বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
.
রাস্তা দিয়ে আপন মনে হাঁটছে স্পর্শ।
দু-একবার হোঁচট খেলেও সেই দিকে
তার কোনো ভ্রুক্ষেপ নাই। তার মাথায়
এখন হাজারো চিন্তার ছাপ।মাসের
বাকী দিনগুলি কিভাবে সে পার
করবে, বাসার আর্থিক অবস্থাও তেমন
ভালো না যে বাসায় থেকে টাকা
চাইবে। এতো দিন টাকা নিয়ে চিন্তা
করা লাগতো না কারণ নীলাদের
বাসা থেকে যে টাকা পেতো তা
দিয়ে পুরা মাস ভালোভাবে চলেও
কিছু টাকা হাতে থাকতো। প্রয়োজন
থাকা সত্বেও স্পর্শকে আজ নীলাদের
বাসার টিউশনিটা বাদ দিতে হলো।
.
অত্যন্ত সাধারন পরিবারের ছেলে
হচ্ছে স্পর্শ। সে ঢাবির অনার্স ৩য়
বর্ষে রয়ায়ন নিয়ে পড়ছে। পরিবারের
আর্থিক স্বচ্ছলতা না থাকায় অনেক
দিন ধরেই সে একটা টিউশনি
খুঁজছিলো। এক বান্ধবীর মাধ্যমে
নীলাদের বাসার টিউশনিটা পায়
স্পর্শ। নীলার বাবা ঢাকা শহরের
একজন বিশিষ্ট শিল্পপতি হওয়ায়
টিউশনিটা থেকে ভালোই টাকা
পেতো স্পর্শ।
.
অপরুপ এক সুন্দরী মেয়ে নীলা। যে
কেউ প্রথম দেখায় তার প্রেমে পড়তে
বাধ্য। ছাত্রীও মোটামোটি ভালোই।
যার ফলে স্পশর্কেও বেশী কষ্ট করতে
হয়না। অল্প একটু বুঝে দিলেই নীলা
বুঝে যায়। প্রথম কয়েকদিন পড়াশুনা
ঠিকভাবে করলেও এখন কিছুটা
অন্যমনস্ক দেখা যায় নীলার
পড়াশুনায়। পড়াশুনার কথা বাদ দিয়ে
বেশীরভাগ সময়ই স্পর্শের ব্যক্তিগত
জীবন নিয়ে প্রশ্ন করে নীলা যা
স্পর্শকে বিরক্ত করে তোলে। বারবার
বকা খাওয়া সত্বেও নীলা একই কাজ
করতে থাকে।
.
আজ অনেকটাই রেগে আছে স্পর্শ।
পড়া না পারলেই ইচ্ছামতো বকা
দিচ্ছে নীলাকে। কারণ গতদিন পড়া
শেষে নীলা স্পর্শকে একটা চিঠির
খাম দিয়েছিলো এবং হোস্টেলে
যেয়ে একা একা চিঠিটা খুলতে
বলেছিলো। সারাদিন নানা ব্যস্ততায়
স্পর্শ নীলার চিঠিটার কথা ভুলেই
গেছিলো। রাতের বেলা ঘুমানোর সময়
হঠাৎ চিঠিটার কথা মনে। স্পর্শ মনে
মনে ভেবেছিলো হয়তো এই মাসের
টাকাটা অগ্রিম দিয়েছে নীলা কারণ
প্রতিবার টাকা এইভাবেই দেয় সে।
কিন্তু খামটা খুলার পর অনেকটাই
অবাক হয় স্পর্শ কারণ সেখানে একটা
চিঠি ছাড়া আর কিছুই ছিলো না।
চিঠিতে লেখা ছিলো------
.
