বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বিকালে নামায পড়ে মসজিদ থেকে বের হলাম।
বাইরে এক রকম মিষ্টি বাতাস বয়ে চলছে। নীল
আকাশের সূর্যি মামাটা পশ্চিমা আকাশে হেলে
পড়েছে। এই পড়ন্ত বিকালের হালকা বাতাসটা অনেক
ভালো লাগে আমার। প্রতিদিন এই সময় আমি রেল
লাইনে বসে বসে গল্প পড়ি। তবে বৃষ্টির দিন হলে
এই পড়ন্ত বিকালের হালকা বাতাস আর সেই মিষ্টি
রোদটাকে মিস করি।
.
প্রতিদিনের মতো আজও আসলাম রেল লাইনে।
রেল লাইনে এসে মনটা সবুজরঙ এর ছোঁয়ায় ভরে
উঠল। চারিদিকে সবুজ আর সবুজ। যে দিকে থাকাই
সেদিকে শুধু সবুজ। আর এই সবুজের সমারোহ
থাকে শুধু গ্রামে। যারা গ্রামে থাকে তারা জানে
সবুজের গ্রাণ কত মধুর। মাঠ ভরে ওঠে সবুজের
ছোঁয়ায়। আর মাঠের সাথে আমার হৃদয়টাও সবুজের
ছোঁয়ায় ভরে ওঠে। এই সবুজ ঘাস, আরো সুন্দর
হয়ে ওঠে তখন যখন সকালের খোয়াশা বিন্দু বিন্দু
শিশির হয়ে ঘাসের উপর পড়ে আর সকালের সেই
সোনালি রোদটি যখন ঘাসের উপর এসে পড়ে তখন
শিশিরবিন্দু গুলো ঝলমল করতে থাকে তখন অসম্ভব
সুন্দর লাগে সেই সবুজ ঘাস গুলিকে। প্রতিদিন
সকালে সেই শিশির বেজা ঘাসের উপর দিয়ে হাটতে
আমার খুব ভালো লাগে। আর পড়ন্ত বিকালে এই
সবুজের সমারোহে আমার মন ছোঁয়ে যাই। যখন
হালকা বাতাস এসে মাঠের সবুজ ঘাস গুলোকে হালকা
দোলা দেই তখন অসম্ভব ভালো লাগে। তাই
প্রতিদিন আমি আসি আর এই সবুজের গ্রান উপভোগ
করি।
.
আজ আমি ছাড়াও আরো কয়েকজন এসেছে
এখানে তার মধ্য তিনজন আছে মেয়ে। তাদের
মধ্যে একটা মেয়ে আমার দিকে থাকিয়ে আছে।
মেয়েটা বেশ মায়াবী। আমি এত কিছু না ভেবে
একটা জায়গাই বসে ফেসবুকে গল্প পড়তে লাগলাম।
আমি আড়া চোখে দেখছিলাম মেয়েটি আমার দিকে
থাকিয়ে আছে এক দৃষ্টিতে কোন দিকে তার মন
নাই শুধু আমার দিকে থাকিয়ে আছে। আমি আবার গল্প
পড়াই মন দিলাম। হঠাৎ একটা মেয়ের কন্ঠ শুনে পাশে
থাকালাম। দেখলাম সেই মেয়েটা যে আমার দিকে
থাকিয়ে ছিল।
-- জ্বী কিছু বলবেন?(আমি প্রশ্ন করলাম)
-- আপনার নাম এস এম শাহাদত হোসেন?(মেয়েটি)
-- হ্যাঁ, আপনি আমার নাম কীভাবে জানলেন? আমি
তো আপনাকে চিনি না?(আমি)
-- আপনি ফেসবুকে গল্প লিখেন তাই না?(মেয়েটি)
-- আপনি কীভাবে জানলেন আমি গল্প লিখি?(আমি
অবাক হয়ে প্রশ্ন করলাম)
-- আমার নাম আহিয়া চৌধুরী। আমি আপনার গল্পের
একজন ভক্ত, আমি আপনার গল্প নিয়মিত পড়ি। আপনার
গল্প আমার খুব ভালো লাগে। আমার ফেসবুক আইডি
# স্বপ্নিল পৃথিবী।(মেয়েটি)
-- ধন্যবাদ।(আমি)
-- আমি আপনাকে অ্যাড দিছিলাম কিন্তু আপনি একসেপ্ট
করেন নি(মেয়েটি)
-- ওহ আসলে আমি সবসময় মেসেঞ্জার এই থাকি,
ফেসবুকে তেমন যাই না। যাই গল্প পড়তে আর
গল্প পোস্ট দিতে। তাই আমাকে রিকুয়েস্ট দিয়ে
এসএমএস না দিলে রিকুয়েস্ট একসেপ্ট করতে পারি
না।(আমি)
-- ওহ আচ্ছা,,আচ্ছা আপনার বাসা কী এখানে?
