বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
-তুমি কি সিগারেট খাও?
.
শিহাব আস্থার প্রশ্নটা শোনা মাত্র দুই হাত দিয়ে মুখ চাপল।হঠাৎ আস্থার এমন প্রশ্ন কেন?
.
ওর ঠোঁট কি তাহলে কালো দেখাচ্ছে? নাকি গন্ধ বেরুচ্ছে। শিহাব সেই সকালে একটা সিগারেট খেয়েছে। সেটাও নাস্তার পর। এখন প্রায় দুপুর, অনেকক্ষন হয়ে গেছে খাওয়ার। সিগারেট খাওয়ার পর মাউথ ফ্রেশনার ও ইউজ করেছে। গন্ধ বের হওয়ার প্রশ্নই আসেনা।
.
শিহাব মুখের উপর হাত রেখেই জিজ্ঞেস করল,
-কেন? গন্ধ পাচ্ছ নাকি?
-নাহ,,
.
আস্থার নাহ শুনে শিহাবের মনে হলো ওর ঠোঁট তাহলে কালো দেখাচ্ছে। নয়ত আস্থা বুঝবে কিভাবে ও সিগারেট খেয়েছে।
.
শিহাবের কাছে একটা আয়না থাকলে ভালো হত। দেখা যেত ঠোঁট কালো দেখাচ্ছে কিনা?
আস্থার কাছে অবশ্য আয়না আছে,আস্থার ব্যাগে অনেক কিছুই থাকে। এই যে মাস খানেক আগে যেবার নদীর পারে বেড়াতে গিয়ে শিহাবের শার্ট এর তিনটা বোতাম ছিড়ে গেল সেবার আস্থাই সেটা সেলাই করে দিয়েছিল ব্যাগ থেকে শুই সুতা বের করে।
.
তবে শিহাবের ঠোঁট কালো দেখানোর কথা না।
ও ফিল্টার ইউজ করে, তিনশ টাকা দিয়ে নিউমার্কেট থেকে কিনেছে। দোকানদার খুব ভালভাবে বলে দিয়েছি ঠোঁট কালো হবার কোন চান্স নেই।
তবুও একবার দেখে নিলে ভাল হত তবে এখন আয়না চাইলে মেয়েটা কি ভাববে তাও একটা ব্যাপার,,
.
শিহাব আবার আস্থাকে জিজ্ঞেস করলো,
-আমার ঠোঁট কি কালো দেখাছে?
-নাতো,
-তাহলে কেন জিজ্ঞেস করলা?
-এমনিতেই ইচ্ছে হলো।
.
তবে শিহাবের আস্থার কথা বিশ্বাস হলোনা।
ও একটু ভালভাবে আস্থার দিকে তাকালো। আস্থা কখনো সেজে গুজে আসেনা শিহাবের সাথে দেখা করতে।আজো আসেনি, শিহাব কে ও এখনো বব্ধুই ভাবে।আসার আগে আস্থা চোখে একটু কাজল দিয়ে আসে।ওই চোখ জোড়া দেখতেই এত অপেক্ষা করে থাকে শিহাব।
.
শিহাব আস্থার চোখের দিকে তাকিয়ে বলল,
-হুম খাই মাঝে মাঝে দুই একটা,
-দুই একটা মানে কি? তিনটা?
-হুম,,
-সকালে খেয়ে আসছ?
-হ্যাঁ,একটা।
-ও আচ্ছা,ঠিকাছে।
-রাগ করছ?
-না,,
.
আস্থার মুখে না শুনেও শিহাবের কেমন যেন লাগলো। আস্থা সিগারেট খাওয়া পছন্দ করে না সেটা অনেক বারই ও বলেছে শিহাব কে।
শিহাব ও অনেক কমিয়ে দিয়েছে। আগে যেখানে প্রতিদিন ওর এক প্যাকেট লাগত, সেখানে এখন সারাদিনে দুই তিনটাতেই হয়ে যায়।
.
শিহাব আবার বলে,
-সর্যি, আর হবেনা।
.
আস্থা হেসে বলে,
-সমস্যা নাই। অনেক কমাই দিছো।
-হুম,,, আর কয়েক টা দিন দাও পুরো ছেড়ে দিবো।
-আচ্ছা,ঠিকাছে।
-কিছু খাবা?
-আইস্ক্রীম,
-আচ্ছা বসো।
.
শিহাব উঠে আইস্ক্রীম আনতে যায়। যেতে যেতে কয়েকবার পিছন ঘুরে আস্থার দিকে তাকায়। দূর থেকে আস্থাকে দেখতে বেশ লাগে ওর।
ব্যাপার টা আস্থার ও চোখ এড়ায় না।
আস্থা জানে শিহাব ওকে বেশ ভালবাসে। তাই আস্থা যা বলে শিহাব তাই শোনে।
.