জানিনা আল্লাহ আপনাকে কোনো মন
দিয়েছে কিনা আর দিলেও সেই মনে
বিন্দু পরিমান ভালোবাসা আছে
কিনা। আমার তো মনে হয় আল্লাহ
আপনাকে কোনো মন দেয়নি দিলে
আমার সাথে প্রতিদিন এমন ব্যবহার
করতে না। আবার মনে হয় মন না দিলে
এতো সুন্দর সুন্দর গল্প এফবিতে লিখেন
কিভাবে। ও হ্যাঁ বলতেই ভুলে গেছি
আমি আপনাকে লুকিয়ে লুকিয়ে
এফবিতে ফলো করি। আমার রিয়েল
আইডি তো আপনি সেই থেকেই ঝুলে
রাখছেন তাই ফেইক আইডি দিয়ে
আপনাকে ফলো করি। আপনাকে
যতোটা ভালো ভাবছি ততোটাও
ভালো নন আপনি কারণ ভালো হলে
কোনো মেয়ের রিকোয়েস্টই এক্সেপ্ট
করতে না। যাই হোক আসল কথাই আসি
কারণ আপনি স্যার হলে কি হবে আপনি
একটা গাধা না না শুধু গাধা না মহা
গাধা। কারণ গাধা না হলে এতোদিনে
ঠিকি বুঝতেন আমি কি চাই।
এতোদিনে ঠিকি আমাকে প্রপোজ
করতেন। কিন্তু না আপনি তো গাধা
তাই প্রপোজ করবেন না তাই বাধ্য হয়ে
আমি নিজেই আপনাকে প্রপোজ
করলাম। ও সরি প্রপোজ তো এখনো
করিইনি,শুনেন এখন মনোযোগ দিয়ে,
শুনতিছেন তো, আমি আপনাকে
ভালোবাসি, শুধু ভালোবাসি না
পাগলের মতো ভালোবাসি,ও সরি
আমার ক্ষেত্রে তো পাগলির মতো
হবে। আজকে আমি চিঠিতে শুধু
বুঝালাম যে আমি আপনাকে
ভালোবাসি, কাল কিন্তু আপনি
আমাকে সুন্দর করে প্রপোজ করবেন
কেমন। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, আর
সবসময় আমাকে নিয়ে চিন্তা করুন
এটাই দোয়া করি।
ইতি,
আপনার ধুর এতো আপনি আপনি করছি
কেনো হবে তো তোমার তুমি।
.
চিঠিটা পড়ে স্পর্শ হাসবে নাকি রাগ
হবে কিছুই বুঝতে পারেনি তবে কিছুটা
সময় সে বাকরুদ্ধই হয়ে পড়েছিলো।
.
স্পর্শ চলে আসার আগে নীলাকে
সরাসরি না করে দিলো এবং তাকে
বুঝালো যে তুমি যা করছো ভুল করছো,
এটা তোমার আবেগের বয়স,সব কিছুই
এখন তোমার চোঁখে রঙ্গিন লাগবে
কিন্তু সব কিছুই বাস্তবে রঙ্গিন না।
স্পর্শের কথা শেষ হলে নীলা বলে
আপনার কি মনে হয় আপনার সম্পর্কে
খোঁজ-খবর না নিয়েই আমি আপনাকে
ভালোবেসেছি, আপনি যেটাকে
আবেগ বলছেন এই আবেগ কি সামান্য
এই কয়দিনে তৈরী হয়েছে,না আপনি
ভুল ভাবছেন আপনার জন্য আমার এই
আবেগ অনেক আগেই তৈরী হয়েছে যা
আস্তে আস্তে ভালোবাসায় পরিনত
হয়েছে। আপনাকে আমি প্রথম আমার
এক ফ্রেন্ডের কাজিনের বিয়েতে
দেখি। সেখানে অনেক ছেলেই ছিলো
যারা বার বার আমার দিকে
তাকাচ্ছিলো কিন্তু আপনাকে আমি
একবারো আমার দিকে তাকাতে
দেখিনি। এই প্রথম কারো চোঁখে
আমাকে ভালো লাগলো না এটা যেন
আমি কিছুতেই মেনে নিতে পারলাম
না সাথে সাথে আপনার প্রতি আমার
কৌতূহলও অনেকটা বেড়ে গেলো। পড়ে
আমার ফ্রেন্ডের বড় আপুর কাছ থেকে
জানতে পারি আপনার কথা, আপনি শুধু
আমাকে না প্রয়োজন ছাড়া অন্য
কোনো মেয়েদের দিকেও তাকান না
অথবা কথা বলেন না। আপনার এই
এটিটিউডই আমাকে আপনার প্রতি
দুর্বল করে তুলেছে। তাইতো মিথিলা
আপুকে দিয়ে আমার টিউটর হিসেবে
আপনাকে ঠিক করি।
.
