বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
দুপুরে ঘুমাচ্ছিলাম। আর অপা বসে বসে সিনেমা দেখছিল। কী যে শান্তি পায় ও এসব হিন্দি সিনেমা দেখে, ভেবে পাই না। বেলা যখন প্রায় চারটা, তখন বেল বেজে উঠল, অপা দেখতে গেল একরাশ বিরক্তি নিয়ে, কিন্তু ফিরে আসল আরো একরাশ বিষ্ময় নিয়ে। আমি ওর চোখের দিকে তাকালাম। বুজতে পারলাম এমন কেউ এসেছে যে, এক পলকেই যে ওকে আপসেট করে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। আমি খুব স্বাভাবিক ভাবে ওকে প্রশ্ন করলাম,”কী হলো? কে আসছে?”। অপা তখনো কাঁপছে। ওর চোখ কিছুটা ছল ছল করছে। আমি আমার মনটাকে শান্ত রাখতে চেষ্টা করলাম। ওর ঘাড়ে হাত রেখে যথা সম্ভব নীচু গলায় আবার বললাম,”কী হলো? কে আসছে? বলো?”। “রিফাত” !! অপার উত্তর।উত্তরটা শুনে চমকে উঠলাম আমি নিজেও। ভালও লাগল। কাঁচা ঘুম ভাঙার রাগটা আর একটুও থাকল না। অনেকটা জোড় করেই ওকে টানতে টানতে নিয়ে গেলাম ড্রইং রুমে।আমাকে দেখেই রিফাতও খুশি হয়ে উঠল মনে হলো।
রিফাতঃ কিরে, কেমন আছিস?
আমিঃ যাক! শেষ পর্যন্ত এ মুখো হলি!! বোমা মারলেওতো পালানোর জন্য এদিকে আসতি না!!
রিফাতঃ বেশি কথা বললে চলে যাব কিন্তু!
হুমকিটা খারাপ না। কিন্তু আমি লক্ষ্য করলাম, শুধু অপা না, রিফাতো অনেক আপসেট। অপা তখনো দাঁড়িয়ে। কী করবে, কী বলবে কিছুই বুজতে পারছে না। রিফাতের মুখটা আমি দেখলাম ভালো করে। আমার কাছে, অপা, রিফাত কাউকেই স্বাভাবিক লাগেছে না। কিন্তু ওদের মানসিক অবস্থাটা মেনেও নিতে পারছি না। বুঝতেও পারছি না কী করলে ভালো হয়।
আত্মবিশ্বাস বরাবরি কম আমার। কোন কঠিন সিচুএশনে আমি পালানোর পথ খুঁজে বেড়াই। এবারও পালানোর সিদ্ধান্ত নিলাম। তবে পালানোর পথ খুঁজলাম শুধু পালানোর জন্য না। ভেবে দেখলাম, আমার এই পালানোটাই হয়ত ওদের একটু শান্ত হওয়ার সুযোগ করে দেবে। রিলেশনটা যেমনি হোক, ওরা দুইজনই আমার অনেক ভাল আর বিশ্বস্ত বন্ধু।বাস্তবতা ওরা দুজনই বোঝে।
আমিঃ রিফাত! তুই বাবুলের দোকানের মিষ্টি খেয়েছিস!
রিফাতঃ নাতো। কেন?
আমিঃ তাহলেতো জীবনে কিছুই খাসনি!! শোন! আবার কবে আসবি তারতো ঠিক নেই, আমি যাচ্ছি দোকানে। পাঁচ মিনিট লাগবে। তোরা কথা বল।আরে যাব আর আসব।
অপা, রিফাত দুইজনই মনে হলো আবার চমকে উঠল আমার কথায়। রিফাত মনে হলো বেশ রেগেই গেল আমার উপর।অবস্থা দেখে আমিই বললামঃ
তুই আজ রাতে এখানেই আছিস, তাই না। গল্প করার সময়তো চলে যাচ্ছে না। আমি এখনি চলে আসব। অপা, তুমি কথা বল ওর সাথে।আমি না আসা পর্যন্ত চা করো না কিন্তু। একসাথে খাব।
অপাকেও পালানোর কোন রাস্তা দিলাম না। ওদের কোন কথা না শুনেই আমি চলে গেলাম বাইরে। পাঁচ মিনিট না, কম পক্ষে এক ঘন্টা পরে আসব আমি। ওদের কথা বলাটা খুব দরকার। রিফাত আর অপা একই মেডিকেল কলেজে পড়ত। আর আমি ওদের থেকে অনেক দূরে দিনাজপুরে লেখাপড়া করতাম। রিফাতের সাথে প্রতি মুহূর্ত কাটাতো অপা। আমি শুধু দূরে থেকে ওদের গল্প শুনতাম। রিফাত আমার স্কুলের ফ্রেন্ড। আর অপা আমার ফেসবুক ফ্রেন্ড। তবুও, অপার সাথেই কথা হত আমার। রিফাত আর অপার এক জন আরেক জনের প্রতি উইক হয়ে পড়ার কথা ওরা আমাকে না বললেও বুজতে পারতাম। কিছু করার ছিলনা ওদের, কারন ওদের ধর্মটাই যে আলাদা!! সব জানতাম আমি। অপা সব বলত আমাকে। আমি শুধু শুনতাম। নিজের কথা কিছুই বলতামনা। রিফাত একদিন সরাসরি আমার কাছে জানতে চেয়েছিল, ”তুই কি ভালবাসিস অপাকে? শুধু সত্যিটা বল একবার।আমি অপার ভালো চাই। আমি বুঝি, ও শুধু আমার প্রতি না, তোর প্রতিও উইক। তুই শুধু তোর কথাটুকু আমাকে বল। তারপর যা করতে হয় আমি করব”। উত্তর দিতে পারিনি আমি। অন্তত এই সত্যটা অপার কাছে বলার সাহস আমার ছিল না। আর এবার রিফাতকেও বললতে পারলাম না। ও আমার চোখের ভাষায় কিছু বুঝেছিল হয়ত। কীভাবে যে কি হয়ে গেল জানিনা, হঠাত একদিন দেখতে পেলাম, আমি আর অপা এনগেজড!! সব কিছুর মূলে আছে ওই রিফাত!!!
রিফাতকে বারবার বলি বাসায় আসতে। আসে না। কথা বলতে চাই ফোনে। বেশি একটা কথাও বলেনা। আর অপা? মনে হয়, প্রতিটা মুহূর্তে ও অভিনয় করছে আমার সাথে। আমার নিজেকে সারাজীবনের জন্য অপরাধী মনে হয় ওদের দুজনের কাছে। প্রচন্ড স্বার্থপর মনেহয় নিজেকে। । পাশাপ্সহি,আমাদের দুজনের চোখেই মহৎ হয়ে থাকল রিফাত...
পাক্কা দেড় ঘন্টা পরে ফোন করল অপা। তারমানে এতটা সময় কীভাবে পার হলো বুজতেও পারেনি ওরা।।হঠাত মনে পড়ে ফোন করেছে!! ফোন পেয়ে আর দেরী না করেফিরে আসলাম বাসায়।
“এইতোর পাঁচ মিনিট!!” হাসতে হাসতে বলল রিফাত।“তোমারিতো বন্ধু" এমনভাবে বলল। যেন খুব যেন মজা পেয়েছে অপা। কত সুখী মানুষ মনে হচ্ছে ওদের দুজুনকে! মনের অবস্থার সামান্যতম প্রকাশ নেই মুখে।আসলে, সুখের জন্যই আমাদের সুখীমানুষ সাজতে হয়।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now