বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

দুর্বার ভালবাসা

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ ছহিনুর রহমান বিন মনির (০ পয়েন্ট)

X আমি রায়হান কবির রাজ । বাড়ি বগুড়া । এখানে একটি ভার্সিটিতে অনার্স ৩ য় বর্ষ। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে হিসেবে ৩ টা টিউশনি করি এবং নিজের খরচ নিজেই চালাই । ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে পড়াকালীন সময়ে বাবা–মা দুজনেই রোড এক্সিডেন্টে মারা যায়। সেই থেকে একলাই বেচে থাকা। বাবা শেষ সম্বল হিসেবে রেখে যায় একটি ২ তলা বাড়ি। শহরে দুটি জায়গা এবং গ্রামে পুকুরসহ কিছু জায়গা । বাড়ি ভাড়া সহ ৩ টি টিউশনি দিয়ে সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্য এর মাঝেই কাটতেছিল দিন গুলো। খাওয়া নিয়েও কোন ঝামেলা ছিল না। সকাল বেলা দুটি বিস্কুটের সাথে চা, দুপুড়ে মাংসের সাথে ভাত আর রাত্রে দুটি ডাল রুটি। আরামেই চলে যাচ্ছিল দিনগুলো। বাকি দিনগুলোও এভাবেই কেটে যেত যদি জীবনে রুপালী না আসত............. পুরো নাম রাবেয়া হাসনাত রুপালী । মেয়েটা রুপে গুণে অসম্ভব সুন্দরী। কোন একদিন গার্লস কলেজের পাশের টং দোকানে বসে এক কাপ চায়ের সাথে গল্প করছিলাম। রাস্তা দিয়ে শত শত মেয়ে হেটে যাচ্ছিল ( গার্লস কলেজের ছুটি হওয়ার কারণে) ।শত শত মুখের মাঝে চোখ আটকে যায় কোন এক মায়াবী পরীর মুখে। তার টানা টানা চোখ দুটোর মায়াবী মিলনে আকৃষ্ট হয়ে যাই। গোলাপী ঠোটের চঞ্চল ভঙ্গিতে মাতাল করে দেয় আমায়। সবকিছু মিলিয়ে যেন এক অপ্সরী নেমে এসেছে আকাশ থেকে। সেদিন চলে যায় তার কথা ভাবতে ভাবতে। তাকে নিয়ে স্বপ্ন বুনতে থাকে মন। পরদিন আবারো তার দেখা মেলে।মেয়েটা আমার চোখে একবার তাকিয়ে আবারো দুষ্টুমিতে মেতে যায় বান্ধবীদের সাথে। বান্ধবীদের ডাক শুনে বুঝতে পারি ওর নাম রুপালী। ইন্টার ১ম বর্ষে পড়ে । তারপর দিন আমি চলে যাই মেয়েটার পিছু পিছু। বাড়ি চলতে চলতে বান্ধবীরা অন্য রাস্তায় চলে গেলে একা হয়ে যায় রুপালী। আমার দিকে একবার তাকিয়ে আবার চলতে থাকে পথ । মেয়েটা হয়তো প্রথম দিনেই বুঝে গিয়েছিল। এরপর প্রতিদিন হেটে যেতাম তার পিছু পিছু। প্রতিদিন ই শপথ নিতাম কথা বলবো কিন্তু ওর কাছে গেলে কখনই সাহস হতো না । আমি শুধু ভয় পেতাম ওর বাবা ছিলেন লোকাল থানার এস পি। মোটামুটি বনেদি ঘর। আমার মতো ছেলের সাথে কখনই তার মেয়েকে দিবে না। তাই দুর থেকে ভালবাসাই শ্রেয় । এভাবেই কেটে যায় একটা বছর। এতদিনে রুপালী ও বোধ করি বিরক্ত হয়ে গেছিল আমার প্রতি। রৃপালী উঠে যায় ২য় বর্ষে আর আমার ও একাউন্টিং এ অনার্স শেষ হয়। মাষ্টার্স এর প্রস্তুতি নিতে নিতে আমি ভালো চাকরির আবেদন ও করতে থাকি। তারপর একদিন পিছু পিছু হাটতে হাটতে রুপালী ঘুরে দাড়ায়। আমাকে ডাক দেয় : –এইযে এদিকে আসেন(রুপালী) –আমাকে বলছেন? (আমি)(আশেপাশে তাকিয়ে) –হুম। এখানে আপনি ছাড়া তোহ্ আর কেউ নেই। তাই না?