’
ইথেন চিৎকার করে উঠল।
ধপ করে সবগুলো মশাল নিভে গিয়ে জায়গাটাকে
গাঢ়
অন্ধকারে নিমজ্জিত করে দিল। অল্প যেটুকু
দেখা
যাচ্ছে, সেটুকু শুধুমাত্র ফসফোরেসেন্ট এর
জন্যে। ওরা
সবাই ভয় পেয়ে দুই তিন পা পিছিয়ে এলো। শব্দ
করে-
করে পা ফেলে অ্যাঙ্গুইসিয়া এগিয়ে আসছে
ওদের
দিকে। ওর কালো চোখটা সরু হয়ে এলো।
এরপর ইথেনের
দিকে এক হাত বাড়িয়ে হাতের মুষ্ঠী বদ্ধ করল
সে। ইথেন
গলায় হাত দিয়ে গর-গর শব্দ করতে লাগল। ওর
নিঃশ্বাস
আটকে আসছে।
‘ওকে ছাড় ডাইনী, তুই ওকে ছাড় এখুনি...’ এক
বুড়ো
নাবিক চিৎকার করে উঠল।
বুম...
ঠিক যেন পারমানবিক বিস্ফোরণ হলো। নাবিকটার
দেহ খণ্ড-খণ্ড হয়ে মাংস আর রক্ত চারদিকে
ছড়িয়ে
ছিটিয়ে পড়ল। রক্তে আশেপাশের সবার জামা
ভিজে
গেছে। পোড়া মাংসের গন্ধে চারপাশ ভারী
হয়ে
গেছে।
বিস্ফোরণের পুরো ধাক্কাটাই নাবিকটার উপর দিয়ে
গেছে। কিন্তু ওর কয়েক ফুটের মধ্যে যারা
ছিলো ওরাও
চারপাশে ছিটকে পড়েছে। অ্যাঙ্গুইসিয়া এখন আর
হাসছে না। প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে ও।
ইথেনকে
এখনও ছাড়েনি সে। ধীরে-ধীরে নীল
হয়ে যাচ্ছে ইথেন।
সাথে-সাথে কোমরের খাপ থেকে তলোয়ার
বের করে
অ্যাঙ্গুসিয়ার দিকে দৌড় দিল উইলিয়াম। ওর শরীর
লক্ষ
করে সর্বশক্তি দিয়ে চালিয়ে দিল তলোয়ারটা।
কিন্তু
এক সেকেন্ড এর ৩ ভাগের এক ভাগ সময়ের
ভেতরেই
অ্যাঙ্গুইসিয়া গায়েব হয়ে গেল। সাথে-সাথে
ইথেন
মাটিতে পড়ে গেল। খুব দ্রুত শ্বাস নিতে লাগল ও।
উইলিয়াম এদিক-ওদিক দেখছে। কোথায়
অ্যাঙ্গুইসিয়া?
‘উইলিয়াম...তোর পেছনে...,’ চেঁচিয়ে উঠল
কুপার।
সাথে-সাথেই অন্ধের মত বাম পাশে লাফ দিল
উইলিয়াম। যা আছে কপালে।
ধুম...
প্রচণ্ড শব্দ হলো ঠিক আগেরবারের মত।
উইলিয়াম ঠিক
যেখানে দাঁড়িয়ে ছিল সেখানকার মাটি ভেঙ্গে
সোজা খাদের ভেতরের লাভাতে গিয়ে পড়ল।
হিসহিস
শব্দ করে কয়েক মিটার লাফিয়ে উঠল লাভাগুলো।
হঠাত অ্যাঙ্গুইসিয়া আর্তনাদ করে উঠল। উইলিয়াম
ঘাড় ঘুরিয়ে দেখল। ওর ঠিক পেছনেই মধ্য
আকাশে ভেসে
ছিল অ্যাঙ্গুইসিয়া। কিন্তু এবার ওকে আর কোন
সুযোগ
না দিয়ে জ্যাকসন ওর গলাটা চিপে ধরেছে। গলার
হাড়
ভেঙ্গে ফেলার চেষ্টা করছে ওর।
ওয়াম...
জ্যাকসন উড়ে গেল বাম দিকে। যুদ্ধে এসে
গেছে
ম্যাক্স। দানবীয় এক ঘুষিতেই জ্যাকসনকে কাত
করে
দিয়েছে ও। জ্যাকসন মাটি থেকে উঠে
দাঁড়িয়েছে
ততক্ষণে। ম্যাক্স জ্যাকসনের দিকে তাকিয়ে
বিশাল এক
হুঙ্কার দিয়ে সোজা ধেয়ে এলো। দুই দানবই
একে অপরের
দিকে তীব্র বেগে ধেয়ে আসছে।
বুম...
