বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

"দ্য সার্পেন্ট গর্ডেস"----- (চ্যাপ্টার ৬)

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X "দ্য সার্পেন্ট গর্ডেস" আশরাফুল সুমন ----------------- (চ্যাপ্টার ৬: জ্যাকসন’স সিক্রেট এর বাকি অংশ)  ‘হুম। তবে আমি আপাতত অন্য একটা ব্যাপার নিয়ে ভাবছি। আমরা যখন এই স্থানে এলাম তখন কিন্তু জায়গাটার তাপমাত্রা এখনকার চেয়ে বেশি ছিল। কিন্তু এখন দেখ, হঠাত করেই যেন জায়গাটার তাপমাত্রা হু হু করে কমছে। তাপমাত্রা অবশ্য হ্রাস পেতেই পারে। হয়তো এখন বাইরের পৃথিবীতে রাত, তাই বাইরের ঠান্ডা বাতাস এই গুহাটার ভেতর এসে প্রবেশ করায় তাপমাত্রা কমে গেছে। কিন্তু সেটার দ্বারা তাপমাত্রার এতটা কমে যাওয়া ব্যাখ্যা করা যায় না। এটা একমাত্র সম্ভব যদি এই গুহাটার বাইরের স্থানটা হয় একটা মরুভূমি। কারণ, একমাত্র সেখানেই রাতের বেলা তাপমাত্রা হঠাত করে এতটা হ্রাস পেয়ে যায়,’ উইলিয়াম ভ্রু কুঁচকে ভাবতে-ভাবতে বলল। ‘আসলেই তো! এটা নিশ্চয়ই ইজিপ্ট!’ ইথেন চিৎকার করে উঠল। ‘হুম আসলেই ইজিপ্ট...অ্যাঙ্গুইসিয়ার কাছে যাওয়ার সময় আশেপাশের দেয়ালে হায়ারোগ্লিফ দেখেছি। আমি নিশ্চিত যে এটা ইজিপ্ট,’ উইলিয়াম বলল। প্রায় সাথে সাথেই ওর কপাল এর চামড়া ভাঁজ হয়ে এলো। কি যেন ভাবছে ও। হঠাত ও উত্তেজিত হয়ে চেঁচিয়ে উঠল। ‘পেয়েছি! পেয়েছি!’ উইলিয়াম চেঁচিয়ে উঠল। ‘কি পেয়েছিস?’ কুপার জিজ্ঞেস করল। ‘গুহাটা থেকে বেরোনোর রাস্তা!’ উইলিয়াম উত্তেজিত হয়ে নিজের হাতের উপর দড়াম করে কিল দিয়ে বলল। ‘কিভাবে পেয়েছিস?’ ইথেন জিজ্ঞেস করল। ‘অ্যাঙ্গুইসিয়া বলেছিল যে এই জায়গা থেকে বেরোনোর কোন রাস্তাই নেই। কিন্তু তাই যদি হয় তাহলে এই স্থানের তাপমাত্রা এত কমছে কিভাবে? ব্যাপারটা শুধুমাত্র তখনই সম্ভব যখন গুহার মুখ দিয়ে বাইরের ঠান্ডা বাতাস ভেতরে প্রবেশ করবে। সবচেয়ে বড় কথা কি জানিস? এখান থেকে বের হওয়ার যদি আসলেই কোন রাস্তা না থাকতো তাহলে আমরা ৫ মিনিটের ভিতরেই অক্সিজেনের অভাবে মারা যেতাম। অতএব এটা প্রমাণিত যে অ্যাঙ্গুইসিয়া মিথ্যা বলেছে আমাদেরকে। এই জায়গাটা থেকে অবশ্যই বেরোনোর রাস্তা আছে, এবং সেই রাস্তাটা কোন জায়গায় গিয়ে খোলে, সেটাও মনে হয় আমি ধরতে পারছি।’ ‘তোর মনে আছে কুপার, সে আমাদেরকে কি বলেছে? সে বলেছিল যে আনুবিস যে রাতে ওকে গ্রামের মানুষদের হাত থেকে বাঁচিয়েছিল, সেই রাতের পর থেকেই সাপটাকে আনুবিস এই জায়গাটায় থাকতে দিয়েছিল। আর অ্যাঙ্গুইসিয়া দাবি করেছিল যে এরপর থেকে সে যখনই কোন বাচ্চাকে ঐ গুহাটার প্রবেশ পথে নিয়ে আসতো, তখন নাকি সে সাপটাকে ঐ গুহায় দেখতো না, কারণ সাপটা ঐ রাতের পর থেকে ঐ গুহায় থাকতো না। থাকতো এই স্থানে। এবং অ্যাঙ্গুইসিয়া ওকে ডাক দেয়া মাত্রই সে নাকি কিছুক্ষণের মাঝেই কোথা থেকে যেন ঐ গুহাটায় এসে হাজির হতো! হাহ! মঘের মুল্লুক নাকি! সাপটা কি আলাদিনের প্রদীপের জিনি, যে সে ওখানে না থাকার পরও ওকে ডাক দিলেই কিছুক্ষণের মাঝেই হাজির হয়ে যাবে? আসল কথা হচ্ছে যে সে আমাদের কাছ থেকে একটা তথ্য লুকাচ্ছিলো...’ ‘কি তথ্য লুকাচ্ছিলো?’ ‘এই গুহা থেকে বেরোনোর রাস্তা। দেখ, যদি এমন হয় যে এইটাই সেই গুহা, যেই গুহায় অ্যাঙ্গুইসিয়া বলির জন্যে আনা বাচ্চাদের হাত পা বেঁধে ছেড়ে দিতো, যেই গুহায় সাপটা থাকতো? হয়তো আনুবিস অনেক আগেও এই গুহাটা ব্যবহার করেছে মানুষকে শাস্তি দেয়ার জন্যে, এবং তর্কের খাতিরে আমি ধরে নিলাম যে তখন এখান থেকে বের হওয়ার আসলেই কোন রাস্তা ছিল না। তাহলে মানুষগুলো ক্ষুধা তৃষ্ণায় নয়, বরং অক্সিজেনের অভাবে মারা যেত। সে কিন্তু অক্সিজেনের অভাবে শ্বাস বন্ধ হয়ে মরার কথা বলেনি, ক্ষুধা তৃষ্ণায় মারা যাওয়ার কথা বলেছিল। আসলে আগের কথাগুলো মিথ্যা বললেও এটা সে সত্যিই বলেছে। আর এতগুলো যুক্তিযুক্ত কথা দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয় যে এই জায়গাটা থেকে বেরোনোর রাস্তা আগেও ছিল, এখনো আছে, আর সেই রাস্তাটা হচ্ছে সেই পাহাড়ের গুহাটার প্রবেশ পথ, যেখানে অ্যাঙ্গুইসিয়া বাচ্চাদের বলি দেয়ার জন্যে নিয়ে আসতো,’ উইলিয়াম ওর দীর্ঘ বক্তৃতা শেষ করল। ‘উরিব্বাস! এত কিছু তোর মাথায় কিভাবে ঘোরে? অ্যাঙ্গুইসিয়া যখন কথাগুলো বলছিল তখন সেখানে আমিও ছিলাম। কিন্তু আমি তো কিছুই ধরতে পারিনি। সে যদি আমার কানের কাছে কথাটা একশবারও বলতো, তাহলেও বোধ হয় আমি কানেকশানটা বুঝতে পারতাম না,’ বিস্মিত হয়ে বলল কুপার। সেই ছোটবেলা থেকে উইলিয়ামকে সে দেখছে। আর যতই দেখছে, ততই অবাক হচ্ছে। ছেলেটার মাথা সেই রকম খেলে। বিশ্লেষনী ক্ষমতা এক কথায় অসাধারণ। ‘কিন্তু সেই পথটা আমরা খুঁজে পাবো কিভাবে? এখানে কয়েকশ ছোট-বড় টানেল আছে। এতগুলা দেখার সময় তো নেই,’ অল্প বয়সী এক নাবিক বলে উঠল। সে এতক্ষণ ধরে একটা কথাও বলেনি। বসে-বসে উইলিয়ামের বিশ্লেষণী ক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করেছে। ‘সেটাও বের করা অসম্ভব কিছু নয়। একটা সম্ভাবনা আমার মাথায় ইতিমধ্যেই উঁকি দিয়েছে। কিন্তু সেটা এখন বলবো না। আগে আরেকটু নিশ্চিত হয়ে নেই,’ উইলিয়াম জবাব দিল। ‘আচ্ছা, একটা কথা আমার মাথায় এখনো ঢুকছে না। বাকি দানবগুলো সব অ্যাঙ্গুইসিয়ার কথা শুনতে বাধ্য হলেও, জ্যাকসন কিন্তু ওর কথা শুনছে না। কেন?’ ইথেন জিজ্ঞেস করল। ‘এটা তো জ্যাকসনই আমাদেরকে বলতে পারবে, কি জ্যাকসন, বলবি না?’ উইলিয়াম জানতে চাইলো। জ্যাকসন আবারও ঘোঁত করে একটা শব্দ করল। দানবীয় ডিকশনারিতে এর অর্থ কি কে জানে। ‘বেচারার কণ্ঠস্বরকে আপাতত খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, ও যখন সুস্থ হয়ে যাবে তখন সে নিজেই আমাদেরকে বলবে আশা করি,’ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল উইলিয়াম। ‘কিন্তু ব্যাপারটা এখুনি জানা জরুরী, কারণ আমাদের বাকি নাবিকদেরকেও অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে হবে। সেই জন্যেই এটা জানা জরুরী যে জ্যাকসন কিভাবে ঐ সবুজ জিনিসটার নিয়ন্ত্রণ থেকে বেরিয়ে আসলো,’ ইথেন বলল। এক কাজ করেন, উনার হাতে একটা কলম ধরিয়ে দিন, একটা বড়-সড় খাতা দিন উনাকে, উনি লিখে ফেলুক উনার কাহিনী,’ মধ্যবয়সী এক নাবিক বলল। আইডিয়াটা খুব মনে ধরেছে জ্যাকসনের। একটু পরেই খুঁজে-খুঁজে একটা কলম