বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
.
.
আহা! কি আনন্দ। আকাশে বাতাসে। আমরা একটা
প্রতিযোগিতায় ফার্স্ট হয়েছি। তুমুল প্রতিযোগিতা।
সেখান থেকে প্রথম স্থান অধিকার করাটা বিরাট
ভাগ্যের ব্যাপার।
চলেন। শার্ট প্যান্ট বাদে সব খুলে বলি।
.
আমি আর মুক্তা একটা প্রতিযোগিতায় নাম
লিখিয়েছিলাম। সেটা হল দম্পতি প্রতিযোগিতা।
দেশের স্বনামধন্য দম্পতিরা নাম লিখিয়েছিলেন।
আমি শেষ মুহূর্তে এসে একটু ঘাবড়ে গিয়েছিলাম।
কেননা এমন এক দম্পতি এটেন্ড করেছিল যে, তাদের
পারফর্মেন্স দেখে নির্বাচকমণ্ডলীরা আমাদের
সিলেক্টই করবে না।
আমি মুক্তাকে বলেছিলাম যেন সে নাম প্রত্যাহার
করে নেয়। তাছাড়া লোকে জানলে একটা গভীর
ক্যালেঙ্কারির সৃষ্টি হবে।
মুক্তা আমাকে আশ্বাস দিয়েছিল এবং পুরোপুরি
বিশ্বাস রাখতে বলেছিল।
শেষে পারফর্মেন্সের সময় আসল। পারফর্ম করলাম।
আমার মনটা কেন যেন ইতিবাচক সাড়া দিল। অধীর
আগ্রহে অপেক্ষা করতে লাগলাম কখন ফলাফল
ঘোষনা হবে।
বিকাল পাঁচটা নাগাদ রেজাল্ট দিল। খুব টেনশন
হচ্ছে। কি থেকে কি হয়? এইরকম প্রতিযোগিতায়
প্রথম এটেন্ড করলাম। ভয় ও উদ্দীপনা দুটোই কাজ
করছে।
বিজয়ী মূলত তিনজন হয়। তৃতীয় থেকে নাম ডাকা শুরু
করল। এর পরে দ্বিতীয় জন। এটা ডেকেই স্টপ করে
দিল। উত্তেজনায় শরীর ঠকঠক করে কাঁপাকাঁপি শুরু
করে দিয়েছে। সবার মাঝেই সমান উত্তেজনা। কে
সেই প্রথম স্থান অধিকারীণী? সবার মুখে একই প্রশ্ন।
শেষে প্রথম বিজয়ীর নাম ঘোষণা করলেন। সবাই
আনন্দে চিৎকার দিয়ে উঠল। আমার কেন জানি মনে
হচ্ছে না আমিই বিজয়ী হয়েছি। কানে আঙুল ঢুকিয়ে
পরিষ্কার করে আবার শুনলাম। নাহ। আমি তো ভুল
শুনিনি। আমাদের নামই তো ঘোষণা দিল। পুরুষ্কার বড়
কথা না। কথা হল বিজয়ী হয়েছি।
বিজয়ী হয়েছি শুনে মুক্তা একটা কাজ করে বসল। তা
আমি ভাবতেও পারি নি। আবেগের বশে অনেক
কিছুই করা যায় কিন্তু লোকসম্মুখে এই কাজ।
মুক্তা লাফ দিয়ে আমার কপালে চুমু খেল। আর দুই
হাত ভাজ করে ইয়েস! ইয়েস। উই আর উইন। বলতে
লাগল। সবাই মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে।
পুরুষ্কার নিয়ে অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণ ত্যাগ করার জন্য পা
বাড়ালাম।
আসলে অনুষ্ঠানটা হয়েছিল একটা স্কুলে। এই স্কুল
থেকে আমি আর মুক্তা এস এস সি দিয়েছিলাম।
প্রতি বছর বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা হয়। সবার
শেষে "যেমন খুশী তেমন সাজ " খেলা হইত। কিন্তু এই
বছর সেটা না করে শ্রেষ্ঠ দম্পতির আয়োজন করল। যা
কি না সমস্ত পুরাতন ছাত্র ছাত্রীদের জন্য।
.