দুই দানবই একই সাথে এক জন আরেকজনের
মুষ্ঠী বদ্ধ
হাতে ঘুষি মেরেছে। ফল হলো ভয়াবহ। প্রচণ্ড
এক ওয়েভ
তৈরি হলো। আশেপাশের যারা আছে তারা সবাই
ছিটকে পড়ল। শুধু অ্যাঙ্গুসিয়া ছাড়া। অদ্ভুতভাবে
নিজের মুখের সামনে হাত দুটো ক্রশ আকারে
দিয়ে
রেখেছে ও। পুরো গুহাটা কেঁপে উঠল। সিলিং
থেকে
মাটি খসে-খসে পড়ছে।
নাবিকরা দেখল এই সুযোগ। সবাই মিলে একসাথে
গুলি
করল অ্যাঙ্গুইসিয়াকে। গুলির শব্দে চারপাশ কেঁপে
উঠল।
কিন্তু অ্যাঙ্গুইসিয়া ওখানে নেই! কোথায় ও? সবাই
ওকে খুঁজতে লাগল। কিন্তু যায়গাটা বেশ অন্ধকার।
ভালোভাবে দেখাও যাচ্ছে না।
হঠাত সবার পেছনে পড়ে থাকা এক নাবিক আর্তনাদ
করে উঠল। সবাই ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাল সেদিকে।
অ্যাঙ্গুইসিয়া ওর গলাটা চিপে ধরে ওকে শুন্যে
তুলে
নিয়েছে। এরপর ওকে নিয়ে ভাসতে-ভাসতে
সোজা
কয়েক ফুট উপরে উঠে গেল। এরপর ওরা
নিজেদের চোখের
সামনে খুব ভয়ঙ্কর এক দৃশ্য দেখল।
অ্যাঙ্গুইসিয়ার কালো রঙের জিহ্বাটা ধীরে-
ধীরে
বেরিয়ে আসছে ওর মুখ থেকে। নাবিকটা প্রচণ্ড
ভয়ে
থরথর করে কাঁপছে আর জিহবাটার দিকে তাকিয়ে
আছে। জিহ্বাটা হঠাত লম্বাটে আকার ধারণ করল।
ওটার
আগায় একটা চোষক এর মত তৈরি হলো।
চোষকের ভেতর
থেকে কাঁটা বেরিয়ে এলো একটা। ওটা দেখে
সাথে-
সাথে নাবিকটা বিকট একটা চিৎকার দিয়ে উঠল। কিছু
বুঝে উঠার আগেই ধুপ করে ওটা বসে গেল
নাবিকটার
গলায়। অ্যাঙ্গুইসিয়া শুষে নিতে লাগল ওর সমস্ত
রক্ত।
নাবিকটা মৃত্যু ভয়ে কেঁদে দিল।
‘জলদি ওটাকে নামাও ওখান থেকে, শুট হার,
কুইক...’
উইলিয়াম আর কুপার একসাথে চেঁচিয়ে উঠল।
ধুম, ধুম, ধুম...
পরপর অনেকগুলো গুলি ছুটে এলো
অ্যাঙ্গুইসিয়ার
দিকে। কিন্তু অ্যাঙ্গুইসিয়া এত দ্রুত মুভ করল যে
ওরা
চোখেও দেখল না ওকে। নাবিকটাকে এক হাতে
ধরে
রেখেছে সে আগের মতই। এখনো শুষে
যাচ্ছে ওর রক্ত।
আবারও পাগলের মত গুলি চালাল ওরা। আবারও অদৃশ্য
হয়ে গেল অ্যাঙ্গুইসিয়া। এবার গিয়ে দাঁড়াল ওদের
ঠিক
পেছনের দিকে। উইলিয়াম ওর শটগান থেকে
আরেকটা
গুলি চালাল। অ্যাঙ্গুইসিয়ার শরীর ভেদ করে
ওপাশের
দেয়ালে গিয়ে বিঁধল গুলিটা। যেন ওর পুরো
শরীরটাই এক
সেকেন্ড এর জন্যে ট্রান্সপারেন্ট হয়ে
গিয়েছে। ও
ট্রান্সপারেন্ট হয়ে যাওয়ার সাথে সাথেই নাবিকটা ওর
হাত থেকে পড়ে গেল। প্রায় মাটিতে এসে
পড়েছে
নাবিকটা...এখুনি ভয়ানকভাবে মাটিতে ধাক্কা খাবে
সে...
