বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

শিরোনামহীন গল্প-2

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X রাহাতের সবচে পছন্দের জায়গা হচ্ছে ল্যাব, জিনিসপত্র নিয়ে ঘাটাঘাটি করা যায়, কিন্তু এবার ল্যাবে ঢুকে তার মেজাজ খারাপ হয়ে গেল। একগাদা পোলাপাইন ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে আছে স্যারের দিকে। স্যার চলে গেলেই তারা তার উপর হামলে পড়বে, হ্যান ত্যান চৌদ্দপদের জিনিস বুঝিয়ে দিতে হবে। “আরে বাপ! বুঝিস না তো স্যারকে সাথে সাথে জিগাইলেই পারিস” বিরস মুখে রাহাত পিছনে গিয়ে টেবিল খালি করে ল্যাপটপ বের করে বসে পড়লো, ক্লাশ শেষ হতে এখনও বেশ বাকি, খানিক্ষন প্রিপারেশন নিয়ে নিবে। সে যখন এই কোর্স করেছিল তখন এসিস্ট্যান্টের সাথে ওরা কি করেছিল মনে করার চেষ্টা করলো। খানিক্ষন চেষ্টার পর হাল ছেড়ে দিল, রাহাত তার সময়ে এসিস্ট্যান্ট দের সাথে চা/সিঙ্গাড়া নিয়ে আড্ডা দিয়ে বেড়িয়েছে, কোড নিয়ে গুতাগুতি কমই করেছে। দুই একটা জিনিস বুঝে নিতো তাতেই মোটামুটি হয়ে গেছে। রাহাত বিরক্ত হয়ে সিমুলেটর অন করে বসে, যা হবে, দেখা যাক। হঠাৎ স্যার ডাকলেন রাহাত কে, এদিকে আসো, “এই যে, এই তোমাদের নতুন এসিস্ট্যান্ট,............” বলে স্যার থেমে গেল, তারপর আস্তে রাহাতের দিকে তাকিয়ে জিগেষ করলো “তোমার নামটা যেন কি ?” “রাহাত, স্যার” হাসি চেপে উত্তর দিলো রাহাত। “হ্যা, রাহাত হচ্ছে তোমাদের নতুন এসিস্ট্যান্ট। ক্লাশের পরে এখানে পাবে। কোন সমস্যা হলে জানাবে ওকে”। যেকোন মানুষকে ডেকে নিয়ে সবার সামনে পরিচয় করিয়ে দিলে সাধারনত তারা খুশিই হয়, রাহাতেরও হওয়ার কথা। রাহাত হতে পারছেনা, এসিস্ট্যান্ট হওয়া মানে রাহাতকে একটা নিয়মের মধ্যে বেধে ফেলা হলো, রাহাত সেটা বরাবরই অপছন্দ করে। বিরস নয়নে ফিরে ডেস্কে বসলো রাহাত। স্যার চলে যাওয়ার পর রাহাত যখন প্রিপারেশন নিচ্ছিল, এখনই ডজন খানেক ড্যাব ড্যাব করে তাকানো চোখ তার দিকে এগিয়ে আসবে, সে হঠাৎ আবিস্কার করে, ব্যাপারটা অতটা ভয়ংকর হলো না, কয়েকজন এসে হ্যান্ডশেক করে গেল, নাম্বার নিয়ে গেল, দরকার হলে যোগাযোগ করবে। খানিক্ষনের মধ্যে দেখা গেল ল্যাবে কেউ নেই। পুরো ফাঁকা। রাহাত খুব সাবধানে শ্বাস ফেলে। আপাতত কেউ তাকে জ্বালাবে না ভেবেই শান্তি লাগছে। নিশ্চিন্ত মনে সবকিছু বাদ দিয়ে গেম খেলা শুরু করলো আবার। রাহাত ভবিষ্যত সম্পর্কে ধারনা করতে পারে কিছু জিনিস হিসেব করে, কিন্তু ধারনা করা আর অনাগত ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বলে দেয়া এক কথা না, যদি হতো, তাহলে রাহাত মোটেও স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতো না, কারন কিছুক্ষনের মধ্যে সে মোটামুটি ভয়ংকর অবস্থায় পড়তে যাচ্ছে। অর্থি ক্যান্টিনে বসে আছে, ল্যাবের স্যারের কথাবার্তা কিছুই বুঝে নাই, গতরাতে না ঘুমিয়ে আড্ডাবাজী করার কারনে পুরা ক্লাশ প্রায় ঘুমিয়েই কাটিয়ে দিয়েছে, এবং শেষ মূহুর্তে শুধু শুনতে পেয়েছে একজন নতুন এসিস্ট্যান্ট এসাইন করা হয়েছে, এবং ক্লাশ থেকে বের হয়ে শুনেছে যে পরের ক্লাশে স্যার হোমওয়ার্ক দিয়েছে। অর্থি মোটামুটিভাবে ভেবে রেখেছিল যে কোড করে ফেলতে পারবে এসিস্ট্যান্টের কাছ থেকে হেল্প নিয়ে। কিন্তু যে মুহূর্তে সে শুনলো নতুন এসিস্ট্যান্টটি হচ্ছে “মিঃ লম্বু” তখনই মেজাজ খারাপ হয়ে গেল। তিথি বললো কিরে, “সসের ভিতরে কি লবন দিয়ে রেখেছে নাকি, এমনি করে মুখ বাকিয়ে রেখেছিস ক্যান ?” “সেটা হলেও কিছু হতো, কিন্তু মিঃ লম্বুর কাছে গিয়ে এখন কোড বুঝতে হবে ভেবেই মেজাজ খারাপ হচ্ছে, একটু পর পর বিচ্ছিরি হাসি দিবে, আর আমি রেগে মেগে ওইখানেই মেরে বসবো” অর্থি প্রায় চেচিঁয়ে বললো। “যত গর্জে তত বর্ষে না” হাসতে হাসতে বললো তিথি, “দেখাই যাক না, কেমন হেল্প করে”। “চল, এখনি দেখে আসি” অর্থি তড়াক করে উঠে পড়লো। “বেশ!” “এক্সকিউজ মি” শুনে রাহাত তাকিয়ে থতমত খেয়ে গেল। সামনে সেই মেয়ে দাড়ানো। “জ্বী বলুন” রাহাত নিজেকে সামলায়। “আমি অর্থি, ও তিথি, দুজনেই এমবেডেড সিস্টেমস করছি এবার, কিছু জিনিস বুঝতে চাচ্ছিলাম” “সিওর, বলুন” রাহাত। পরের আধাঘন্টা মোটামুটি বুঝাতে বুঝাতে গেল রাহাত, একদম খারাপ বুঝায় নি, নিজের সম্পর্কে যেটুকু আশা করেছিল, তার থেকে বেটার। “থ্যাংক ইউ, মনে হয় এবার এসাইন্টমেন্ট নিজেই করতে পারবো” অর্থি ওঠে এবার। রাহাত কি বলবে ভেবে না পেয়ে হাসিমুখ করে বসে রইলো, যদিও সে জানতো না তার সামনে যে দাড়িয়ে আছে তার সামনে হাসিমুখ করা তার জন্য দন্ডনীয় অপরাধ। “হেই রাহাত, তোমার ফোন নাম্বার দাও তো, আমি কোডের কিছু জিনিস বুঝে নিবো ফোন করে, এখন একটু বিজি, প্রজেক্টের কাজ করছি তো” বলতে বলতে প্রীতি হাজির। “আবার ?” হাসতে হাসতে বললো রাহাত, “তুমি এই নিয়ে ৪বার নাম্বার চাচ্ছো কিন্তু” “ইজ ইট ? আচ্ছা নাম্বার বলো, চেক করে দেখি আছে কিনা, আমার মনে থাকে না ছাই” খানিকটা কনফিউজড প্রীতি এবার। “হুমম” নাম্বার মিলিয়ে নিলো রাহাত, সেভ করাই আছে। “আচ্চা গেলাম, আর