পুরুষ্কার নিয়ে পা বাড়ালাম। তখনি সাংবাদিকরা
আমাদের গেড়াও করল। বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন
জিজ্ঞেস করছে। আমি কোন উত্তর দেই নি। যা
দেওয়ার সবই মুক্তা দিল।
মুক্তা যখন বলল, আমাদের দেরী হয়ে যাচ্ছে। প্লীজ
যেতে দিন। নাহলে আমাদের বাচ্চারা কান্নাকাটি
করবে।
মূল ঘটনা হল। আমরা এখনো বিয়েই করি নি। জাস্ট
বন্ধু। অনেক দিন পরে গাঁয়ে বেড়াতে এসেছি। এসে
দেখি এই আয়োজন।
.
আমাদের অবস্থান মধ্যবিত্তদের কাতারে আর
মুক্তারা উচ্চ মধ্যবিত্ত। কয়েকটা কারণে মুক্তার সব
ছেলে মানুষী অকপটে মেনে নেই। সেই কারণগুলো
নাইবা জানলেন।
.
মুক্তার এমন কার্যক্রম দুজনেরই বাবা মার কান
পর্যন্ত পৌছে গিয়েছে। তাই উনারা মিলে
আমাদের উপর ১৪৪ ধারা আইন জারি করেছে। সেই
সাথে কালকের মধ্যেই ঢাকা পৌছাইতে বলেছে।
লও ঠ্যালা। কি হয় কে জানে? কপাল বুঝি এইবার
পুড়ল। ভয়ে ভয়ে বাসায় গেলাম। অবশ্য মুক্তাকে ওর
বাসায় নামিয়ে দিয়ে এসেছি।
রুমে ঢুকার আগে দেখলাম। আব্বার জুতা গুলো
বাহিরে আছে কি না? বাইরে থাকলে বুঝতে হবে
উনি ভিতরে আছেন। যাক অনুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে
খুজেও পেলাম না। দরজায় নক করতে লাগলাম।
চোরের মনে পুলিশ পুলিশ। তাই নক করা আর বাইরে
উকি দিয়ে আব্বার অবস্থান নির্ণয়ের চেষ্টা দুটিই
একসাথে করছিলাম। প্রথমবার নক করলাম। কেউ
শুনেনি মনে হয়। পিছনের দিকে তাকিয়ে আবার নক
করতে গেলাম। কিন্তু একি কান্ড! দরজা এমন নরম
হয়ে গেল কেন? পরে যখন সামনের দিকে তাকালাম
তখন দেখি আম্মা খাম্বার মত নাকে হাত দিয়ে
দাড়িয়ে আছে। ভয়ে ভীত হয়ে এতটাই সন্ত্রস্ত
ছিলাম যে কখন আম্মা দরজা খুলেছে তা টেরই পাই
নি।
আম্মার দিকে তাকায়ে মায়া লাগল। ফর্সা নাকটা
লাল হয়ে গেছে। এতক্ষণে বুঝলাম দরজা কেন নরম
হয়ে গেছিল। দরজা নরম হয় নি। হাতের মুষ্ঠিতে যা
বেজেছিল তা হল আম্মার নাক। মোটামুটি জোরেই
আঘাত করেছি। যার ফলে ফুলে গেছে আর লাল হয়ে
গেছে।
আম্মা দেখি রাগী লুক নিয়ে তাকিয়ে আছে। আমি
সবকিছু ভুলে গিয়ে বত্রিশ পাটি দাঁত বের করে
একখান সুন্দর হাসি দিলাম। ক্লোজ আপে বিজ্ঞাপন
দেখতাম। দুজনেরই ফকফকা সাদা দাত দেখে কাছে
আসে। আর গান করে কাছে এস, কাছে এস।
দাঁত দেখেই ক্রাশ খায় আর কাছে এসে পড়ে। আমার
দাঁত গুলো তো তার থেকে কম না। তবুও আম্মা ক্রাশ
খাচ্ছে না কেন? ক্রাশ না খাক জায়গা মত বাঁশ না
দিলেই বাঁচি।
.
:- কি রে খোকা! একা এলি যে?
