বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কাঠের-বাড়ী 02

"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X হরিশের হাতে একটা কৌটো ।হরিশ আমার দিকে তাকিয়ে বলল ,ভয় পাইয়েন না স্যার।সাহেবের কিছুই অইব না । সত্যিই শিলুর কিছু হলনা ।ধীরে ধীরে অমন বরফ ঠান্ডা শরির গরম হয়ে উঠল ।আধঘন্টার ভিতরে শিলু দিব্যি সুস্থ হয়ে গেল ।শিলু উঠে বলল ,আমার কি হয়েছিল ?শিলু আমার দিকে তাকিয়ে ছিল ।চোখ বরাবর ।আমি হরিশের দিকে তাকালাম দেখে শিলু ও হরিশের দিকে তাকাল ।দুই জোড়া চোখ হরিশের দিকে জিজ্ঞাসু চোখে তাকিয়ে রইল ।হরিশ প্রথমে কিছু বলতে চাইছিল না ।জিজ্ঞেস করলেই খালি বলত ,এটা তেনাদের ব্যাপার ,গোপন ব্যাপার,কওয়া যায়বনা ।শেষে আমাদের জোড়াজোড়িবলে দিল ।হরিশের কথা শুনে আমি বেশ চিন্তিত হয়ে গেলাম ।কিন্তু শিলুকে দেখলাম সে স্বাভাবিক আছে ।মোটেও চিন্তিত হলন ও ।মনে হল সে যেন একটা খুবই হাস্যকর আর মজার কথা শুনেছে ।যেখানে জীবন মরনের প্রশ্ন সেখানে কেউ এত ফুরফুরে মেজাজে থাকতে পার বলে আমার জানা ছিলনা । সকালের নাস্তা সেড়ে ঘরে বসে একটু রেস্ট নিচ্ছি এমন সময় শিলু এসে বলল , চল বাইরে থেকে একটু ঘুরে আসি ।আমি প্রথমে যেতে চাইলাম না ।কিন্তু শিলুর জোড়াজুরিতে যেতে রাজি হলাম ।অদ্ভুত ছেলে শিলু ।খোদা ওকে কিভাবেসৃষ্টি করেছেন কে জানে । রাস্তা দিয়ে হাটছি ।সামনে একটা কি দেখিয়ে শিলু আমাকে বলল ,ঐ যে দেখছিস? আমি সামনের দিকে তাকিয়ে সরিষার খেত ছাড়া আর কিছুই দেখতে পেলাম না ।আমি আশ্চর্য হয়ে বললাম ,ওটা তো একটাসরিষা খেত ।শিলু বলল ,ধুর !বোকা ওটা সরিষা খেত নয় ওটা একটা ঔষধী গাছ ওটা দিয়ে মানুষ কে মৃতের মত করে দেয়া যায়আবার বাচিয়ে ও দেয়া যায় । শিলু শেষ কথা শুনে আমি চমকে উঠলাম,তারমানে.....।শিলু আমার কথা শেষ করতে দিলনা হাত তুলে বলল ,চুপ থাক ! আমার মাথাটা কেমন গুলিয়ে যেতে লাগল ।ক্রমেই রহস্য ঘন থেকে ঘনতর হচ্ছে অথচ আমি এর মাথা মুন্ড কিছুই বুঝতে পারছিনা ।মনে হচ্ছে মাথার মগজে অনেকময়লা জমেছ ।একবার পরিষ্কার করে নিতেহবে ।ভাবলাম আমি ।হঠাত্ আমাদের সামনে দিয়ে একটা অদ্ভুত লোক গেল ।যাবার সময় আড়চোখে আমাদের দিকে তাকিয়েছিল লোকটা ।লোকটার পড়নের কাপড় একদম সাদা ।লোকটাকে অনেকটা কাফন দেয়া মৃত দেহের মত মনে হল ।আমি শিলুকে বললাম ,শিলু কিছু দেখেছিস ? শিলু নিদ্বিধায় বলল ,কি দেখব ?আমি বললাম , লোকটাকে । শিলু এবার আশ্চর্য হয়ে বলল , কোন লোকটার কথা বলছিস ? আমি বলল ,সেকিরে !