বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

জীবনের শিরোনাম

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ ছহিনুর রহমান বিন মনির (০ পয়েন্ট)

X -প্রিয়ন্তি,এই প্রিয়ন্তি।দাড়াও,একটু শুনে যাও প্লিজ।(জাহিন) -কি শুনবো?(প্রিয়ন্তি) -আচ্ছা আমি কি দেখতে এতোই খারাপ যে,আমার ভালোবাসা গ্রহণ করতে পারছোনা?(জাহিন) -তুমি দেখতে খারাপ না..কিন্তু খারাপ হচ্ছে তোমার কাজ গুলো।(প্রিয়ন্তি) (জাহিন প্রায় একবছর ধরে ঘুরছে প্রিয়ন্তির পিছনে,কিন্তু তার আজে বাজে কিছু কর্মকান্ডের কারনে রাজি হচ্ছে না) প্রিয়ন্তি। -আচ্ছা আমি কি এমন কাজ করলাম,যেগুলো তোমার খারাপ মনে হলো?(জাহিন) -তোমার সব গুলো কাজই তো খারাপ,খারাপ ছেলেদের সাথে মেশা,অনেক রাত পর্যন্ত আড্ডা দেওয়া,মারামারি করা,সিগারেট খাওয়া।(প্রিয়ন্তি) -তাই বলে আমার সাথে রিলেশন করা যাবে না?(জাহিন) -না...আমি কোন খারাপ ছেলের সাথে রিলেশন করবো না।(প্রিয়ন্তি) -আচ্ছা যদি ভালো হয়ে যাই?তাহলে রিলেশন করবা তো?(জাহিন) -দেখি(প্রিয়ন্তি) -দেখি মানে কি?যদি রাজি থাকো তাহলে ভালো হয়ে যাবো,নয়তো হবো না কিন্তু।(জাহিন) -উমমমম....ওকে।(প্রিয়ন্তি) এভাবেই ভালো হবার প্রতিশ্রুতি দিয়েই শুরু হয় জাহিন প্রিয়ন্তির নতুন জীবনের শিরোনাম।।দুষ্টু মিষ্টি অভিমান আর একটুকরো ভালোবাসার বাধনে আবদ্ধ থাকে তাদের ভালোবাসার রঙিন জীবন।কিন্তু তাদের মাঝে ভালোবাসা ঠিকই আছে,শুধু নেই জাহিনের দেওয়া ভালো হবার সেই প্রতিশ্রুতি।প্রিয়ন্তি অজস্র চেষ্টা আর ভালোবাসা দিয়েও ভালো করতে পারেনা জাহিনকে,বরং সে আগের চেয়েও আরো বেশি খারাপ হতে থাকে।। অন্য সব কাপল এর মতো ভালোবাসা,রাগ,অভিমান দিয়েই কেটে যায় জাহিন প্রিয়ন্তির ভালোবাসার ৫টা বছর।এদিকে প্রিয়ন্তির জন্য নানা দিক থেকে বিয়ের প্রপোজাল আসতে থাকে,কিন্তু কাউকেই মত দিতে পারেনা প্রিয়ন্তির পরিবার,কারন বরাবারই বর পছন্দ হচ্ছেনা বলে এড়িয়ে যাচ্ছে প্রিয়ন্তি। কিন্তু একটা সময় পরিবারের লোকের এটা নিয়ে বিরক্ত হয়ে যায়।এতো ছেলে প্রতিদিন দেখাতে আসার পরও তার পছন্দ না হওয়ায় তারা ওদের পছন্দ করা ছেলের সাথে ওকে বিয়ে দিয়ে দিবে ঠিক করে।যেই ভাবা সেই কাজ কয়েকদিনের ভেতরে বর এবং বিয়ের দিনও ঠিক করে ফেলে তার পরিবার।হঠাৎ এমন আকস্মিক সিদ্ধান্তে বিশাল এক ঝামেলায় পরে যায় প্রিয়ন্তি,এইদিকে জাহিনও কোন কাজ করে না।পড়ালেখাও করলো না।সারাদিন শুধু আড্ডা আর মাস্তানি ছাড়া কোন কাজ করে না জাহিন।এই অবস্থায় তাকে তো পরিবাবের সামনে আনা যাবে না,কারন এমন ছেলের কাছে তাকে বিয়ে দিতে পরিবারের লোকেরা রাজি হবেনা।