আর একটা বেশ বড় খাতা এনে রাখলো মেঝেতে। জ্যাকসন কলমটা নিয়ে নাড়াচাড়া করে দেখলো প্রথমে। এরপর প্রথমে নিজের নাম লিখে দেখল, এত ছোট কলম দিয়ে লিখতে পারছে কি না। এরপর জ্যাকসন তার কাহিনী লেখা শুরু করল। সবাই গোল হয়ে জ্যাকসনের চারপাশে এসে ঝুঁকে পড়েছে। জ্যাকসন লিখে চলেছেঃ ‘সবুজ রঙের প্রাণীটা যখন আমার মুখের ভেতর ঢুকে গেল, এর পর পরেই আমি মাথায় খুব ভয়ানক একটা ব্যথার অনুভূতি টের পেলাম। মনে হচ্ছে যেন কিছু একটা আমার মাথার উপর চেপে বসেছে। আমাকে জোর করে নিয়ন্ত্রণ করছে। কিন্তু আমি তাকে টেনে সরিয়ে দিতে পারছি না। কারণ, সে আমার শরীরের ভিতরে ঢুকে বসে আছে। জিনিসটা যেই মুহুর্তে আমার ভেতরে ঢুকেছে ঠিক সেই মুহুর্ত থেকে আমার ভেতরের সমস্ত আশা, আকাঙ্খা যেন কর্পুরের মত উবে গেল। প্রচণ্ড...প্রচণ্ড হতাশা আমাকে গ্রাস করল, বেঁচে থাকার কোন ইচ্ছাই ছিল না, আমার ভেতরের সমস্ত ইচ্ছা শক্তিকেই যেন সে শুষে নিয়েছিল।’ ‘এরপর তো আমি ট্রান্সফরম হয়ে গেলাম। তারপর আনুবিস আমাদেরকে ডাকলো। মজার ব্যাপার হচ্ছে, আমি ওর প্রতিটা কথাই স্পষ্ট বুঝতে পারছিলাম। ও আমাদেরকে বলছিল যে আমরা ওর গোলাম, এবং চিরজীবন ওর গোলাম হয়েই আমাদেরকে থাকতে হবে, ও যা বলে শুনতে হবে, এবং এই অবস্থা থেকে আমাদের কোন মুক্তি নেই। এরপর সে আমাদেরকে বলল ঐ ঘুর্নির ভেতর লাফ দিতে। আমি লাফ দিতে চাইনি। কিন্তু বিশ্বাস করবি কিনা জানি না...কিছু একটা যেন আমাকে টেনে-টেনে ঐ ঘুর্নির ভেতর ফেলে দিল।’ ‘এখানে আসার পর নিজের চোখে দেখলাম অসহায় নাবিকদেরকে কিভাবে ঐ দানবটা খেয়ে ফেলল। বিন্দুমাত্র মায়া নেই ওর ভেতরে। ও একটা পশু ছাড়া আর কিছুই না। আমি অনেক চেষ্টা করলাম। কিন্তু কিছুই করতে পারলাম না। কারণ...ঐ জিনিসটা আমাকে ছাড়ছেই না। চিপে ধরে রেখেছে আমাকে। আমার মস্তিস্ককে।’ ‘এরপর দেখলাম যে অ্যাঙ্গুইসিয়া ইথেনসহ আরো কয়েকজন নাবিককে না খেয়ে বন্দি করে রেখে দিল। ওর আসলে ক্ষিধেই ছিল না তখন। এরপর সে ইথেনকে বলল যে উইলিয়ামকে সে হত্যা করবে সবার শেষে। আর ইথেনকে হত্যা করবে উইলিয়ামের সামনেই। যাতে ওকে এই ভয়ঙ্কর দৃশ্য দেখতে হয়। যাতে উইলিয়াম মৃত্যুর আগে পাগল হয়ে যায়। সবচেয়ে কষ্ট দিয়ে মারবে উইলিয়ামকে, সেই জন্যেই ওকে মারবে সবার শেষে।’ ‘এরপর সে বুড়োটার মৃত শরীরটাকে অদ্ভুত উপায়ে জীবিত করল। ওকে পাঠিয়ে দিল তোদেরকে পথ দেখিয়ে-দেখিয়ে ওর কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্যে। আমাদের সাত জনকে সে একটা রুমে বন্দি করে রাখলো। আমি বুঝতে পারলাম যে এই সবুজ রঙের প্রাণীটার হাত থেকে নিজের শরীরের নিয়ন্ত্রণ না নিতে পারলে আমি, আমরা সবাই একসাথে মরবো। কিন্তু যদি একবার নিয়ন্ত্রণটা নিজের হাতে নিয়ে নিতে পারি, তাহলে এই বিশাল শরীরটাকে কাজে লাগিয়ে আমি নিজেই তোদেরকে মুক্ত করতে পারবো।’ এই পর্যন্ত লিখে জ্যাকসন একটু থামলো। হাত ব্যথা করছে ওর। হাতটা একটু মালিশ করে আবার লেখা শুরু করলঃ ‘এরপর আমি নিজের সমস্ত মানসিক শক্তি একত্র করলাম। জোর করে আমার নিয়ন্ত্রণ ঐ প্রাণীটার কাছ থেকে নিয়ে নিতে চাইলাম। সে উল্টো তারচেয়েও বেশি জোর খাটিয়ে আমাকে আঁকড়ে ধরে রাখলো। আমি শুনতে পেলাম যে সে আমাকে বোঝাচ্ছে, এইভাবে থাকলে আমি আজীবন সুখেই থাকবো, আনুবিসের গোলাম হতে পারার সৌভাগ্য সবার হয় না...