(রুপালী) –কিছু বলবেন?(কাছে যেয়ে)(আমি) –আমাকে ভালবাসেন?(রুপালী) রুপালীর মুখে এ প্রশ্ন শুনে আমি ভয় পেয়ে যাই। –নাহ্। আপনাকে ভালবাসতে যাব কেন?(তোতলিয়ে) ( আমি) –তাহলে গত ১ বছর ধরে ঘুরছেন কেন ? আমার পেছনে? (রুপালী) –কইইইি নানা না তো (তোতলিয়ে)(আমি) – সত্যি করে বলুন। ভালবাসেন আমাকে?(রুপালী) –হুম। (মাথা নিচু করে) (আমি) –কতটুকু ভালবাসেন? (রুপালী) –অনেক(আমি) –হুম । তা তোহ্ বুঝতেই পেরেছি। না হলে কেউ ১ বছর নষ্ট করে!!! কি করেন আপনি?(রুপালী) –আমি রায়হান কবির ........(আমি) কথাগুলো বলার আগেই রুপালী বলে উঠলো –আপনার সব কিছু জানি আমি। আমি সব শুনতে চাইনি। শুধু বলেন আপনি কি করেন?(রুপালী) –কিছুই করি না। আর চাকরি খুজতেছি।(আমি) –হুম তাড়াতাড়ি খুজেন না হলে কিন্তু আমাকে পাবেন না। আর কালকে সকালে কলেজে চলে আসবেন। আমি অপেক্ষায় থাকবো। (রুপালী) এই বলে মিষ্টি হাসি দিয়ে চলে গেল মেয়েটা। আমি একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকলাম ওর চলে যাওয়ার দিকে। ২–১ বার পেছনে চেয়েছিল রুপালী। তারপর থেকে প্রতিদিন দেখা হতো, কথাও হতো । আবার মুঠোফোনে প্রেমালাপ হতো । দেখতে দেখতে কেটে যায় ২ টি বছর। রুপালী উঠে যায় ১ম বর্ষে আর আমার মাস্টার্স কম্প্লিট হয়ে যায়। আমি পাড়ি জমাই ঢাকা শহরে বিসিএস এর উদ্দেশ্যে। সেদিন খুব কেদেছিল মেয়েটা বলেছিল তাড়াতাড়ি ফিরবে কথা দাও। আমি বলেছিলাম , ফোনে তো কথা হবেই । আর ২ মাস লাগবে বিসিএস পরীক্ষা দিতে। তাড়াতাড়ি ফিরবো ...পরীক্ষার ২ দিন আগে আমি ওকে বলে দিই ফোন দিও না পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে ব্যাস্ত থাকবো। কিন্তু তবুও পরীক্ষার আগের রাতে ফোন দেয় রুপালী । আমি পড়ছিলাম। আমার মেজাজ বিগড়ে যায়। ফোন টা কেটে দিয়ে বন্ধ করে দেই। আল্লাহর রহমতে খুব ভালোভাবেই পরীক্ষা দিয়ে বের হই। ২ দিন পর রেজাল্ট পাবো। বাসায় ফিরে রুপালী কে ফোন দিই কিন্তু ফোন বন্ধ পাই। আমি খুব টেনশনে পড়ে যাই। ওর বান্ধবীদের ফোন দিই ওরা কেউ কিছু বলতে পারে না। ২ দিন পর রেজাল্ট বের হলো আমি ১৪ তম ক্যাডার হিসে্বে উন্নীত হই। এত ভালো রেজাল্ট পাওয়া সত্বেও খুব খারাপ লাগছিল কারণ কোন ভাবেই রুপালীর সাথে কথা বলতে পারছিলাম না। বাসে রওনা দেই । তখন একটি ফোন আসে । আমি মনে করি রুপালী ফোন দিয়েছে তারাতাড়ি ফোন বের করে দেখি Unknown নাম্বার। সাথে সাথে ফোন তুলি : –হ্যালো (আমি) –হ্যালো । আমি মন্ত্রী দপ্তর থেকে বলছি আপনি আপনার জেলার ম্যাজিস্ট্রেট এর পদ পেয়েছেন।