এই সময়ে পালিয়ে যাওয়া ছাড়া কোন উপায় খুঁজে পেলোনা প্রিয়ন্তি। কিন্তু জাহিনের সাথে ভবিষ্যতের কোন নিশ্চয়তা নেই,আর নেই কোন সম্ভাবনাও। কিন্তু ওর ভালোবাসায় প্রিয়ন্তি এতো নিমগ্ন ছিলো যে,সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে এই অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ এর দিকেই পা বাড়াবে সে।জাহিনকে সে পালিয়ে গিয়ে হলেও বিয়ে করবে। তারপর কোন এক ধূসর কাক ভোরে পালিয়ে যায় প্রিয়ন্তি।বিয়ে করে নতুন এক গন্তব্যর দিকে এগিয়ে চলে উভয়েই।। . . বিয়ের পরে হয়তো কোন নতুন এক গল্প দেখা যেতে পারতো।কিন্তু না আসতে আসতে এগিয়ে আসতে থাকে তাদের গল্পের উপসংহার।কারন জাহিন আগে থেকেই খারাপ কাজে লিপ্ত ছিল।পড়ালেখা না করায় কোন কাজ করতে পারতো না।শুধু ভালোবাসা দিয়েই তো জীবন চলে না।তাই জীবন কে চালিয়ে নেওয়ার তাগিদে প্রতিদিন চলতে থাকে নানা ধরনের অনৈতিক কাজ,অার সাথে ছোট থেকে বড় ধরনের ঝগড়া... -তুমি কি এখনো কোন কাজ খোঁজবা না??সারাদিন আড্ডা নিয়েই পরে থাকবা।?(প্রিয়ন্তি) -আমার আড্ডা নিয়ে কোন কথা বলবানা।(জাহিন) -মানে কি??জীবনটা কি তোমার এভাবেই কাটবে?(প্রিয়ন্তি) -হুম..প্রয়োজন হলে এভাবেই কাটবে।(জাহিন) -জাহিন আগে যাই করছো এখন একটু ভালো হওয়ার চেষ্টা করো প্লিজ।মানুষের জীবন এভাবে চলে না।(প্রিয়ন্তি) -উহহহহহহ...ভালো লাগেনা এইসব কথা।(জাহিন) তারপর গজরাতে গজরাতে বেরিয়ে গেল জাহিন। ইদানীং প্রিয়ন্তির উপর নেমে আসছে শারীরিক টর্চার।পরিবারের চাপে কিছু মানুষ জ্ঞান শুন্য হয়ে যায়।ঠিক জাহিনের বেলায়ও তার বিপরীত ঘটে নি।প্রিয়ন্তিকে মারধর করার মতো কাজও করতে থাকে জাহিন।এইসব টর্চার সহ্য করেও সংসার করতে চেয়েছিল প্রিয়ন্তি।কিন্তু তার সিদ্ধান্তে ছেদ পরে একটা খবর জানার পর,প্রিয়ন্তি জানতে পারে তার স্বামী এখন মাদক ব্যবসায় লিপ্ত।পরিবারের তাগিদে এখন এটাকে তার পেশা হিসেবে মেনে নিচ্ছে।কিন্তু প্রিয়ন্তি এটাকে মেনে নিতে পারেনা।তাই আবেগের জোয়ারে বাসিয়ে দেওয়া কাজ গুলো অাজ বিবেকে নাড়া দিচ্ছে তার।একটা খারাপ মানুষকে ভালোবেসে ভালোভাবে জীবন কাটাতে চাওয়া টা বোকামি,যতক্ষন পর্যন্ত না ওই খারাপ মানুষটা ভালো হতে পারে। অতঃপর প্রিয়ন্তির আরেকটা সিদ্ধান্তে তাদের এই সংসার অালাদা হয়ে যায়।শেষ হয়ে যায় মায়ার বাধনে আগলে রাখা ভালোবাসার পরশ।চোখের জলে ভাসতে ভাসতে আলাদ হয় দুটি জীবন। জীবনে চলার পথে আমরা কিছু ভুল মানুষকে ভালোবেসে থাকি,যার ফলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ভালোবাসা শেষ হয় কিছু অপূর্ণতার কারনে।তাই আবেগ দিয়ে নয়,বিবেক দিয়ে ভালোবাসার সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।।।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ জীবনের শিরোনাম :

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now