বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

তুই থেকে তুমি

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ ছহিনুর রহমান বিন মনির (০ পয়েন্ট)

X . কদিন যাবত রাইসাকে খুব জ্বালাচ্ছি, একটা রিলেশনের ব্যাবস্থা করে দিতে। দুষ্ট মেয়ে তাল-বাহানা করছে। ফেইসবুকে চ্যাটে বলি, ক্যাম্পাসে যখনি দেখা হয় আমার কথা একটাই, আমি রিলেশন করবো। তুই এর ব্যবস্থা করে দে! কে জানে এই কথা কি ওর কানে যাচ্ছে নাকি নিচ্ছে না?? কথাটা বলার সময় শুধু আমার দিকে তাকিয়ে কি যেন ভাবে? উদাসীনতা...! . কিছুদিন পর, শুয়ে শুয়ে মোবাইলটা হাতে নিয়ে ফেইসবুক চালাচ্ছিলাম। হঠাৎ রাইসার নক...... --তোর জন্য একটা কিউট পেত্নী পেয়েছি। ---সত্যিই?? --হুমমম, মেয়েটা অনেক ভালো। তোর পছন্দ হবেই, আর মানাবেও বেশ!! ---সত্যি বলছিস তো?? --আরে হ্যাঁ সত্যি, দেখ তোকে রিকুয়েস্ট পাঠাইছে। আমি বলেছি। আমি উছ্বাসিত হয়ে রিকুয়েস্ট অপশনে গেলাম, হ্যাঁ সত্যিই তো -"চিরকুটের কন্যা" নামে একটা আইডি। হুমমমমমম মেয়ে, কিন্তু প্রিন্সেসের একটা পিক দেওয়া। প্রোফাইটা ঘুরে দেখলাম, একদম নতুন একাউন্ট। মাত্র দুদিন হলো খুলেছে। আমি তৎক্ষনাৎ রাইসাকে বললাম...... ---এটা কি সত্যিই মেয়ের আইডি?? নাকি আমাকে বোকা বানানোর চেষ্টা করছিস?? --আরে গাধা, এটা একদম রিয়েল আইডি! তোর কি আমার প্রতি বিশ্বাস নেই? ---হ্যাঁ আছে, এজন্যই তো তোকে বলেছি। --তুই একদম নিশ্চিত থাক এটা একটা মেয়ের, কিউট পেত্নীর। . যাইহোক, নামটা বেশ অদ্ভুদ। আমার খুব পছন্দ হয়েছে, কিন্তু দেখতে কেমন হবে, কেমন চরিত্রের মেয়ে?? না, রাইসার প্রতি আমার বিশ্বাস আছে। ও এমনটা করতেই পারবে না। তাইতো ওকে অনেক ভালো লাগে। সাথে সাথে রিকুয়েস্ট এক্সেপ্ট করলাম। ওমা, আমি নক করতে যাবো তার আগেই ও আমাকে নক দিলো.. --হ্যালো....(চিরকুটের কন্যা) ---হাই, কেমন আছেন??(বিপ্লব) --হুমমম, ভালো। আপনি?? ---ভালো....আপনি রাইসার ফ্রেন্ড?? --হুমমমমম। রাইসা আমাকে আপনার সম্বন্ধে সব বলেছে। ---ও তাই!! তারপর হয়ে গেলো অনেক কথা। আমি ওর প্রতি এতটাই বিমগ্ন ছিলাম যে ওর আসল নামটা জানার কোন ইচ্ছেটাই ছিল না। ওর সাথে কথা বলছি এতেই অনেক ইমোশনাল হয়ে পড়লাম। এর মধ্যেই কতকিছু ভেবে ফেললাম। না, এখন রাইসাকে একটা ট্রিট দিতে হবে। কালকেই দিব। না চ্যাটে নয়, একটা ফোন দেই রাইসাকে। খুশিতে রাইসাকে একটা ফোন দিলাম........ আমারর ফোনটা পেয়ে রাইসা আতকে গেলো, কিছু বুঝতে পারলাম না। মনে হচ্ছে ওকে আজ প্রথম ফোন দিয়েছি। যাইহোক..... ---রাইসা শোন, কাল সকাল ১১ টায় ধানসিঁড়ির সামনে থাকবি, তোকে ট্রিট দিব। --কে...