বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বালকের আত্নকাহিনী

"স্মৃতির পাতা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X দেখি কর দেখি, , ,৭৭+১২=? স্যার এটাতো পান্তাভাত। আরে পান্তাভাত হলে পান্তাভাত খা বুঝছস? স্যার আমিতো পান্তাভাত খাইনা!!! বেয়াদ্দপ ছেলে তাড়াতাড়ি কর। , , , , আমি কিছুক্ষন মাথা চুলকিয়ে অবশেষে বের করলাম ৮৯ হয়। হুম হইসে যা ভাগ। হ্যা, এতক্ষণ যা বলছিলাম তা হলো আমার স্কুল জীবনের প্রথম ভর্তি পরীক্ষা।প্রাইমারী স্কুলের প্রথম যাত্রা।আশা করি সবাই ইতিমধ্যে বুঝে গেছেন কি পরিমান ত্যাদড় ছিলাম আমি।আমাকে ভর্তি পরীক্ষায় এরকম behave পাওয়ার পরও নেয়া হয়ছিল কারণ একটাই ম্যাডামের ছেলে।মাথায় ঘিলু একটু কম ছিল আর কি!তাই বলে যে মাথা একেবারেই খালি ছিল তা না!!100% fill up ছিল ষাড়ের গোবরে(গরু বললাম না cz গরু নারী জাতি), , , এভাবেই শুরু হয় আমার স্কুল জীবনের পথ চলা।কি ছোট ছিলাম ভাবতেই অবাক লাগে।বাসা ছিল কলেজিয়েট কোয়ার্টারে।আম্মু ঐ স্কুলেরই একজন শিক্ষিকা।স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর দিনগুলি খারাপ যাচ্ছিলনা,ভালই কাটছিল।ইতোমধ্যেই ক্লাসের ছাত্রদের মধ্যে নিজেকে সবচেয়ে আলাদা হিসেবে আবিষ্কার করলাম।ক্লাস 3 তে উঠতে না উঠতেই স্কুল পালানো খুব ভালোভাবে রপ্ত করে ফেলেছি।এমন ও সময় গিয়েছিল ৩০দিনে ২৬দিনই স্কুল পালিয়েছি।বাকি ৪দিন শুক্রবার ছিল।খোলা থাকলে পালাতাম নিশ্চয় । খুবই innocent ছিলাম তখন।আমার তুলনায় অন্যরা একটু matured ছিল।ক্লাসে alwys এমন জায়গায় বসতাম যাতে মেয়েদের চেয়ে সবচেয়ে বেশি দূরে হয়।আমার পিছনের bench এ বসত এবারের আই,এম,ও তে সর্বোচ্চ স্কোরার ধনঞ্জয় বিশ্বাস।একটু আজিব গোছের ক্যাডার টাইপ ছেলে।২টা সাঙ্গোপাঙো ওর সাথে থাকতো alwayz.একটা সাইজে ওর ব্যাস্তানুপাতিক আরেকটা ওর ঘনের সমানুপাতিক ছিল।স্কুলে পড়া অবস্থায় ক্লাস ৩ অথবা ৪ এর দিকে ভর্তি হয় শিশু একাডেমীতে।ঐদিন কি কারনে আম্মু ওখানে ভর্তি করিয়েছিলেন তা বড় হওয়ার পর বুঝলাম।চিত্রাংকনের দক্ষতা আমার জন্ম থেকেই। GODGIFTED যাকে বলে।ওখানে গিয়ে আবিষ্কার করলাম ক্লাস ২ হতে s.s.c পরীক্ষার্থী সকলেই আমার সহপাঠি।আজিব লাগলো ব্যাপারটি।প্রথমদিনই আমার পাশে বসলো একটি ফুটফুটে মেয়ে।।চুলগুলি কি সুন্দর। দেখলেই আদর করে দিতে ইচ্ছে করে। এভাবে মেয়েটি আমার পাশে বসতে লাগলো প্রায়সময়।খুব ভাব জমল ওর সাথে।ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব গড়লাম ওর সাথে।কিন্তু বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে ও কোন স্কুল,ক্লাস কোন ধর্মের কিছুই জানতাম না। ও নিজেও আমারগুলো জানতো না।একদিন শুনি মেয়েটা ক্লাস ৮,st scholastica,হিন্দু সম্প্রদায়ের।পরে ভাবলাম একে বন্ধু না ভেবে আপু ডাকাই better হবে।লাইফের প্রথম বড়সড় বাশ টা এভাবেই খেলাম। স্কুল থেকে বেরুনোর সময় চলে এসেছে।বার্ষিক পরীক্ষার ফল দেওয়ার দিন।