চোখের পলকেই উড়ে এলো অ্যাঙ্গুইসিয়া।
নাবিকটা
মাটিতে পড়ার ঠিক আগ মুহুর্তেই বাজ পাখির মত এক
হাতে লুফে নিলো ওকে। এরপর সোজা নিয়ে
চলে গেল
অন্ধকার কোণার দিকে। এরপর আবারও শুষে
নিতে লাগল
ওর সমস্ত রক্ত।
এদিকে ওদের গুলি ফুরিয়ে আসছে। ওরা বুঝল,
গুলি
করে আসলেই আর লাভ নেই। যা হবার তা
এতক্ষণে হয়ে
গেছে। ওদের আর কিছুই করবার নেই।
ধীরে-ধীরে চকের মত সাদা হয়ে গেল
নাবিকটা। ওর
চোখ দিয়ে শেষ একটা অশ্রুবিন্দু গড়িয়ে পড়ল
মাটিতে।
এরপরেই ওর হাত নেতিয়ে পড়ল। মারা গেছে ও।
চোষকটা মুখের ভেতর গুটিয়ে নিয়েছে
অ্যাঙ্গুইসিয়া।
ওর মুখের এখানে সেখানে নাবিকটার রক্ত
লেগে আছে।
এক হাতে নাবিকটার মৃত দেহটাকে উপরে উঠালো
ও।
এরপর প্রচণ্ড জোরে একটা চিৎকার করে
সোজা ছুঁড়ে
দিল খাদের দিকে। খড় কুটোর মত উড়ে যাচ্ছে
মৃত
দেহটা। এরপর কাটা গাছের মত খাদটার ভেতর
পড়ে
গেল। লাভাগুলো আবারও হিস হিসিয়ে উঠলো।
যেন
অনেক দিনের ক্ষুধার্ত জানোয়ার ওগুলো।
শিকারকে
পেয়ে খুব খুশি।
ওদিকে দানব দুইটার সেদিকে খেয়াল নেই।
প্রচণ্ড
আক্রোশ নিয়ে ওরা একজন আরেকজনের উপর
ঝাঁপিয়ে
পড়েছে। জ্যাকসনকে মারতে-মারতে রক্তাত
করে
ফেলেছে ম্যাক্স। এই বিশালদেহী দানবের
সাথে
জ্যাকসনও পারছে না। ম্যাক্স এরও কপালে আর
মুখে রক্ত
লেগে আছে। কিন্তু সেটা জ্যাকসনের তুলনায়
কিছুই না।
জ্যাকসনের কাঁধ চিপে ধরে ওকে সর্ব শক্তি
দিয়ে
চাপ দিল ম্যাক্স। ধুপ করে হাঁটু গেড়ে মাটিতে
পড়ে গেল
জ্যাকসন। মাথাটা দুর্বলভাবে দুলছে ওর। যেন ওর
আর
কিছুই করার শক্তি নেই। ঐ অবস্থাতেই
জ্যাকসনকে
একের পর এক ঘুষি মেরে চলেছে ম্যাক্স।
প্রতিটা ঘুষির
সাথে-সাথে জ্যাকসনের রক্ত এদিক-ওদিক
বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ছে। কিন্তু
ম্যাক্স
এর সেদিকে কোন নজর নেই। জ্যাকসনের
রক্তে হাত
ভিজে গেছে ওর। এরপরও প্রচণ্ড
আক্রোশে জ্যাকসনকে
একের পর এক ঘুষি মেরেই চলেছে সে।
হঠাত অবিশ্বাস্য দ্রুততায় ম্যাক্স এর হাতটা ধরে
ফেলল জ্যাকসন। এরপর ওর অপর হাতটাও ধরলো
শক্ত
করে। দানবদেরকে বোঝা আসলেই অনেক
কঠিন। ওদের
অবিশ্বাস্য শক্তির হয়তো আসলেই কোন
সীমারেখা
নেই!
নিজের গায়ের সর্বশক্তি প্রয়োগ করল জ্যাকসন।
ধীরে-ধীরে মাটি থেকে উঠে আসছে ও।
এরপর প্রচণ্ড
জোরে একটা গর্জন করে ম্যাক্সকে দুই হাতে
তুলে কোমর
সমান উচ্চতায় লাট্টুর মত শুন্যে ঘুরালো কয়েকবার।
এরপর
পশুর মত আরেকটা গর্জন করে ওকে ছুঁড়ে
ফেলে দিল
গুহাটার দেয়ালের দিকে।
ধুম...