(মেয়েটি)
-- হ্যাঁ,(আমি জবাব দিলাম)
-- আমার বাসা হাটহাজারী, আমি এখানে বেড়াতে আসছি,
(মেয়েটি)
-- ওহ,,,,(আমি)
এই ভাবে আরো অনেক কথা হয় আহিয়ার সাথে।
হঠাৎ মুয়াজ্জিন তার মধুর কন্ঠে আযান দেয়। তখন আমি
তার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে যাই মসজিদে।
.
সেদিনের পর থেকে আমাদের প্রায় কথা হতো
মেসেজিং এর মাধ্যমে।
-- একটা কথা বলি কিছু মনে করবেন না,(আহিয়া)
-- হুমমম বলেন(আমি)
-- আপনার কী গার্ল ফ্রেন্ড আছে?(আহিয়া)
-- কেন?(আমি)
-- না এমনি বলেন না? (আহিয়া)
-- না নেই,,,(আমি)
-- ওহ আচ্ছা আমরা কী ফ্রন্ড হতে পারি?(আহিয়া)
-- হুমমম।(আমি)
ফ্রেন্ডশিপ নিয়ে ভালোই চলছিল আমার জীবন।
হঠাৎ একদিন ও আমার কাছে আমার মোবাইল নাম্বার
চেয়ে বসল। আমিও দিয়ে দিলাম। কারণ প্রথম দেখাই
তাকে আমার ভালো লেগে যাই তাই ওর রিকুয়েস্ট
ফেলতে পারি না।
.
সেদিন থেকে আমাদের সব সময় ফোনে কথা
হতো। কথা বলতে বলতে একসময় আমরা অনেক
ক্লোজ হয়ে যাই। বুঝতে পারি নি আমার ভালো লাগাটা
কখন ভালোবাসাই পরিণত হয়েছে। ওর সাথে কথা না
বললে আমি থাকতে পারি না। প্রতিদিন ওর সাথে দেখা
হয়। একদিন দেখা না হলে খুব খারাপ লাগত। আমার
ভালোবাসার কথা ওকে বলার সাহস হয়ে উঠেনি।
বলবো বলবো করে অনেক দিন ওর সামনে যাই।
কিন্তু ওর মায়াবী চোখের দিকে থাকালে আমার সব
কথা কোথায় হারিয়ে যাই।
.
এই ভাবে কয়েকমাস কেটে যাই। এখনও বলতে পারি
নি আমার মনে লোকিয়ে থাকা কথাটা। হাজার বার ওর
সামনে গেছি কথাটা বলার জন্য কিন্তু বলতে পারি নি।
আমার মনের কথাটা ওকে বলতে না পারলে হয়তো
ওকে চির দিনের জন্য হারাতে হবে। তাই ভাবছি সময়
থাকতে ওকে বলে ফেলব সাহস করে আমার
মনের কথাটা। তাই আগামীকাল ওকে দেখা করতে
বললাম প্রথমে রাজি হয় নি। পরে আমার
জোরাজোরিতে রাজি হয়ে যাই। ওকে প্রপোজ
করবো আমার প্রিয় পড়ন্ত বিকালে। কারণ পড়ন্ত
বিকালের মিষ্টি রোদটি যখন ওর মুখে এসে পড়বে
তখন আমার প্রপোজ করার আগ্রহ দ্বিগুণ বেড়ে
যাবে।
.
