বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মেয়ে নোট

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ ছহিনুর রহমান বিন মনির (০ পয়েন্ট)

X জানিস রোদ এই ১ হাজার টাকা টা মেয়ে নোট। ' রোদমিলা ভ্রু কুঁচকে ফেললো, মেয়ে নোট মানে? 'এই টাকা আজ সকালে আরো ৫ টা বাচ্চা দিয়েছে।' জাহিদের কথা শুনে রোদমিলার বিরক্তি চরমে উঠল,' এইসব আজব আজব কথা বলবেন না তো আমার সাথে। ' ' তুই বিশ্বাস করলি না তো? আমি বইয়ের ভেতর রাখছি এই ১ হাজার টাকা আজ খুলে দেখি সাথে আরো ৫ টা একশো টাকার নোট। বাচ্চা না দিলে কোথা থেকে আসল তবে? ' ' নিজেই হয়ত কোন সময় রেখে ভুলে গেছেন। আর বইয়ের ভেতর টাকা রাখার অভ্যাস পাল্টান, হারিয়ে যাবে। ' ' আমার টাকা গুলা খুব বুদ্ধিমান, হারায় না। মাঝেমাঝে বাচ্চাও দেয় হেহেহে,,,, নে টাকা টা রাখ তোর জন্মদিনের গিফট। আমি কি থেকে কি কিনব তোর ভাল লাগবেনা, নিজেই কিছু কিনে নিস। ' এই সময় রাফি রুমে ডুকে জাহিদে মাথায় গাট্টা মেরে দিলো, ' কিরে শালা তোর খবর কি? চল বাজারে যাবো, বস একটু। ' বলেই চট করে নিজের রুমে ডুকে গেল। একটু পর পুরাতন লুঙি, গেঞ্জি পড়ে হাজির। ওর এই স্বভাব হাটে বাজারে ভাল পোশাক পড়ে যাবেনা। রাফির আম্মা এসে রাফির হাতে ব্যাগ দিয়ে জাহিদের হাতে টাকা আর বাজারের লিস্ট টা দিয়ে বলল, 'বাবা বাজার তুমি নিজে করবা, রাফিকে দিয়ে ভরসা নাই। আর আজ রাতে থেকে যেও। ' ' আন্টি আমি তো মাসের ৭ দিন এখানেই থাকি,এ আর নতুন কি হেহেহে। ' রাতে বেশ আয়োজন করেই জন্মদিন পালন হল। এতবড় মেয়ে কেক কেটে জন্মদিন করে জাহিদের কাছে বড়ই আজব লাগে। এদের পরিবারই এমন, এখন পর্যন্ত ওদের বড় ভাইয়েরও জন্মদিন পালন করা হয় । প্রায় ৪-৫ বছর ধরে রণ ভাই দেশের বাইরে তবুও কেক কাটা বাদ যায় না। আর এ বাড়ির প্রতিটা অনুষ্ঠান আয়োজনের গুরু দায়িত্ব থাকে জাহিদের উপর। সব কিছু ও খুশি মনেই করে। রাফি ওর খুব প্রিয় আর একমাত্র বন্ধু, পারলে ওর জন্য জান দেয়। আর আন্টিও খুব ভাল মানুষ,ভীষণ আদর করে ওকে। পরদিন ঘুম থেকে উঠে রুমের বাইরে এসেই জাহিদ অপ্রস্তুত হয়ে গেল। পড়বি তো পড় একেবারে রাফির বাবার সামনে পড়ল। ইনি একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে বেশ বড় পদে চাকরি করেন, যার কাজই হল ঘুরে বেড়ানো। উনার সামনে জাহিদ সহজ হতে পারে না , একটা অস্বস্তিবোধ ঘিরে রাখে। কাল রাতেও তো বাসায় ছিলেন না আজ আবার কোথা থেকে আসল রে বাবা! ' আসসালামু আলাইকুম আঙ্কেল, ভাল আছেন? ' হাতের