বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সে অনেক কাল আগের কথা,,
বড় আব্বু,মানে আমার আব্বুর বড় ভাই। তাকে আমি বড় আব্বু বলেই ডাকি। তো তার জন্য অনেক খুঁজেও মেয়ে খুজে পাচ্ছে না। যদিও বা খুজে পায় তাহলে মেয়ের হয় ফ্যামিলি চয়েস হয়না। যদি ফ্যামিলি পছন্দ হয় তবে মেয়ে পছন্দ হয়না। এরকম দোটানায় পড়ে যেতে হয়েছে আমার দাদা দাদির।
..
আর এদিকে আমার বড় আব্বুর তো আর বয়স কম হচ্ছে না। তাই ঠিক করা হলো। এবার অতোকিছু না ভেবে একটা ভালো মেয়ে পেলেই বিয়ে দিয়ে দিবে। মেয়ে দেখা আবার শুরু হলো। অবশেষে খুজে পেলো রংপুরের মেয়ে নাম তার আরজু মনোয়ারা।
.
দেখতে যেমন সুন্দর তেমন মায়াবী। অনেক শান্ত শিষ্ট আর অনেক গুনের অধিকারী। প্রথম দেখাতেই আমার দাদা দাদির পছন্দ হয়ে গেলো। কথায় আছে শুভ কাজে দেরি করতে নেই। তাই ওখানেই বিয়ের সব দিনকাল ঠিক করে চলে এলো। .
অবেশেষে বিয়ের দিন চলে এলো। বাসায় ঠিক করলো বিয়েতে আমার দাদা,আরও চার পাঁচ জন মুরব্বি,আর আমার আব্বু যাবে।
.
যেমন ভাবা তেমন কাজ। সবাই মিলে গিয়ে বিয়ে পড়ায় বউ নিয়ে চলে আসলো। সেকেলি বিয়ে। তাই তেমন কোনো বাদ্যযন্ত্রের প্রয়োজন ছারাই বিয়ে সম্পূর্ণ
হলো।
.
দৃশ্য পট - 2
.
বড় আম্মু,মানে বড় আব্বুর বউ। তারা সাত বোন ছিলো। তাদেরি মধ্যে চতুর্থ জন। যিনি আজকে আমার 'মা'। তাকে বিয়ের মধ্যে দেখে আমার আব্বু পুরাই ফিদা। এক্কেবারে রোমিও হয়ে গেছে। যেটাকে আমরা এখন আপডেট যুগে ক্রাশ বলি। আবার যাকে বলে প্রথম দেখাই প্রেম।
.
আমার আব্বু বাসায় এসে স্হির থাকতে পারছিলো না। জীবনে এই প্রথম কোনো মেয়েকে দেখে তার এতোটাই ভালো লেগেছে যে,ভালো না বেসে থাকতেই পারলো না।
প্রেমে যখন রোমিও পড়েই গেছে তাহলে প্রেমিকা কে কিভাবে বলা যায় মনের কথাটা। এই চিন্তায় রোমিও অস্হির।
.
রোমিও মাঝে মধ্যে বিভিন্ন ছুতোয় আমার নানু বাসা যেতো আম্মুকে এক নজর দেখার জন্য। আম্মু সেটা তার আভভাবে ঠিকই বুঝতো। উদাহরণ সরুপ,নানু বাসায় রোমিও যাওয়ার পর শুধু আম্মুকেই দেখতো। তার দিকে তাকিয়ে মাঝে মধ্যে মুচকি মুচকি হাসতো। চোখের ভাষায় কিছু একটা বুঝাতে চেষ্টা করতো।
.
এরিই মাঝে আমার খালা মনির হাসবেন্ড মানে আমার আংকেলের সঙ্গে রোমিওর (আব্বু) ভালোই পরিচয় হয়ে গেলো। তারসঙ্গে সবকিছুতেই উঠা বসা। রোমিওর জন্য তিনি একটা প্লাছ পেয়েন্ট। রোমিও তাই তাকে সবকথা খুলে বললো। আংকেল সব কিছু শুনে তাকে কথা দিলো সে সাহায্য করবে তাকে।
.
যেমন ভাবা তেমন কাজ। কোনো একদিন নিয়ম করেই আংকেল আম্মুকে গিয়ে রোমিওর কথা বললো। যে সে তাকে অনেক লাভ করে। আম্মু সবকিছু শুনে না করে দিলো। কারন আম্মুর রোমিওর (আব্বুর) প্রতি কোনো ফিলিংস ছিলো না। তাকে যাস্ট এমনি পছন্দ করতো। তাই আম্মু না করে দিলো।
.