:- মুক্তাকে আগেই নামিয়ে দিয়ে এসেছি।
:- উহু আমি তোর বাচ্চা কাচ্চার কথা জিজ্ঞেস
করছি।
:- মা। তুমিও না। ( আহ্লাদী কন্ঠে। মায়ের গলা
জড়িয়ে ধরে । )
:- বড্ড সেয়ানা হয়ে গেছিস। এখন লোকে কি
ভাববে, বলতো?
:- আসলে আমার দোষ না মা। সব মুক্তাই করেছে।
তাইতো.......
:- হয়েছে। হয়েছে। আর সাফাই..........
:- মাই ডিয়ার সুইট মা।
.
খুশিতে নাচতে নাচতে সিড়ি দিয়ে উপরে উঠছি।
পেছন থেকে মা ডেকে বলল, এত খুশী হবার কিছু
নাই। তোর আব্বা এসেই সব ব্যবস্থা করবে।
.
আব্বাকে ভীষণ ভয় পাই। রাত আটটা বেজে গেল।
আব্বা এখনো আসছে না। আম্মা বলল, দেখতো ফোন
করে তোর আব্বা কখন আসবে?
.
আম্মার ফোনটা আমার কাছেই ছিল। সেটা দিয়েই
রিং দিলাম। দ্বিতীয় বার রিসিভ হল।
আমি হ্যালো বললাম, কিন্তু আব্বা বুঝল কি না
জানি না। আমাকে আম্মা ভেবে বলতে লাগল। আমি
আসতে পারব না। দুইদিনের জন্য ঢাকার বাইরে যেতে
হচ্ছে। আর হ্যা তোমার কথা কিছুই বুঝতে পারছি না।
গাড়ি থেকে নেমে ফোন দিব। আর তোমার গুনধর
ছেলে আসলে তাকে একটু করে কানটা মলে দিও ।
বেশী ভার বেড়ে গেছে। আমার সম্মান বলতে কিছুই
রাখল না। তুমি তো আবার ছেলেকে শাসন করতে
পার না।
.
অযথা বক বক কে শোনে । এসব কিছু ঘটার আগেই তো
আমি প্রবেশ করে ফেলেছি। তাই ফোনটা কেটে
দিলাম। হাতমুখ ধুয়ে আসার সময় আম্মার রুমে ফোনটা
রেখে আসলাম।
.
এবার মিনিট কিনে দিলাম মুক্তাকে ফোন দিলাম।
:- কিরে কুত্তী! কি করিস?
:- হায় কুত্তা। ডাইনিং এ বসে টিভি দেখছি।
:- হা হা হা। টিভি দেখিস? তাও আবার ডাইনিং এ
বসে?
:- হ্যা। কুত্তা তোর কোন সমস্যা?
:- না আমার সমস্যা না। তোর ওদিকের কি খবর? বল।
:- ভাল।
:- প্যাঁদানি দেয় নি তো?
:- না। তোর কি খবর?
:- তোর মতই।
:- আন্টি কিছুই বলে নি?
:- না। তেমন কিছু বলে নি।
.
এই যাহ ফোনটা বন্ধ হয়ে গেল।
.
পরদিন মুক্তাদের বাসায় গেলাম।
:- মুক্তা? মুক্তা?
ডেকে না পেয়ে ধমক দিয়ে বললাম -
:- এই শালী কই গেলি?
:- শাওয়ার নিচ্ছি। তুই বস।
:- সময় নেই তাড়াতাড়ি কর।
:- ওকে।
.
আমি রুমেই বসে আছি। ওর ডায়রীটা খুলে
পড়তেছিলাম। পাক্কা দশ মিনিট পর বের হল।
.