খুব গাধা Student ছিলাম তাই প্রত্যাশা ছিল সীমিত। কিন্তু দেখা গেল ৫ক্লাস মিলিয়ে তুলনামুলকভাবে সবচেয়ে ভাল ফলাফল করলাম। এর পর চোখের সামনেই ভাসছিল ভর্তি যুদ্ধ।কলেজিয়েট স্কুল।বাংলাদেশের সেরাটাই,যে যাই বলুক।এখানে chance না পেলে আমার পড়ালেখা বন্ধ করে দেয়া হবে বলে হুমকি আসতে লাগল পারিবারিক Godfather আম্মুর কাছ থেকে।সাধারনত গ্রামাঞ্চলের মেয়েদের বিয়ের আগে এই টাইপ হুমকি Family দেয়।যাই হোক কে শুনে কার কথা।হেলেদুলে tympass করতে লাগলাম। ভর্তির জন্যে কোচিং করলাম খ্যাতনামা আফসার স্যারের কাছে।কি যে মজা হতো উনার কোচিং-এ(শুধু পড়া ধরার পর্বটা বাদে।পড়া না পারলে কি অমানুষিক নির্যাতন টাই না চলত) এভাবে ৩-৪মাস অতিবাহিত হওয়ার পর এল মহারণ।ঈশ্বরের কৃপায় ভর্তি পরীক্ষায় কৃতকার্য হলে chance নামক যেই জিনিসটা বলে সেটা পেয়ে গেলাম।আম্মুর সাথে মার্কেটে গিয়ে বই-খাতা একদিনে কিনে ফেললাম। তাকে যে পরিমান খুশি দেখাচ্ছিল যেন তিনি এইমাত্র আইন্সটাইনের জন্ম দিয়েছেন। স্কুলের প্রথমদিন , , ,স্কুল ড্রেস All white.সাদা শার্ট,সাদা প্যান্ট।Assemblyতে দাড়িয়েছি সবাই।নি্জেকে হোয়াইট লের্গহন মুরগীর পালের একজন সদস্য মনে হচ্ছিল।আনন্দের সাথে সেদিন শেষ করলাম।কিন্তু বলুন একই কাজ করতে প্রতিদিন কার ভাল লাগবে? আমরাও ব্যাতিক্রম ছিলাম না।বিরক্তি যে কাকে বলে তা আমাদের তখনকার assembly না দেখলে সংজ্ঞা দেয়া যাই না!!একেকজনের মুখের ভাবখানা দেখলে মনে হত যেন তখন-ই যুদ্ধ করে এসেছে যুদ্ধে বাপ-ভাই সবাইকে হারিয়ে শোকাতুর।আর সামনে ছায়ার মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষকদের হাসিমুখগুলো জল্লাদের মত ঠেকতো।কলেজিয়েটে ভর্তি হওয়ার সময় জানতে পারলাম ৫বছরের জন্যে আমাদের সন্ন্যাসব্রত পালন করতে হবে।Boyz School তাই।এভাবে সময়গুলো কাটতে থাকে।ক্লাস৬ এ ইউনেস্কো বৃত্তি পরীক্ষা দিতে গিয়েছিলাম,ওখানেও আমার পাশে ধনঞ্জয়।Tallent হলে কি হবে?পোলাটা মহা বদ।কিছুতেই কিছু দেখাবেনা exam হলে । বড় হতে হতে একটা স্কুলের নাম মাথায় ঘুরপাক খেত,তা হল খাস্তগীর স্কুল।চট্টগ্রামে মেয়েদের সেরা স্কুল হিসেবে খ্যাত।ক্লাস৮,বৃত্তির বছর।অনেক চালু হয়ে গিয়েছিলাম ততদি্নে।পড়ালেখা ছাড়া মোটামুটি সব বিষয়ে Expert.সে বছরেই বহুদিনের ঐতিহ্য ভেঙ্গে কলেজিয়েটের আসন পরেছিল মুসলিম হাই স্কুলের পরিবর্তে খাস্তগীরে।যাই হক বৃত্তির বদৌলতে হলেও স্কু্লটা একবার ঘুরে আসা যায়।যে ধারনা নিয়ে ভিতরে ঢুকেছিলাম তার সবটাই পালটে যায় খচ্চর মার্কা ক্লাসরুম দেখে। যাই হওক একটু পিছনে ফিরে তাকাই।ক্লাস৮ এই ভর্তি হয়েছিলাম জাহিদ স্যার ও শফি স্যারের কাছে।।জাহিদস্যারের ওখানে গাদাগাদি করে বসা কলেজিয়েটের মসজিদের পিছনে একটি কুঠুরীতে।স্মৃতিগুলো এখনো বিমলিন।মেয়েদের মারলে উদ্ভট চিৎকার দেয়া,পড়া ধরলে অত্যন্ত নম্রভাবে মাথা হেট করে থাকা . . . . .এভাবে গড়াতে গড়াতে দশমশ্রেণী স্কুলের বড় ভাই।huh , , তখ্ন রীতিমত স্যারদের কোচিং-এ পরিচিতমুখ উদ্ভট উদ্ভট কথাবার্তার জন্যে।স্যারদের বাঁশ মারার ওস্তা্দ ছিলাম। তারপর আস্তে আস্তে S.S.C. . . জীবনের প্রথম পাবলিক পরীক্ষার সম্মুখীন হতে যাব।