তুই দেখতে পাসনি সাদা কাপড় পড়ে আমাদের পাশ দিয়েযে গেল একটা লোক ! শিলু মুচকি হেসে ,ও যদি মেয়ে হত তাহলেই না দেখতাম !শিলুর কন্ঠ রসিকথার স্বর ।এই ঘোর বিপদে যে কেউ রসিকথা বলতে পারে তা আমার জানা ছিলনা । হঠাত্ আমার কাছে শিলুর রসিকথাটা অর্থবহ হয়ে উঠল ।আমি পাই করে পিছনে তাকালাম ।যা দেখলাম তাতে আমার বিস্ময়ের সিমা ছাড়িয়ে গেল ।ওটা কোন ছেলে নয় একটা মেয়ে ।পিছনে একগাছি লালচে চুল ঝুলে আছে ।এর কথায় আমাদের বলেছিল হরিশ ।এই টা নাকি একটা প্রতাত্না ।পুরুষের বেশ ধরে থাকে কিন্তু রাতের বেলা বাড়ি বাড়ি গিয়ে রক্ত চোষে খায় ।সেই নাকি শিলুর রক্ত খেতে চাচ্ছিল কাল রাতে ।কিন্তু আমি প্রদিপ জ্বালাতে আর সুবিধা করতে পারেনি ।আমার হৃত্ পিন্ড দিয়ে হালকা ভয়ের একটা তরল স্রোত বয়ে গেল ।আমি শিলুর দিকে তাকালাম ।শিলু এখনোমিটিমিটি হাসছে ।মাঝে মাঝে অবহেলার চোখে আড়ে আড়ে আমাকে দেখছে ।ওর চোখের ভাষায় স্পষ্ট পড়লাম ,এটুকু বুঝতে পারছনা ? তোমার মগজে কি কিছুই নেই ? এমনকি গোবর ও না ? আমি সত্যিই কিছুই বুঝতে পারছিনা ।প্রতাত্না ,অস্থায়ী মৃত্যুর খেত ।কেমন আমার মাথাটা গুলিয়ে যেতে লাগল।মাথাটা একটা পাহাড়ের মত ভারি হয়ে আছে ।এর কারণ কি ? চিন্তা নাকি রাতজাগা ?কোনটা ! *** : দুপুরের খাবার সময় হয়ে গেছে ।বলল শিলু । আমি বললাম ,চল ফিরা যাক । আমরা কাঠের বাড়ির দিকে রওয়ানা হলাম ।কাঠের বাড়িটা দেখে আমার মনে হল,সত্যিই এটা একটা রহস্য !একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লাম থেমে থেমে । খাওয়া দাওয়া শেষে আমি আমার একটা প্রিয় বই নিয়ে পড়তে শুরু করলাম ।বইটার নাম "দেবদাস" ।রোমান্টিক উপন্যাস ।কিন্তু আশ্চর্য আমার কাছে এটা একটা গোয়েন্দা উপন্যাস মনে হচ্ছে ।মনে হচ্ছে হাজারো রহস্যে ঘেড়া এই উপন্যাস !আমার মাথায় চিনচিনে একটা ব্যাথা শুরু হল ।আমি কি পাগল হয়ে যাব ?মনে মনে প্রশ্ন ছুড়লাম আমি ।আমি বিছানা ছাড়িয়ে একটুঘুমানোর চেষ্টা করলাম ।কার্যে সফল হলাম ।ঘুম থেকে উঠে দেখি একদম সন্ধা ।মাগরিবের প্রায় সময় হয়ে এসেছে ।এখানে কাছে মসজিদ নেই বলে আজান শুনা যায়না ।সময় দেখে নামাজ পড়তে হয় ।ঘুমের কারণে আসরের নামাজ কাযা পড়তেহবে । নামাজ শেষ করে বিছানায় বসতে যাব এমন সময় দরজা ঠেলে কে যেন ঘরে ঢুকল ।চেয়েদেখলাম শিলু ।ওর মুখে মিটিমিটি হাসিটা আর দেখতে পেলাম না ।হাসিময় জায়গাটায় একরাশ দুশ্চিন্তা ভর করে আছে ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ কাঠের-বাড়ী 01

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now