আমি তার ভাবগতিক লক্ষ করছিলাম। দেখলাম সে
ড্রেসিং টেবিলে বসে বডি লোশন গায়ে মাখার
জন্য হাতে নিচ্ছে। আর আমার সাথে কথা বলছে।
প্রথমে দুই হাতে তারপর মুখে লোশন মাখাল।
এক্কেবারে কালো পেত্নীর মতন লাগছে। আমি
জোরে চিৎকার দিলাম। কাকীমা ভূত! কাজের
মেয়েটা এসেই অজ্ঞান।
আমার এমন চিল্লানির কোন মানে বুঝতে
পারতেছিল না। তাই আয়নায় নিজের চেহারা দেখল।
নিজের কিম্ভুতকিমাকার চেহারা দেখে মনে হল
আসলেই তাকে পেত্নীর মত লাগছে।
বসা থেকে উঠেই আমার দিকে তেড়ে আসছে। যেন
ষাড়কে লাল জামা দেখাইছি। আমিও পগারপার।
মাইয়ার হাতে মাইর খাওয়ার কোন ইচ্ছা আমার নাই।
পিছন পিছন সে ছুটে চলছে আর চাচী আমাদের
সাইড দেওয়ার জন্য একপাশে দ্রুত সড়ে যাচ্ছে।
উসাইন বোল্টের গতিতে দৌড়িয়ে বাইরে আসলাম।
মুক্তা শাউয়ার নেবার সময় ওর বডি লোশনে কাজল
মিক্সড করে দিয়েছিলাম। আর এই জন্যই তাকে
পেত্নীর মত লেগেছিল।
বিজয়ীর হাসি হেসে, সারাদিন আড্ডা দিয়ে
বাসায় ফিরলাম। এতক্ষণে মনে হয় আমার নামে
কমপ্ল্যান চলে এসেছে। তাই প্রস্তুতি নিচ্ছি। কি
কি প্রশ্নের সম্মুখীন হতে পারি? সেগুলোর উত্তরে
রিভিশন করতেছি। বাসায় আসলাম। মা কিছুই বলে
নি। একবার ভাবলাম, মাকে জিজ্ঞেস করব কি না
যে, মুক্তা কিছু বলেছে নাকি?
নাহ থাক। মায়েই যখন কিছু বলছে না। তখন আগ
বাড়িয়ে জানতে চাওয়াটা নেহায়েত খাল কেটে
ঘরে কুমীর আনার সমতুল্য।
.
আমি খুবই অবাক হলাম। মুক্তা কোন বিচার দিল না
দেখে।
বেশ কিছুদিন পরে মুক্তা আমাদের বাসায় আসল।
হাতে একটা প্যাকেট। মানে গিফট।
:- এই নে। তোর জন্য।
:- কি আছে এতে?
:- প্যান্ট ( জিন্স ) আর গেঞ্জি (১০০% কটন )।
তাড়াতাড়ি পড়ে নে। আজ একজায়গাতে ঘুরতে যাব।
:- এসবের কি দরকার ছিল আবার?
:- কেন? আমি কি পরমানুষ নাকি? গিফট করতে পারি
না?
:- বাজে রিয়্যাক্ট করিস না। আমি কিন্তু সেভাবে
কথাটা বলি নি।
:- তাহলে তাড়াতাড়ি বের হ।
:- তুই বস। আমি চেঞ্জ করে আসছি।
:- আচ্ছা। এই শোন!
:- কি?
:- তোর ভাল না লাগলে পড়িস না। অন্য ড্রেস পড়।
:- অনেক পছন্দ হয়েছে। আর এটাই পড়ব।
:- তোর যা খুশী।
.
মুক্তা আমার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে। আমি
বললাম? এভাবে হা করে তাকিয়ে থাকিস না। মশা
ঢুকবে?
মুক্তা বলল, তোকে দেখে রীতিমতো ক্রাশ খেয়ে
ফেলছি।
আমি বললাম, কমিয়ে খাস। অতিরিক্ত খেলে বদ হজম
হবে।
মুক্তা কোন উত্তর না দিয়ে মুচকি হাসি দিল।
কিন্তু একি ! শরীর চুলকাচ্ছে কেন?
আরে? এত দেখি ধীরে ধীরে বেড়েই চলেছে। বুঝার
বাকি রইল না কি হচ্ছে আমার সাথে। বিলাই চিমটি
দিয়েছে। যেটা শরীরে লাগলে প্রচুর চুলকায়।
মুক্তা বলল, দেখ কেমন লাগে? আমাকে পেত্নী
বানানো। এবার মজা হাড়ে হাড়ে টের পাবা
বাছাধন। একেই বলে টিট ফর ট্যাট।
ইচ্ছা করছিল শালীকে একটা দৌড়ানি দেই কিন্তু এই
মুহুর্তে কাপড় চেঞ্জ করা ফরজে আইন হয়ে গেছে।
তা না হলে চুলকানি আরো বাড়বে। তাই দ্রুত রুমে
ঢুকলাম।
.