শুনো, স্যার যাওয়ার আগে দেখা করে যেতে বলেছে” রাহাত বিদায় দিয়ে আবার ল্যাপটপ খুলে বসে। অর্থি এতক্ষন দাড়িয়ে ছিল এবার বলে উঠলো “আচ্ছা এবার যাই, থ্যাংকস এগেইন” রাহাত এতক্ষন খেয়ালই করে নি যে ওরা দাড়িয়ে আছে, “ওহ, হ্যা, সমস্যা হলে জানাবেন, আমি চেষ্টা করবো” দরজার দিকে এগুতে এগুতে অর্থি তিথিকে একটু চাপা স্বরেই বলে “মিঃ লম্বু তো কোড মোটামুটি ভালই বুঝায়, কিন্তু হাসি এমন বিচ্ছিরি ক্যান ?” তিথি উত্তর দেয়ার আগেই পিছন থেকে রাহাতের গলা শোনা গেল “এক্সকিউজ মি?” ঘুরে দাড়ায় অর্থি। “আচ্ছা, আপনাকে কি আপনার ফ্রেন্ডরা মিস ক্যাপসুল ডাকে ? রাহাত হাসি চাপার চেষ্টা করছে। মেজাজ পুরোপুরি খারাপ হয়ে গেল তার। “হোয়াট ???” রাহাতের মুখ থেকে হাসি মুছে যায়, গম্ভীর চেহারা চলে আসে “সিক্সটি এইট ইঞ্চি হাইটের কাউকে যদি “মিঃ লম্বু” বলা যায়, সিক্সটি টু ইঞ্চি হাইটের কাউকে মিস ক্যাপসুল বলা যেতে পারে, ইজন্ট দ্যাট ?” অর্থি পুরো থতমত খেয়ে যায়, ঘুনাক্ষরেও বুঝতে পারে নি যে রাহাত তার কথা শুনে ফেলেছে। “আপনি কিভাবে জানেন আমার হাইট সিক্সটি টু ইঞ্চি” ? গলায় রাগ মোটেও চাপা পড়েনি অর্থির। রাহাত হেসে ফেললো। “একদম সিক্সটি টু নাও হতে পারে, তবে এক ইঞ্চি বেশি কম হবে হয়তোবা, তবে এরকম সেটা নিশ্চিত, কিভাবে বের করা গেল, বলছি না, নিজেই ভেবে বের করে ফেলুন, একটু ভাবলেই পারবেন” রাহাত কম্পিউটারের দিকে ঝুঁকে পড়লো বলতে বলতে। অর্থি কিছু বলতে গিয়েও বলতে পারলো না, বের হয়ে এলো, তার প্রচন্ড মেজাজ খারাপ হয়ে গেছে, রাহাতের কথা সত্য, তার হাইট আসলেই সিক্সটি টু ইঞ্চি। রাহাতের ক্যালকুলেশন সহজ ছিল, প্রীতি যখন এসে দাড়ায় প্রথমে তখন সে অর্থির পাশেই দাড়িয়েছিল, দুজনের হাইট একরকমই। প্রীতির হাইট সামহাউ সে জানে, ১ ইঞ্চি হাইট কমবেশীর ব্যাপারটা মেয়েদের জুতার হিলের হাইটের উপর নির্ভর করে বলে সেইফ থাকার জন্য সেটাও বলে দিয়েছে। মেয়েটা রেগে যাওয়ায় বুঝতে পারে নি এই সহজ ব্যাপারটা। ল্যাবে কেউ নেই, হেসে ফেলে আবার কম্পিউটারের দিকে তাকালো। হঠাৎ কি যেন হয়ে গেল, কিছুই দেখতে পাচ্ছে না সে, চোখে অন্ধকার দেখছে, নিশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে তার, কাউকে ডাকা দরকার, হাতড়ে হাতড়ে ফোন বের করে কোনমতে, অভিকে ফোন করতে হবে, কিন্তু তার আগেই পড়ে গেল রাহাত, জ্ঞান হারিয়েছে সে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২১ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now