বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পল্টু ও বল্টু-২

"ছোটদের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X ওই লাল ফিতাটার জন্য কয়দিন ধরে পল্টুর এমনিই মন পুড়তেছিল। তবু শুধু এতোটুকু কারনে সে ক্ষেপবে, এমন ছেলেই সে না। কত্ত মিশুক সে। আর ও কি এখনও অমন ছোট্টটি আছে নাকি? আর গুনে গুনে চার মাস উ.. উ… মানে আর সাথে ১২ কি ১৩টা দিন হবে আর কি। তখন তার পুরা চার বছর পুরা হয়ে যাবে। অনেক মজা হবে তখন। সেও তখন বল্টু, গুড্ডু, ছোটকু, মাশুক, বুলু সবার সাথে একলা একলা খেলতে পারবে, সাঁতার কাটতে পারবে আর কত্ত কি যে করবে, ভাবলেই পল্টুর মনটা খুশি খুশি হয়ে যায়। এখন ত বড়দের সাথে পুসকুনিতে নামতে হয়। সন্ধ্যেবেলা ঘর থেকে বেরও হতে দেয় না। আর ত আর, গুড্ডু আর বিটলুর জামা, যেগুলো ছোট হয়ে গেছে, ওই জামাগুলোই পড়তে হয় ওকে। বল্টু মিচকে বাঁদর ত তাই ওকে আড়ালে আবডালে বিটলুই ডাকে পল্টু। আজকে জন্মদিনের ভালো ভালো ভাবনা্গুলোও মনটা ভালো করে দিচ্ছে না পল্টুর। এমন কদাচিৎ হয়। হবেও বা না কেন? পিয়ন চাচা আব্বুর চিঠি দিয়ে গেছে আর বিটলা বল্টু পিয়ন চাচাকে ফুসলিয়ে চিঠিটা বগলদাবা করল। ও যে কেবল বড়, তা না, কেমন করে যেন খুব গুছিয়ে কথাও বলে, পল্টু তেমন মোটেই পারে না। আর ত আর, বল্টু নিজের নামও লিখতে পারে! মা থাকলে এমন কক্ষনোও হতো না। এতোক্ষণে মা নিশ্চই ওদের দুজনকে নিয়ে চিঠি খুলে পড়তে বসত। মা গেছে সদাই পাতি করতে। বাবার কাছে বেড়াতে যাবে বলেই এতো সব আয়োজন। বাবা খুব সুন্দর একটা জায়গায় খুব বড় চাকরি করে। ওদের এই ছোট্ট গ্রামটা থেকে অনেক দূরে, বাগের হাটে। ওখানে গেলে পল্টু বাঘ দেখবে। ওই পাড়ার টিঙ্কু ভাই বলেছে বাঘ হলো বড়ো বিড়াল। যখনই ভুলু আর গ্যাদাকে আঁদর করে তখনই পল্টুর খুব শখ হয়, বড়োও একটা বাঘ দেখার। ওর ত কত্তোগুলো বিড়াল আছে। কিন্তু একটাও বাঘ নেই। তাই সে বাগের হাটে গিয়েই একবারে বাগ দেখবে। বল্টুর নরম হাওয়ার বলটা গড়িয়ে গড়িয়ে পল্টুর কাছে এসে পড়ল। খুব সুন্দর হলুদ রঙের বল। ফুটবলের মতো দেখতে কিন্তু একদম ছোট্ট। পল্টুরও একটা ছিল। বাবা এনে দিয়েছিল গেল বার। কিন্তু পল্টু ত সব গুছিয়ে রাখতে পারে না। টমিটার কাছে কেমনে কেমনে চলে গিয়েছিল, আর বোকা কুত্তাটা দিয়েছে সুন্দর বলটার ১২টা বাজিয়ে। হঠাৎ রাগটা কেমন কলকলিয়ে উঠল পল্টুর। জোড়ে একটা লাত্থি মারল বল্টুর বলের গায়ে। অমনি বল্টু লাফিয়ে গজরাতে শুরু করল, “বলটা এনে দে পল্টু।” “দেব না, তোর বল তুই আন।” পল্টুটা একদম বেয়ারা হয়েছে। ভাবল বল্টু। ওর কাছে গিয়ে দুম করে পিঠে একটা কিল দিয়ে বসল বল্টু। অনেকক্ষণ রাগ পুষে বসেছিল পল্টু। এবার গেল ক্ষেপে। দৌড়ে গিয়ে বল্টুর জুতোর বাক্সটা নিয়ে একদৌড়ে বাসা থেকে বের হয়ে উঠোন পেরিয়ে একদম রাস্তায় উঠে গেল। বল্টুও পড়ি কি মরি করে ছুটল পল্টুর পিছে পিছে। “পল্টু, ভালো হবে না কিন্তু। আমার বাক্সটা আমারে দিয়ে দে বলতেছি।” পল্টুর তখন বেজায় রাগ হচ্ছিল। দৌড়ে খালের পাড়ের কাঠাল গাছটায় উঠতে গেল। কিন্তু হাতে এত্তোবড়ো বাক্স থাকায় একদম সুবিধাই করতে পারল না। এদিকে বল্টু ত পল্টুকে প্রায় ধরে ধরে আর কি। লাফ দিয়ে খালের একটু উপড়ে নুইয়ে পড়া ডালটা ধরতে গেল পল্টু। অমনি ধড়াস করে বাক্স টাক্স শুদ্ধ একদম খালে ভেতর পড়ে গেল পল্টুটা। হায় হায় করে উঠল বল্টু- “আব্বার চিঠি, আব্বার চিঠি”।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৪ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now