বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
১৩
সুরে, বিনয়ের অবতার সাজল রেক্স। ‘কিন্তু সব কথা শুনলে তুমিও
বুঝবে, এই অভিনয়টুকুর ল্ডকার ছিল। একটা কাজে তোমাকে
আমাল্ডে ল্ডকার, কিন্তু কাউকে সেটা জানতে দেয়া চলবে না, সে
জন্যেই ট্রেনে মিথ্যে কথা বলতে হয়েছে। তাছাড়া, এটা একটা
ইমার্জেন্সী...’
অতি বিনয় চোরের লক্ষণ হলেও, রানার মনে হলো রেক্স
সবটুকু মিথেল্টলছে না। যত্থি ওল্ডে পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত
হবার সহজ কোন উপায় নেই। পরিচয়-পত্র জাল হওয়া খুবই
সম্ভব। ‘তোমাল্ডে অপারেশনাল চীফের নাম বলো।’
প্রতিবাদ জানাল রেক্স, ‘এটা একটা সিক্রেট।’
‘আমার পরিচয়টাও তাই,’ বলল রানা।
এক মুহূর্ত ইতস্তত করে অপারেশনাল চীফের নাম বলল
রেক্স। এরপর রানা একের পর এক অনেকগুলো প্রশ্ন করল।
রেক্সের উত্তর শুনে মোটামুটি সন্তুষ্ট হলো ও, এরা সম্ভবত
সি.আই.এ-রই লোক, কিংবা সি.আই.এ-র ভেতর এল্ডে
ইনফরমার আছে। ‘এবার আমার সম্পর্কে কি জানো বলো,’
জিজ্ঞেস করল রানা।
গড়গড় করে বলে গেল রেক্স, ‘তুমি মেজর মাসুল্ডানা,
বাংলাদেশ কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সের একজন এজেন্ট। রানা
ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি তোমার একটা কাভার। এজেন্সির শাখা
অফিসগুলো ভিজিট করার জনেঞ্জামেরিকায় এসেছ তমি।
তোমার বসের নাম মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) রাহাত খান।
বলা যায় প্রায় অলৌকিকভাবে আজও তোমরা নিরপেক্ষতা বজায়
রেখে চলেছÑনা কম্যুনিস্ট ব−কে ভিড়ছ, না পুঁজিবাদী দুনিয়ায়।
১৪
মাসুল্ডানা-১৪১
তোমাল্ডে একটা নীতি আছে, সেই নীতির মূল কথা হলো
সুপারপাওয়ারগুলোর মধ্যে ক্ষমতার ভারসামল্টজায় রাখার চেষ্টা
করা। তাই মাঝে মধ্যে তোমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরক্তি উৎপাদন
করো, আবার কখনও সোভিয়েত রাশিয়ার। কিন্তু মজার কথা
হলো, প্রায়ই দেখা যায়, তোমাল্ডে সাহায্য ছাড়া কে.জি.বি. বা
সি.আই.এ-র চলে না। তাই সবাই পারতপক্ষে তোমাল্ডে সাথে
সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলতে চায়।
‘দুঃখিত, অন্য প্রসঙ্গে চলে গিয়েছিলাম। এবার তোমার
সম্পর্কে বলি। তুমি মেজর মাসুল্ডানা বাংলাদেশ কাউন্টার
ইন্টেলিজেন্সের...’
‘তেল মাখাবার ভাল ট্রেনিং পেয়েছ,’ রেক্সকে থামিয়ে দিয়ে
বলল রানা। ‘এবার বলো, আমাকে তোমাল্ডে কি ল্ডকার।’
‘সব কথা কি আমাল্ডে বলা হয়?’ রেক্সকে প্রায় অসহায়
দেখাল। ‘ওয়াশিংটনে গেলেই তুমি জানতে পারবে...’
‘ওয়াশিংটন?’ রানার ভুরু কুঁচকে উঠল। ‘তোমরা কি
ওয়াশিংটন থেকে আসছ?’
‘কুক্ষণই বলতে হবে, যাত্রার শুরুতেই বিপত্তি দেখা দেয়,’
বলল রেক্স। ‘গোটা আমেরিকার ওপর দিয়ে ইলিকট্রিকাল স্টর্ম
বয়ে যাচ্ছে। কোন পে−ন ফ্লাই করছে না। অথচ তোমার ট্রেনকে
থামাতে হলে পে−নে করে আসতে হবে আমাল্ডে। নিজেল্ডে পে−ন
আর পাইলট ছিল বলে আসতে পারলাম। বুঝতে পারছ তো,
তোমাকে নিয়ে যাবার জন্যে কি রকম ঝুঁকি নিয়েছি আমরা?’
‘কিন্তু সবই বৃথা,’ বলল রানা। ‘তোমাল্ডে সাথে আমি যাচ্ছি
না। কারণ, এক, তোমাল্ডে একটা কথাও আমি বিশ্বাস করছি না,
মরণখেলা-১
১৫
দুই, আমার কোন দায় পড়েনি যে সি.আই.এ-কে সাহায্য করব।
মাইল ত্রিশেক হাঁটলেই লোকালয়ে পৌঁছে যাবে তোমরা।
গুডবাই।’
‘এক মিনিট,’ দ্রুত বলল রেক্স, অস্থির দেখাল তাকে।
ওভারকোটের ভেতরের পকেট থেকে একটা খাম বের করল সে।
‘এই চিঠিটা পড়ে দেখো, প−ীজ।’ কয়েক পা এগিয়ে খামটা রানার
দিকে বাড়িয়ে ধরল সে।
‘কার চিঠি?’
‘অ্যাডমিরাল জর্জ হ্যামিলটনের।’
জর্জ হ্যামিলটন গোপন একটা ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির চীফ,
প্রেসিডেন্ট ছাড়া অল্প দু’একজন এই এজেন্সি সম্পর্কে জানে।
রাহাত খানের বন্ধু তিনি, রানাকে অত্যন্ত স্নেহ করেন। সম্ভব হলে
রানার কোন অনুরোধ তিনি ফেলেন না, রানাও আপদে-বিপদে তাঁকে সাহায্য করে। খামটা খুলে চিঠিটা বের করল ও। ছোট্ট চিঠি,
টাইপ করা, নিচের সইটা প্রথমে ভাল করে দেখল ও।
অ্যাডমিরাল লিখেছেন, ‘রানা, সি.আই.এ-র অপারেশনাল
চীফের সাথে ওয়াশিংটনে দেখা করো। সম্ভব হলে ওল্ডে কাজটা
করে দিয়ো। শুভেচ্ছা, জর্জ হ্যামিলটন।’
‘এতক্ষণ এটা দেখাওনি কেন?’ জিজ্ঞেস করল রানা।
‘সইটা তুমি জাল বলবে, তাই,’ সাথে সাথে জবাব দিল রেক্স।
‘তুমি বলতে চাইছ জাল নয়?’
অসহায় ভঙ্গিতে কাঁধ ঝাঁকাল রেক্স, বাতাসের ধাক্কায় অনবরত
টলছে সে। ‘এরপরও যদি তুমি আমাল্ডে কথা বিশ্বাস না করো,
কিছু করার নেই। ছেড়ে দাও আমাল্ডে, ওয়াশিংটনে ফিরে গিয়ে বলি, আমরা ফেল করেছি।’
(চলবে...)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now