যেন একটা বিস্ফোরন হলো। গুহার দেয়ালটা
ভয়ঙ্কর
শব্দ করে ভেঙ্গে পড়লো ম্যাক্স এর গায়ের
উপর। দৌড়ে
গেল জ্যাকসন। মাটিতে পড়ে থাকা ম্যাক্সকে
দানবীয়
আক্রোশে একের পর এক ঘুষি মারতে লাগল।
ততক্ষণে
অচেতন হয়ে গেছে ম্যাক্স। কিন্তু সাধ
মেটেনি
জ্যাকসনের। আরও বার কয়েক ঘুষি মেরে হাতটা
ম্যাক্স
এর রক্তে একদম রক্তাক্ত করে ফেলল। এরপর
ম্যাক্সকে
শেষ বারের মত ধড়াম করে একটা ঘুষি মেরে
উঠে
দাঁড়ালো।
এরপর সোজা তেড়ে এলো অ্যাঙ্গুইসিয়ার
দিকে।
অ্যাঙ্গুইসিয়া জ্যাকসনের উন্মত্ত রুপ দেখে
কয়েক পা
পিছিয়ে এলো। ভয় পেয়েছে ও। জ্যাকসন ওর
বিশাল সবুজ
হাতটা বাড়িয়ে ঘুষি চালাল অ্যাঙ্গুইসিয়ার শরীর
বরাবর। কিন্তু সাথে-সাথে অ্যাঙ্গুইসিয়া সরে গেল।
রেগে-মেগে আবার ঘুষি চালাল জ্যাকসন। আবারও
অনেক আগেই সরে গেল অ্যাঙ্গুইসিয়া। বারবার
জ্যাকসন
পাগলের মত ঘুষি চালাচ্ছে আর প্রত্যেকবারই
অনেক
আগেই সরে যাচ্ছে অ্যাঙ্গুইসিয়া। ওর অসম্ভব
দ্রুত গতির
কাছে জ্যাকসন বারবার ধরা খেয়ে যাচ্ছে। রাগে,
দুঃখে মাটিতে ঘুষি দিতে লাগল জ্যাকসন। মাটিতে
মাঝারি আকারের একটা গর্ত হয়ে গেল।
হঠাত কোনরূপ আগাম বার্তা না দিয়ে জ্যাকসন
অবিশ্বাস্য দ্রুততায় ঘুরে আরেকটা ঘুষি মেরে দিল
ঠিক
অ্যাঙ্গুইসিয়ার বরাবর। এবার গায়েব হয়ে গেল
অ্যাঙ্গুইসিয়া। কিন্তু পরমুহুর্তেই ফিরে এলো সে।
জ্যাকসনের ঠিক পেছনেই মধ্য আকাশে ভাসছে
অ্যাঙ্গুইসিয়া। জ্যাকসন ঘাড় ঘুরালো।
বুম...
প্রচণ্ড বিস্ফোরণ হলো। উইলিয়াম ভয়ে চোখ
বন্ধ করে
ফেলল। ওর মনে পড়ে গেল যে বুড়ো নাবিকটা
কিভাবে
বিস্ফোরণের ধাক্কায় শত-শত টুকরোয় ভাগ হয়ে
গিয়েছিল।
চোখ খুললো উইলিয়াম। মুখের উপর ক্রশ এর
মত করে
দুহাত দিয়ে মাটিতে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে জ্যাকসন।
বিস্ফোরণটা ওকে এক চুলও নড়াতে পারেনি।
‘জানোয়ার! তোকে দেখে নেব আমি...’
প্রচণ্ড
বিরক্তিতে কঁকিয়ে উঠল অ্যাঙ্গুইসিয়া।
গালি খেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে গেল জ্যাকসন। সোজা
লাফ
দিল আকাশের দিকে। মধ্য আকাশেই লুফে
নিলো
অ্যাঙ্গুইসিয়াকে। এরপর সোজা ছুঁড়ে দিল গুহার
দেয়ালের দিকে। আবারও একটা ছোট-খাট
বিস্ফোরন
হলো। অ্যাঙ্গুইসিয়া উড়ে গিয়ে গুহার দেয়ালে
ধাক্কা
খেলো। গুহার মাটির দেয়াল ভেঙ্গে ওর গায়ের
উপর
পড়ে ওকে চাপা দিয়ে দিল।
‘জ্যাকসন, সময় নেই, ও উঠে পড়ার আগেই
ওকে লাভার
ভেতর ফেলে দে...জলদি...’ চিৎকার করে
উঠল ইথেন।
জ্যাকসন এক দৌড়ে ধ্বংসস্তূপের কাছে পৌঁছে
গেল।
বড়-বড় মাটির দলা সরিয়ে অ্যাঙ্গুইসিয়াকে তুলে
নিলো
সেখান থেকে। এরপর সোজা দৌড় দিলো
খাদের দিকে।
খাদের কাছাকাছি এসে লক্ষ্য স্থির করে ছুঁড়ে দিল
অ্যাঙ্গুইসিয়াকে। পড়ে যাচ্ছে...দ্রুত পড়ে
যাচ্ছে
অ্যাঙ্গুইসিয়া। আর মাত্র কয়েক মিটার দূরত্বে
আছে
লাভা...ওগুলো যেন ওরই অপেক্ষায় আছে...
