বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আসিফ পার্কের সেই বিরাট বট গাছটির নিচে বসে
সিগারেটের ধোয়া উরাচ্ছে। আর অপলক দৃষ্টিতে
তাকিয়ে আছে পশ্চিম দিকে একশো গজ দুরত্বে
বসে থাকা একজোড়া কাপলদের দিকে।
..
সে লক্ষ্য করছে তারা দুজন দুজনকে কিছু বলছে।
সে আরও লক্ষ্য করলো মেয়েটি ছেলেটির
উপর হয়তো ভীষণ রেগে আছে। ছেলেটি
ময়েটিকে কিছু একটা বুঝাচ্ছে বাট মেয়েটি বুঝতে
চাচ্ছে না। কারন আসিফ মেয়েটির মুখে বেশ
ভালো করেই তাকিয়ে দেখলো তার মুখে বেশ
বিরক্তিকর একটা ভাব।
.
এদিকে আসিফ আপন মনেই একের পর এক
সিগারেটের ধোয়া উরিয়েই চলছে। সে তাদের
বেপারটা লক্ষ্য করছে,ছেলেটি কিছুতেই
মেয়েটির রাগ ভাঙ্গাতে পারছে না। আসিফ কিছুটা
বেপার টা নিয়ে কৌতুহল হয়েই তাদের থেকে পাচ
ছয় গজ দুরে গিয়ে বসলো।
.
যদিও সে জানে কারও পারসোনাল কিছু শুনা অন্যায়
তবুও সে বেশ কৌতুহল। এবার সে বেশ করে
তাদের কথোপকথন শুনছে। এমন ভাবে আরি
পেতে শুনছে মনে হবে তার ঐ দিকে কোনো
কানেই নেই।
.
আসিফ শুনতে পেলো,,,,,
দেখ নিলা আমি তোমাকে এখন বিয়ে করতে
পারবো না। কারন আমার এখনো স্টাডি শেষ হয়নি।
তাছাড়া আমি একটা মধ্যেববিত্ত ফেমিলির ছেলে।
আমাদের পরিবারে আমার বাবাই একমাত্র উপার্জন
ক্ষমতা ব্যক্তি। এবং আমি পরিবারের বড় ছেলে।
আমায় নিয়ে আমার বাবা মায়ের অনেক স্বপ্ন। আমি
তাদের স্বপ্ন ভেঙ্গে এভাবে তোমাকে বিয়ে
করতে চাইনা।
.
অপর দিকে মেয়েটি কাঁদো কাঁদো গলায় বলছে,,
নিলয় একটা কথার উত্তর দিবে আমায়,আমি যে তোমায়
আমার থেকে অনেক বেশি ভালবাসি এতে তোমার
কোনো সন্দেহ আছে?
0-- না তো। আমি যানি তুমি আমায় অনেক লাভ করো
(নিলয়)
.
তুমি জাননা,আমি তোমায় ছাড়া একমুহুর্ত ভাবতে পারিনা।
তোমায় সাথে একদিন কথা না বলে থাকতে পারিনা। তুমি
জাননা রাত্রে কালে তোমার ঝারি না শুনলে আমার ঘুম
আসেনা। তুমি জাননা,তোমার আদর মাখা কন্ঠে গুড
মর্নিং না শুনলে আমার ঘুম ভাঙ্গেনা ? আমার
সবকিছুতেই শুধু তুমি আর তুমি।
তারপরও তুমি কিভাবে ভাবলে আমি তোমাকে ছাড়া
অন্য একটি ছেলে বিয়ে করে বাকিটা পথ পারি
দিবো।
আগামী মাসের দশ তারিখ বাবা আমার বিয়ে ঠিক
করছে। আমি বাবাকে বলেছি তোমায় ছাড়া আমি অন্য
কাউকে বিয়ে করতে পারবো না। বাবা আমার মুখের
উপর বলে দিয়েছে আমি তার পছন্দ কারা
ছেলেকে বিয়ে না করলে আমার মরা মুখ
দেখতে হবে।
নিলয়ের হাঁটুতে মাথা রেখে কাঁদছে নিলা। কি করুন
কান্না তার।
..
