বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পল্টুর খামাখাই মেজাজটা উড়া-ধুরা হয়ে আছে। কোন সমস্যা নেই। বাইরেটা বেশ ভালোই, না ঠান্ডা না গরম। সূর্যের তেমন তেজও নেই। আর এসময় এমনি কোন কাজও থাকে না, মামণির বকা খাওয়ার চান্সও থাকে না। ইচ্ছেমতোই ভুলোর বাচ্চাগুলোর সাথে খেলা করা যায়। তবু পল্টুর মেজাজ খারাপ।
মেজাজ খারাপ না করে কোন উপায় আছে বল? মোটকু বল্টুটা খামাখা তাকে চেতানোর জন্য নিজের যক্ষের ধন জুতার বাক্সটা নিয়ে খুঁটখুঁট করছে। বল্টুর যাবতীয় গোপনীয় আর দরকারী জিনিষের সিন্দুক হলো এই জুতার বাক্সটা। ভারী সুন্দর দেখতে। এই হাইরমারা গ্রামে এই জিনিস মোটে দেখাই যায় না। সেবার ছোট মামা ঢাকা থেকে আসার সময় নানুমনির জুতার সাথে ওই বাক্সটাও নিয়ে এসেছিল। নানুর পা ত আবার ইয়া বড়, তাই বাক্সটাও নেহায়েত অতি লোভনীয় ছিল।
নানু সবসময় বল্টুকে একটু বেশি খাতির করে বলেই বাক্সটা এভাবে কবজা করে নিল ধেঁড়ে বান্দরটা। নানুও যেমন, বলে কি, দুই ভাইকে বলতে হবে বাক্সটা দিয়ে কি করবে? যার বেশি দরকার তাকেই দেওয়া হবে বাক্সটা। আচ্ছা যন্ত্রনা। পল্টু কি চট করে এমন গুছিয়ে বলতে পারে নাকি? নইলে ত বলতেই পারত পিচ্চি গ্যাঁদার জন্য একটা ঘর বানাবো। ওর ভাইগুলো ওকে মাঁচা থেকে ফেলে দেওয়াতে পুরা শীতকালটা সে পায়ের ব্যথায় খুব কষ্ট পেয়েছে। পল্টু যদিও ওকে তার চৌকির তলে পেপার বিছিয়ে শুইয়ে রাখত, তাও, একটা বাক্স হল একটা বাক্স। একটা আস্ত ঘর।
আরও কত দরকারী কাজ করা যে যেত। কিন্তু নচ্ছাড়, ওই সময়ে যদি কিচ্ছু মনে আসত! বল্টুটা ঠাস করে বলে দিল ওর কি কি সব দরকারী জিনিসগুলো ওখানে রাখবে। তেতুলের ৩৩টা বিঁচি, কোন কামে জমিয়েছে সেই জানে, কলম ঢাকনী, পর্দার চাকতি, চকলেটের ঠোঙ্গা, বাদামের খোসা, আরও কত যে মজাদার সব জিনিস ঢুকিয়েছে ওর সেই যক্ষের ধনে, আল্লাহ মালুম।
পল্টু অত গোছানো না কিনা, অত কিছু সে গুছিয়ে রাখতে পারে না। আর বল্টু ত ওর থেকে পুরা সাড়ে ১১ মাসের বড়। তাও খালি খালি ওর সাথে গন্ডগোল পাকাবেই পাকাবে। কত আশা করেছিল মায়ের লাল ফিতেটা সেই পাবে। কিন্তু মাকে বলতে বলতেই কেমন করে যেন দেরী হয়ে গেল। বিচ্ছু বল্টুটা এর মধ্যেই ফিতেটা বগলদাবা করে বাক্সটা সুন্দর বেঁধে ছেঁদে ফেলল। মা অবশ্য বলেছিল মার অন্য যে কোন নতুন ফিতাই পল্টুকে দিয়ে দেবে। কিন্তু লাল টা নেবে বলে সে যে অ-নে-ক দিন অপেক্ষা করেছে। বল, লাল ফিতার মতো সুন্দর ফিতা কি আর একটাও হয়। লাল পুরোনো হলেও সুন্দর থাকে। গুট্টুশটার গলায় যা মানাতো না ফিতাটা। গুট্টুশটা একদম সাদা ত। খুব সুন্দর। ওর মা ভাইদের থেকে একদম আলাদা। একটু বেশি আদর ত সে পেতেই পারে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now