আরও কিসব হাবিজাবি, কিন্তু আমি ওর কথা শুনলাম না। আরও জোর খাটালাম। কিন্তু কিছুতেই সে ছাড়ছিল না আমাকে। আমি তখন তোদের কথা ভাবলাম। আমার স্ত্রীর কথা ভাবলাম। আমার ছেলেমেয়েদের কথা ভাবলাম। ওরা আমার পথ চেয়ে বসে আছে। ওদের কাছে আমাকে যেতেই হবে। আর এই কথাগুলো ভাবার সাথে-সাথেই কোথা থেকে যেন প্রচণ্ড ইচ্ছাশক্তির জোয়ার বয়ে গেল আমার ভেতরে। আমার বেঁচে থাকার ইচ্ছা প্রবল হয়ে গেল। আর সাথে-সাথে মাথায় একটা ভোঁতা আর্তনাদ অনুভব করলাম। প্রাণীটা তার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে। আর থাকতে পারছে না আমার ভেতরে। আমার ভেতর থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছে।’ ‘কিন্তু এইবার আমি একটা রিস্ক নিলাম। ওকে বেরোতে দিলাম না। উল্টো ওকেই নিয়ন্ত্রণ করা শুরু করে দিলাম। কারণ, যেই মুহুর্তে সে বেরিয়ে আসবে, ঠিক সেই মুহুর্তেই আমি আবার ছোট হয়ে যাবো। তখন ঐ রুমে থাকা সব দানব আমাকে পিষে মেরে ফেলবে। তাছাড়া আমি তখন তোদেরকেও বাঁচাতে পারবো না। তোদেরকে বাঁচাতে হলে আমার এই বিশাল শরীর আর তার অসাধারণ ক্ষমতাটা লাগবে। ওকে আমি রেখে দিলাম আমার শরীরের ভেতরে। এখন সে আমাকে নয়, বরং আমিই ওকে নিয়ন্ত্রণ করি।’ জ্যাকসনের লেখা শেষ হলো। সবাই হতভম্ভ হয়ে দুই মিনিট চুপ করে রইলো। তারা বুঝতে পারছিল যে ওদের এখান থেকে বেরোনোর একমাত্র টিকেট, জ্যাকসন। ওদের সবার ভেতর আবার প্রাণের জোয়ার ফিরে এলো। বেঁচে থাকার আশা জ্বলজ্বল করে জ্বলতে লাগল ওদের ভেতরে । *************** চ্যাপ্টার ৭:ফাইন্ডিং দ্য ডেমি গডেস জ্যাকসন এখন দাঁড়িয়ে আছে একটা বন্ধ দরজার সামনে। পাথরের দরজাটা খুলে ফেলার আগে বড় করে একটা শ্বাস নিলো সে। না, কোন ভুল করা যাবে না। ওদের যাতে কিছুতেই সন্দেহ না হয়। আর পুরো ব্যাপারটাই করতে হবে অ্যাঙ্গুইসিয়ার আড়ালে। সে টের পেলেই সব ভেস্তে যাবে। পাথরের দরজার পাশে থাকা দেয়ালের একটা বিশেষ ইট এ চাপ দিল জ্যাকসন। সাথে-সাথে ঘড়-ঘড় শব্দ করে দরজাটা খুলে গেল। দরজার ওপাশে বাকি দানবগুলো বসে ছিল। ওরা অবাক হয়ে জ্যাকসনকে দেখছে। একটা বড়-সড় দানব জ্যাকসনের দিকে এগিয়ে এলো। উচ্চতায় সে জ্যাকসনের চেয়েও বড়। দেখে মনে হচ্ছে যেন সেই এই দলের সর্দার। গর-গর শব্দ করে কি যেন বলল সে। জ্যাকসনও একই রকম গর-গর শব্দ করে উত্তরটা ফিরিয়ে দিল। জ্যাকসনের উত্তরের সাথে-সাথে দানবরা চেঁচামেচি শুরু করে দিল। এরপর সবাই জ্যাকসনকে ধাক্কা দিয়ে এক পাশে সরিয়ে দিয়ে খুনে মেজাজে দরজা দিয়ে বেরিয়ে গেল। সবাই এক সাথে কোথায় যেন যাচ্ছে। জ্যাকসন সবার পেছনে হাঁটছে। ওর হাঁটা চলার মাঝে দলছাড়া একাট ভাব। দানবদের সর্দার এক ধাক্কায় বড় দরজাটা খুলে ফেলল। এরপর সেই ব্রিজের উপর দিয়ে সবাই এক যোগে চলল সামনের দিকে। এদিকে উইলিয়াম আর ইথেন খুব চিন্তিত হয়ে পড়েছে। প্রায় এক ঘণ্টা হয়ে গেছে জ্যাকসনের এখনও কোন খবর নেই। ওর কোন বিপদ হয়নি তো? দানবগুলো ওকে মেরে ফেলেনি