আমি একবার ওর লোশনে কাজল মিশিয়ে পেত্নী
বানিয়েছিলাম। ও একবার আমাকে মদন বানিয়েছে।
সমান সমান হইছে। সমান সমান হইলে তো আমার চলব
না। আমাকে জিততেই হবে। জিতার জন্য কি করতে
হবে?
অবশ্য দোষটা আমারই । আমি না করলে সেও করত
না। দোষ গুন পরে ভাবলেও চলবে। এখন জিতার জন্য
আলাদা অপশন খুজতে হবে। দিন রাত এক করে
ভাবতে থাকলাম। অনেক ভাবা ভাবির পরে একটা
অপশন পেলাম।
আমার মাথায় সৎ বুদ্ধির অভাব থাকলেও কুটনামি
বুদ্ধির অভাব নাই। তাই সহজেই পেয়ে গেলাম।
মুক্তাকে ফোন দিয়ে আমাদের আড্ডাখানায়
থাকতে বললাম।
মুক্তাকে জব্দ করার জন্য একটা নতুন মাউথ অরগান
নিলাম। ওর মাউথ অরগান টা কিছুদিন হল নষ্ট হয়ে
গেছে। মেয়েটা মাউথ অরগান বাজাতে খুব
ভালবাসে। বাজাতে না পারুক ঠোট দিয়ে চেপে
ধরে পেঁ পোঁ করতে পারে। একেবার কানের পর্দা
ফাটিয়ে ফেলে।
আমার সেখানে যেতে একটু দেরী হল। আমাকে
দেখেই মুক্তা ওপাশে চলে গেল। ও ভাবছে, আমি
ওকে মারব। কিন্তু আমার এসবের কোন নিয়্যত নাই।
আমার নিয়্যত অন্যরকম।
তাই মুক্তাকে ডেকে অভয় দিলাম। সে অভয় পেয়ে
চেয়ারে বসল।
:- এই নে।
:- কি?
:- মাউথ অরগান।
:- মাউথ অরগান??
:- হ্যা। তুই আমাকে একবার বাঁশ দিয়েছিস, আমি
তোকে একবার বাঁশ দিয়েছি। সমান সমান,
কাটাকাটি । তাই মিট করার জন্য তোর জন্য এই মাউথ
অরগান নিয়ে আসলাম।
:- দে। দে।
:- নে।
মুক্তা হাতে পেয়েই মুখে নিয়ে বাজাতে শুরু করল।
কিন্তু বাজাতে পারছে না। মুখের সাথে আটকে
গেছে। অবস্থা বেগতিক। আর আমি ওর কানে কানে
"Tit for tat " কথাটি বললাম।
সে শুধু, উ উ করছিল।
আসলে সেটাতে আমি সুপার গ্লু আঠা লাগিয়ে
দিয়েছিলাম। অনেকক্ষণ চেষ্টা করে শেষে ছুটিয়ে
ফেলল। ছুটিয়ে জিহবা বের করে হাফাতে লাগল।
একটু দম নিয়ে আমাকে দিল এক দৌড়ানি। দৌড়ানি
খেয়ে নিচে নামতে গিয়ে ঠাস করে একটা মেয়ের
সাথে ধাক্কা খাই। ধাক্কা লেগে অবশ্য মেয়েটার
কিছু হয় নি তবুও ওর হাতে থাকা মোবাইলটার পার্টস
একেক জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ল।
স্যরি বলার সময়টুকু পেলাম না। অমনি দৌড়।
কোনরকমভাবে মুক্তার হাতে মার খাওয়ার থেকে
নিজেকে রক্ষা করেছি। মার খাওয়ার হাত থেকে
নিজেকে বাঁচাইছি সেটা কথা না। মনে হচ্ছে যেন
এইমাত্র এভারেস্ট জয় করলাম।
.
কয়েকদিন পরের কথা।
.
বাইরে যাচ্ছিলাম এক বন্ধুর সাথে দেখা করতে।
দরজা পর্যন্ত যাইতেই দেখি। মুক্তা ও তার বাবা মা
এসেছেন।
:- আসসালামু আলাইকুম। আপনারা ভাল আছেন?
