বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
অামার এক রুমমেট অাবার ক্লাসমেটও মাঝে মাঝে রাতে উধাও। সারারাত বাসায় অাসত না খুব ভোরে বাসায় ফিরত খুবই ক্লান্ত উসকো খুসকো চুল চোখের নিচে কালি দেখেই বোঝা যায় সারারাত ঘুম হয়নি । কি করে ও মাঝে মাঝে জিজ্ঞেসা করতে মন চায় অাবার ভাবি থাক । হয়তো অসুস্থ । মানুষ দেখে বোঝার ক্ষমতা অামার নেই।এভাবে করে ইদানিং প্রায়ই ও বাসায় অাসত না । একদিন বিকেলে অামি অার ও বাসায় ছিলাম। ওর সাথে বসে কিছুক্ষন গল্প করতেছিলাম । এর ফাকে ওকে জিজ্ঞেসা করি
দোস্ত প্রায় রাতে তুই বাসায় অাসোনা, কই যাও । অাত্মীয় স্বজনের বাড়িতে যে যাওনা তা অামি নিিশ্চত । কই থাকো রাতে?
বেশ্যাপাড়ায় যাই ।
অামার মাথায় অাকাশ ভেঙে পড়ল। ও মাদ্রাসার ছাত্র ছিল । এখনও পাচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে। ও এগুলো কি বলে। দোস্ত ফাইজলামি করিসনাতো।
হ্যা দোস্ত। অামার এক বান্ধবী অাছে। তুই তো জানিস একথা।
হ্যা জানিতো তুই তো প্রায়ই কথা বল। একদিন অামাকে নামও বললি। কি যেন নাম ,,,, মাধবী।
মাধবী। ও কিন্তু একজন পতিতা।
কি!!! সালা । নিজের প্রেমিকাকে নিয়ে এগুলো বলতে খারাপ লাগে না।
না। দোস্ত সত্যি কথাই ।
তুই অামাকে নিয়ে যাবি ।পরিচয় করাতে।
ওকে চল অাজই যাই।
অাজ । একটু ভেবে ওকে চল । কোন সময় যাবি।
রাতে রাত ১১~টার পর।
রাতে তাড়াতাড়ি করে খাওয়া দাওয়া শেষ করে সুমন (অামার বন্ধুর নাম) অার অামি বাসা থেকে বের হই। ভেতরে অনেক ভয় করছে । জীবনে কখনো কোন পতিতার সাথে কথা হয়নি । বই পড়ে ও সিনেমা দেখে যতটুকু জানি তাই।
রাত ১১টার সময় মিরপুর ৬ নম্বরের একটা বাসার সামনে অাসলাম । অামিতো তখন ভয়ে রীতিমতো কাপছি। যতটুকু জানি এখান থেকে নাকি মাঝে মাঝে পুলিশ পতিতাদের সাথে খদ্দরদেরও ধরে নিয়ে যায়। সুমন ব্যাপারটা বুঝতে পেরে বলে ভয়ের কিছু নাই। এখানটা অনেক নিরাপদ। অামি একটু সাহস পেলাম।
৬ তালার উপরে একটা বাসার সামনে এসে কলিং বেল দিতে একটা মেয়ে দরজা খুলে দেয়।
ভিতরে অাসেন। মেয়েটি বলল।
ভিতরে ঢুকেই নাকে একটা গন্ধ পেলাম। কড়া লিপিস্টিক ও পাউডার এর গন্ধ। দম বন্ধ হয়ে অাসছে।
সুমন অামাকে মাধবীর সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় । ২৩ বা ২৪ বছর হবে । লম্বায় ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি। চেহারাও সুন্দর। যেকোনো ছেলেকে পাগল করার মত।
মাধবী অামাকে পাশের একটা রুমে নিয়ে গেলো । এই রুমে একটা মেয়ে শুয়ে ছিল । সেও দেখতে মাধবীর মতোই ।
সুমন বলল তুই এখানে থাক অামি অাসতেছি। মাধবীকে সঙ্গে নিয়ে পাশের রুমে চলে গেল।
এদিকে মেয়ে উঠে দরজা বন্ধ করে দিলো । অামিতো ভয় পেয়ে গেলাম। কি করবে মেয়েটা এখন।
সবকিছু খুলতে হবে । মেয়েটি অামার কাছে এসে জিজ্ঞেসা করল।
না থাক । শোনো তোমার নাম কি?
অামাদের অাবার নাম! কেউ বেশ্যা, কেউ খানকি, কেউ মাগি , কেউ পাড়ার মেয়ে বলে। অাপনার যা ইচ্ছা একটা বলে ডাকতে পারেন।
দেখুন অামি কিন্তু অন্যদের মত না । অাপনার বাবা মার দেয়া নামটা বলুন।
শিউলি।
গ্রামের বাড়ি কোথায়?
রংপুর ।
অাপনি এখানে কিভাবে অাসলেন?
সে অনেক ঘটনা । ইচ্ছা করেতো কেউ এই লাইনে অাসে না।
অাপনি কি বলবেন কিভাবে এখানে এলেন?
এত কিছু শোনার দরকার নাই । অাপনার কাজ তাড়াতাড়ি করে চলে যান।
দেখুন অামি কিন্তু কিছু করতে অসিনি। অামি অাসছি অাপনাদের সর্ম্পকে জানতে।
কেন জেনে কি করবেন? পত্রিকায় লিখবেন। অামাকে সহমর্মিতা দেখাবেন। দরকার নেই অাপনাদের সহমর্মিতার। অাপনারা অামাদের নিয়েও ব্যবসা করেন। সমাজে ভালো হওয়ার ভাব দেখানো।
অাপনি অামাকে ভুল বুঝছেন।অাপনার ছোটবেলা কোথায় কেটেছে?
মেয়েটা কাদছে। চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পরছে। ওদের চোখের জল অার অামাদের সভ্য সমাজের চোখের জল কি ভিন্ন। চোখের জলের কোন রং হয়না । যদি এমন হতো সভ্যদের চোখের জল একরকম অার রাতের অন্ধকারে যারা চোখের জল ফেলে তাদেরটা অন্য রকম। অামরাতো ওদের ঘৃণা করি । অামরা কি পাড়ব ওদের অার অামাদের চোখের জল ভিন্ন করতে। কাদতে কাদতেই মেয়েটা ওর কথা বলছে।
অামার ছোটবেলা কেটেছে বাড়িতে। গ্রামের অন্য মেয়েদের মত অামার ও একটা সুন্দর শৈশব ছিল। অামরা মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান ছিলাম। তাই অামাদের বিধিনিষেধ ও ছিল বেশি।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now