আপনি চাইলে কাল থেকে জয়েন করতে পারেন স্যার। ( অপর পাশ থেকে) –ওকে (আমি)(মনমরা হয়ে) আমার মন খুব খারাপ হয়ে যায় মনে করেছিলাম রুপালী ফোন দিয়েছে। বাসায় ফিরে ফ্রেস হয়ে রওনা দিই রুপালীর বাড়ির উদ্দেশ্যে । গিয়ে কলিং বেল চাপ দিতেই ওর বাবা গেট খুলে দেয়। ওর বাবার চোখ দেখে মনে হচ্ছিল মানুষ খুব কাদলে যেমন চোখ ফুলে যায় তেমন –কে বাবা তুমি? (রুপালীর বাবা) –আঙ্কেল আমি রুপালীর সাথে দেখা করতে এসেছি। রুপালীর বন্ধু ( আমি) –তুমি রুপালীর খবর জানোনা? (রুপালীর বাবা) –না আঙ্কেল। কি হয়েছে রুপালীর? ( বিচলিত হয়ে) (আমি) – বাবা কি আর বলি। আমার বন্ধুর ছেলে এসেছিল রুপালীকে বিয়ে করতে। আমি বিয়ে ঠিক করে ফেলি। রুপালী বিয়ের রাতে বিষ খায়। ও নাকি কোন ছেলেকে ভালবাসে।সেটা আমাকে বলতেই পারতো। তারপর গতকাল হসপিটাল থেকে ওর পেট ওয়াশ করে বিষ বের করে ওকে বাড়ি নিয়ে এসেছি। কিন্তু কিছুতেই কিছু খাচ্ছেনা। শুধু বলছে রাজ না আসলে আমি কিছুই খাবোনা । এখন কি যে করি? (রুপালীর বাবা) –আঙ্কেল আমিই রাজ। ওর ভালবাসার মানুষ। আমাকে খাবার দিন আমি ওকে খাইয়ে দিব। (আমি) এরপর আমি খাবার নিয়ে রুপালীর রুমে ঢুকি। রুপালী ঘুমিয়ে ছিল। চোখ দেখে মনে হচ্ছিল খুব কেদেছে পাগলিটা। আমি ওকে ডাকি। ও জেগে উঠে আমাকে জড়িয়ে ধরে : –আমাকে আর কখনও ছেড়ে যাবেনা রাজ ( রুপালী) –ওকে আর কোন দিন ও যাবো না। এখন একটু খেয়ে নাও তোহ্। (আমি) –তোমার পরীক্ষার কি হলো?(রুপালী) –কালকে বিকাল ৪ টায় পার্কে আসো । সব বলবো।(আমি) –ওকে। আমি অপেক্ষা করবো (রুপালী) এরপর আমি ওকে খাইয়ে দিয়ে ঘুমিয়ে রেখে বাসায় চলে আসি । ..... পরদিন : রুপালী যথারীতি আগে এসেই পার্কে উপস্থিত । আমি ৪ টি গাড়ি নিয়ে পার্কের সামনে নামলাম। পেছন থেকে ৪ জন পুলিশ এসে আমাকে গার্ড দিতে লাগল । রুপালী অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে । আমি গার্ডগুলোকে দাড় করে রেখে ওর কাছে গেলাম। রুপালীকে সব খুলে বললাম। রুপালী আমার হাত ধরে: –তাহলে এখন কি করবে রাজ? ( রুপালী) –সোজা তোমার বাবার কাছে যাব। বলবো আপনার মেয়েকে আমি অনেক ভালবাসি বিয়ে করতে চাই (আমি) –নিজের বিয়ের কথা নিজেই বলবে? নির্লজ্জের মতো? (রুপালী) হুম। নির্লজ্জের মতোই তোহ্ বলতে হবে। এই শহরে আমার আপন আর তো কেউ নেই (মন খারাপ করে) (আমি) –দেখো আমি কিন্তু মজা করেছি এভাবে বুঝাতে চাই নি । আর কে বলেছে তোমার কেউ নেই আমিতো আছি (রুপালী) আমি রুপালী কে জড়িয়ে নিলাম আর উপভোগ করতে থাকলাম। ..........বাকিটুকু পাঠক গন ভাল করেই বুঝতে পারছেন। ভাল লাগলে অবশ্যই জানাবেন।আপনাদের দোয়ায় আরো ভালো করার চেষ্টা করবো ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০৯ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now