কি একটা ইশারা করেই চলে গেলেন উনি। হাফ ছাড়ল জাহিদ, বেছে বেছে এমন দিনে আসে যেদিন রাফির বাবা বাসায় না থাকে, তবুও মাঝেমাঝে দেখা হয়ে যায়। উনার ভাবসাব দেখে মনে হয়না খুব একটা পছন্দ করেন জাহিদ এখানে এসে প্রায়ই থাকে, যদিও কিছু বলেননি কখনো। ও আবার চোরের মত রুমে ডুকে গেল। রোদমিলার গানের রিহার্সেল শুরু হলে আরামসে বের হওয়া যাবে। বাবা বাসায় থাকলে ও গান করে না। রোদমিলার গান শুনা যাচ্ছে, খুব দরদ নিয়ে গাইছে " আমারো পরানো যাহা চায়,তুমি তাই তুমি তাই গো.... " 'তুই এই গান ছাড়া আর কোন গান গাইতে পারিস না? সবসময় খালি এটাই শুনি। ' গান বন্ধ করে দপ করে উঠে দাড়াল রোদমিলা ' আপনাকে শোনানোর জন্য কে গাইছে? আর শুনতেই কে বলছে হ্যা? ' তীব্র গলায় কথা গুলো বলেই ধুপধাপ করে নিজের রুমের দিকে চলে গেল। আফসোস ভরা চোখে তাকিয়ে রইল জাহিদ এই অভদ্র বদমেজাজি মেয়ে কেমন করে আন্টির মেয়ে হল! * বর্ষা যাই যাই করেও যাচ্ছেনা। হুটহাট বৃষ্টি নামে। রাস্তা ভর্তি প্যাচপেচে কাদা। কি একটা জুতা কিনেছে জাহিদ পানি লাগলেই ক্যাঁচক্যাঁচ শব্দ করে। সবাই পাশ কাটানোর আগে একবার মুখের দিকে তাকায়। এসবে অবশ্য ভ্রুক্ষেপ নেই ওর। একটা ফ্ল্যাক্সিলোডের দোকান খুঁজছে, রাফিকে ফোন করা দরকার। অনেক দিন দেখা নেই। অবশ্য আজ ওদের বাড়িই যাওয়ার প্ল্যান করে রেখেছে কিন্তু জানা দরকার ওর বাবা বাসায় কিনা। এ কথা সরাসরি জিজ্ঞাস করা যায় না কৌশলে জানতে হয়। হঠাৎ চোখ পড়ল একটা দোকানের সামনে রোদমিলা দাঁড়িয়ে আছে, দেখে মনে হচ্ছে কারো অপেক্ষা করছে। চলে যাবে কিনা একবার ভাবল, আবার ভাবল এর কাছেই জেনে নেয়া যাক আঙ্কেল বাসায় না কি। ' কিরে রোদ কি করিস এখানে? ' ' হাওয়া খাচ্ছি, খাবেন? ' ' হেহেহে তুই দেখি রসিকতাও করিস, তা আঙ্কেলের শরীর ভাল তো? ' ও চোখ সরু করে তাকিয়ে বলল,'আম্মার কথা জিজ্ঞাস না করে আজ আব্বার কথা জিজ্ঞাস করছেন যে? ' 'ইয়ে মানে,, ওই আমি জিজ্ঞাস করতে পারি না? আন্টির কথাও জিজ্ঞাস করতাম তুই ই তো কথা শেষ করতে দিলি না ' ' বুঝি সব আমি। তা এই কটকটে খয়েরি রং এর পাঞ্জাবী পড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন কেন? জানেন কত বিশ্রী দেখাচ্ছে আপনাকে? ' জাহিদের মেজাজ খারাপ হয়ে গেল তবুও হাসল,' কত বিশ্রী? ভাদাইম্ম্যার মত? ' রোদমিলা বেশ রেগে গেল, ' আপনার মত আপনার কথা গুলাও বিশ্রী। ' ' খালি পেটে ভাল কথা আসে না রে বোন, এই বিশ্রী মানুষটারে কিছু খাওয়া দেখবি কত ভাল ভাল কথা বলি,হেহেহে। ' কি হল কে জানে দ্রুত দৌড়ে যেয়ে একটা অটো তে লাফিয়ে উঠে গেল ও। মেয়েটা দিন দিন প্রতিবন্ধী হয়ে যাচ্ছে। আজ আর ওবাড়ি যাওয়া যাবে না।