:- জ্বী বাবা। ভাল আছি। তোমার বাবা মা বাসায়
নেই?
:- হ্যা। দুজনেই আছে। চলুন ভিতরে।
.
:- আম্মা! আব্বা! দেখ কে এসেছে?
:- কে?
:- চাচীরা এসেছে।
:- বসতে দে। আমি আসছি। কইগো নিচে আস। মুক্তার
বাবা মা আসছে।
:- হ্যা। আসছি।
আব্বা আম্মা দুজনেই আসলেন। আমি মুক্তাকে কুনুই
দিয়ে গুতা দিয়ে বললাম? মুখে বলি নি। চোখ দিয়ে
ইশারা করেছি।
কিরে! ব্যাপারটা কি? গোষ্ঠী শুদ্ধ এসেছিস যে?
গুষ্ঠীর ষষ্ঠী পূজো করবি নাকি?
সেও লজ্জাবনত হয়ে ইশারায় বলল, জানি না।
.
আব্বা মুক্তার বাবাকে বলল।
:- হঠাৎ কি মনে করে এই গরীবের বাড়িতে হাতির
পাড়া?
:- একটা সুখবর আছে রে !
:- কিসের সংবাদ?
:- মুক্তা মামনির বিয়ে ঠিক করে ফেলেছি।
:- বলিস কি? আগে জানালি না তো?
:- হ্যারে! বরপক্ষ হঠাৎ করেই আসল। ঝড়ের গতিতেই
পাকা করে ফেললাম।
আমি শুনে তো পুরাই থ। আব্বার মুখ থেকে কথা
কেড়ে নিয়ে বললাম -
:- আলহামদুলিল্লাহ। আংকেল। ছেলে কি করে?
কোথায় থাকে? নাম কি?
খুবই উৎসুক হয়ে কথাটি জিজ্ঞেস করলাম।
:- বাবা। তুমি মুক্তার বিয়ের কথা শুনে খুশি হয়েছ?
মুখে থমথমে একটা ভাব এনে জিজ্ঞেস করল।
:- হ্যা। নিশ্চয়ই। অনেক খুশী হয়েছি। ওর বিয়েতে
আমি অনেক মজা করব। গান গাইব। নাচব। আরো কত
কী!
.
কি যে বললাম, আদি অন্ত কিছুই বুঝলাম না। চাচা
চাচী, আর মুক্তার মুখের দিকে তাকানো যাচ্ছে না।
অমাবস্যা রাতেও এমন আধার হয় না। যতটা কালো
ওদের মুখ হয়েছে। আমি স্পষ্ট বুঝতে পারলাম। আমার
কথায় মুক্তার চেহারা কাচের মত ক্ষনিক সময়ে
ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। এতটা পরিবর্তন এসেছিল ওর
চেহারায়। যখন বাসায় পা রাখল তখন ওর মুখে হাসির
ঝিলিক খেলা করছিল। ঠিক যেমন মেঘ গর্জন করলে
আকাশের এই প্রান্ত থেকে ঐ প্রান্তে বিদ্যুৎ চমকায়
তেমন । আমার এক কথায়ই নিকষ কালো হয়ে গেল।
আকাশ যখন থমথমে ভাব বিরাজ করে মনে হয় এই বুঝি
বাদল ধারা বইয়ে দিল। ঠিক তেমনি মুক্তার মুখখানা
থমথমে হয়ে গেল। এই বুঝি চোখ থেকে নোনা জল
উপচে পড়বে।
নিজের সাথে মনে প্রাণে লড়ে যাচ্ছে সে। দুটো
কারণে।
১। বড়রা কি ভাববে?
২। কত সুন্দর করে, কত যত্ন করে চোখে কাজল
দিয়েছিল সেই কাজল নষ্ট হয়ে যাবার ভয়ে।
.
নিজেকে খুব অপরাধী মনে হচ্ছে। এদিকে আব্বা
আম্মাও বলে দিয়েছে যে, আমরা তার বিয়ের জন্য
অর্ধেক খরচ বহন করব। যেহেতু মুক্তা মামনি আমাদের
মেয়ের মতই।
.
কিছুক্ষণ পর ওরা চলে গেল।
আমি বাইরে যাওয়া বাদ দিয়ে আমার রুমে এসে
চিন্তা করতে লাগলাম।
.
