বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রাহাত এই মুহুর্তে মুখ গোমড়া করে একজন ডাক্তারের সামনে বসে আছে। রাহাতের ডাক্তার জিনিসটা পছন্দ নয়। পছন্দ না বললে আসলে ভুল হবে, "ডাক্তার" জিনিসটার প্রতি রাহাতের বাড়াবাড়ি রকম এ্যালার্জী আছে। কাজেই চোখ খুলে যদি একজন ডাক্তার কে সামনে দেখতে হয়, ব্যাপারটা রাহাতের পছন্দ হবে না সেটা সহজেই বলে দেয়া যায়।
"ইয়াং ম্যান, তুমি কতখানি লাকি, সেটা জানো ?" ডাক্তার হাসিমুখে জিগেষ করলো।
"জ্বী, আমার ধারনা মতে আমি যথেস্ঠই ভাগ্যবান" রাহাত মুখ গোমড়া রেখেই উত্তর দিলো।
"তোমার এখন ল্যাবে পড়ে থাকার কথা, কিন্তু তুমি এখন আমার সামনে বসে আছো" ডাক্তার হাতের কাগজটার দিকে তাকিয়েই বললো কথাগুলো।
"স্যার, আপনি বোধহয় জানেন না, ডাক্তারের চেম্বারের থেকে হার্ডওয়্যার ল্যাব আমার বেশি পছন্দের" রাহাত একটু মজা করেই উত্তর দিলো।
"হা হা হা হা" ডাক্তার বেশ মজা পেল মনে হলো, "তবে ইয়াং ম্যান, ওখানে থাকলে এতক্ষনে আপনি আর বেঁচে থাকতেন না, এখানে এসেছিলেন বলেই বেঁচে আছেন"
রাহাতের গোমড়া মুখে স্পস্টতই বিষন্নতার একটা গাঢ় ছাপ পড়লো। রাহাত জানে সে অনিশ্চিয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মানুষ মারা যায় এবং সেটা সে সাধারনত জানে না কখন কিভাবে যাবে, কাজেই তার মধ্যে মৃত্যুর চাপটা কখনোই কাজ করে না। রাহাত সাধারন নয়, অসাধারন বা অতিমানব ও নয়, কিন্তু রাহাত খুব ভাল করেই জানে তার হাতে সময় বেশি নেই। খুব বেশি হলে আর এক বছর।
"কেউই আজীবন বেঁচে থাকে না স্যার, মারা তো যেতেই হবে। তাছাড়া ঢাকার যে অবস্থা তাতে মনে হয় মারা গেলেই বরং বেটার" রাহাত মুখটা এবার হাসিমুখ করে ফেললো। ডাক্তার এবার ভুরু কুঁচকে তাকালো রাহাতের দিকে, "তুমি জোক করছো ? তুমি জানো তোমার অবস্থা কতখানি সিরিয়াস ?" "জানি স্যার" রাহাত হাসতে হাসতে ব্যাগ থেকে তার ডাক্তারের রিপোর্ট বের করে দিলো। ডাক্তার সেগুলো হাতে নিলো, দেখলো, চুপ করে থাকলো কিছুক্ষন। "ইয়াং ম্যান, তুমি মানসিক ভাবে যথেষ্ঠই স্ট্রং, কিন্তু শুধু শক্ত মানসিকতা দিয়ে তো আর বেঁচে থাকা যায় না, কিছু প্রসিডিউর থাকে, কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়........" রাহাত মাঝখানেই থামিয়ে দিল ডাক্তার কে। "স্যার, নিয়ম মানলেও হয়তো বড়জোর ১ বছর সময় পাবো, নিয়ম মেনে লাভ কি হবে ? তারথেকে শেষ সময় গুলো একটু ভাল করেই না হয় কাটাই"
ডাক্তার চুপ করে গেল, কথা মিথ্যে নয়। "এবার উঠতে হয় স্যার, জানেনই তো........" ..... "হ্যা জানি, ডাক্তারের চেম্বার তোমার একদমই পছন্দ না, তো কই যাবে এখন ?" "ফ্রেন্ডের বাসায়, স্টুপিডটা আমাকে এখানে একা রেখে চলে যাওয়ার কারনে তাকে কিঞ্চিৎ ধোলাই দেয়ার চেষ্টা করা হবে" রাহাত ব্যাগ গুছাতে শুরু করলো। "ওয়েল ইয়াং ম্যান, তোমাকে তোমার ফ্রেন্ড এখানে দিয়ে যায় নি, একটি মেয়ে দিয়ে গেছে"
রাহাত একটু অবাক হলো, এমনটা হওয়ার কথা নয়। অভি ছাড়া আর কারো সাথে তেমন সখ্যতা নেই, কাজেই এধরনের ব্যাপারে অভি ছাড়া আর কাউকে আশাও করে না রাহাত, প্রথমবার অভিই ধরে নিয়ে গেছিল রাহাত কে। "তো কে এই মহামানব, যে আমাকে নিয়ে আসলো ?" একটুও অবাক হয় নি এমন একটা ভাব মুখে ধরে রেখে রাহাত ব্যাগে ফাইলগুলো ঢুকাতে ঢুকাতে বললো।
"মহামানব নয়, তবে চাইলে মহামানবী বলতে পারো" রাহাত চমকে ডাক্তারের দিকে তাকালো।
"ডাকনাম হচ্ছে অর্থি" ডাক্তারের চোখে কৌতুকপূর্ণ একটা ভাব।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now