যেমন ক্ষেপে গেল।জাহিদ দীর্ঘশ্বাস ফেলে হাটতে শুরু করল। * ফোন তুলে নিয়ে দেখতেই হাত কেপে গেল, ৯৯ টা মিসড কল সবগুলো রাফির! যে কিনা খুব দরকারেও ৩ বারের বেশি কল দেয় না। তাড়াতাড়ি ব্যাক করে দেখে বন্ধ, বারবার ট্রাই করেও কল যাচ্ছেনা। মাথা খারাপ হওয়ার যোগাড়, দৌড়ে বের হয়ে রিক্সায় উঠল জাহিদ এখনো বন্ধ! ওদের বাসায় ডুকেই ডাক ছাড়ল, রাফি, রাফিইই,,, কেউ বাসায় নেই নাকি। রাফির রুম খোলা,, কেউ নেই ভীতরে বের হয়ে আসবে ঠিক তখন রোদমিলা দরজায় এসে দাড়াল,'চিল্লিয়ে বাড়ি মাথায় করছেন যে? ' ' রাফি কই ? " ' জানিনা, বাসায় নেই। কই গেছে বলে যায় নি। ' অমঙ্গল আশংকায় পাংশু হয়ে গেল জাহিদের মুখ। হঠাৎ চোখ পড়ল রোদমিলার হাতে রাফির ফোন! ' তোর কাছে ওর ফোন,তবে তুই,,,' ওর মুখে মিটিমিটি হাসি দেখে ইচ্ছা করছে ঠাটিয়ে একটা থাপ্পড় মারতে। সব এই বদ মেয়ের কারসাজি! ' আপনি ভাইয়াকে খুব ভালবাসেন না? ' কোমল গলায় জিজ্ঞাস করল রোদ। জাহিদ উত্তর না দিয়ে রক্তচক্ষু মেলে তাকিয়ে রইল। এতগুলো ফোন দেওয়ার কারন জানা গেল ১০ মিনিট পরেই। রোদমিলার বিয়ে ঠিক হয়েছে গতকাল, বিয়ে ১৫ দিন পরেই নভেম্বরের ৩ তারিখ। ছেলে সরকারি চাকুরে। বিয়ের তারিখের খুব বেশি দেরি নেই, তড়িঘড়ি করে সব আয়োজন চলল। রণ ভাইও চলে এলেন সময়মত। বাড়ির লাইটিং এর কাজ চলছে জাহিদের ডিরেকশনে। এক সময় মিলা এসে দাঁড়াল, দেখছে। ' দেখিস রোদ এমন লাইটিং করব না তোর শ্বশুর বাড়ির সবার চোখে ধাধা লেগে যাবে। এই তোর ননদ টনদ নেই? ' 'ইশ আপনার মত হাভাতের সাথে আমার ননদকে প্রেম করতে দিব ভাবলেন কেমনে? খেতে আসুন। ' বলেই চলে গেল। আজ গায়ে হলুদ, সন্ধ্যায় জাহিদ হাজির হল। বেশ ধকল গেছে এ কয়দিন। তবুও গেটের সামনে এসে মনে ফুর্তি চলে এল, আহা কি দেখাচ্ছে! এক্কেবারে রাজবাড়ি! আর বাড়ি ভর্তি সুন্দরী ললনা! ডুকার আগেই রাফি এসে ওকে একপাশে টেনে নিল। ' কিরে কি হয়েছে এখানে নিয়ে আসলি কেন?' ' তুই চলে যা জাহিদ। ' ' চলে যা মানে? ও বুঝছি সব মেয়ের সাথে একাই ফ্লার্ট করতে চাস? শালা। ' বলেই আলতো ঘুষি দিল ওর পেটে। ' ফান না সত্যি,তুই চলে যা। রোদ চায় না তুই এই বিয়েতে থাকিস। ' ধীরেধীরে জাহিদের মুখের হাসি নিভে গেল। রোদ ওকে বিশেষ একটা পছন্দ করে না জানে কিন্তু তাই বলে এতটা! ' আমার জন্য কোন ঝামেলাই হোক চাই না, যাচ্ছি। ' বলেই উল্টা হাটা দিল রাগে ক্ষোভে অপমানে চোখে পানি এসে যাচ্ছে। * দরজা ধাক্কানোর শব্দে ঘুম ভেঙে গেল,এত রাতে কে? ভাবতে ভাবতেই দরজা খুলেই জাহিদের চোখ কপালে উঠে গেল। ' তুইইই এখানে এত রাতে? কার সাথে এসেছিস? ' ' একা এসেছি আর পালিয়ে এসেছি।' ' পা..