আমি তো ওকে কখনোই ভালবাসি কথাটা বলি নি।
সবসময়ই ফাজলামো করেছি এটা ওটা নিয়ে। তাহলে
কি সেদিনের শ্রেষ্ঠ দম্পতির কার্যকলাপ টা
বাস্তবে রুপান্তরিত করতে চেয়েছিল? আর যেহেতু
ভালবাসি বলি নি সেহেতু আমার কাছ থেকে কথা
বের করার ফন্দি আটেনি তো?
মুক্তার বিয়ের কথা শুনে আমি যেন অজ্ঞান হয়ে
যাই। আমি যেন বাধা দেই। উনারা আমার সাথে
বিয়ে দেবে না বলে একমত। কিন্তু আমার জোর জবর
দস্তি দেখে আমাকে একটা সুযোগ দিবে তারা।
প্রশ্ন করবে। তুমি কেন বাধা দিচ্ছ? আই মিন তুমি কি
মুক্তাকে ভালবাস?
আমি খুশীতে গদগদ হয়ে বলব, হ্যা। আমি মুক্তাকে
ভালবাসি। আমি মুক্তাকে বিয়ে করতে চাই।
তারপর উনারা খুশী মনে আমার হাতে মুক্তাকে
সমর্পণ করে দিয়ে যাবে।
.
হয়তো মনে মনে এটাই আশা করেছিল। আশা করারই
কথা। কেননা আমরা যেভাবে মিশতাম তা দেখে
সবাই বলবে " উই আর মেড ফর ঈচ আদার "
কিন্তু আমি কি করলাম। তাদের আশাটাকে
গুড়েবালি করে দিলাম। উনারা আমার কষ্টের ছাপ
সমৃদ্ধ মুখটা দেখবে বলে আশা করেছিল। কিন্তু আমি
কষ্ট না পেয়ে, বরং খুশী হয়ে আলহামদুলিল্লাহ পড়ে
নিলাম। এতটা খুশী আমি কখনোই হই নি যতটা ওর
বিয়ের কথা শুনে হয়েছিলাম।
বিশ্বাস করেন ওর জন্য বন্ধুত্বের ভালবাসা ছাড়া
আর অন্যকোন ভালবাসা আমার অন্তরে ছিল না।
ওকে এতদিন যা ভাবতাম এ পর্যন্ত তাই ভেবে
এসেছি। ওর মত বন্ধু পেয়ে ভুলেই গেছিলাম আমারো
প্রেম করা দরকার। যেহেতু সবই ওর কাছে পাইতাম
সেহেতু অন্যকোন মেয়ের দিকে হাত বাড়াই নি।
কাউকে ভালবাসিনিও পর্যন্ত।
পরের দিন ওর সাথে আর আম্মার সাথে কথা বলে
বুঝলাম। আমার অনুমান বিফলে যায় নি। যা ভেবেছি
তাই ঠিক। বন্ধুত্বের আড়ালে মুক্তা আমাকে মন প্রাণ
উজার করে ভালবেসেছিল। কিন্তু কখনোই জানায়
নি। হয়তোবা প্রয়োজন ছিল না তাই।
.
আমাদের বাসায় অপমানিত হয়ে সেই দিন যাওয়ার
পরে মুক্তা আর আমার ফোন ধরে না।। অন্যদিন হলে
সে আমার কান ঝালাপালা করে ছাড়ত। আমি ফোন
দিই নি বলে কিন্তু আজ আমি তো ফোন দিচ্ছি সে
ধরছে না কেন?
নাহ! আমাকে একবারের জন্য হলেও মুক্তাদের
বাসায় যেতে হবে। গিয়ে নিশ্চিত হতে হবে আসল
ঘটনা কি?