ঝট করে চোখ খুলে গেল ওর। চোখের
নিমিষেই উধাও
হয়ে গেল। এরপর কিছু বুঝে উঠার আগেই
সোজা এসে
দাঁড়ালো জ্যাকসনের পেছনে। জ্যাকসন
ততক্ষণে
অ্যাঙ্গুইসিয়ার মৃত্যু নিশ্চিত মনে করে খাদের
উল্টো
দিকে উইলিয়ামদের কাছে ফিরে যাচ্ছিল।
‘জ্যাকসঅঅঅঅন...সাবধাআআআআন...’ পুরো শক্তি
দিয়ে চেঁচিয়ে উঠল উইলিয়াম। ওরা কেউ কল্পনাও
করতে
পারেনি যে অ্যাঙ্গুইসিয়া আবার ফিরে আসবে।
বুম...
যেন অনেকগুলো বোমার বিস্ফোরণ
হয়েছে। জ্যাকসন
প্রস্তুত ছিল না এবার। বিস্ফোরণের ধাক্কায়
সোজা
উড়ে গেল গুহার অপরদিকে...খুব জোরে ঐ
পাশের
দেয়ালে আঘাত করল। এরপর জ্ঞান হারাল।
সাথে-সাথে সবাই এক সাথে ধেয়ে এলো
অ্যাঙ্গুইসিয়ার দিকে। একের পর এক গুলির শব্দ
আর
তলোয়ারের ঝলকানিতে পরিবেশ ভারী হয়ে
উঠল।
এই মুহুর্তে একই সাথে ৮ জনের সঙ্গে লড়াই
করছে
অ্যাঙ্গুইসিয়া। কিন্তু ওরা এত জন মিলেও ওর কিছুই
করতে পারছে না। এত দ্রুত সে চলাফেরা করছে
যে ওর
মুভমেন্টই চোখে দেখছে না ওরা। একবার
এখানে, তো
তার ঠিক পরমুহুর্তেই আবার অন্যখানে। এক জায়গায়
বেশিক্ষণ থাকছেও না।
হঠাত সে আবার গায়েব হয়ে গেল ওদের
চোখের
সামনে থেকে। সাথে-সাথেই আবার ফিরে
এলো
একমুহুর্তের জন্যে অসাবধান হওয়া ক্যাপ্টেন এর
সামনে।
গলা চিপে ধরলো ওর। সাথে-সাথে উইলিয়ামের
শটগান
থেকে একটা গুলি বেরিয়ে এলো। আবারও
গায়েব হয়ে
গেল অ্যাঙ্গুইসিয়া।
এবার কোথায় শয়তানটা? এদিক ওদিক খুঁজেও ওকে
পেল না উইলিয়াম।
ঠিক সেই মুহুর্তেই গলায় প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হলো।
কেউ
একজন ওকে পেছন থেকে চেপে
ধরেছে। শ্বাসনালিতে
প্রচণ্ড চাপ পড়ছে। মনে হচ্ছে যেন এখুনি
ফেটে যাবে।
ছটফট করতে লাগল উইলিয়াম। কিন্তু আক্রমণকারীর
গায়ে পশুর মত শক্তি। উইলিয়ামের কানে এলো
নরম
হিসহিস শব্দ। এখুনি হয়তো ওর চোষকটা বসিয়ে
দেবে
উইলিয়ামের গলায়। শুষে নেবে ওর সমস্ত রক্ত।
পেছন থেকে লাফ দিয়ে অ্যাঙ্গুইসিয়ার গলা চিপে
ধরলো ইথেন। অ্যাঙ্গুইসিয়া গড়-গড় শব্দ করে
উঠল।
সাথে-সাথে প্রচণ্ড একটা বাতাস যেন ধাক্কা দিল
ইথেন আর উইলিয়ামকে। দুই জনেই ছিটকে পড়ল
দুই দিকে।
(চলবে)
------------------
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now