পা.. পালিয়ে!তুই তুই....' কি বলবে বুঝতে পারছে না ও। চিন্তাও করতে পারছে না ঠিকমতো। ' আপনি কি কখনোই বুঝতে পারেননি কেন আমি এমন করি আপনার সাথে? অমন করেছি রাগে দুঃখে, আপনি কখনোই আমাকে বুঝতে চাননি। অমন হা করে দেখবেন না। প্রথমদিকে আপনাকে মোটেও ভাল লাগত না আমার, কিন্তু কবে যে বাধা পড়ে গেছি নিজেও জানি না। মনে আছে আপনি একবার এক্সিডেন্ট করলেন,১৩ মার্চ ২০১৫। খবর টা শুনার পর মনে হল আপনার কিছু হলে আমি বাচব না। ' বলেই ঝরঝর করে কেঁদে দিলো রোদ। নিজের অজান্তেই এগিয়ে এল জাহিদ। ' আমি কখনোই চাই নি ভাইয়ার সাথে আপনার বন্ধুত্ব নষ্ট হয়ে যাক। আজো চাই না। ভয় নেই ফিরে যাচ্ছি। শেষবার দেখতে এসেছিলাম আপনাকে। ' দরজা পর্যন্ত যেয়েই ফিরে তাকাল, কি অব্যক্ত যন্ত্রণা চোখদুটোয়! হঠাৎ ছুটে এসে ঝাঁপিয়ে পড়ল জাহিদের বুকে হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে বলল' আমি পারবনা, আমি পারবনা, কিছু একটা করেন।' জাহিদের মনেহল ওর সবকিছু চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাচ্ছে, মনে হচ্ছে এই মেয়েকে ছাড়া ওর জীবনও অসম্পূর্ণ রয়ে যাবে। ' চল রোদ পালিয়ে যাই ' ফিসফিস করে বলল ও। ভূতের মত বাইরে এসেই দুজনে চমকে গেল। রাফি দাঁড়িয়ে আছে একটা গাড়ির পাশে। ওই এগিয়ে এল কিছুক্ষণ চুপচাপ থাকার পর বলল, ' জাহিদ আমার বোনকে কখনো যদি কষ্ট দিস তোকে আমি নিজ হাতে খুন করব। এই গাড়ি নিয়ে চলে যা। এদিকে সব আমি সামলাবো। ' জাহিদের হাতে কিছু টাকা গুঁজে দিয়েই আর দাড়াল না। * গাড়ি চলছে। চোখ বন্ধ করে জাহিদের কাধে মাথা রেখে বসে আছে রোদ। ' এই শুনো ' ' হু' ' শুধু তুমি আসলেই আমি " আমারো পরানো যাহা চায় " গানটা গাইতাম। তোমার জন্য কিন্তু তুমি তো বুদ্ধু কিছুই বুঝতে না। আর তোমার টাকা গুলাও বাচ্চা দিত না, বই নিয়ে আসলেই তোমার বইয়ে আমি টাকা রেখে দিতাম। 'বলতে বলতেই ওর কথা জড়িয়ে গেল ঘুমে। মুচকি হেসে জাহিদ আলতো করে ওর হাতটা ধরল। ইচ্ছা করছে চিৎকার করে বলে, এই মেয়েটা এত পাগলী কেন?


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ মেয়ে হয়ে জন্মানোটাই যেন একটা অভিশাপ।পাট-১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now