কেন?? ---না, এমনিতেই। মন চাইছে, তুই থাকবি ব্যাস। আর কোন কথা নেই। --কিন্তু.... ---কোন কিন্তু নেই, তুই আসবি এটাই ফাইনাল। আমি রাখলাম..... --হ্যালো....শোন..... রাইসার সাথে আমি ফোনে বেশি কথা বলিনা, ওর এমন মলিন কন্ঠ বারবার কি যেন মনে করিয়ে দেয়। আস্তে আস্তে কথা বলা ওর প্রতি আসক্তি বাড়িয়ে তুলে, তাই ওর সাথে খুব বেশি কথা বলতে চাই না। রাইসা খুবি সুন্দরী ও মায়াবতীও বটে। কিন্তু একটু লজ্জাটা কম, সবার সাথে না। মাঝেমধ্যে আমাকে কিল-ঘুষি মারে। . ঘুম আসছে না, বিছানায় শুয়ে শুধু এদিক-ওদিক করছি। বারবার সিলিং ফ্যানের দিকে তাকিয়ে থাকি, ভীষণ ভাবনায় মগ্ন হয়ে গেলাম। আমি তো এমন ছিলাম না, হঠাৎ একটু কথা বলেই এমন? সারারাত মনের মধ্যে কল্পনা-জল্পনা, ইসসসস এত ভাবনা কোথা থেকে আসলো হঠাৎ?? শেষ ভোরবেলা চোখের পাতাগুলো লাগলো..... ও শিট, রাইসার সাথে দেখা করতে হবে। এটা মনে পড়তেই লাফিয়ে ওঠলাম, ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি ১০:৩০ মিনিট। ও বাঁচা গেলো, এখনো আধঘন্টা সময় আছে। ফ্রেশ হয়েই তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে পড়লাম। . ঠিক ১১:১০ মিনিট, ধানসিঁড়ি রেস্টুরেন্টে বসে আছি। এখনো রাইসা আসছে না। এইতো বলতেই বলতেই চলে আসলো..... ---বাহ্ আজ তো তোকে অনেক সুন্দর লাগছে!! রাস্তায় আসার সময় কতজন ক্রাশ খেয়েছে?? (বিপ্লব) --যা তো, দুষ্টামী করবি না। কতজন ক্রাশ খেয়েছে আমি কিভাবে বলবো??(রাইসা) ---হুমমমম, এখন তো আমি নিজেই ক্রাশ খাচ্ছি। --খা, ইচ্ছেমত খা। আচ্ছা, আজ তোকে এত টায়ার্ড লাগছে কেন?? রাতে ঘুম হয়নি?? ---হুমমম, তুই কি করে বুঝলি?? --তোকে দেখে। ---আসলে ওর সাথে চ্যাট করার পর একটু বেশিই ইমোশনাল হয়ে পড়েছি। আচ্ছা শোন, মেয়েটাকে ভীষণ দেখতে ইচ্ছে করছে। একটু দেখা করতে বল না!! --ইসসসস, এখনি? আর কয়েকটা দিন যাক। পরে ঠিক করিয়ে দিব। ---আচ্ছা ঠিক আছে, এখন বল কি খাবি?? --তুই যা খাওয়াবি.... . তারপর থেকে আজ ঠিক দুই মাস হয়ে গেলো, এখনো ওর সাথে ফোনে কথা বলিনি, দেখাও করিনি। শুধু রাইসার উপর বিশ্বাস করে চ্যাট করছি। চ্যাট ভালোবাসা হয়ে গেলো। অসম্ভব ভালবেসে ফেলেছি, সকাল-বিকাল সবসময় ওর সাথে চ্যাট করি। ক্যাম্পাসে মাঠের পাশেই বসে আছে রাইসা, নজরে পড়তেই ওর দিকে ছুটে গেলাম। পেছন থেকে ওর মাথায় একটা চড় দিয়ে সামনে এগিয়ে গেলাম। মুখ ভেঙচি দিয়ে... --ইডিয়ট কোথাকার! যা তোর পেত্নীর