বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

দ্যা সার্পেন্ট গডেস —চ্যাপ্টার ১:: আনুবিস

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X চ্যাপ্টার ১:: আনুবিস কানাডার টরোন্টো শহরের এক কোনে অবস্থিত বিশাল এক দোতলা বাড়ির সামনে আজ অনেক ভিড়। সাধারণত, এই বাড়িতে এত মানুষ আসে না। কিন্তু আজকে মানুষজন একটু বেশিই ভিড় করেছে। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার রিপোর্টার এসে ভরে গেছে। সাধারণ মানুষ তো আছেই। ওদের সবার এই প্রবল আগ্রহের কারণ একটি মমি। ডেমি গডেস অ্যাঙ্গুইসিয়ার মমি। উইলিয়াম কনোরকে খুব চিন্তিত দেখাচ্ছে। রুমের এক পাশে একটা আর্ম চেয়ারে বসে আছে সে। বয়স ৩০-৩২ হবে। মাঝারি গড়নের একজন মানুষ। মাথায় অল্প স্বল্প চুল যা আছে সেগুলো সামনের দিকে স্পাইক করে রেখেছে। সুদর্শন চেহারাতে বুদ্ধিমত্তার স্পষ্ট ছায়া বিদ্যমান। পেশায় একজন আর্কিয়োলজিস্ট। যথেষ্ট যুক্তিবাদী মানুষ। প্রমাণ ছাড়া কোন কিছুই বিশ্বাস করে না। কারণ, বিজ্ঞানকে সেই ছোটবেলা থেকেই মনের ভেতর লালন পালন করে আসছে উইলিয়াম। আর তার সেই বিজ্ঞান প্রমাণ ছাড়া কোন কিছুই গ্রহন করে না, যুক্তি ছাড়া কোন কিছুই মানে না। তাহলে সে নিজে একজন বিজ্ঞানি হয়ে কিভাবে যুক্তিহীন বিষয়গুলোকে বিশ্বাস করতে পারে? প্রচণ্ড মাথা ব্যথা করছে উইলিয়ামের। সেই সকাল থেকেই মনে হচ্ছে মাথাটা যেন কেউ জ্বলন্ত আগুনে ছেড়ে দিয়েছে। কয়েকটা অ্যাসপিরিন খেয়েছে সে। তাও ব্যথাটা সারছে না। কিন্তু সে এই মুহূর্তে ঠিক তার মাথা ব্যথা নিয়ে চিন্তিত নয়। চিন্তিত অন্য কোন কারণে। অ্যাঙ্গুইসিয়ার মমিটা সে এখানে এনেছে তার তিনজন আর্কিওলজিস্ট বন্ধুর সহযোগিতায়। উইলিয়াম বাদে বাকি তিনজন হলো ইথেন, এইডেন এবং জ্যাকসন। এই অ্যাঙ্গুইসিয়ার মমি আনতে তাদেরকে কম কষ্ট করতে হয়নি। প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে তারা খুঁড়েই গেছে...খুঁড়েই গেছে...মিশরে তখন এক একটা দিনকে মনে হত এক একটা বছর। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খুঁড়ো-খুঁড়ি আর দিন শেষে কিছুই না পাওয়ার হতাশায় পোড়া, এগুলোই ছিল ওদের নিত্ত সঙ্গী। এছাড়া, স্থানীয়দের সাবধান বানী তো ছিলোই। এভাবেই খুঁড়তে-খুঁড়তে এক সন্ধ্যা বেলা এক শ্রমিকের চিৎকার ওদের কানে এলো। উল্লাসে ফেটে পড়ছে লোকটা, ‘স্যার...! দেখে যান…কি পেয়েছি....!’ ওরা দৌড়ে এলো। উঁচু জায়গাটায় দাঁড়িয়ে থেকেই নিচের গভীর গর্তের দিকে তাকিয়ে দেখল কয়েকজন শ্রমিক একটা দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ওদের দিকে তাকিয়ে হাত নাড়ছে। তাড়াতাড়ি নিচে নেমে এলো তারা। সামনে সুপ্রাচীন বিশাল একটা দরজা। দরজার উপরে হায়ারোগ্লিফিক হরফে বড় বড় করে লেখা ছিলঃ ‘দ্য টম্ব অফ গ্রেট কুইন অ্যাঙ্গুইসিয়া’ চারদিকে তখন কেবল উল্লাসের শব্দ। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে। সন্ধ্যার পর সমাধিতে থাকতে নেই এটা স্থানীয়রা বার বার বলে দেয়ার পরও ওরা বাকি কাজটুকু শেষ করার জন্যে থেকে যায়। প্রবল উৎসাহের জোয়ারে আর দেরি না করে বিশাল-বিশাল হাতুড়ি দিয়ে দরজাটা ভেঙে ফেলা হলো। ভেতরে বেশ লম্বা একটা প্যাসেজ। প্রচন্ড অন্ধকার সেই প্যাসেজে পা দেয়া মাত্র ঠাণ্ডা, শিরশিরে বাতাস এসে ওদের মুখে চাপড় দিল। শ্রমিকরা ভয়ে কেঁপে উঠল। কারণ, ওদের কাছে এটা শুধুই একটা সমাধি নয়, একটা পবিত্র স্থান। কয়েক হাজার বছর আগে ওদের পুর্ব-পুরুষরা এই সমাধিতে যে শায়িত আছে তার পুজো করত। আর ঠিক এই কারণেই শ্রমিকেরা তাদের ডেমি গডেসের সমাধিকে অপবিত্র করতে চায়নি। এমন না যে তারা ওকে খুবই শ্রদ্ধা করত বলে রাজি হচ্ছিল না, বরং, উল্টোটাই সত্য। ওরা ওকে ভয় পেত। কারণ, এই ডার্ক মহিলার যত ঘটনা তারা শুনেছে, সেগুলো এতটাই ভয়ঙ্কর যে যদি সেগুলোর দশ ভাগও সত্য হয়, তাহলে ওর সমাধি অপবিত্র করার ফল কখনই ভাল হতে পারে না। ওদের মতে, সমাধিতে অনুপ্রবেশ করলে তাদের জীবনে দূর্দশা নেমে আসবে। ধ্বংস হয়ে যাবে ওরা। কিন্তু মানুষের প্রধান মৌলিক চাহিদার একটা হল খাদ্য। আর সেই খাদ্য টাকা ছাড়া পাওয়া যায় না। তারা নিজেদের পেটের দায়েই এই কাজ করতে রাজি হয়েছে। অবশ্য ওদেরকে টাকার চেয়েও বেশি কিছু দেবার ওয়াদা করা হয়েছে...গোল্ড.. .অনেক-অনেকে গোল্ড। কথিত আছে যে অ্যাঙ্গুইসিয়ার সমাধিতে অনেক বিশাল অঙ্কের স্বর্ণ এবং মুল্যবান পাথর রাখা আছে, যেগুলো আমাদের আর্কিয়োলজিস্টদের অন্যতম লক্ষ্য। শ্রমিকদেরকে ওরা এই বিপুল অঙ্কের ধন- সম্পদেরই লোভ দেখিয়েছিল। স্বাভাবিকভাবেই, গরিব মানুষগুলো ওদের সেই প্রস্তাবে রাজি হয়েছিল। প্যাসেজের ভেতর দিয়ে ওরা গুটি গুটি পায়ে এগোচ্ছিল। একদম শেষ প্রান্তে আরেকটি দরজা। এই দরজাটার গায়েও হায়ারাগ্লিফে কিছু একটা লেখা ছিলঃ দোজ হু উইল ডিস্টার্ব দ্য স্লাম্বারিং কুইন শেল বি টেকেন সুইফটলি বাই ডেথস উইং ভয়ে শ্রমিকদের মুখ সাদা হয়ে গেল। তাদের হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে গেল, যেন ইতিমধ্যেই তারা চোখের সামনে মৃত্যুকে হামাগুড়ি দিয়ে ওদের দিকে এগিয়ে আসতে দেখছে। শ্রমিকরা অনুরোধ করল যাতে এই রাতের বেলা আর সামনে না যাওয়া হয়। প্রয়োজনে ওরা কাল সকালে আবার আসবে। এই রাতের বেলা ঝুঁকি নেয়ার কোন মানেই হয় না। কিন্তু আমাদের তরুণ আর্কিয়োলজিস্টরা ওদের কথা শুনলে তো! এত কাছে এসে ভেতরে না ঢুকে পরের দিনের জন্যে অপেক্ষা করাটা ওদের কাছে স্রেফ সময়ের অপচয় বলেই মনে হচ্ছিল। আর অপেক্ষা তো ওরা সেই গত এক মাস ধরেই করছে। আর কত! অতএব, এই দরজাটাকেও বিদায় নিতে হলো...খুব শীঘ্রই। রুমটা বেশ অন্ধকার। এক অদ্ভুত রহস্যময়তা যেন এই রুমটাকে ঘিরে রেখেছে চতুর্দিক থেকে। ভেতরে ঢুকেই ওদের চোখ হাতির চোখের মত বড়-বড় হয়ে গেল। স্বর্ণের তৈরি জিনিসপত্র এবং গহনায় ঘর ভর্তি! খুশিতে উইলিয়াম এর ইচ্ছা হচ্ছিল ডিগবাজি দিতে। একসাথে এত স্বর্ণ সে কখনো চোখেই দেখেনি। সারা ঘরে এখানে ওখানে অনেকগুলো ঝুড়ির ভেতর স্বর্ণ, রৌপ্য আর দুষ্প্রাপ্য পাথরের তৈরি বিভিন্ন জিনিসপত্র, গহনা ইত্যাদি রাখা ছিল। ওদের চিৎকার-চেঁচামেচি আর হাস্যরস সমাধির দেয়ালে ভুতুড়ে ভাবে প্রতিফলিত হচ্ছিল বারবার। সেই সমাধিতে ওরা কতক্ষণ ছিল মনে নেই। এত ধন সম্পদ চোখের সামনে দেখে কারোই হুঁশ ছিল না তখন। হঠাত... ‘আআআআআআআআআ...’ চিৎকার করে উঠলো এক শ্রমিক যে ওদের হয়ে কাজ করছিল।