আস্থাও শিহাবকে অনেক পছন্দ করে,হয়ত এখন একটু একটু করে ভালোও বাসছে।
রাকিবের সাথে আস্থার ব্রেকাপ হওয়ার পর শিহাবই ওর পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল।
সব কিছু জানার পরেও শিহাব আস্থাকে বলেছিল ও তাকে ভালবাসে।
.
শিহাব আর রাকিবের মাঝে অনেক পার্থক্য খুঁজে পায় আস্থা। সব চেয়ে বড় পার্থক্য টা হলো রাকিব মিথ্যা বলত।
এই সিগারেটের ব্যাপার টা শিহাব যেভাবে স্বীকার করে নিলো রাকিব স্বীকার করত না।
সে সিগারেট খাওয়ার পরেও বলত না সে খায়নি।এসব ছোট ছোট মিথ্যা গুলোকে না দেখা করে ছিল আস্থা। কিন্তু বড় কিছু মিথ্যা গুলো নিয়ে আর থাকতে পারেনি ও।
.
কদিন আগে শিহাব কে একটা মেয়ের সাথে দেখেছিল আস্থা , সেটা শিহাবকে বলতেই ও স্বীকার করে নিয়ে বলল, হ্যাঁ,ওটা ওর ক্লাস মেট। তারপর একদিন পরিচয় ও করিয়ে দিলো।
এই সেম ব্যাপার টা রাকিবের ক্ষেত্রেও হয়েছিল। রাকিব ব্যাপার টা স্বীকারই করলোনা। কিন্তু আস্থা শিউর ছিলো ও রাকিব কেই দেখেছে। কদিন পরেই দেখা গেলো,সেই মেয়ের সাথে গোপনে রাকিবের সম্পর্ক আছে। এর পরেই ভেঙে যায় ওর আর রাকিবের সম্পর্ক।
সত্য বলার সাহস কতজনের থাকে?
.
আস্থা কখনো ভাবেনি এর পর অন্য কোন ছেলে ওর জীবনে আসবে। সব ছেলেকেই ওর খারাপ লাগত।
তবে শিহাব ছিল অন্য রকম। কখনোই একা থাকতে দেয়নি আস্থাকে। তবে এখন মনে হচ্ছে শিহাবই ওর জন্য সঠিক। শিহাবই ওকে ভাল রাখবে, ভালবাসবে নিজের চাইতেও বেশি।
.
ভুল মানুষ গুলোকে বেছে নেওয়ার ভুল গুলো হার হামেশাই আমরাই করি,সেগুলো শুধরে নেওয়া উচিত আমাদেরই। আর এগুলো শুধরে নেয়া উচিত সঠিক মানুষ গুলোকে সুযোগ দিয়ে, নিজের ক্ষতি করে না।
.
শিহাব দুটা আইস্ক্রীম নিয়ে এসে আস্থার পাশে বসে। একটা আইস্ক্রীম আস্থার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলে,
-তোমার তো গত রাতে ঠান্ডা লেগেছিল তবুও খাবে?
-হ্যাঁ,,
.
আস্থা শিহাবের হাত থেকে আইস্ক্রীম নিয়ে আবার বলে,
-শিহাব তুমি আমাকে ভালবাসো?
-হুম,
-কতটা?
-অনেকটা,যতটায় তুমি কখনো কষ্ট পাবেনা।
-আচ্ছা,, আমিও তোমাকে ভালবাসি।
.
শিহাব একটু অবাক হয়ে তাকায় আস্থার দিকে।যে মেয়েটা এতদিন একবারো বলেনি কথাটা সে আজ হুট করেই বললো?
এই একটা ভালবাসি শোনার কত অপেক্ষা ছিল শিহাবের।তবুও ওর কেমন যেন লাগছে?
ঠিকাছে তো মেয়েটা?
ঠান্ডা লেগে মাথায় সমস্যা হয়নি তো।
.
আগে যতবারই শিহাব বলেছে ভালবাসার কথা,ততবারই আস্থার উত্তর ছিলো।আমি কাওকে ভালবাসতে পারব না,তবে আমরা ভাল বন্ধু হতে পারি।
সেই বন্ধুত্বের অযুহাতেই হোক মাঝে মাঝে দেখা করতে আসত শিহাব আস্থার সাথে।।
.
শিহাব জিজ্ঞেস করে,
-তুমি ঠিকাছ?
-হ্যাঁ, কেন?
-না এমনিতেই,,
.
আস্থা হাসে।
ও শিহাবের ব্যাপার টা বুঝতে পারে।ভালবাসা গুলো এমনই হয়তবা।
আর এসব ভালবাসা কোন ভাবেই হারাতে নেই, তাই আস্থাও চায়না শিহাব কে হারাতে।
ধরে রাখতে চায় ও যে কোন মূল্য।
আস্থা জানে, শিহাবের কাছে ওর মূল্য আছে অনেক মূল্য।শিহাব কখনোই ওকে ঠকাবেনা।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now