বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

গুপ্ত প্রেম

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ ছহিনুর রহমান বিন মনির (০ পয়েন্ট)

X পড়ার টেবিলে বসে ভাবতেছি সূচনাকে নিয়ে একটি কবিতা লিখব। অাবার সেটাও ভাবতেছি, কবিতা লিখে কি হবে? সে কবিতা তো অার সূচনা দেখতে পারবেনা। . কিছুদিন ধরে মনটাকে স্থির করতে পারছিনা কিছুতেই। একেক সময় মরে যেতে ইচ্ছে করে। অামার এই ইচ্ছেটা লোক সমাজে প্রকাশ করলে মানুষ অামাকে পাগল বলবে। তবে মানুষ খুব বিচিত্র প্রাণী। মানুষের খুবই অাশ্চর্য রকমের ইচ্ছে হয় মাঝে মধ্যে। . চারদিন নেশা করেছি। এটাও একটা পাগলের মতই কাজ। বন্ধুকে ভুলতে অাজ পর্যন্ত কেউ নেশা করেছে কিনা অামি জানিনা। তবে অামি সূচনাকে ভুলতে চাই। খুব করে ভুলতে চাই, যেন কিছুতেই অার মনে না পড়ে। ভাবতেছি সূচনাকে একটি চিঠি লিখব। বলে দেব সে যেন অামার মন থেকে দূরে সরে যায়। কিন্তু চিঠি কোন ঠিকানায় পোস্ট করব? সূচনার ঠিকানাতো অামি জানিনা। ভেবে নিলাম গভীর রাতে কবরস্থানে রেখে অাসব। সেটা ভেবেই সূচনাকে চিঠি লিখা শুরু করেছি... . দোস্ত.... লিখবনা লিখবনা করেও তোকেই লিখতেছি। জানি ভাল অাছিস। সেজন্য অার জানতে চাইবনা। তবে বিদায় বেলা তোর চোখের দুই ফোটা অশ্রু অামাকে খুব করে ভাবিয়ে তুলে। ও, যে কারনে তোকে ঘটা করে এই পত্র লিখা। দীর্ঘ সাত বছরতো জ্বালিয়ে মারলি। কিন্তু এখন তোর জ্বালাতন অার ভাল লাগছেনা। হাটতে, খাইতে, শুইতে সব জায়গায় তোকে অামি অনুভব করি। তুই নেই এই কথাটি অামি কিছুতেই মানতে পারিনা। চলেই যখন গেছিস অামাকে রেখে তাহলে মন থেকেও চলে যা। নয়তো অামার মনে হয় তুই ভাল নেই। তাই বার বার ফিরে অাসতে চাচ্ছিস অামার কাছে। সত্যিই কি তাই???... তাহলে...... . চিঠি লিখার মধ্যেই জানালার পর্দাটা পতাকার মত পত পত করে শব্দ করতেছে। পিছন ফিরে তাকাতেই দেখি ছোট একটা অালো জানালা দিয়ে অামার রুমে প্রবেশ করল। এমন অালো অামি অাগে কখনো দেখিনি। নাগ নাগিনীর ছবিতে নাগ এর মাথায় যে মনি দেখা যায়, ওটার মত অালো। অামার পাশ দিয়ে রুমের দরজা দিয়ে বের হওয়ার সময় গায়ে হালকা বাতাস দিয়ে গেল মনে হয়। অামি অবাকের চেয়েও অবাক হয়েছি। অাসলে কি এই জিনিসটা? পাশের রুমে অাম্মুকে ডাকব কিনা ভাবতেছি। আমি অালোটার পিছনে ছুটলাম। বারান্দায় যেতেই থমকে দাড়িয়েছি। অামি কি করব বুঝে উঠতে পারছিনা। অানন্দিত হব না ভয়ে চিৎকার করব বুঝে উঠতে পারছিনা। চোখের সামনে দাড়িয়ে অাছে স্বয়ং সূচনা। অামার মুখ বন্ধ হয়ে গেছে। কিছু বলতেও পারতেছিনা। হঠাৎ সূচনাই বলে উঠল... - অামি ভাল অাছি। তুই নিজেকে অার কষ্ট দিসনা। তুই নিজেকে কষ্ট দিলে অামিও কষ্ট পাই, তাই ছুটে অাসি। অামাকে মুক্তি দে, তুইও মুক্ত হয়ে যা মায়ার বাঁধন থেকে.... অামি এবার চিৎকার দিলাম। মা...... মা রুম থেকে বেরিয়ে এসে পিছন থেকে জানতে চাচ্ছে, কি হয়েছে? অামি পিছন ফিরে মায়ের কাছে দৌড়ে গিয়ে মা'কে জড়িয়ে ধরলাম। মা, মা সূচনা এসেছে। - কোথায় সূচনা? -এইতো... দেখাতে গিয়ে অবাক হলাম। সূচনা নেই, সেখানে