লোকটা পাগলের মত তড়পাচ্ছে। ‘কি হয়েছে তোমার? এমন করছ কেন? হোয়াট হ্যাপেন্ড?’ এইডেন চেঁচিয়ে উঠল। ‘স্যা...স্যার, আ...আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে...আমি ম...মরে যাচ্ছি স্যার, প্লিজ আ...আ...আমাকে বাঁচান,’ লোকটা গলায় হাত দিয়ে হাঁস- ফাঁস করতে লাগল। অদ্ভুত একটা গরগর শব্দ বের হচ্ছে ওর কন্ঠ নালী দিয়ে। ‘উইলিয়াম, কি করবি এখন...জলদি বল...’ আতঙ্কিত ইথেন জিজ্ঞেস করল। কিন্তু উইলিয়াম কিছু বলার আগেই আরো দুইজন শ্রমিক গলায় আর বুকে হাত দিয়ে বসে পড়ল। অদ্ভুত শব্দ করতে লাগল ওরা...এবং এরপর...এরপর...ওরা সবাই একযোগে অদ্ভুত একটা ব্যাপার টের পেল। শুধু এই তিনজনেরই নয়...ধীরে ধীরে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে ওদের সবারই...... ‘ওহ মাই গড! পালা, পালা সবাই...’ উইলিয়াম বহু কষ্টে বলল কথাগুলো। দম আটকে আসছে ওর... ওরা সবাই পড়িমড়ি করে একযোগে প্যাসেজটা ধরে দৌড়াতে লাগলো। একজন আরেকজনকে ধাক্কা দিয়ে, পদদলিত করে, যে যেভাবে পারে, প্রাণ ভয়ে পালাতে লাগল সবাই। অবশেষে কোনমতে বাইরে বেরিয়ে এলো ওরা। কিন্তু সেই শ্রমিকটা, যার সর্ব প্রথম দম আটকে এসেছিল, সে ঐ অন্ধকার প্যাসেজেই পড়ে মারা গেল সাথে-সাথে। তীব্র ভয়ে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ল সবাই। কেউই, সেই শ্রমিকের লাশ আনতে গেল না। সে রাতে তাঁবুতে ওদের জীবন এর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর হতাশাময় একটা রাত কাটল। সমাধি থেকে আসার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই, ওদের দুই জন শ্রমিক বুকে হাত দিয়ে তড়পাতে লাগল। ভয়ঙ্করভাবে মাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছে লোক দুটো। ওরা অসহায় চোখে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে...কিভাবে ছট ফট করছে ওরা মৃত্যু যন্ত্রনায়...কিন্তু ওদের সাথে কোন ডাক্তার নেই। থাকলেও, এই বিস্তির্ণ মরুভূমিতে হতভাগ্য লোকগুলোতে সে বাঁচাতে পারতো কিনা, সন্দেহ আছে। ধীরে ধীরে পশুর মত ছটফট করতে থাকা লোক দুটোর হাত পা নিস্তেজ হয়ে এলো। সবার বিস্ফোরিত চোখের সামনে তড়পাতে-তড়পাতে মারা গেল শ্রমিক দুটো। সঙ্গীদের মৃত্যু দেখে পরের দিন সব শ্রমিক ফিরে যেতে চাইল। কিন্তু উইলিয়াম কনোর এবং তার বন্ধুরা নাছোড়বান্দা। তারা তীরে এসে তরি ডোবাতে রাজি নয়। ওরা শ্রমিকদেরকে টাকা না দেয়ার ভয় দেখিয়ে আবার সমাধিতে ঢুকতে বাধ্য করল। পরদিন খুব সকালে প্যাসেজটার ভেতর ঢুকতেই, ওদের চোখ বড় বড় হয়ে গেল। ‘ঐ লোকটার লাশ কোথায়? এখানেই তো লুটিয়ে পড়েছিল কালকে? গেল কোথায়?’ জ্যাকসন প্রচণ্ড অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল। ওরা আশে-পাশে তাকাল। নাহ, কোথাও নেই। কিন্তু...কিন্তু...মাটিতে এগুলো কি দেখা যাচ্ছে... ‘রক্ত? এই দেখ...লোকটা যেখানে পড়েছিল সেখানে রক্তের দাগ...এটা হয়তো তারই গায়ের রক্ত...’ বেশ অবাক হয়ে বলল উইলিয়াম। নিজের চোখকেই ওর এখন বিশ্বাস হচ্ছে না। ‘কিন্তু উইলিয়াম, সেটা কিভাবে সম্ভব! লোকটাকে তো কেউ খুন করেনি যে ওর রক্ত বের হবে। সে তো দম আটকে মারা গিয়েছিলো,’ ইথেন বলল। ‘গাইজ...এইখানে দেখ...’ জ্যাকসন একটু সামনে বালুতে কিছু একটা দেখাল। সেখানে ভারী কিছু একটাকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার স্পষ্ট ছাপ বিদ্যমান। রক্তের স্রোত অনুসরণ করতে লাগল ওরা। প্যাসেজের মাঝখানে এসে রক্তের ছোপ- ছোপ দাগ স্থির হয়ে রইল। সেইখানে একটা বেশ মোটা গর্ত। যেন কিছু একটা ঠিক এই জায়গায় বালুর ভেতর ঢুকে গেছে। ‘দেখে মনে হচ্ছে, কিছু একটা যেন ওকে টেনে হিঁচড়ে মাটির নিচে নিয়ে গেছে,’ আতঙ্কিত গলায় বলল ইথেন। ওরা দুই চার মিনিট চুপ করে থাকল।কারো মুখেই কোন কথা আসছে না। অবশেষে নীরবতা ভেঙে এক স্থানীয় শ্রমিক বলল, ‘স্যার, এটা নিশ্চয় সেই জানোয়ারটার কাজ। আপনাদেরকে পই-পই করে বলেছি, এই মমিটা অনেক ভয়ঙ্কর এবং বিপদজনক। আমরা নিষেধ করেছিলাম একে ঘাঁটাতে। কিন্তু আপনারা শুনলেন না। এই বিশাল জানোয়ারটা হাজার বছরের প্রাচীন এক জন্তু। সে একবার যার পিছে লাগে...তাকে সে নিয়ে যাবেই যাবে,’ ঢোঁক গিলে বলল লোকটা। ওর কপাল বেয়ে ঠাণ্ডা ঘামের সরু একটা ধারা বেয়ে পড়ছে। এই জানোয়ারটার কথা উইলিয়াম আর তার বন্ধুরা আগেই শুনেছে। কিন্তু, ওদের এসবে বিশ্বাস করার প্রশ্নই উঠে না। সারাজীবন বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করে এখন এইসব গাঁজাখুরি গল্পে বিশ্বাস করলে সেটা যথেষ্ট লজ্জাজনক ব্যাপার হবে। ওরা মূলত এখানে এসেছে তিনটি কারণে। অ্যাঙ্গুইসিয়ার মমি কানাডায় নিয়ে যাওয়া, ওর বিশাল, বিস্তৃত সম্পদ নিজেদের করে নেয়া, আর সেই সাথে সবাইকে দেখিয়ে দেয়া যে...মমির অভিশাপ বলে আসলেই কিছু নেই। সব বুলশিট। এরপর ওরা আর কথা না বাড়িয়ে সমাধির ভেতরে ঢুকল। তবে এবার ওরা সমাধিতে বেশি সময় কাটাল না। যত দ্রুত সম্ভব মমিটা নিয়ে বেরিয়ে এলো। সেই সাথে নিয়ে এলো কুইনের ব্যক্তিগত জুয়েলারি কালেকশান! শ্রমিকরা কাঁধে করে বহন করে নিয়ে এলো রানী অ্যাঙ্গুইসিয়ার মমিকে। তাঁবুতে এনেই সার্কোফ্যাগাসের ডালিটা খুলে ফেলল ওরা। ভেতরে তিন হাজার বছরের পুরনো একটা মমি। কিন্তু মমিটাকে দেখে অসাধারণ রকম জীবন্ত মনে হচ্ছিল। দেখে মনে হচ্ছিল, যেকোন সময় অ্যাঙ্গুইসিয়া সার্কোফ্যাগাস থেকে তড়াক করে লাফ দিয়ে বেরিয়ে এসে ঈদের টুটি চিপে ধরবে আর ওর জুয়েলারি চুরি করার অপরাধে ওদেরকে অভিশাপ দেবে! অ্যাঙ্গুইসিয়া হচ্ছে মিশরীয় দেবতা আনুবিসের মেয়ে। আনুবিস মানে মিশরের সেই শেয়াল মুখো দেবতা; দ্য গড অফ ডেথ অ্যান্ড ফিউনারেল। যদিও অ্যাঙ্গুইসিয়া স্রেফ একজন ডেমি গডেস ছিল, কিন্তু স্থানীয়রা তাকে ওদের যেকোন গড এবং গডেস থেকে বেশি ভয় পেত। সত্যি কথা বলতে গেলে বলতে হয়, ওরা ওকে পুজা করতে বাধ্য হত। ওকে নিজেদের ‘কুইন’ হিসেবে মেনে নেয়া ছাড়া তাদের আর কোন উপায়ই ছিল না। সেই ডার্ক মহিলাকে ঘিরে অনেক কাহিনী প্রচলিত আছে স্থানীয়দের ভেতর। সেগুলোর ভেতর সবচেয়ে ভয়ংকর কাহিনী সম্ভবত এটা যে তার একটা পোষা সাপ ছিল; দানবীয়, হিংস্র এবং বিষাক্ত। ওটা সাধারণ কোন সাপ নয়। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এই সাপ হচ্ছে সকল সাপের রাজা। আর সেই সাপ শুধুমাত্র অ্যাঙ্গুইসিয়ার কথাই শুনত, আর কারো না। আর এই কারণেই অ্যাঙ্গুইসিয়াকে বলা হত, ‘দ্য সারপেন্ট গডেস।’ এই ডেমি গডেস দেখতে যতটা সুন্দরী ছিল, ঠিক ততটাই ছিল নিষ্ঠুর। ‘সুন্দর অথচ ভয়ংকর’ এটাই ছিল ওর বিশেষত্ব। আনুবিসের সন্তুষ্টির কথা বলে সে যে কত বাচ্চাকে নিজ হাতে সাপটাকে খাইয়ে দিয়েছিলো তার ইয়ত্তা নেই। কথিত আছে, তার যে রাতে মৃত্যু হয়, ঠিক সেই রাত থেকেই সাপটা হঠাত করে গায়েব হয়ে যায়। এরপর থেকে ঐ সাপকে আর কেউ কখনো দেখেনি। তবে স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই সাপটা মরেনি, এখনো বেঁচে আছে। অ্যাঙ্গুইসিয়ার মৃত্যুর পর থেকেই, ওর সমাধির গার্ডিয়ান হিসেবে রয়ে গেছে সে। কিন্তু একজন প্রত্নতত্তবিদ হয়ে এসব গাঁজাখুরি গল্পে বিশ্বাস করার সময় নেই উইলিয়াম কনোর এর। তাই সবার নিষেধ উপেক্ষা করে সে এবং তার বন্ধুরা এসেছে এই দেবীকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে। তার বিস্তৃত ধন সম্পদ নিজেদের করে নিতে। প্রমাণ করে দিতে যে, মমির অভিশাপ বলে আসলে কিছুই নেই। ‘হুম...অ্যাঙ্গুইসিয়া দেখতে অনেক সুন্দরী ছিলো বলে শুনেছি। এই সুন্দরীর একটা ছবি থাকলে ভালো হত মাইরি। তার রুপ লাবন্যের ছটা দেখতে পারতাম...’ বিদ্রুপের সুরে বলল এইডেন। ‘এইডেন স্যার প্লিজ, এভাবে বলবেন না। দেবী সব শুনতে পান, সব দেখতে পান। আর মমির সামনে এত বেশি সময় কাটান উচিত নয় স্যার। প্লিজ স্যার, একটু দূরে গিয়ে বসুন,’ এক বয়স্ক শ্রমিক সাবধান করে দিল। হো হো করে হেসে উঠল এইডেন। অ্যাঙ্গুইসিয়ার গালের উপর কষে একটা চড় বসিয়ে দিয়ে বলল, ‘তোমাদের ঐ দেবী অনেক আগেই দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছে, সে একটা মাছিকেও মারতে পারবে না, বুঝেছ আমার কথা? ও মরে গেছে! শি ইজ ডেড!’ ‘স্যার, এটা কি করলেন! দেবীকে চড় মারলেন? স্যার প্লিজ, কাজটা আপনি কিন্তু একদম ঠিক করলেন না। আপনাকে এর জন্যে ভয়ঙ্কর ফল ভুগতে হবে স্যার,’ ভয় পেয়ে বলে উঠল শ্রমিকটা। শ্রমিকটার দিকে তাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে তাকিয়ে এইডেন ইথেনকে বলল, ‘দোস্ত তুই আমাকে একটু পানি দে তো, মুখটা ধুতে হবে, যা ময়লা লেগে আছে মুখে।’ ইথেন নিজের পানির থলে থেকে পানি ঢালতে লাগল এইডেন এর হাতে। এইডেন সেই পানি দিয়ে প্রথমে হাত ধুয়ে নিল খুব ভালোভাবে। এরপর মুখ ধুলো, তারপর কুলি করল, কিছু পানি পান করে পিপাসাও মিটাল। মুখে পানির ঝাপটা দেয়ার পর এইডেন অনেক প্রফুল্ল হয়ে উঠল। ‘দেখ, এখানে আর এক মুহূর্তও নয়। এখানে যতক্ষণ থাকব ততক্ষণ এইসব ঝুনা নারকেল থেকে বুল শিট কাহিনী শুনতে হবে। তাড়াতাড়ি সুন্দরীকে নিয়ে কানাডায় চল,’ এইডেন প্রচণ্ড উৎসাহ নিয়ে বলল। এরপর ওরা মমিটাকে নিয়ে চলে এলো সোজা কানাডায়। মমিটার স্থান হলো টরোন্টোতে উইলিয়ামের বিশাল বাংলো বাড়িতে। ওরা সমাধিতে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো গোপন রাখতে চেয়েছিল। কারণ, সেগুলো বললে মমির অভিশাপটাই সবার ভেতর আস্তানা গেড়ে বসবে, যা ওদের একদম পছন্দ নয়। কিন্তু, ওরা কানাডায় পৌঁছানোর আগেই সমাধিতে ঘটে যাওয়া কাহিনীগুলো কিভাবে-কিভাবে যেন চাউর হয়ে গেলো সবার কাছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই, মমিটাকে ঘিরে সবার ভেতর প্রচণ্ড আকর্ষণ সৃষ্টি হলো। তবে সমাধি