আসিফ তাদের বেপার টা ওখানে বসে থেকে
ইনজয় করে শুনছে আর সিগারেটের ধোয়া
উরাচ্ছে।
.
সে দেখলো নিলয় এবার মেয়েটিকে বললো
আমার কিছু করার নেই নীলা। তুমি তোমার বাবার পছন্দ
করা ছেলেটিকেই বিয়ে করে নেও। জানি হয়তো
এতে আমাদের দুজনেরই খুব কষ্ট হবে। কিন্তু
কিছুদিন গেলে সব ঠিক হয়ে যাবে। আর একটা জিনিস
ভেবে দেখ,আমাদের এই সুখের বিসর্জন দিলে দু
টো ফ্যামেলি হাসি খুশি থাকবে।
আই এম সরি নীলা। কিচ্ছু করার নেই আমার।
.
কথাটা বলেই নিলয় ওখান থেকে উঠে চলে
যেতে লাগলো। নিলয়ের চোখে বেশ জল
বের হচ্ছে কিন্তু মেয়েটিকে সে বুঝতে
দিলোনা। আসিফ বেপার টা বেশ খেয়াল করে
দেখলো। তখনো আসিফ সিগারেটের ধোয়া
উরিয়েই চলেছে।
.
মেয়েটি নিলয় কে পিছন থেকে কেঁদে কেঁদে
ডাকছে। নিলয় প্লিজ যেওনা। যেওনা নিলয় প্লিজ। আমি
তোমায় ছাড়া বাচবো না। বাট নিলয় হেটেই
চলেছে। পিছন ফিরে একবারও তাকালো না।
কি অদ্ভুত...!! এক মুহুর্তের জন্য ছেলেটি ওখানে
সার্থপর হয়ে গেলো !!
.
একটু পর মেয়েটিও কাঁদতে কাঁদতে ওখান থেকে
চলে গেলো।
আসিফ সিগারেটর লাস্ট টান টা দিয়ে সিগারেট টা পা দিয়ে
পেষ্টের ওখান থেকে চলে গেলো।
.
বেশ কিছুদিন পর ,,,,,,,,
আকাশ টা বেশ জোৎস্নায় ভরা। । সবকিছু
নিস্তব্ধ,শুনশান পরিবেশ। শুধু ঝিঝি পোকার ডাক চারি
দিকে। আসিফ আবারও একাই বসে আছে পার্কের
সেই বট গাছটার নিচে। হাতে একটা জলন্ত সিগারেট.।
আপন মনেই আকাশের ঐ কলঙ্কিত চাদেঁর দিকে
এক দৃষ্টিতে তেকিয়ে আছে। বেশ কিছুটা সময়
কেটে যাওয়ার পর সে দেখলো সেদিনের সেই
নিলয় নামের ছেলেটি সেখানে আসছে। সে দিন
তারা দুজন যেখানে বসে ছিলো। আসিফ লক্ষ
করলো ছেলেটি সেখানে এসে বসলো ।
তারপর একটা সিগারেটের বের করে মুখে দিলো।
কিন্তু পকেট হাতাচ্ছে। হয়তো মেচ খুজে পাচ্ছে
না সে। এদিক ওদিক খেয়াল করলো কাউকে
দেখতে না পেয়ে আসিফ কে দেখে তার
দিকেই আসতে লাগলো। তার পাশেই এসে
বসলো। তাকে বললো ভাই আগুন হবে আপনার
কাছে সিগারেট টা ধরাবো।
..
আসিফ কিছু না বলে তার পকেট থেকে তার গ্যাস
লাইট টা বের করে দিলো।
..
ছেলেটি সিগারেট টা ধরিয়েই সেই জায়গাটিতে বসে
আকাশের একটি তাঁরা কে লক্ষ করে বলতে
লাগলো কেমন আছো ওপারে তুমি "নীলা" ....??
.
আসিফের বুঝতে বাকি রইলো না আর যে
সেদিনের সেই নীলা নামের মেয়েটি আর
পৃথিবীতে বেঁচে নেই। আসিফ তখন চিৎকার করে
বললো আমি কতো জন কে বলবো
মধ্যেবিত্তদের কখনো ভালবাসতে নেই ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now