সময় মতো দেখা করার স্থানে গেলাম। গিয়ে দিকে
আহিয়া অনেক আগে এসে বসে আছে। দূর
থেকে দেখলাম সে সাদারঙ এর একটা ড্রেস
পড়েছে। যার কারণে তাকে অসম্ভব সুন্দর লাগছে।
সাদারঙ এর ড্রেসে কাউকে এত সুন্দর লাগে আজ
জানলাম। ওর দিকে এক দৃষ্টিতে থাকিয়ে আছি। চোখ
দুটি সরাতে পারছি না ওর দিক থেকে। ওর দিকে এতই
মনযোগ দিয়ে থাকিয়ে ছিলাম যে ও কখন আমার
সামনে আসলো বুঝতে পারি নি। হঠাৎ ওর কথায়
বাস্তবে ফিরে এলাম।
- এই এমন করে থাকিয়ে আছো কেন?(আহিয়া)
- তোমার সুন্দর মুখটা দেখছি।(হঠাৎ মুখ দিয়ে বের
হয়ে গেল কথাটা)
ওর দিকে থাকিয়ে দেখি ও লজ্জা পেয়ে মুখটা নিছু
করে ফেলে। পড়ন্ত বিকালের রোদটা তার মুখে
এসে পড়াই অসম্ভব সুন্দর লাগছে তাকে। আমি ভাবছি
আজ যা হবে হোক আজ আমি আমার মনের কথাটা
ওকে বলেই ছাড়ব। আমি কয়েকটা ফুল বের করে
ওর সামনে হাঠো গেড়ে বসে পরলাম। আর ওর
চোখের দিকে থাকিয়ে বলতে শুরু করলাম আমার
মনের কথা গুলি,
- তোমাকে প্রথম যেদিন দেখেছিলাম তখন
তোমাকে অনেক ভালো লাগে আমার, বুঝতে পারি
নি কখন এই ভালো লাগাটা ভালোবাসাই পরিণত হয়েছে,
জানি না তোমি আমাই ভালোবাসো কী না? তোমার
সাথে থাকলে আমার মনের মাঝে এক অনুভূতি কাজ
করত, যে অনুভূতি ভালোবাসার অনুভূতি, জানি না তোমার
মনের মাঝে এমন অনুভূতি হয় কী না? তোমার
সাথে কথা না বললে বা দেখা না করলে খুব খারাপ
লাগে আমার, যে খারাপ লাগা আমাকে রাতে ঘুমাতে
দেই না, জানি না তোমার এমন খারাপ লাগে কী না? খুব
ভালোবাসি তোমাই খুব,,,, "আই লাভ ইউ আহিয়া"
আমি আমার কথা শুনে বেশ অবাক হলাম। কীভাবে
তার চোখে চোখ রেখে এই কথা গুলো বলতে
পারলাম আমার মাথাই ঢুকছে না। হঠাৎ আহিয়া আমার কাছ
থেকে ফুল গুলো নিয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরল।
আর আমি অবাক হয়ে ভাবছি জড়িয়ে ধরার কারণ কী?
কিছুক্ষন পর ও বলতে শুরু করল,
- তোমার প্রেমে পড়ি সেই ফেসবুক থেকে
যেদিন তোমার গল্প প্রথম পড়ছিলাম। এতদিন
অপেক্ষায় ছিলাম তোমার মুখ থেকে ভালোবাসি
কথাটা শুনার জন্য। আমিও তোমাকে খুব ভালোবাসি,
খুবববব।। আমি তার কথা শুনে অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে
রাইলাম। অবশেষে বলতে পারলাম ভালোবাসি কথাটা।
.
.
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now