বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

শিরোনামহীন গল্প-1

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X গল্পের শিরোনামের সাথে আদৌ গল্পের কোন মিল নেই, গল্পের কি নাম দেয়া যায় সেটা মাথাতে আসে নি, তাই নাম দিলাম শিরোনামহীন গল্প। গল্পটি শুরু হয়েছে, কিন্তু কিভাবে শেষ হবে, কখন হবে, কোথায় হবে কিছুই জানি না, মাথায় যা আসছে তেমনটিই লেখা হচ্ছে। লেখার ভিতরে কিছু কিছু বাস্তব জিনিস ব্যাবহার করেছি নিজের দেখা কিংবা নিজের থেকেই। যদিও এই গল্পের সাথে বাস্তবে কোন মিল নেই (সম্ভবত)। সিরিজ আকারে দিচ্ছি এবং এটি প্রথম পর্ব, গল্পটির দৈর্ঘ্য সম্পর্কে আমি নিশ্চিত নই, অসম্ভব বড় হতে পারে, কিংবা পরের পোস্টেই শেষ হয়ে যেতে পারে। কাজেই যদি ভালো না হয়, তাহলে হতাশ হওয়ার কিছু নেই, তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যেতে পারে, যদি ভালো লাগে, তাহলেও হতাশ হওয়ার কিছু নেই, কারন তাড়াতাড়ি শেষ নাও হতে পারে। শেষ কথা, গল্পটাতে অসংখ্য ছ্যাবলামো থাকতে পারে, সেক্ষেত্রে আমার কিছু করার নেই, ক্যারেক্টারগুলো ওইভাবেই মাথায় এসেছে, আমি শুধু লিখে গেছি। আর হ্যা, লেখা কাঁচা বলে অভিযোগ করার আগেই জানিয়ে দেই, এটি আমার প্রথম এই ক্যাটাগরীর লেখা রাহাত মিটিমিটি হাসছে, হাসলে ছেলেটিকে বাজে দেখা যায়, রাহাত যদি এটা বুঝতো তাহলে সম্ভবত এভাবে হাসতো না, দুঃখের বিষয় সে ব্যাপারটা সম্ভবত জানে না, জানলেও কাজ হতো কিনা সেটা নিয়ে কিঞ্চিৎ সন্দেহ আছে মনে হয়, রাহাতকে কোন দিন কোন ব্যাপারে সিরিয়াস হতে শোনা যায় নি, দেখা তো দূরের কথা। দুনিয়ার কোন কিছুতে তার আগ্রহ নেই মনে হয়, প্রোগ্রামিং ভাল করে, কিন্তু ম্যাথে নাকি ২বার ডাব্বা খেয়েছে। অর্থি খোঁজ নিয়েছে, রাহাত পড়াশুনার "প" এর কাছে দিয়েও যায় না, প্রায় ক্লাশেই তার ঘুমিয়ে পড়া নিয়ে নানারকম কাহিনি রয়েছে, তারপরও রেজাল্ট আসলে দেখা যায় মোটামুটি ভাল স্কোর করে বসে আছে। ছেলেটাকে সবাই অবশ্য পছন্দ করে,ক্যানো করে সেটা অর্থি এখনো জানে না, এবং সে এটা বোঝার জন্য ক্রমাগত চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু কারো কাছে সে জানতে চাইতে রাজী না, তাতে সবাই অন্যকিছু ভেবে বসতে পারে। "কিরে কি ব্যাপার, কি দেখছিস ?" তিথির ডাকে ফিরে তাকায় অর্থি। "ঐ দেখ, শালা লম্বু কেমন বিচ্ছিরি ভাবে হাসছে, গা জ্বলে যায় দেখলে"। " গা জ্বলে যায় তো দেখছিস ক্যান ? না দেখলেই হয়" তিথির স্বাভাবিক উত্তর। "আমার ইচ্ছা আমি দেখবো, কিন্তু হতচ্ছাড়া ঐভাবে হাসবে ক্যানো, ইয়াক, কি বিচ্ছিরি ?" "উহ! রাণী ক্লিওপেট্রা আমার! ক্লাশে চলেন, ঐ ছোড়া তোর কথা শুনে হাসি বন্ধ করতে পারে, কিন্তু এমনি এমনি কোড কাজ করা শুরু করবে না", একটু পড়েই ল্যাব আছে আছে সেটা ভুলেই বসে আছে অর্থি, তাড়াতাড়ি করে যাওয়ার আগে আরেকবার রাহাতের দিকে তাকায় অর্থি, ছেলেটা এখন হাসছে না, মুখ গম্ভীর করে অভির দিকে তাকিয়ে আছে। যতই বিচ্ছিরি হোক, অর্থির হাসিটা আরো একবার দেখার খুব মন চাচ্ছিল, "ধুর! ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে আসাই ভুল হয়েছে" গজরাতে গজরাতে উঠে গেল তিথির সাথে। রাহাত বসে বসে ল্যাপটপে গেম খেলছিল, নিজের বানানো গেম। গেমের মাঝে সে উদ্ভট পাজল রেখেছে, খুবই সোজা পাজল, কিন্তু গেমটা এমনভাবে বানিয়েছে, যে কেউ খেলতে বসলে এত্ত সোজা সল্যুশনের কথা মাথাতেই আনবে না। রাহাত অবশ্য খুব একটা মন দিয়ে খেলছে, তা নয়। দূরে একটা জুনিয়র মেয়ে বসে আছে, খানিক্ষন পর পর রাহাতের দিকে তাকাচ্ছে বিরক্তি নিয়ে, এমন ভাবে যেন রাহাত একটা টিকটিকি। রাহাত সরাসরি তাকাচ্ছে না যদিও, মাঝে মাঝে তাকাচ্ছে, হাসি পাচ্ছে মেয়েটির ভঙ্গি দেখে, কোনমতে হাসি চেপে রইলো। মেয়েটি নাকি তাকে কয়দিন ধরে ফলো করছে, সেটা প্রথমে রাহাত খেয়াল না করলেও, অভির চোখ এড়ায় নি ব্যাপারটা। রাহাত অবশ্য এইসব ব্যাপারে কোনদিন খোঁজ রাখার দরকার মনে করে নি। নিজেকে নিয়েই ব্যাস্ত সে সবসময়। অভির কাছে জিগেষ করতে হবে, ব্যাপার কি। ভাবতে না ভাবতেই, অভি হাজির। "তোর জন্য দুইটা ব্যাড নিউজ এবং দুইটা গুড নিউজ আছে, কোনটা আগে জানতে চাস। ? "গ্রেট! গুড নিউজ দিয়েই শুরু করো" ল্যাপটপ থেকে চোখ ফেরালো রাহাত। "গুড নিউজ ১: তোর প্রজেক্ট স্যার একসেপ্ট করেছে, এবং সেটা ভার্সিটিতে ইমপ্লিমেন্ট করার ডিসিশন নিয়েছেন, গুড নিউজ ২: তোর ডাক্তার আজকে আসবে না, ডাক্তার নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়েছে" "হুমম.... গুড নিউজ বলা যায়, ব্যাড নিউজ দুইটা কি?" "ব্যাড নিউজ ১: স্যার তোমাকে ল্যাবে তার এসিস্টান্ট হিসেবে থাকতে বলেছে, এবং স্যারের ল্যাব একটু পড়েই শুরু হচ্ছে, রুম নাম্বার ৬০২৪। ব্যাড নিউজ ২: ডাক্তার তোমার রিপোর্ট পাঠিয়েছে, তোমার অবস্থা বাড়াবাড়ি রকম খারাপ। এখনও যদি সাবধান না হও, তুমি শেষ" "হুমমম........" রাহাত গম্ভীর হয়ে গেল শুনে। "সত্যিই ল্যাবে থাকতে হবে ?" গম্ভীর ভাবে জিগেষ করলো রাহাত। "হুমম, স্যার স্ট্রেট বলে দিয়েছে, কোন ধানাই পানাই করতে পারবা না" অভির অভিব্যক্তিহীন কন্ঠ। " তোর দেয়া নিউজের ৩টাই গুড ছিল, শুধু স্যারের এসিস্ট্যান্ট হওয়াটার খবরটা বাড়াবাড়ি খারাপ খবর, আজকে সন্ধ্যায় এই উপলক্ষ্যে দুঃখ মুহুর্ত উদযাপন করা হবে, চলে আসিস" রাহাত ব্যাগ গুছাতে গুছাতে বললো। "আর ডাক্তার রিপোর্ট ? " "ধুর..... দুইদিন আগে পড়ে মরলে কিছু আসে যায় না" রাহাত হাসতে হাসতে বের হয়ে গেল। লিফটে উঠার আগমূহুর্তে একবার পিছন ফিরে তাকালো রাহাত, নাহ, মেয়েটি নাই, রাহাতের আবারও মুচকি হেসে লিফটে ঢুকে গেল।.


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৬ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now