বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
~~~~~~~~~~~~~~~
শুরুটা ছিলো এরকমভাবে.......
.
ঘন্টা পার হয়ে যাচ্ছে,অথচ কোন দেখা নেই;আশ্চর্য মানুষ বটে....বাবার মুখে শুনেছিলাম ছেলেটা একটু লেট লতিফ টাইপের ~~সব সময় দেরি করে। সব সময় দেরি করে বলে কি আজও দেরি করবে!!এটার কি কোনো মানে হয়...?!
.
ইচ্ছে করছে চলে যেতে কিন্তু নীলা যেতেও পারছেনা... বাবার কথার খাতিরে আরো কিছুক্ষন বসে রইল।ছেলেটাকে ও আগে কখনো দেখেনি, শুধু নাম জানে আর বাবার মুখে শুনেছে, কোন এক কলেজে নাকি পড়ায়।
.
অথচ ছেলেটা নাকি নীলাকে দেখেছে, ওকে পছন্দও হয়েছে,আর ওর সাথে নাকি দেখা করতে চায়।
.এইতো সেদিনের ঘটনা,
----হুম বাবা বলো ডেকেছিলে কেন?
.
.---তোকে পাত্র পক্ষ দেখতে এসেছিলো কিন্তু তুই তো বাড়িতে ছিলিনা, তাই তোর ছবিগুলো ওদের দেখিয়ে দিয়েছি,মাশআল্লাহ পাত্র তোকে পছন্দ করেছে,
.
----বাবা,তুমি আমাকে না জানিয়েই কাজটা কেন করতে গেলে ;তুমি জানোনা আমি এখনো বিয়ের জন্যে প্রস্তুত না..?আর ছেলেটা আমাকে দেখেছে আমি তো দেখিনি, যে ছেলেকে আমি দেখিইনি তাকে বিয়ে করতে যাবো কোন দূঃখে.......
.
---মা তুই এত উত্তেজিত হচ্ছিস কেন?ছেলেটা তোকে পছন্দ করেছে কেবল..এখনো ওরা কিংবা আমরা পাকা কথা দিইনি,ছেলেটা চায় তোর সাথে একদিন ব্যক্তিগত ভাবে দেখা করতে,তারপর ডিসিশন অনুযায়ী বিয়ে হবে
.
----কিন্তুউউউউ.......
.-----কোন কিন্তু না...,আমি বলে দিয়েছি কাল দেখা করবে আমার মেয়ে, আর এটাই আমার লাস্ট ডিসিশন
.
.---বেশ ঠিক আছে,এই লাস্ট তোমার কথা রাখলাম,তবে আমি তো ছেলেটাকে দেখিইনি, চিনবো কিভাবে
.--বাবা টেবিল এর উপরে থাকা একটা খাম হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললো,... এইটাতে ওর কিছু ছবি আছে দেখে নিস আর কাল যেতে ভুলিসনা,আর হ্যা আরেকটা কথা ছেলে কলেজের প্রফেসর।
.
.তা আমি কি করব???বলেই নীলা একপ্রকার বিরক্তি নিয়ে গজগজ করে হেটে নিজের রুমে গেল।একটা বিকট শব্দে দরজা টা লাগিয়ে দিলো.......
.
.বিছানায় বসে খামটা হাতে নিয়ে কোচড় মোচড় করতে করতে দাতে দাত চেপে রাগে ফুলছিলো।নীলার বাবা ঘটনাটা আন্দাজ করতে পেরে হাসতে হাসতে নিচ থেকে বলতে লাগলো, ''এরকম করে কোনো লাভ নেই মামনী.... কাল তোমাকে যেতেই হবে।এরপর কিচ্ছুক্ষণ পর বাবা মেয়ের বাক্যযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়।
.
সেদিন নীলা রাগ করেই খামটা আর খুললোনা,কোচড়ানো খামটা তুলে ওর ব্যাগে রেখে দিল
.
সকালে উঠে ড্রেস ট্রেস পরে রেডি হয়ে এক রকম অসস্তি নিয়েই মহাশয়ের (পাত্রের)বলা জায়গাটাতে এসেছে আর ঠিক এই মূহুর্তে বসে বসে উপরের কথাগুলো ভাবছে ....
.
.ভাবনাটা আর বেশি এগোলোনা নীলার,পাশেই কোথা থেকে জানি একটা আওয়াজ এলো... ''কেমন আছেন?'
.
নীলা চারপাশে চোখ ঘুরিয়ে খেয়াল করলো, কই কেউ তো না।হয়তো আমার ভ্রম এই ভেবে চুপচাপ আবার বসে রইলো......দ্বিতীয়বার ''হ্যালো শুনছেন?''বলে কে জানি ওর কাধে হাত রাখলো।
.