আংকেল সবকিছু রোমিও কে এসে বললো। সবকিছু শুনার রোমিও কিন্তু এখনকার যুগের আট দশটা প্রেমিকের মতো দেবদাস হননি। তিনি হাল ছেরে দেয়ার মতো ছেলে ছিলেন না। তার মন খারাপ হয়েছিলো ঠিকি। কিন্তু সে ভিতরে ভিতরে ঠিকি যেদ পুশিয়ে রেখাছিলো। আম্মুর মন যেভাবে হোক তাকে জয় করতেই হবে। ভালবেসেছি ভুলে যেতে বা ছেরে দেয়ার জন্য নয়।
.
#বি.দ্র:- এখানে আমি একটা শিক্ষা অর্জন করেছি। যাকে ভালোবাসি তার জন্য সব কিছু করতে রাজি আছি।
.
আম্মুর সমস্ত ভালো লাগা কাজ গুলো রোমিও (আব্বু) করার চেষ্টা করলো। আম্মুকে সে অতোটাই ভালোবেসে ছিলো যে তার জন্য সমস্ত বাজে অভ্যাস গুলো রোমিও বাদ দিয়ে দিলো! আম্মুর প্রতি সে আরও যত্নশীল হলো। চুপি চুপি আম্মুর খেয়াল রাখতো। যেটা এখন কার যুগের কোনো প্রেমিক করবে না। এমন কি আমিও।
.
এভাবে কেটে গেলো একটি বছর। এরিই মাঝে রোমিওর প্রতি আম্মুর একটু ফিলিংস জন্মাতে লাগলো। একটা সময় গিয়ে সে ভালোবেসে ফেললো। আর তাদের প্রমের মধ্যে সাহায্য করেছিলো আমার সেই আংকেল।
.
তার মাধ্যমেই আম্মু রোমিও কে খবর দিলো যে সেও তাকে ভালোবাসে। শুরু হলো একটি নব প্রেমর ইতিহাস। তখন তো আর ফোন ছিলো না। ছিলোনা কোনো ফেসবুক। ছিলো শুধু ডাকঘর। এই ডাক ঘরের মধ্যেই তাদের মধুর দুষ্টু মিষ্টি কথোপকথন চলতো।
.
এভাবে কেটে গেলো কয়েক মাস। কোনো একদিন রোমিও আম্মুকে বিয়ের জন্য প্রস্তাব জানালো। ওটা শুধু আংকেল রোমিও আর আম্মুর মাঝে সীমাবদ্ধ ছিলো।
.
আম্মু প্রস্তাব শুনার পর একটু চিন্তায় পড়ে গেলো। কারন তার তখন বিয়ের খুব একটা বয়স হয়নি। তাছারা একি পরিবারে কিভাবে দুজন মেয়ে যাবে। এসব চিন্তার কারনে আম্মু না করে দিলো।
.
দৃশ্য পট -3
.
রোমিও বেশ চিন্তায় পরে গেলো। তাহলে এখন উপায়.!!
উপায় ঐ একটাই,পালিয়ে বিয়ে .!তাছাড়া কোনো উপায় নেই। অবশেষে সিদ্ধান্ত নিলো রোমিও যে করে হোক আম্মুকে নিয়ে পালাতে হবে। কারন তারা দুজনেই বেশ ভালোভাবে জানতো এ বিয়েটা দুটো পরিবারের কেউ মেনে নিবেনা। আর রোমিও (আব্বু) তার প্রেমিকাকে ছাড়া বাচবে না।
.
আংকেলের দারায় পালানোর সব ব্যাবস্হা করলো। আম্মুকে বেপারটা জানানো হলে সে কিছুটা নারভাস ফিল করলো। কিন্তু অবশেষে রাজি হয়ে গেলো।
.
আংকেল সবকিছু রেডি করে দিয়ে দিনক্ষণ ঠিক করে দুজন কে দুজনের হাতে তুলে দিয়ে সোজা পারসোবর্তী দেশ India পাঠায় দিলো ট্রেনে করে। যদিও ভিষার ব্যবস্হা কি করে হয়েছিলো সেটা শুনা হয়নি আম্মুর কাছে। যাই হোক তারা ইনডিয়া পৌছে গেলো।
.
ইন্ডিয়ায় ছিলো আমার আমার মেজো চাচ্চু। তারা ইন্ডিয়ার বাসিন্দা। আমার আব্বুরা ছিলো ছয় ভাই। তার মধ্যে দুজন ইন্ডিয়ায় থাকে। বাকি চারজন বাংলাদেশে।
.