তো? জ্যাকসনের কাহিনী পড়ার পর পরেই ওরা একটা মাস্টার প্ল্যান করেছিল। সেটা হচ্ছে যে, এই ৬ দানব যতক্ষণ পর্যন্ত অ্যাঙ্গুইসিয়াকে গার্ড দেবে ততক্ষণ পর্যন্ত ওদের বেঁচে ফেরার সম্ভাবনা বলে কোন কিছুই থাকছে না। অতএব, এই দানবগুলোকে নিউট্রাল করে দিতে হবে। ভালো হতো যদি এই ৬ দানবও জ্যাকসনের মত সেই সবুজ প্রাণীগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারতো। কিন্তু ওদের মানসিক ক্ষমতা জ্যাকসনের চেয়েও অনেক-অনেক নিচে, এই কারণেই ওরা ঐ প্রাণীটাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না। উল্টো ওর দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। ওরা এই দুর্বল মানসিক ক্ষমতা নিয়ে কখনোই সেই প্রাণীগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। সেটা চেষ্টা করলে উল্টো ভয়াবহ ফল হতে পারে। হয়তো দেখা গেল, এখন ওরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে, কিন্তু যেই মাত্র অ্যাঙ্গুইসিয়ার সামনে গেল, সাথে-সাথেই ওরা নিয়ন্ত্রনহীন হয়ে গেল...অতএব, একমাত্র উপায় হচ্ছে, এই দানবগুলোকে নিউট্রালাইজ করে দেয়া। ওদেরকে ওদের আগের রুপে ফিরিয়ে আনা। সেই জন্যেই জ্যাকসনকে পাঠানো হয়েছে, দানবগুলোকে যেকোন উপায়ে এই জাহাজের কাছে নিয়ে আসার জন্যে। কিন্তু প্রায় এক ঘণ্টা হতে চলল। এখনো জ্যাকসনের কোন পাত্তা নেই। ব্যাপারটা আসলেই খুব চিন্তার। ‘আওয়াজটা শুনতে পাচ্ছিস?’ হঠাত করে ইথেন বলে উঠল। একটা ধুপ-ধুপ আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। ওরা এখন লুকিয়ে আছে জাহাজের ঠিক সামনেই থাকা বেশ বড়-সড় একটা ঢিবির ওপাশে। সেখানে লুকিয়ে থেকেই অপেক্ষা করছে জ্যাকসনের জন্যে। ধুপ ধাপ আওয়াজটা ক্রমেই বাড়ছে। এগিয়ে আসছে ওটা। ওদের দিকেই। এরপর সাথে সাথেই একটা বিশাল গর্জন এর আওয়াজ পেল ওরা। অনেক দূরে থাকা গুহাটার মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসছে ওরা। উইলিয়াম হাত দিয়ে গুনলো। সাত জনই আছে। যাক বাঁচা গেল। সবচেয়ে সামনে থাকা দানবটা আরেকটা চিৎকার দিল। ওর চিৎকার পাতালপুরীর আশেপাশের মাটির দেয়ালে বার-বার প্রতিধ্বনি হচ্ছিল ভয়ঙ্করভাবে। ‘ওরেব্বাবা, পুরো যেন ডায়ানোসরের গর্জন,’ ক্যাপ্টেন ভয়ে কাঁপতে-কাঁপতে বলল। সাতটা সবুজ দানব ঢিবিটার ঠিক সামনেই এসে দাঁড়াল। এরপর এদিক-সেদিক তাকিয়ে কি যেন খুঁজতে লাগল। সেই সাথে ভয়ঙ্করভাবে তর্জন-গর্জন করছিল। ‘ওরা কি খুঁজছে?’ কুপার বলল। ‘কি নয়, বল কাদেরকে খুঁজছে। আমার তো মনে হয় আমাদেরকেই খুঁজছে। জ্যাকসন নিশ্চয়ই ওদেরকে বলেছে যে আমরা ভেগে গিয়েছি এবং আমরা এখানেই আছি, এছাড়া আর কিভাবেই বা ওদেরকে সে এখানে ডেকে আনবে,’ উইলিয়াম বলল। হঠাত বালুর উপর ঝুঁকে গেল জ্যাকসন। একটা ব্যাগ তুলে নিলো বালু থেকে। এরপর সেই ব্যাগ থেকে ৬টা অ্যালবাম বের করল। এরপর একে-একে সবগুলো দানবের হাতে তুলে দিল অ্যালবামগুলো। দানবগুলো হতচকিয়ে গেছে। মন দিয়ে দেখছে ছবিগুলোকে, যেন অনেকদিন দেখেনি। এরপর এক অদ্ভুত দৃশ্যের অবতারণা হলো। দানবগুলোর চোখ দিয়ে পানি পড়তে লাগল। ‘যাক, আমাদের প্ল্যান কাজে আসছে, ভাগ্যিস