আচমকা অন্য হাতের স্পর্শ পেয়ে নীলার গা কেমন জানি আক্সস্মিক ভয়ে শিউরিয়ে উঠল.........যত্রতত্র পেছন দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে দাঁড়ানো লোক্টিকে দেখে ভুত দেখার মত ভয় পেয়ে উত্তেজনার বসে ঠাস করে একটা চড় বসিয়ে দিলো।
.
যে কেউ ওইরকম সিচুয়েশনে পরলে ভয় পাওয়ারই কথা বিশেষ করে হঠাৎ করে হুটহাট আপনি যদি পিছনে তাকিয়ে দেখেন আপনার সামনে দাঁড়ানো লোক্টি আপনার দিকে এমন ভঙ্গী তে দারিয়ে আছে যা দেখে আপনি ভয় পাবেন....
.
.লোকটা গালে হাত দিয়ে পরিস্থিতি বোঝার চেস্টা করলো....ঠিক তখনি...
.
---হাউ ডেয়ার ইউ?আমার কাধে হাত দিলেন কেন?অসভ্য,ইতর....অপরিচিত একা একটা মেয়ে বসে থাকতে দেখলেই কি ভুতে কিলাই নাকি?আরো মনে যা আসলো সব কিছুই বলল...
.
.
বোকা ছেলে মুখটা হা করে নীলার দিকে তাকিয়ে থেকে কথা শুনছে আর অবাক হয়ে...
.২০ মিনিট ঝাড়ি দিতে দিতে নীলা প্রায় হাপিয়ে গেলো এবং একসময় থেমে গেলো
.
.--পানি খাবেন??
.
হাপানো কন্ঠে.. '' আপনার লজ্জা আছে??একজন অচেনা মেয়ের কাছে এত ঝাড়ি খেয়েও আপনি ফ্লার্ট করে কথাটা বলছেন?
.
---আমি ফ্লার্ট করছিনা...বাই দা ওয়ে আপনি হয়তো আমাকে চিনতে পারেননি?
.
----ধুর আজব তো...চিনতে পারিনি মানে??কে আপনি??
.
---আমি... ইয়ে মানে আমি....আমিমি....
.
----ইয়ে মানে ইয়ে মানে.. মানে কি হ্যা??কথা বলতে জানেন না নাকি??নাকি ভালো সাজার নাটক.?
.
----আমার আপনার সাথে আজ এখানে দেখা করার কথা ছিল....
.
---কি যা তাহ বলছেন...আপনার সাথে আমার দেখা করার কথা..... যত্তসব... আমি এখানে এসেছি আমার বাবার বলা এক পাত্রের সাথে দেখা........আর কিছু বলার আগেই এতক্ষনে নীলার হুশ হলো...
.
.চট করে ব্যাগ থেকে খামটা বের করে খুলে একে একে ছবি গুলো দেখতে লাগলো আর সামনে থাকা লোকটির সাথে মেলাতে লাগলো....
.
----আই অ্যাম সো সরি.... আমি আপনাকে চিনতেই পারিনি...আসলে আমি তো আপনাকে দেখিনি তাই না বুঝে শুনে কথাগুলো বলে ফেলেছি...
.
---হ্যা ঠিক আছে..নো প্রব্লেম..বাট চড়টা অনেক ভালো ছিল আপনার... গায়ে জোর আছে বটে বলতে হবে...
.
.---(লজ্জা পেয়ে)আমি সত্যি চড়টার জন্যে ক্ষমা চাচ্ছি.... খুব লেগেছে আপনার দেখা যাচ্ছে.....৩টা দাগও উঠেছে। এক্সট্রিমলি সরি...
.
----জি....সমস্যা নেই...এরকম মাঝে মাঝে হয় বলেই ফোকলা একটা হাসি দিলো..
.
----তো আপনি মি:হৃদয় রাইট?
.
-----জিইই...আমিই....আপনি নীলা নিশ্চয়।
.--হুম
.নীলা হৃদয় কে পা থেকে মাথা পর্যন্ত একবার পর্যবেক্ষন করলো.....
-----
.
.পরনে একটা প্রিন্টের প্যান্ট;একটা কম ময়লা দাগ দাগ কাটা শার্ট..পুরাতন চটিজুতো টাইপের একটা স্যান্ডেল, একটা আদিযুগের হাতঘড়ি আর হ্যা মোস্ট ইম্পরট্যান্ট
একটা চশমা....মুলতো চশমা পড়ে নীলার দিকে ডাগর ডাগর চোখে তাকানোর কারণেই বেচারী ভয় পেয়ে চড়টা মেরেছিলো...