কাছে যা, এখানে আমাকে জ্বালাচ্ছিস কেন? (রাইসা) ---কেমন আছিস? (বিপ্লব) --যা তো, এখন ডিস্টার্ব করবি না। পেত্নীকে পেয়ে তো আমার কথা একদমই ভূলে গেছস? ---আরে না, কই ভূলে গেলাম? ভূলে গেলে কি তোর কাছে আসতাম। তুই তো আমার দুষ্ট-মিষ্টি বান্ধবী। --হয়েছে হয়েছে ঢং করতে হবে না। এখন বল পেত্নীর কি অবস্থা? ---হুমমমম, ভালোই। অল্প কয়েকদিনেই অনেক বেশি ভালোবেসে ফেলেছি --ইইই ঢং কত! (আমি তো সব জানিই, তোমার সাথেই হবে আমার দেখা) . তারপর একদিন ও নিজেই আমার সাথে দেখা করতে চাইলো.... নদীর ধারে, কাশফুলের আভাস। কাশফুল আমার ভালো লাগে। ও ঠিক নদীর ধারেই দাড়িয়ে আছে, আসার সময় কতগুলো কাশফুল তোলে আনলাম। আমি চাই আমাদের প্রথম দেখাটা যেন স্মরনীয় হয়ে থাকে, তাই ওর জন্য একটা শাড়িও নিয়ে আসলাম। দূর থেকেই দেখা যাচ্ছে, একটা মেয়ে ঠিক যেখানে বলেছিলাম ওখানেই দাড়িয়ে আছে আমার ভালো লাগার হলুদ রঙের শাড়ি পড়ে। ইসসসসস বসন্তের ছোয়া লেগে গেছে ওর মনে। একটু কাছে আসতেই দেখি.... ---কিরে তুই (চমকে ওঠলাম)?? (বিপ্লব) ---হুমমমম, আমি। (রাইসা) --তুই এখানে কি করছিস?? তুইও কি প্রেম করতে এসেছিস নাকি? কিরে কবে থেকে? কিছুই তো বললি না? --হুমমমম। ---তুই এই হলুদ রঙের শাড়ি পড়ে আসছিস কেন?? --কেন কোন সমস্যা?? ---না, ঠিক সমস্যা না, তবে..... আচ্ছা ভালোই হয়েছে ও আজ আসবে। কিন্তু ও এখনো আসছে না কেন?? --ও আসবে না। ---আসবে না মানে?? --কারন ওটা আমিই। চিরকুটের কন্যা আইডির মেয়েটা আমি নিজেই...... ---হোয়াট?? কি বলছিস তুই? --হুমমমম, সত্যি বলছি। আমি তোকে অনেক ভালোবাসি রে!! অনেক ভালোবাসি, সেই ভার্সিটির প্রথম দিন তোকে দেখেই আমার খুব ভালো লেগেছিল। তারপর তোর সাথে মিশতে চাইতাম, একদিন হয়ে গেলো বন্ধুত্ব। সেদিন খুব খুসি হয়েছিলাম আমি। ভেবেছিলাম মনের কথাটা বলে ফেলবো, কিন্তু আমাদের বন্ধুত্বটা আরো গাঢ় হয়ে গেল। ভাবলাম বললে হয়ত তুই কি ভাববি? আর যখন দেখছি সেই তুই রিলেশন করার জন্য মেয়ে দেখতে আমাকেই বলছিস তখন তো আমি আরো ভেঙে পড়লাম। তাই বাধ্য হয়ে..... আমি কিছু বলতে পারছিনা, শুধু ওর মুখের দিকে তাকিয়ে কথাগুলো শুনছি। কি করুণ সুরে কথাগুলো বলছে, এর আগে ওকে কারও সামনে এমন ছোট হতে দেখিনি। --বিশ্বাস কর, তোকে অনেক ভালবাসি। কিছু বলতে পারছিলাম না... ---আরে কান্না করতেছিস কেন?? কান্না বন্ধ কর, আমাকে আর ইমোশনাল করিস না। এমনিতেই আমি তোকে অনেক ভালোবেসে ফেলেছি....