উন্মুক্ত করার সেই ভয়াবহ রাতের ঘটনাগুলোর কোন ব্যাখ্যা এখনো উইলিয়াম খুঁজে পায়নি। ব্যাপারটা কিছুতেই মাথা থেকে যাচ্ছে না। আজ সকাল থেকেই প্রথম বারের মত মমিটি মানুষের দেখার জন্যে উন্মুক্ত করা হয়। অনেক কৌতূহলী মানুষের ভিড় লক্ষ্য করছে সে সকাল থেকে। সামনের রিপোর্টারকে দেখে মনে হচ্ছে যে সে মমি নয়, কোন গ্ল্যামার গার্ল এর ছবি তুলছে। একের পর এক যেভাবে শাটারে টিপ মারছে, একে আর কিইবা বলা যায়! ব্যাটাকে ধরে চড়িয়ে দাঁত ফেলে দেয়া দরকার। এসব রিপোর্টারকে হাড়ে-হাড়ে চেনে সে। এরা তিলকে তাল বানিয়ে লেখে। কালকেই দেখা যাবে পত্রিকায় এই রিপোর্টারের রিপোর্ট প্রকাশ হবে; উপরে মমিটার ছবি, আর নিচে হেডলাইনঃ ‘অভিশপ্ত অ্যাঙ্গুইসিয়ার মমি কেড়ে নিলো ৩ শ্রমিকের প্রাণ’ দীর্ঘশ্বাস ফেলল উইলিয়াম। ধুর, এসব ঝুনা নারকেলের দল কোন অবৈজ্ঞানিক কিছু পেলেই হলো, সেটাকে প্রমাণ করতে উঠে পড়ে লাগে। ভাবতে-ভাবতে ওর চোখ আটকে গেল সামনের দিকে। একটা বাচ্চা ছেলে। মমিটাকে দাঁত মুখ খিঁচিয়ে ভেঞ্চিয়ে যাচ্ছে। সাব্বাস ব্যাটা! বাঘের বাচ্চা। পরবর্তি প্রজন্মের বাচ্চাগুলোর জন্যে তার হৃদয় মমতায় ভরে গেল। আরো খানিক্ষণ বাচ্চাটার কীর্তিকলাপ দেখা যেত, কিন্তু উইলিয়াম হতাশ হয়ে লক্ষ্য করল যে বাচ্চাটাকে ওর বাবা মা টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে মমির সামনে থেকে। সেই সাথে চটাস করে একটা চড় লাগিয়ে দিল জায়গামত। হাহ করে বড় একটা শ্বাস ফেললো উইলিয়াম কনোর। এভাবেই যুগে যুগে সাহসী ব্যক্তিরা অপমানিত হয়ে থাকেন! *** রাত বাড়ছে। সেই সাথে বাড়ছে ঝড় বৃষ্টি। এখানে- সেখানে বজ্রপাতের শব্দও কানে আসছে। উইলিয়াম অনেক্ষণ আগেই নিজের ঘরে ফিরে এসেছে। নিজের বিছানায় শুয়ে-শুয়ে ভাবছিল তার ব্যর্থতার কথা। সে দেখাতে চেয়েছিল মমির অভিশাপ বলে আসলে কিছুই নেই। কিন্তু ঘটনাগুলো এমনভাবে ঘটল যে সবাই ধরেই নিল যে মমির অভিশাপ ব্যাপারটা দিনের আলোর মত পরিষ্কার! কিন্তু এগুলোর ব্যাখ্যা সে বের করবে, বের তাকে করতেই হবে। তবে আজ নয়, আজ বিশ্রাম প্রয়োজন। মাথাটা ব্যথায় চৌচির হয়ে যাচ্ছে, ইচ্ছা হচ্ছে মাথাটা কেটে ফালি ফালি করে ফেলতে। বন্ধ জানালার ওপাশে বাতাস খুব জোরে-জোরে ধাক্কা মারছে। মনে হচ্ছে যেন জানালা সহ উড়িয়ে নিয়ে যাবে। প্রচণ্ড ঘুমে চোখ ঢুলু-ঢুলু হয়ে গেছে। এতোই বৃষ্টি হচ্ছিল যে মনে হচ্ছিল সে আটলান্টিক এর মাঝখানে এক জাহাজে আছে, যেই জাহাজ ঝড়ের কবলে পড়েছে। জানালার ওপাশে হঠাত ধুপ করে একটা শব্দ হলো। একটা ছায়া মূর্তি যেন আকাশ থেকে লাফ দিয়ে জানালার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। বন্ধ জানালার ওপাশে একটা বিশাল কালো অবয়ব দেখা যাচ্ছে। ‘কে, কে ওখানে?’ উইলিয়াম চিৎকার করে জিজ্ঞেস করল। ওপাশ থেকে কোন জবাব নেই। ছায়া মূর্তি জানালার দিকে পেছন ফিরে দাঁড়িয়ে আছে। ‘দেখো, আমি ৩ পর্যন্ত গুনবো, এরপর সোজা গুলি চালাব, এখনো বল যে কে তুমি...আমার বাসার সীমানায় কেন ঢুকেছ?’ ছায়াটা এখনো কিছু বলছে না। ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। খুব সাবধানে বিছানা থেকে নেমে ধীর পায়ে হেঁটে দেয়ালে লটকানো রাইফেলটা তুলে নিল উইলিয়াম। এরপর জানালার সামনে দাঁড়িয়ে বলল, ‘কথা শুনবে না তো? ফাইন। কিভাবে কথা শুনাতে হয় আমি জানি। ৩ পর্যন্ত গুনবো, যদি এর মাঝে তোমার আগমণের উদ্দেশ্য না বলো তাহলে বুম...সোজা খুলি উড়িয়ে দেবো, বোঝা গেছে?’ ঘুমে ওর চোখ অবশ হয়ে আসছে। ওর পাগুলো ওকে আর ধরে রাখতে পারছে না। ‘এক, দুই, তিন...’ বুম... ধড়াম করে এক ঝটকায় জানালাটা খুলে গেল। যেন কোন অদৃশ্য শক্তি ওটাতে খুব জোরে বাড়ি দিয়েছে। ভাঙ্গা কাচের টুকরো বিঁধে গেল উইলিয়ামের কপালে। ব্যথায় কুঁকড়ে যাচ্ছে সে। মূর্তিটা ঘুরে দাঁড়াল। উইলিয়ামের দিকে এক হাত বাড়িয়ে দিয়ে খুব জোরে একটা হুঙ্কার দিলো সে। সাথে-সাথে খুব জোরে একটা বজ্রপাত হলো একদম উইলিয়ামের বাড়ির বাগানে। সেই আলোয় ওটাকে স্পষ্ট দেখতে পেল সে। তার মুখটা শৃগালের মত। সারা গায়ে অসংখ্য লোম...বুক এবং হাত অনেক চওড়া...এক হাতে অদ্ভুত রকমের বল্লম জাতীয় কিছু একটা ধরে রেখেছে। জিনিসটার মুখের দিকটা বাঁকানো। ওখান হালকা নীল আলো জ্বলছে। ওর বড় বড় তীক্ষ্ণ দাঁতগুলো দেখলেই বোঝা যায় যে শুধু একবার সেই দাঁত বসাতে পারলেই হয়েছে...শরীরটা টুকরো টুকরো হয়ে মাংসের স্তুপে পরিণত হয়ে যাবে। ভয়ঙ্কর প্রাণীটা জানালার গ্রিল ভেদ করে চোখের নিমিষেই ওর সামনে এসে দাঁড়াল। কিছু বুঝে উঠার আগেই এক হাত দিয়ে উইলিয়ামের গলাটা চেপে ধরল সে। ওর হাতের লম্বা-লম্বা বিষাক্ত নখগুলো উইলিয়ামের গলায় বসে যাচ্ছে। উইলিয়াম এর দম বন্ধ হয়ে আসছে...খুব দ্রুত মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে উইলিয়াম কনোর... ধড়াম করে দরজায় একটা বাড়ির শব্দে ঘুম ভেঙ্গে গেল উইলিয়ামের। এতক্ষণ তাহলে দুঃস্বপ্ন দেখছিল ও! যাক বাবা, বাঁচা গেল। ও তো ভেবেছিল সে আজ মরেই যাবে। খুশি মনে লাফ দিয়ে বিছানা থেকে উঠতে গিয়েই পায়ে কি যেন ফুটল... পুরো মেঝেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ভাঙ্গা কাঁচের টুকরো। এবং সেগুলো এসেছে...সোজা সামনের দিকে তাকালো উইলিয়াম...জানালাটা...ওটা খোলা...এবং ভাঙা... প্রচণ্ড অমানুষিক রকমের একটা ভয় উইলিয়ামকে আচ্ছন্ন করল...বিজ্ঞানের ছাত্র হয়ে সে এসবে কেন এত মুল্য দিচ্ছে? তার তো শক্ত থাকা উচিত। ভালোভাবে ভাবলে একটা না একটা ব্যাখ্যা অবশ্যই খুঁজে পাওয়া যাবে। এ জগতের কোন কিছুই অলৌকিক নয়। কোন কিছুর ব্যাখ্যা যতক্ষণ না পর্যন্ত পাওয়া যায়, ততক্ষণ পর্যন্ত তাকে বলা হয় অলৌকিক, আর ব্যাখ্যা পাওয়া গেলেই সেটা হয়ে যায় লৌকিক। উইলিয়াম এই তত্ত্বেই বিশ্বাস করে। দরজায় ধুম-ধাম আওয়াজে সম্বিত ফিরে পেল সে। এত রাতে কে দরজা ধাক্কাচ্ছে? সাবধানে দরজাটা খুলল উইলিয়াম। ‘স্যার...স্যার...জলদি আসুন স্যার...ভয়াবহ ব্যাপার...’ উইলিয়ামের বাড়ির বাটলার রবার্ট হাঁপাতে হাঁপাতে বলল। ওর চোখে মুখে স্পষ্ট আতঙ্ক দেখা যাচ্ছে। ‘কি হয়েছে? এত রাতে হল্লা করার মানে কি...ঘুমুতে দেবে না নাকি তুমি...’ কন্ঠস্বরের বিরক্তিটা গোপন করল না উইলিয়াম। ‘না স্যার ব্যাপারটা আর্জেন্ট...আপনার কুকুরটা...ওকে দেখে যান...প্লিজ...’ রবার্টের কন্ঠে আকুতি। রবার্টকে এক ধাক্কায় সরিয়ে দিয়ে এক দৌড়ে রুম থেকে বেরিয়ে করিডোর দিয়ে ছুটতে লাগল উইলিয়াম। নর্বি শুধু ওর পোষা কুকুরই নয়, ওর অনেক দিনের বিশ্বস্ত সাথীও বটে। ওর কিছু হলে সে মেনে নিতে পারবে না। সদর দরজা পেরিয়ে ছাতা হাতে নিয়ে উইলিয়াম দৌড়াতে লাগল সোজা মেইন গেটের দিকে। বৃষ্টির প্রকোপ একটুও কমেনি। ভয়ঙ্করভাবে বাতাস বইছে। তার মাঝেই দৌড়াতে-দৌড়াতে একদম মেইন গেইটের সামনে চলে এলো উইলিয়াম কনোর। নর্বির চিৎকারের শব্দ ওর কানে আসছে। আরেকটু যাওয়ার পরে সে কুকুরটাকে দেখতে পেল। ঐতো নর্বি পা দুটো সামনের দিকে দিয়ে অদ্ভুত ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। নর্বির পাশে দাঁড়িয়ে আছে বাড়ির দারোয়ান। সে পুরো ঘটনায় প্রচণ্ড ভয় পেয়েছে। কুকুরটা মৃগী রোগির মত কাঁপছে। ওর মুখ দিয়ে লালা ঝরছে। এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সামনের দিকে, মেইন গেটের কাছা-কাছি একটা অন্ধকারাচ্ছন্ন জায়গায়। কিন্তু, কার দিকে তাকিয়ে আছে ও? সেখানে তো কেউই নেই! ভয়ঙ্করভাবে ডেকে চলেছে কুকুরটা, মেইন গেইটের সামনের সেই জায়গাটায় তাকিয়ে আছে এখনো। এভাবে চেঁচাচ্ছে কেন কুকুরটা? যেন কিছু একটা দেখে খুব ভয় পেয়েছে...... ‘ওর কি হয়েছে জর্ডান? ও এমন করছে কেন?’ প্রচণ্ড অবাক হয়ে দারোয়ানকে জিজ্ঞেস করল উইলিয়াম। ‘আ...আমি...জা...জানি না স্যার...আমি নিজের ঘরে ঘুমাচ্ছিলাম, এরপর গেইটের সামনে ধুপ করে খুব ভারী কিছু একটা পড়ার শব্দে আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়। এরপর সাথে-সাথেই নর্বি তারস্বরে চেঁচানো শুরু করল। আমি জা...জানি না স্যার...ওর ক...কি হয়েছে...’ কাঁপতে- কাঁপতে কথাগুলো বলল দারোয়ান জর্ডান। কুকুরটা এখনো সমানে চেঁচিয়ে যাচ্ছে। ‘স...স্যার, আমার মনে হয় ও কিছু একটা দেখতে পাচ্ছে যা আমরা পাচ্ছি না...এই কারণেই ও এমন করছে...কুকুর বিড়ালদের এই ধরনের অনুভূতিটা প্রবল, স্যার...ওরা অনেক কিছুই টের পায়, যা আমরা মানুষরা পাই না...’ কাঁপা-কাঁপা গলায় বলল রবার্ট। ‘বাজে বকো নাতো রবার্ট। ওর হয়তো শরীর খারাপ করেছে...বা হয়তো ব্যথা পেয়েছে। ওরা তো আর কথা বলতে পারে না, তাই এইভাবেই প্রকাশ করে ওদের অনুভূতি,’ বলল উইলিয়াম। ব্যাপারটা উড়িয়ে দিতে চাইলেও মনে মনে ঠিকই চিন্তিত হলো সে। এই একটু আগে সেও জানালার সামনে ধুপ করে কিছু একটা পড়ার শব্দ শুনতে পেয়েছিল...ব্যাপারটা যথেষ্ট অদ্ভুত। ওটা কি আসলেই স্বপ্ন ছিল? কুকুরটা হঠাত ভয় পেয়ে পেছাতে লাগল, তারস্বরে চেঁচাচ্ছে আর পেছাচ্ছে...এরপর ভয়ঙ্কর একটা ডাক দিয়ে ওর মাথাটা সামনের দুই পায়ের মাঝে গুঁজে দিল। যেন সামনে তাকাতে ভয় পাচ্ছে। গোঙাচ্ছে ওটা। কয়েক মুহূর্ত কেউ ভয়ে কোন কথা বলল না। এরপর উইলিয়াম সোজা হাঁটা দিল ঠিক সেই জায়গায় যে বরাবর কুকুরটা তাকিয়ে ছিল। জায়গাটায় ঘন অন্ধকার জমাট বেঁধে আছে। কিছুই দেখা যাচ্ছে না। ‘জর্ডান টর্চটা দাও তো,’ উইলিয়াম বলল। জর্ডান টর্চ দিল। যে জায়গাটায় নর্বি এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল সেই জায়গাটায় টর্চের আলো ফেলল উইলিয়াম। যা দেখল তাতে ওদ (চলবে...)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩০ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now