আর ২মাস বাকি।আম্মু প্রতিদিন একটা একটা স্যার খুঁজে আনতেন আর আমি একটা একটা বাঁশ মেরে তারাতাম।৬০দিনে আমাকে পড়াতে ১৭শিক্ষক এসেছিলেন।আরো একটা কথা আমি স্কুলের ১মদিন ক্যাপ্টেন নির্বাচিত হয়ে ছিলাম।তার ১সপ্তাহের মাথায় একদিন স্যার আসতে Late কসরায় আমি বোর্ডে লিখে দিয়েছিলাম “স্কুল ছুটি,সবাই বাসায় চলে যাও”যেই কথা সেই কাজ।যার জন্যে পরে অনেক ধকল গিয়েছিল আমার উপর। আম্মু ছিল আমাদের ক্লাসের ক্লাসটিচার।ক্লাস১০D.প্রথমদিন যখন ROLL CALL করা হল ক্লাসের সবকটা চোখ একবিন্দুতে , , ,আমার মুখের দিকে।present আম্মু নাকি yes ম্যাডাম।!!অনেক মানসিক দ্বন্দ্ব চলতে লাগল।অবশেষে বলেই ফেললাম YES Madam.সবাই congr8z জানাল।বিশ্বজয়ীর একখান হাসি দিলাম। ssc xm এর পর ভর্তি হয়ে ছিলাম Saifur`s নামক এক কোচিং এ ।ওখানেও স্যাররা আমার বাঁশ থেকে রেহায় পেতেন না।একদিন ক্লাসে অমনোযোগী হুয়ে বাইরে তাকিয়ে আছি।স্যার বলে যে"কি?মেয়ে দেখছ তাই না?আমার উত্তরঃকেমনে জানেন আমি কি দেখছি?নিশ্চয় আপনি ও দেখছিলেন।আর আপনি দেখতে পারলে আমার দোষটা কোথায়?স্যার বোধহয় নিজের অপরাধ স্বীকার করে নিলেন যখন দেখলাম তিনি চুপটি মেরে গেছেন। তারপর মনে একটা ক্ষুদ্র আশা ছিল ndc তে পড়ব।আম্মু ততদিনে ctg কলেজের গুন গাওয়া শুরু করল।নটর ডেমের ভর্তি ফর্ম নিয়ে দিচ্ছিলনা।কয় পাব?পুরা চকবাজার ঘুরলাম পেলাম না।কিন্তু কালকেই যে last date.নিজে গিয়ে ট্রেনের টিকিট কাটলাম। সকালে পৌছে ফর্ম নিলাম,জমা দিলাম, রেজাল্ট দিল চান্স পেলাম সহজেই।সবার বিধিনিষেধ অ্মান্য করেই ভর্তি হলাম favr8 কলেজে।কিন্তু একটাই সমস্যা আবার ২বছরের জন্যে সন্ন্যাসব্রত।মেয়ে নেই।কলেজের কঠোর নিয়মগুলতে বুক কেপে উঠতো।অবশেষে শুরু হল প্রবাসজীবন।ভাগ্যের পুর্ন সহায়তায় কলেজিয়েটের ৫বন্ধুর সাথে উঠলাম একটি ফ্ল্যাটে।তারপর কাটতে লাগল মৌন জীবন।ctg fnf এর জন্যে খারাপ লাগত।আস্তে আস্তে overcome করলাম।৫জনে মিলে নজিরবিহীন দুষ্টুমি শুরু করি । অবস্থা এতই খারাপ হয় যে আশেপাশের বাসা থেকে daily complain আসতে শুরু করে।দেখা যায় যে রাতে ঘুম যাচ্ছি।২টার সময় উঠে দেখি ২জন মারামারি করতে করতে আমার গায়ে এসে পড়ল।নাড়িভূড়ি ভর্তা হত। ঢাকায় থেকে কিছুদিনে অনেক শেয়ানা হয়ে উঠলাম।৫জন মিলে করতাম না এমন কোন ফাইজলামি দুনিয়ায় নেই।তখন-ই বুঝতে পারলাম জীবনটা সত্যিই মজার যদি আপনি উপভোগ করতে পারেন।এসব মজার মধ্যে ছিল রাতের ৩টায় ঢাকার রাস্তাঘুরে বেড়ানো।tsc তে গিয়ে ফাজলামি। আসলে যা বলতে চেয়েছিলাম কি!আমার জীবনের এতটুকু পথচলায় আম্মুর অবদানটুকু অনেক বেশি।কিন্তু কোনদিন স্বীকার করিনি।জীবনের এই প্রায় ১৮বছর সময়টাতে একবার ও আম্মুকে জড়ায় ধরে বলিনি আম্মু তোমায় ভালবাসি। HATS OF ME……………………বড়ই অকৃতজ্ঞ আমরা।আমার দোষ কি?আপনারা কজনেই বা এটা করেন?HATZZZ OF U ALL


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৯ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now