তোর কান্না আগেও সহ্য হয়নি এখন তো আরো হবে না। কিন্তু তুই আমাকে ভালোবাসিস এটা বললেই হতে, এমনটা করার দরকার ছিল না। আমি কি এতটাই খারাপ?? পাগলীটা আমার কথাগুলো শুনে স্তম্ভিত হয়ে পড়ে। ভেবেছিল আমি ওকে রিফিউজ করে দিব, তাই সত্য কথাগুলো বলেই চলে যাবে এমন ভাব। কিন্তু ও বুঝে ওঠতে পারেনি যে, আমি ওর প্রতি কতখানি দূর্বল হয়ে পড়েছি। ও ঠিক জানে না, আমার মনে ও কতটা জায়গা করে নিয়েছে? যাইহোক অনেকদিন যাবত ওকে জেনে আসছি, সম্পর্কটা খারাপ হবে না। দেখ কান্ড পাগলীটা এখনো কান্না করছে! . ---তুই আমাকে ভালোবাসিস তো?? (বিপ্লব) --(মাথা নাড়িয়ে) হুমমম। (রাইসা) ---তাহলে আমার বুকে আয়!! পাগলীটা কিছু না ভেবেই অবাক হয়ে একবার আমার চোখে তাকালো। তারপর আমাকে জড়িয়ে ধরলো খানিকটা হাসি মুখে। ইসসসস এই প্রথম কোন মেয়ে আমাকে এভাবে জড়িয়ে ধরেছে, খুব শক্ত করে। তাও আবার রাইসা, আমি ঠিক ভেবে ওঠতেই পারছি না রাইসার সাথে আমার এমনটা হয়ে যাবে। আমাদের সম্পর্কটা আরো গভীরে চলে যাবে। ওর মাথাটা তুলে চোখের দিকে তাকিয়ে রইলাম, পাগলীটা এখনো চোখের পানি মুছে নি। দু'হাত দিয়ে ওর নরম গালে কাজল মাখা চোখের পানিগুলো মুছে দিলাম। খুব খুশি হয়েছে ও, এই প্রথম ওকে এমন খুশি হতে দেখেছি। একদম প্রাকৃতিক, আগের খুশি গুলো ছিল কৃত্রিম। ও হ্যাঁ মনেই তো ছিল না..... ---তোর জন্য আমার প্রিয় কাশফুল, আর একটা শাড়ি এনেছি।(বিপ্লব) --হুমমমম। কিছু কাশফুল ঝাকিয়ে ওর শরীরে মেখে দিলাম, খানিকটা দুষ্টামী ভাব। আর কিছু লম্বা ফুলগুলো ওর হাতে দিলাম। সাথে শাড়ির প্যাকেটটাও, আর বললাম..... ---এখন থেকে তুই তুই নয় তুমি তুমি হবে।(বিপ্লব) --(মুচকি হেসে) হুমমমম তুমি! (রাইসা) ওর গ্যাজা দাতের হাসিটা যখনি দেখি তখনি ক্রাশ খাই, আচ্ছা আমিও কি ভালোবাসতাম?? হয়তবা, না হলে ওর প্রতি আমার এমন লাগতো কেন? ---রাইসা চলো, আমরা আজ সারাদিন ঘুরে বেড়াবো। তোমাকে নিয়ে পালতোলা নৌকায় নদীতে ভেসে বেড়াবো। আচ্ছা শোন, নদীর ওপারে একটা চায়ের দোকান আছে সেখানে দুজনে একসাথে বসে দুধ চা খাবো। তুমি ফুসকা খাবে? তোমার তো ফুসকা খেতে অনেক ভালো লাগে! কি ব্যাপার হাসছো কেন?? --তো..তোমার কথা শুনে। ---হাতটা ভালো করে ধরো! তুমি আমার গার্লফ্রেন্ড না! --হুমমম। . আজ থেকে রাইসার প্রতি দায়িত্বটা আমার অনেক বেড়ে গেলো। চিরকুটের কন্যা থেকে রাইসা, হুমমমম ভালবাসাটা পূর্ণ হলো||


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১৩৩৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ তুই থেকে তুমি

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now