বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পিপাসা

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ ছহিনুর রহমান বিন মনির (০ পয়েন্ট)

X অর্নব আর রিমি। তাদের ভালবাসা প্রায় ৬ মাস পার হয়েছে। এতেই রিমি অর্নব কে অনেক ভালবেসে ফেলে। অর্নব ছিল প্লেবয় টাইপের। রিমির সাথে রিলেশনে জড়ানোর আগে ৪/৫ টা রিলেশন করতো। তথ্য ঘেটে বুঝা যায়, এর আগের গার্লফ্রেন্ডগুলোর অবস্থা বর্তমানে খুব খারাপ। তারা বাস্তবতার সাথে সবাই মিশে যেতে পারে নি। কেউ হয়ত বেঁচে আছে তবে দুই একজন লজ্জায়, অপমানে মরে গেছে। . অর্নবের চিন্তাধারা সবসময় আলাদা। যাইহোক, রিমি জানতো অর্নব খুব ভাল একটা ছেলে। এরপর তাদের রিলেশন চলছে। অনেক আনন্দের মাঝে তারা আছে। একদিন অর্নব রিমিকে ডাকে তার বাড়িতে। সেদিন বাড়িতে কেউ ছিল না। অর্নব বলেছিল সেদিন তারা আলাদা থাকবে একটু। সারাদিন গল্প করবে। . রিমি তার বাড়ি থেকে বের হবে এমন সময় দেখে জিতু দাঁড়িয়ে। জিতু হচ্ছে রিমিকে এতদিন যে ফলো করেছে। রিমিকে যে ভালবাসার কথা বলতে পারে না। রিমি সেদিন ওকে ডাক দিল। : কি হয়েছে? (রিমি) : নাহ মানে...!! (জিতু) : বলেন। : আসলে আমি তোমায়....... : কি? : আমি....... : ধ্যাত। এই বলে চলে যায়। রিমি সহজ-সরল মনে এসেছিল অর্নবের বাড়িতে। কিন্তু অর্নব...!! সে ঘরে প্রতিটি কোণে গোপন ক্যামেরা সেট করে। তার প্ল্যান ছিল আলাদা। হয়ত বুঝেছেন! যাইহোক, অর্নব কফি নিয়ে আসলো রিমির জন্য। রিমির কাছে নিয়ে যেতেই অর্নব ইচ্ছে করেই রিমির গায়ে কফি ফেলে দেয়। রিমির ড্রেস টা নষ্ট হয়ে যায়। তখন অর্নব ভিতর থেকে তার শার্ট আর প্যান্ট বের করে এনে রিমিকে ওয়াশরুমে গিয়ে চেঞ্জ করতে বলে। কিন্তু এই অর্নব ওয়াশরুমেও ক্যামেরা সেট করেছে। . এরপর আর কি হবার!! বেরিয়ে এলো রিমি। অর্নব জড়িয়ে ধরলো। যা করার তাই করলো। অর্নব এর প্ল্যান সাকসেস হলো। তাদের মাঝে অনেক কিছুই হয়ে গেল। অর্নব প্রত্যেক টি ভিডিও ক্লিপ এক করে একটি স্ক্যান্ডাল বের করে। স্ক্যান্ডালটি নির্দিষ্ট সাইটে ছেড়ে দেয়। আর এদিকে অতিদ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি রিমির এলাকার সবাই প্রায় দেখে। ফেসবুকে জুড়ে আলোচনা। রিমির বাড়িতে এসব জানাজানি হয়। বাবা - মায়ের কথা শুনতে হচ্ছে। . এরপর কেটে যায় ৩/৪ দিন। তার ফেস এখন সবারই চেনা। হুম, ভালো কোনো গুণের জন্য না, স্ক্যান্ডালের নায়িকা হবার জন্য। জিতুকে তার বন্ধু আরিফ দেখা পেয়ে - : দোস্ত, খবর আছে। : কি? : দেখ এটা। : কি? : আরেহ স্ক্যান্ডাল। : শুন ভাই, আমি এসব দেখি না। তুই তো জানিসই। : আরে দেখ। এই এলাকারই মেয়ে। ভিডিও দেখে প্রথমে অবাক হয় জিতু। এরপর দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে ছুটে যায় রিমির বাড়ির সামনে। রিমি কখন বেরোবে সেই আশায় দাঁড়িয়ে থাকে। . একসময় রিমি বেরোয়। দোকানে কি যেন আনতে যাওয়ার জন্য। দেখা হয়ে যায় জিতুর সাথে। : রিমি..... (জিতু) : হুম... আপনিও আমায় ঘৃণা করা শুরু করেছেন জানি। তবে এভাবে এসে না জানালেও পারতেন। (রিমি) : আমি তোমায় ভালবাসি। : হাহা...! এটা কোনো কথা বললেন আপনি? : কেন? আমি তোমায় ভালবাসি। : দেখেন আমায় আমার বাবা-মা ঘৃণা করছে। এলাকার লোক ঘৃণা করছে। আমার বন্ধুবান্ধবরা আমার সাথে যোগাযোগ করে না। পরিচয় দিতে লজ্জা করে। আর আপনি তো.....!! : আমি তোমায় ভালবাসি। ভালবেসে যাব। : আপনি এখন যে ভালবাসার কথা বলছেন এটা ফুরিয়ে যাবে তখন, যখন আপনি আমায় রিকশায় নিয়ে ঘুরবেন আর সবাই বলবে, 'এটা সেই মেয়েটা, যার স্ক্যান্ডাল বের হয়েছিল'...!! . এরপর জিতু আর রিমি এর কি হয়েছে জানা নেই। তারা হয়ত এক হয়েছে। নাও হতে পারে আবার। কিন্তু অর্নবের অনেক কিছু হয়েছে। ক্ষতি বলা যায়। আজ সে কাঁদছে। খুব কাঁদছে। তার বাবা-মাও কাঁদছে। কেন কাঁদছে? . আনিকা। অর্নবের বোন। সেও ভালবেসে রিমির মত কাণ্ড করেছে। আর তার ভাইয়ের মত অন্য কেউ যে তার ভালবাসার মানুষ ছিল সে অর্নবের মত স্ক্যান্ডাল বের করেছে। অপমান সহ্য করতে না পেরে আর লজ্জায় রিমির মত এই নোংরা বাস্তবতায় বেঁচে থাকতে না পেরে সে আত্মহনন করেছে। তাই আজ সবাই কাঁদছে....!! . সবার প্রতি এতটুকু অনুরোধ থাকবে যে, ভালবাসার নামে কেউ ধোকা, প্রতারণা দিবেন না। আর খাটে একসাথে শুইলেই ভালবাসা বাড়ে না বরং সম্মান কমে। এসব অপকর্ম করার আগে ধর্মের প্রতি তাকাবেন। আপনার নিজের বোন অথবা অন্য কোনো বোনের দিকে তাকাবেন। সবার জীবন সুন্দর হোক। ধন্যবাদ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ পিপাসার্ত জীবন
→ পানির পিপাসা
→ পিপাসা
→ পিপাসা—তানভীন নাহার

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now