ইন্ডিয়ার আসাম রাজ্যে আমার চাচার বাসায় গিয়ে উঠলো তারা। ওখানেই তারা বিয়ের কাজ সম্পূর্ণ করলো। শুরু হলো তাদের নতুন সংসার।
.
এদিকে আমার নানুরা সব জেনে গেলো। তারা আম্মুর উপর ক্ষেপে গিয়ে আমার বড় মামা আর নানু কি করবে তারা বুঝতেছিলো না। তখনকার সময়ে আমার নুনু এলাকায় বেশ নামকরা ছিলো। সবাই এক নামে চিনতো। আর সেই পরিবারের মেয়ে পালিয়েছে। নানুর মুখে চুনকালি। এটা তারা কিছুতেই সহ্য করতেছিলো না।
.
এরিই মাঝে আম্মু প্রেগন্যান্ট। দীর্ঘ একবছর তারা সেখানে অতিবাহিত করলো। অবেশেষে আম্মুর কল জুরে এলো সুন্দর নাদুস নুদুস ফর্সা লাল টুকটুকে ছোট্ট বেবি।। তাদের সুখের যেনো শেষ নেই। তাদের সোনামণির মুখ দেখে যেনো দুজনেই সবকিছু ভুলে গেলো। এভাবে কেটে গেলো আরও একটি বছর। তখনো রোমিও আর আম্মু ইন্ডিয়ায় চাচ্চুর বাসায় অবস্থানরতো।
.
আছতে আছতে বড় হতে লাগলো তাদের ছোট্ট সোনামণি। রোমিও এবার সিদ্ধান্ত নিলো তারা দেশে ফিরবে। কারন তাদের বিস্বাস ছিলো হয়তো তারা মানে আমার নানু তাদের নাতিকে দেখে সব ভুলে যাবে।
.
দিনক্ষণ ঠিক করে রোমিও আগে আমার চাচ্চুর সাথে আম্মুকে ট্রেনে করে বাংলাদেশে পাঠায় দিলো। দীর্ঘ তিনদিন জার্নি করার পর অবশেষে তারা দেশে ফিরলো। দেশে ফিরে তারা আমার সম্পর্কে আরেক নানু বাসায় গিয়ে উঠলো। সেটা আর এক অন্য জায়গায়।
.
সেখানে তারা দুদিন থেকে অবশেষে আম্মু তার বাপের বাড়ি মানে আমার নানুর বাসায় গিয়ে উঠলো। এদিকে আম্মুকে দেখতে পেয়ে আমার নানার এলাকায় গ্রামের মানুষের ঢল নেমে আসলো। সবাই আম্মুকে একনজর দেখার জন্য পাগলের মতো ছুটে আসছিলো। আম্মুর কোলে ছিলো তখন তার এক বছর বয়সের ছোট্ট বাবু।
.
লোকালয়ের মাঝে আমার সম্পর্কে এলাকার এক নানু এসে আম্মুর কোল থেকে তার বাবুকে নিয়ে চুমু খেতে খেতে আমার নানুর কাছে নিয়ে আসলো। নানুর কোলে তার নাতিকে দিয়ে বললো তোমার নাতি। আর সেই নাতিটাই হচ্ছি আজ আমি। যে আপনাদের গল্প পড়ে শুনাচ্ছি।
.
রোমিও তখনো ইন্ডিয়ায় অবস্থান করছিলো। প্রথম দিকে আম্মুকে তারা মেনে না নিলেও আমার মুখের চেয়ে দেখে নানু সব ভুলে গিয়ে অবশেষে তাদের সম্পর্ক মেনে নিলো। আর নানুর কাছে সবচেয়ে প্রিয় হয়ে উঠলাম আমি। আমায় নাকি তিনি সবচেয়ে বেশি আদর করতো।
.
আর এখান থেকেই শুরু হলো রোমিও (আব্বু) আর আম্মুর নতুন করে সংসার।
.
#বি.দ্র:- এটা আমার আম্মু আর আব্বুর প্রেম কাহিনী নিয়ে লেখা। খুব সর্টকাটে লিখলাম। যদিও রোমিও মানে আমার আব্বু এখন বেচে নেই। 2004 সালে রোর্ড একসিডেন্ট এ রোমিও মারা যায়।
আর নানু মারা যায় 2006 সালে।
.
জয় হোক সকল পবিত্র ভালোবাসার। সুখী হোক সবার ভালবাসা।
.
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now