বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কাঠের-বাড়ী 01

"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X কাঠের বাড়িটার দিকে তাকিয়ে আমার গা ছমছম করে উঠল ।আমি শিলুকে জিজ্ঞেস করলাম ,আমরা কি এই বাড়িতেই থাকব ? শিলু নিদ্বিধায় বলল ,হ্যা ! আমি বললাম ,শিলিগুড়িতে এত বাড়ি থাকতে তোর এই পুরোনো জীর্ণ ভূতুরে বাড়িটা পছন্দ হল কেনরে ? শিলু মুচকি হেসে বলল ,এটাই তো রহস্য! শিলু সবসময় এরকম হেয়ালি কথা বলে ।কাল এসে শিলু বলল ,অভি শিলিগুড়ি যাবি ?আমার তখন তো স্কুল বন্ধ ছিল ।তাই ভাবলাম ,বলছে যখন একটু বেড়িয়ে আসি ।তখন কি জানতাম যে ও আমাকে এমন একটা ভুতুরে বাড়িতে এনে তুলবে ।ভয়ে বাড়িটার দিকে তাকানোই যায়না তারপর আবার থাকতে হবে ।ভয়ে এই শিলিগুড়ির বুড়োমরার শীতের মাঝেও আমি ঘেমে একাকার হয়ে গেলাম ।শিলু আমার দিকে তাকিয়ে বলল ,কিরে ভয় পেয়ে গেছিস ? আমি নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম ,না ! শিলু আমার দিকে অদ্ভুত চোখে তাকিয়ে বলল ,তাহলে ঘামছিস কেন ? আমি তার একথার উত্তর না দিয়ে বলল ,এই বাড়িতে না থাকলেই কি নয় ? শিলু বিড়বিড় করে বলল ,এই বাড়ির জন্যইতো আমার এত দূর থেকে আসা এই বাড়ি.......।আর কিছুই বুঝতে পারলাম না । আমরা ধীরে ধীরে বাড়িটার দিকে এগোতে লাগলাম ।যা ভেবেছি তা নয় ।বাড়িটার ভেতর বেশ জমকালো ।ভিতরে থেক বুঝা যায়না যে এটা একটা কাঠের বাড়ি ।ইলেকট্রিসিটি নেই কিন্তু পাম্প লাইট আছে কেরোসিনের ।আর আছে অনেকবছরের পুরনো একটা আয়না ।পুরনো হলে কি হবে বেশ শক্ত আর পুরো ।এখনো টিকে আছে আদিকালের বেশেই । আমরা গোসল সেড়ে টেবিলে খেতে গেলাম ।আপনাদের তো বলাই হয়নি যে এই বাড়ির একজন কেয়ারটেকার আছে ।তবে দিনের বেলা সে থাকলেও রাতে তাকে বেধে ধরেও রাখা যায়না ।তবে কেয়ারটেকার হরিশ বেশ প্রভু ভক্ত লোক ।আমি শিলুকে বললাম ,কিরে এক গ্লাসে পানি খাওয়া চলবে নাকি আমি মুসলমান বলে অন্য গ্লাস নিতে হবে ।তোদের আবার খুব সহজেই জাত হাতছাড়া হয়ে যায় ? শিল বলল ,ধুর !আমি ওসব জাত ফাত বিশ্বেস করিনা । হরিশ আড় চোখে দেখলাম ব্যাপার টা ভাল ভাবে নিচ্ছেনা । খাওয়াটা বেশ ভালই হল ।যাকে বলে ভুরিভোজ ।এই খাওয়ার পিছনে বলতে গেলেযার কুতিত্ব বেশি সে হল হরিশ ।যা রেধেছে না ।একে বারে স্বর্গীয় ভোজ ।শিলু বলল , তোরা মুসলমানরা কেন জানিএকটু বেশিই খাস ।আমি তার কথা রেশ ধরেসাথে সাথে বললাম , তাইতো তোদের ঐ ব্রাহ্মন দের মত আমাদের ভূড়িটা একটুবড় হয়ে যায় ।আমার এই কথায় শিলু জব্দ হয়ে চুপসে গেলেও হরিশ বিশ্রি রকম ভাবে হেসে উঠে ।কি বিশ্রি হাসি হরিশের ।যে এই হাসি শুনবে আমি হলপ করে বলতে পারি তার শিরদ্বাড়া দিয়ে একটা তরল পদার্থের ভয় কেটে কেটে উঠবে । *** আমার একটা বিশ্রি বদঅভ্যাস আছে ।নতুন স্থানে প্রথম প্রথম আসলে ঘুম হয়না ।আজও এর অন্যথা হলনা ।ঘুম যে কোথার পালালো কে জানে ।শিলুটা দিব্যি নাক ডেকে ঘুমোচ্ছে ।আমি উঠে বাথরুম করে এলাম ।তারপর আবার কিছুখনঘুমাবার চেষ্টা করলাম ।ব্যার্থ হয়ে ঘুমানোর আশা ছেড়ে দিয়ে কেরোসিনের প্রদিপ টা জ্বালিয়ে একটা বই নিয়ে পড়তে থাকলাম ।বই আমার আগের একবার পড়া তবু এই গা ছমছম করা পরিবেশে ভূতের বইটা বেশ ভাল লাগছে । বইটা পড়তে পড়তে সকাল হয়ে এল ।একদম ঘুম বিহিন একটা রাত কাটালাম ।উঠে দেখলাম মাথাটা কেমন জানি ভারি ভারি লাগছে ।শুধু মাথায় না বোধ হচ্ছে সাড়া শরিরই ভারি হয়ে আছে ।আমি খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে ফজরের নামাজ পড়ে নিলাম ।নামাজ পড়ে এসে দেখলাম শিলু এখনো বেগোরে ঘুমোচ্ছে ।আমি শিলুকে জাগাতে চেষ্টা করলাম না ।ঘুমোক ও ।কিন্তু হরিশ যখন খাবারের জন্য ডাকতে এল তখন আমি তাকে ডাকলাম কিন্তু কোন সাড়া পেলাম ।আমি কিছুটা ভয় পেয়ে গেলাম ।আমি তাড়াতাড়ি শিলুর হাত ছুয়ে দেখলাম ।একি শিলুর হাত এত ঠান্ডা কেন ?আমি জোরে জোরে হরিশকে ডাকলাম ।কিছুখন পড় হরিশ এসে ঘরে প্রবেশ করল । ক্রমশ................


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ কাঠের-বাড়ী 02

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now