ক্যাপ্টেনের মাথায় এই আইডিয়াটা এসেছিলো,’ হাসিমুখে বলল উইলিয়াম। ওদের শরীর থেকে ঐ সবুজ প্রানীগুলোকে বের করার একমাত্র উপায় হচ্ছে ওদের বেঁচে থাকার ইচ্ছাশক্তিকে জাগ্রত করা। জ্যাকসনের ক্ষেত্রে যেমনটা হয়েছিলো। ইচ্ছাশক্তির জোয়ার চলে আসার সাথে-সাথেই ঐ প্রাণীটা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললো। শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে চাইলো। ওদের ভেতরেও সেই ভাব আবেগ, এবং ইচ্ছাশক্তির জোয়ার আনতে হবে। আর সেই জন্যেই কুপারের আইডিয়াটা ছিলো এপিক। সব শুনে-টুনে গম্ভীর মুখে, ‘আমি একটু আসছি’ বলে জাহাজের ডেকের নিচে চলে গেল। ফিরে এলো তার চেয়েও গম্ভীর মুখে। এরপর ওদের হাতে ধরিয়ে দিল ৬টা অ্যালবাম। এই অ্যালবামগুলোর প্রত্যেকটা ঐ ৬ হতভাগা নাবিকের যারা আনুবিসের দ্বারা অভিশপ্ত হয়েছে। এগুলোতে ওদের কাছের মানুষগুলোর ছবি আছে। নিজের সবচেয়ে কাছের মানুষগুলোর ছবি দেখার পরও যদি কারও মন ভাবাবেগে পূর্ণ না হয়, বেঁচে থাকার ইচ্ছা জাগ্রত নাহয়, তাহলে সেটা দুনিয়ার আর কোন কিছুতেই হবে না। দানবগুলো হাতে থাকা আপন জনের ছবি দেখে কাঁদছিল। হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে চোখ মুচছিল ওরা। উইলিয়াম বুঝল, সময় হয়েছে কাজে লেগে পড়ার। এক লাফে বেরিয়ে এলো ঢিবিটার অপর পাশ থেকে। ‘হেই, হেই...নাবিকরা, তোমাদেরকেই বলছি। আমার দিকে তাকাও,’ উইলিয়াম দু হাত উপরে তুলে চেঁচিয়ে উঠল। ৬টা দানবই মুখ তুলে ওর দিকে চাইল। ওকে দেখে ভীষণ দোটানায় পড়ে গেছে। কি করবে বুঝতে পারছে না। ‘দেখো, এতক্ষণ তোমরা তোমাদের আপন জনের ছবি দেখছিলে। ওদের কথা ভাবতে না ভাবতেই চোখে পানি চলে এলো তোমাদের। তোমরা একটাবার ভেবে দেখ, তোমাদের কি ওদের কাছে ফিরে যেতে ইচ্ছে হয় না? এই মানুষগুলো নিশ্চয়ই তোমাদের আশায় আশায় পথ চেয়ে বসে আছে, তাই না? তোমরা যদি ফিরে না যাও, তাহলে তাদের অবস্থা কি হবে একটাবার কি ভেবে দেখেছ তোমরা? ফিরে চল, এখনো সময় আছে। আমি উইলিয়াম, তোমাদেরকে এখান থেকে বের হওয়ার রাস্তা দেখিয়ে দেব। আমি চিনি রাস্তাটা। শুধু একবার ঐ প্রাণীগুলোকে নিজেদের শরীর থেকে বের করে দাও। ওরা যতক্ষণ থাকবে তোমাদের ভেতরে, ততক্ষণ পর্যন্ত তোমাদেরকে বাসায় ফিরে যেতে দেবে না। ওদেরকে পিষে ফেল, বের করে দাও ওদেরকে তোমাদের শরীর থেকে, এক্ষুনি...’ উইলিয়ামের শেষ কথার সাথে-সাথেই প্রত্যেকটা দানব চিৎকার করে উঠল। কেউ মাটিতে জোরে-জোরে বারি দিচ্ছে, কেউ বা নিজের মাথাটা শক্ত করে দুই হাত দিয়ে চিপে ধরেছে, কেউ হয়তো হাঁটু ভেঙ্গে মাটিতে পড়ে গেছে। ‘তোমরা পারবে, আমি জানি তোমরা পারবে, বের করে দাও...ওদেরকে আর সুযোগ দিও না। বের করে দাও তোমাদের শরীর থেকে ঐ আবর্জনাগুলোকে যারা তোমাদেরকে পুতুল বানিয়ে রেখেছে, যারা তোমাদেরকে তোমাদের বাবা, মা, ভাই, বোন, স্ত্রী, পুত্র থেকে আলাদা করে ফেলতে চায়। তাদেরকে আর সুযোগ দিও না, বের করে দাও, বের করে দাও...’ দানবগুলোর উদ্দেশ্যে চেঁচিয়ে উঠলো ইথেন। উইলিয়ামকে সাহায্য করার জন্যে আড়াল থেকে বেরিয়ে এসেছে ও। দানবগুলো দু হাতে মাথাটা শক্ত করে চিপে ধরে পশুর মত চিৎকার করছে। জোরে-জোরে নিজের বুকে ঘুষি মারছে। এসে গেছে, সেই সময়টা খুব নিকটে এসে গেছে... ‘হোস পাইপগুলো রেডি কর...’ চেঁচিয়ে উঠল উইলিয়াম। সাথে-সাথে ইথেন, কুপার আর বাকি দুই জন নাবিক একসাথে দৌড় দিল একই দিকে। বালুর উপর পড়ে থাকা একটা বড়-সড় কাপড় টান দিয়ে সরিয়ে ফেলল। সেখানে তিনটা মাঝারি আকৃতির নলওয়ালা পিপে। প্রত্যেকটা পিপের নলের সাথে একটা করে পাইপ লাগানো। পিপেগুলো অ্যালকোহলে ভর্তি। জাহাজে যত অ্যালকোহল এর বোতল আছে, সবগুলো দিয়েই পিপেগুলো ভরানো হয়েছে। ইথেন, কুপার আর উইলিয়াম প্রত্যেকে একটা করে হোস পাইপ ধরল। অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে ওরা কিছু একটার জন্যে। দানবগুলোর চিৎকারকে ভেদ করে নতুন এক ধরনের তীক্ষ্ণ চিৎকার শুনতে পাওয়া যাচ্ছে। খুব চিকণ গলায় কারা যেন আর্তনাদ করছে। দানবগুলো পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। ছোট হয়ে আসছে ওদের শরীর। চামড়ার সবুজ রঙ দূর হয়ে আগের রঙ ফিরে আসছে। বড়-বড় দাঁতগুলো স্বাভাবিক হয়ে যাচ্ছে। শুধু একজন ছাড়া। সেই বিশাল আকৃতির দানবটা এখনো নিজের সাথে যুদ্ধ করে যাচ্ছে। পরমুহুর্তেই বাকি ৫ জন নাবিকদের মুখের ভেতর থেকে সবুজ রঙের ৫টি কিলবিলে প্রাণী বেরিয়ে এলো। বেরোনো মাত্রই ওগুলো সোজা লাফ দিল বালুতে। এরপর নিজেদের অক্টোপাসের মত ট্যান্টাকলগুলোর উপর ভর করে কিলবিলিয়ে আসতে লাগল সোজা উইলিয়ামদের দিকে। ‘মার...’ চিৎকার করে উঠল উইলিয়াম। ওর চিৎকারের সাথে-সাথে হোস পাইপ ৩টা থেকে অ্যালকোহলের ফোয়ারা বেরিয়ে এলো। প্রাণীগুলো তীক্ষ্ণ সুরে আর্তনাদ করে উঠল সাথে-সাথে। ধোঁয়া উঠছে ওগুলোর শরীর থেকে। চিকণ সুরে বিলাপ করতে-করতে ধীরে-ধীরে অ্যালকোহলের ভেতর হারিয়ে যাচ্ছে ওগুলো। মাটিতে পড়ে থাকা অ্যালকোহলগুলো এখন ফুটছে। সবুজ প্রাণীগুলো এখন নেই। সব আবার আগের মত হয়ে গেছে। শান্ত এবং নিস্তব্ধ...শুধু একটা অদ্ভুত গার্গল জাতীয় শব্দ ছাড়া। আকারে সবচেয়ে বড় যে দানবটি ছিলো, সে এখনো এক হাতে গলা চিপে ধরে আছে। কিন্তু সবুজ জিনিসটা ওর ভেতর থেকে বেরোচ্ছে না। ওর দৃষ্টি অ্যালবামের একটা নির্দিষ্ট ছবির উপর। সবাই পাইপ হাতে অপেক্ষা করে আছে কবে ঐ জিনিসটা দানবটার মুখ থেকে বের হবে। এরই মাঝে অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়ে যাওয়া ৫ নাবিক উইলিয়ামের দিকে ছুটে এলো। এক বুড়ো নাবিক ওর হাত ধরে বলল, ‘অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে। আপনার এ ঋণ আমরা কখনই শোধ করতে পারবো না। কিন্তু, ব্যাপারটা কিভাবে হলো বুঝলাম না। একটু বুঝিয়ে বলবেন আমাদেরকে?’ ‘দেখুন, এরা আসলে আনুবিসের রক্তের ফোঁটা। কিভাবে সে ওর নিজের রক্তের ফোঁটাতে প্রাণের সঞ্চার করেছে আমি বলতে পারবো না, তবে এটুকু বলতে পারি যে এদের মধ্যে সে নিজস্ব কিছু অসাধারণ ক্ষমতা দিয়ে দিয়েছিল। তাই ওরা প্রাণীর মত আচরণ করেছে। কিন্তু প্রাণের সঞ্চার হলেও, ওগুলোর রাসায়নিক গঠন এর কোন পরিবর্তন হয়নি। ফলে ওর রক্ত যে পদার্থগুলো দ্বারা তৈরি তাদের রাসায়নিক ধর্মও আগের মতই আছে।’ ‘মানুষের রক্ত তৈরি হয় জলীয়, জৈব আর অজৈব পদার্থ দিয়ে। সাধারণ মানুষের রক্ত পানিতে দ্রবীভূত হয়। কিন্তু আমার ধারণা আনুবিসের রক্ত পুরোটাই অরগানিক পদার্থ দিয়ে তৈরি। এখানে কোন জলীয় অংশই নেই, আছে অরগানিক লিকুইড, যেটা পানিতে দ্রবীভূত হয় না। যদি হতো তাহলে ঐদিন প্রচণ্ড ঝড়ের ভেতরে সবুজ প্রাণীগুলো টিকে থাকতে পারতো না। অতএব, আমি বুঝলাম যে ওর রক্ত পানিতে অদ্রবণীয় অরগানিক পদার্থ দিয়ে তৈরি। আর অরগানিক পদার্থের জন্যে খুব ভালো একটা দ্রাবক হচ্ছে ইথানল বা অ্যালকোহল। যেহেতু প্রাণের সঞ্চার হওয়ার পরেও ওগুলোর কেমিক্যাল নেচার আগের মতই রয়ে গেছে, এবং ওর রক্তও যেহেতু অরগানিক পদার্থ দিয়ে তৈরি, তাই ওর রক্ত অ্যালকোহলে দ্রবীভূত হবে। আর তাই ঐ সবুজ প্রাণীগুলোও অ্যালকোহলে দ্রবীভূত হয়ে গেছে। আর দ্রবীভূত হওয়ার ফলে প্রচণ্ড তাপ উৎপন্ন হয়েছে, যার কারণে অ্যালকোহল এখন ফুটছে,’ উইলিয়াম বলল। অ্যালকোহলের উপরের সার্ফেস থেকে এখনো বুদ-বুদ উঠছে। এখনো ফুটছে অ্যালকোহল। আবারও একটা ঘর-ঘর শব্দ হলো আর সবাই মুখ তুলে শব্দটার উৎসের দিকে চাইল। বড় দানবটার দৃষ্টি অ্যালবামের একটা বিশেষ ছবির দিকে। এখন আর সে কাঁদছে না, বরং ওর চোখ মুখ লাল হয়ে গেছে। তীব্র ঘৃণায় ওর মুখ বিকৃত হয়ে যাচ্ছে। রাগে ওর হাত পা কাঁপছে। ‘ওহ নো!’ কুপার মুখে হাত দিয়ে বলল। ‘কি হয়েছে, ও এমন করছে কেন?’ ইথেন জিজ্ঞেস করল। জ্যাকসন তার শরীরটা টান-টান করে অপেক্ষা করে আছে। যেন সে বুঝতে পারছে এখন কি হবে। ‘ম্যাক্স নিশ্চয়ই ওর বউ এর ছবি দেখতে পেয়েছে। মেয়েটাকে ভালবেসে বিয়ে করেছিল ও। ২টা ফুটফুটে শিশুও আছে ওদের। সব ঠিক-ঠাকই চলছিল। কিন্তু হঠাত ওর বউ আরেকজনের প্রতি আশক্ত হয়ে গেল। ম্যাক্স অনেক বোঝানোর চেষ্টা করল, কিন্তু ঐ ডাইনীটা বুঝল না। ঠিকই একদিন রাতের আঁধারে ঐ ফুলের মত নিস্পাপ শিশুদেরকে ছেড়ে প্রেমিকের হাত ধরে পালিয়ে গেল। এরপর থেকে ম্যাক্স ওর বউকে প্রচণ্ড ঘৃণা করে। পারিবারিক অ্যালবামে নিশ্চয়ই ওর ছেলে মেয়ের সাথে বউয়ের একটা দুইটা ছবি এখনো রয়ে গেছে, সেটাই সে দেখতে পেয়েছে এখন, তাই এমন করছে,’ ক্যাপ্টেন কুপার হতাশার সাথে বলল। ‘আগে জানলে আমি ছবিটা বের করে নিতাম...এখন শিউর থাকো যে আমাদের কপালে দুর্ভোগ আছে, ম্যাক্স ওর স্ত্রীকে অসম্ভব ঘৃণা করে...’ ম্যাক্স এর হাতের মাসলগুলো অদ্ভুতভাবে কিলবিল করছে। বুকটা খুব দ্রুত উঠা নামা করছে। পরমুহুর্তেই পুরো অ্যালবামটা একটানে ছিঁড়ে কুচি-কুচি করে ফেললো সে। উঠে দাঁড়িয়েছে ম্যাক্স। এরপর সোজা তাকাল কুপারের দিকে। ‘হায় খোদা, সে বেশ বুঝতে পারছে যে কাজটা আমারই, এখন সে আমাকে ছাড়বে না...পিঁপড়ের মত পিষে ফেলবে! আমাকে বাঁচা তোরা...প্লিজ...’ ভয়ে এক পা এক পা করে পেছাতে লাগল কুপার। ম্যাক্স ওর দিকেই আসছে ধীরে-ধীরে। এরপর কোন ওয়ার্নিং দেয়া ছাড়াই হুট করে লাফ দিল কুপারের গায়ের উপর... (চলবে) ---------------


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ "দ্য সার্পেন্ট গর্ডেস"------ (চ্যাপ্টার ৯) শেষ চ্যাপ্টার
→ "দ্য সার্পেন্ট গর্ডেস"------ (চ্যাপ্টার ৭)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now