কি!!! মিথিলা তাহলে ইচ্ছা করে
আমাকে এই টিউশনি টা ঠিক করে
দিয়েছে। দেখো আমি তোমার মতো
বড়লোক বাবার এক মাত্র আদুরের
দুলালী না যেন সব কিছু চাইলেই
পাবো,আমারও একটা পরিবার আছে
এবং সেই পরিবারের দায়িত্বটা আমার
উপরই। আর যেটাকে তুমি আমার
এটিটিউড বলছো ওটা আসলে আমার
এটিটিউড না, আমার সাধ
(ইচ্ছা)থাকলেও সাধ্য(উপায়) নাই তাই
নিজেকে এমন ভাবে গড়ে তুলেছি যে
সাধ(ইচ্ছা) নামক জিনিসটা
যেনআমার মাঝে না জেগে উঠে।
আমার পক্ষে তোমাকে আর পড়ানো
সম্ভব না, তুমি নতুন একজন শিক্ষক
খুঁজে নিয়ো বলেই স্পর্শ নীলাদের
বাসা থেকে বেড়িয়ে আসে।
.
৭ দিন পর হঠাৎ করেই নীলার বাবার
ফোন আসে এবং স্পর্শকে তার বাসায়
ডাকে। অনেকটা কৌতূহল এবং মনে
হাজারো প্রশ্ন নিয়ে নীলাদের
বাসায় যায় স্পর্শ। না জানি আবার
কি করে বসে নীলা, মেয়েটাকে
একটুও বিশ্বাস করা যায় না। স্পর্শ
বাসায় যেতেই সবাই মিলে জোর করে
নীলার সাথে তার বিয়ে দিয়ে দিলো।
স্পর্শের ছোট বোন এসে বলল ভাইয়া
ভাবি কিন্তু অনেক সুন্দর, তোর পছন্দ
আছে বলতে হবে। তার মানে স্পর্শের
পরিবারও এই জোরপূর্বক বিয়ের সাথে
জড়িত। কি হচ্ছে এইসব আর কেনোই বা
হচ্ছে তা কিছুতেই বুঝতে পারছে না
স্পর্শ।
.
অনেকটা হতবিম্ব হয়েই নীলার রুমের
দিকে গেলো স্পর্শ। কোথায় থেকে
কি হয়ে গেলো তা এখনো মাথায়
ঢুকছে না। স্পর্শ রুমে ঢুকতেই নীলা
বলে উঠলো কি ভেবেছিলে তুমি
আমার ভালোবাসায় রাজি না হওয়ায়
আমি খাওয়া দাওয়া ছেড়ে দিয়ে
অসুস্থতার অভিনয় করবো। না এইসব
আমাকে দিয়ে হবে না, এইসব করা
মানে সময় নষ্ট করা তাই যেটা করলে
সময়ও বাঁচবে এবং তোমাকেও
সারাজীবনের মনে পাবো সেটাই
করেছি।
.
-----হুম, কিন্তু এইসব তুমি কিভাবে
করলা?? আর তোমার বাবাকে
কিভাবে রাজি করালে??
.
---সেইটা তোমাকে শুনতে হবে না।
.
--- না,শুনতে হবে তুমি বলো।
.
--- বাবাকে বলেছি বাবা আমি
প্রেগন্যান্ট এবং তুমি আমার পেটের
সন্তানকে অস্বীকার করেছো। যদি
তোমাকে আমি নাই পাই তাহলে আমি
এই পেটের বাচ্চা সহ সুইসাইড করবো।
তাই বাবা বাধ্য হয়েই রাজি হয়েছে
এবং তোমার পরিবারকে সব খুলে বলে
এখানে এনেছে।
.
---তুমি বললা আর তোমার বাবা
বিশ্বাস করেছে?
.
---বিশ্বাস না করার কি আছে,ডাক্তার
আংকেলকে বলে একটা নকল রিপোর্ট
আগে থেকেই তৈরী করে
রেখেছিলাম।
--- আল্লাহ,,, তুমি এইটা করতে পারলে,
এইভাবে আমাকে সবার সামনে খারাপ
বানাতে পারলা?
--- না,পারার কি আছে তুমি যদি মুখের
উপর আমার ভালোবাসাকে না করে
দিতে পারো তাহলে আমি কেনো
পারবো না। এইটা তো কেবল শুরু,যদি
আর একবার শুনি যে তুমি আমাকে
ভালোবাসো না তাহলে দেখো কি
করি।
---- না না ভালোবাসি, ভালোবাসি
তো পাগলি।
---- কতোটুকু???
----গতকালের চেয়ে বেশী এবং
আগামীকালের চেয়ে কম।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now