.
---আচ্ছা আপনার সাথে না আমার আজকেই প্রথম দেখা...?
.
----জি হ্যা...
.
----তো প্রথম দেখা করতে এলে এগুলা পড়ে আসে নাকি?আপনাকে কেমন দেখাচ্ছে আপনি জানেন??ঘামবাবুর মতো লাগছে....ঘেমে এক্কেরে একাকার।(হাত টা ওর দিকে উপর নিচ করে)
.
----ওহ...আচ্ছা...আমি জানতামনা...
.
.---ভালো কথা, আর হ্যা আপনি এত দেরি করে এলেন কেন??বাবার মুখে শুনেছিলাম আপনি লেট লতিফ বাট আজকের দিনে লেট করে কেউ নাকি?````~~~আমি কতক্ষন অপেক্ষা করে আছি জানেন??আপনার উপাধিটা অন্তত আজকের জন্যে পরিবর্তন করলে ভালো হত....
.
---আসলে আমার লেকচার ছিলো...সেটা শেষ করেই ডিরেক্ট এখানে চলে আসলাম,বাড়িতে গেলে হয়তো চেঞ্জ করতাম......যাইহোক আমি খুব খুব সরি....আসুন সামনে যাই......
.
নীলা আর কিছু বললনা.....হাটতে লাগলো...
.
---আপনি আমাকে কেন পছন্দ করেছেন??(নীলা)
.
---হৃদয় কিছু বললনা স্বাভাবিকভাবে হাটতে লাগলো
.
---কি হলো কিছু বলছেন না কেন?আমাকে পছন্দ করেছেন কিসের জন্যে?
.
--হৃদয় থেমে গেলো... নীলার চোখে চোখ রেখে..
.আচ্ছা আপনি কি কখনো পাখিকে জিজ্ঞেস করেছেন যে সে কেন কিচিরমিচির করে??সাগরকে কখনো জিজ্ঞেস করেছেন যে সে কেন পানি প্রবাহ করে;কবি কে কখনো বলেছেন যে সে কেন কবিতা লিখে???
.
---না.....
.
---ঠিক তেমনি একজন মানুষ এর আরেকজন মানুষ কে ভালো লাগতেই পারে এতে পছন্দ করেন কেন??এ জাতীয় প্রশ্ন আসে কোথা থেকে??
.
..
---বাই বলে নীলা চলে গেল, এই প্রশ্নের উত্তর ওর কাছে নেই...কথায় বলে বিপদে পড়লে কেটে পড়া ভালো যেমনটা এখন নীলা করলো...
.
.বাড়িতে আসতেই ওর বাবা জিজ্ঞেস করলো...কেমন লাগলো ছেলেকে?পছন্দ হয়েছে??ছেলেটা একটা হাবলু আর এক নাম্বারের কথা পটু বলে গেল নীলা।
.
রুমে এসে বসে চিন্তা করতে লাগলো, ছেলেটা একটু হাফ টিপিকাল স্বভাবের....দেখতে??উমম.. মোটামোটি আহামরি সুন্দর না আবার খুব একটা খারাপও না।ও ছেলেটাকে এত কথা শুনালো অথচ ছেলেটা কিছু বললনা....তারমধ্যে উপমা দিয়ে আমাকে পছন্দ করার কারণ দেখিয়ে দিল....কিছু একটা স্পেশাল আছে ছেলেটার মধ্যে....
.
----আমি ছেলেটাকে আর কিছুদিন দেখতে শুনতে চাই...(নীলা)
.
----আচ্ছা মা।তুই যা ভালো মনে করিস, সংসার তো তুই করবি...
.
পরের কিছুদিন নীলা টিপিক্যাল প্রফেসর হৃদয় এর সাথে সময় কাটাতে লাগলো...নীলা ছেলেটাকে প্রতিনিয়ত খেয়াল করতো...কথা বলা, চলা, অন্যদের সাথে ব্যবহার, ইত্যাদি ইত্যাদি....
.
প্রচলিত আছে..
. প্রথম দিন একজনকে খারাপ লাগতে পারে
দ্বিতীয় দিন এমনকি তৃতীয় দিন ও লাগতে পারে
কিন্তু ৪র্থ দিন তাকে ভালো লেগে যায়...
.
.এমনি এক আচমকা মুহূর্ত
.
---এই যে শুনুন.....
.---বলুন
.---I love u আর আমি আপনাকে বিয়ে করতে রাজি
.বলে হেটে গেল নীলা আর পেছনে একটা হাসির চাহনি দিলো
.
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now