কেউ নেই। মা অামাকে জড়িয়ে ধরে বলতেছেন, "বাবা সূচনা নেই, এটা মেনে নে।" . সূচনা অার অামার বন্ধুত্ব সাত অাট বছরের। সেই বারো বছর বয়স থেকে। এক সাথে স্কুলে যাওয়া, দুষ্টুমিতে মেতে থাকা অারো কতকি। এলাকার মানুষ কত কি ভাবত। বলত এত ছোট বয়সেই দুজনের পিড়িত কাঠালের অাঠার মত। অথচ অামরাতো জানি, অামাদের বন্ধুত্ব ছাড়া অার কিছু নেই। কিন্তু কেউ কাউকে না দেখে একদিনও থাকতে পারিনা। অামার দেরি হলে সূচনা অামার বাড়ি চলে অাসত। অামিও চলে যেতাম সূচনার বাড়ি। না, অার পরের দৃশ্যগুলো ভাবতে পারছিনা। মাস তিনেক অাগে সূচনা অামার হাত ধরে অঝরে কান্না করতেছিল। অামি উতলা হয়ে বারবার জানতে চাচ্ছি, দোস্ত তোর কি হয়েছে? সূচনা অস্রুসিক্ত নয়নে বলছিল, "জানিস দোস্ত, অামি অার বেশীদিন বাঁচবনা। অাব্বু অাম্মু যখন ডাক্তারের কাছ থেকে এসে অামাকে নিয়ে পাশের রুমে কথা বলছিল, তখন অামি শুনে ফেলেছি। অামার নাকি ব্রেণ ক্যান্সার। দোস্ত অামি অারো বাঁচতে চাই।" অামি স্তম্ভিত। কিছু বলার ভাষা পাচ্ছিনা। তবুও জোর করে বললাম, "তুই ভুল শুনেছিস, এটা মিথ্যে কথা।" দৌড়ে গিয়ে সূচনার বাবা মায়ের কাছে জানতে চাইলাম ঘটনা সত্যি কিনা। তারা সাথে সাথে অস্বীকার। এমন কোন কথাই হয়নি। সূচনা ভুল শুনেছে। তার সামান্য সমস্যা অাছে, বড় ডাক্তার দেখাবে। মনের উপর থেকে পাথরের বুঝা সরলেও সূচনার চেখের পানি অামাকে ভাবিয়ে তুলছিল। . এর পরের দুইমাস ভাল কেটেছিল। অাগের মত হেসে খেলে। মাঝেমধ্যে ডাক্তার দেখাত সূচনাকে। কিন্তু শেষ একমাস যখন হাসপাতালে ভর্তি হল সূচনা তখন থেকে অামারও কান্না শুরু। সত্যিই কি অামার দোস্তকে হারিয়ে ফেলব অামি? . যেদিন সূচনা মারা যায় অামি সূচনার হাত ধরে বসে ছিলাম। সূচনার বাবা মা, বড় বোন আর দুজন অাত্মীয় চোখের জল মুছতেছিল। অামি তখন একটুও কাঁদিনি। অামাকে কাঁদতে দেখলে সূচনা অনেক কষ্ট পাবে। অাক্সিজেনের মাক্স সূচনার মুখে। একটু পর পর জোরে নিঃশ্বাস নিতে গিয়ে সূচনার শরীর কাঁপুনি দিচ্ছিল। অামার ভিতরে তখন কাল বৈশাখী ঝড়ে সব উলট পালট করে দিচ্ছিল। অামি সূচনার হাত ধরে বসে অাছি। সূচনার দিকে তাকিয়ে দেখি তার চোখ থেকে শেষ পানির ফোটা গড়িয়ে পড়ছে। একদম নীরব হয়ে গেল সূচনা। অামি তখন চিৎকার করে কাঁদতে পারিনি। পাথরের মত বসে ছিলাম। কেঁদেছিতো পরেরদিন থেকে। অামি প্রতিদিন সূচনাকে খুঁজতে তাদের বাড়ি চলে যেতাম। অার তাকে খুঁজে না পেলেই কান্না শুরু করে দিতাম। এখনো কাঁদি অামার দোস্তটার জন্য। অার অাজ সূচনা বলে গেল সে ভাল অাছে। অামি যেন নিজেকে কষ্ট না দেই, তবেই সে মুক্ত হবে। . অামিতো সূচনাকে অাটকে রাখিনি, তাহলে কিসের মুক্তি চায় সে? অ বুঝেছি। অামার মায়ার বাঁধন থেকে মুক্ত হতে চায়। ঠিক অাছে, মুক্তি পেয়ে যাক। চিঠিটি লিখা অার শেষ হলনা। অামি দোস্তটাকে চিঠি পাঠাতে পারিনি। খবর এসেছে নিজেকে কষ্ট দেয়া যাবেনা। ভুলতে হবে তাকে। কিন্তু ভুলে যাওয়াটা কি অাদৌ সম্ভব????


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২০ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now