মুক্তাদের বাসা বেশী দূরে না। আধাঘণ্টার পথ।
আধা ঘন্টা পরে বৃষ্টিদের বাসায় গিয়ে পৌছুলাম।
কিন্তু একি! দরজায় মস্ত এক তালা। তালা লাগানোর
হেতু আমার মাথায় ঢুকছে না। এমনতো কোনদিন হয়
নি। কি এমন বললাম যে, আমাকে না জানিয়ে
মুক্তারা চলে গেল। নাহয় আমার উপরে রেগে ছিল
তাই বলে ফ্যামিলির উপরে তো রাগে নি। আম্মুকে
কিছু বলে যেতে পারত। তাও বলে যায় নি। যদি বলতই
তাহলে যখন আম্মুকে বললাম, আম্মা আমি মুক্তাদের
ওখানে যাচ্ছি তখন আম্মা আমাকে সব বলতে পারত
কিন্তু আম্মা বলে নাই। তার মানে আম্মাও অজ্ঞাত।
বারবার ফোনে ট্রাই করছি। কিন্তু কেউ পিক করছেই
না। আমি ভাবলাম, আন্টির নাম্বারে ফোন দেই
কিন্তু উনার সাথে ফোনে কথা হয় অনেক দিন পরে
পরে। তাই উনার নাম্বার মনে হয় কললিষ্টের নিচে
চলে গেছে। মোবাইলে খুজতেছি আর রাস্তার ধার
ঘেষে হাটতেছি। কখন যে রাস্তার মাঝে এসে
পড়েছি। তা জানি না। মুক্তাকে না পেয়ে আমি
পাগলপ্রায় হয়ে গেছি। দুনিয়াবি কোন খেয়াল
আমার মাঝে নেই।
কিছুর সাথে প্রচন্ড ধাক্কা খেয়ে রাস্তা থেকে
ছিটকে পড়লাম। পড়েও নিস্তার নাই। মনে হল শক্ত
কোন কিছুর সাথে আঘাত পেলাম।
ক্রমে ক্রমে সব কিছু স্পষ্ট থেকে ঝাপসা দেখতে
লাগলাম। একসময় কিছুই দেখতে পেলাম না।
.
যদি আবার দেখতে পেলাম। তখন নিজেকে
হাসপাতালে আবিষ্কার করলাম।
কিন্তু কি হয়েছিল আমার?
পাশের জন বলল, আমি নাকি এক্সিডেন্ট
করেছিলাম। আমারো মনে হল হবে হয়তো। যে জোরে
ধাক্কা খেয়েছিলাম আর ব্যাথা পেয়েছিলাম?
ব্যাথা পেয়ে মনে হয় অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলাম।
ঠিক তাই। নাহলে পরের কাহিনী জানি না কেন?
ফাইল মিসড হয়েছে তাই জানি না আমি। যাকগে
ব্যাপার না।
.
কিন্তু একি! আম্মা কাঁদছে কেন? আম্মার সাথে কথা
বলা দরকার। এত কান্নাকাটির কি হল? কিছুই
বুঝতেছি না।
আম্মার কথায় বুঝলাম। আমি নাকি মারাত্মক ভাবে
আহত হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। আজ নাকি
তিনদিন পর জ্ঞান ফিরে আসল। ডাক্তাররা নাকি
সন্দেহ করেছিল ব্রেইনশর্ট হয়ে যায় নাকি! নাহ!
ব্রেইনশর্ট হয় নি কেননা আমি পূর্বের মত সবাইকে
চিনতে পারছি। কোন ঝামেলা ছাড়াই।
.
নার্স এসে স্যালাইন দিয়ে দিল। আমি ভাবলাম একটু
বাহিরে যাব কিন্তু নার্স তাড়াতাড়ি এসে স্যালাইন
দিল। আমার যে প্রশ্রাব করতে হবে এখন কি করব
আমি?
আমি নার্সকে বললাম,
:- চলেন।
:- কোথায়?
:- বাথরুমে। আপনি স্যালাইন স্ট্যান্ড ধরবেন আমি
প্রশ্রাব করব।
:- নাহ মিষ্টার। যাওয়া যাবে না। যা কিছু করার
এখানে শুয়ে থেকেই করতে হবে।
:- কিন্তু কেন?
:- আপনি পুরোপুরি সুস্থ নন।
:- সেটা আমি জানি। আর আপনিও অসুস্থদের সেবা
করতে করতে অসুস্থ হয়ে গেছেন। সেটা কি জানেন?
:- কি সব বাজে কথা বলেন?
:- এই যে নার্স সাহেবা ! আমি যদি এখানে প্রশ্রাব
করি তবে শোব কই?
:- এখানেই।
:- ছি: ছি: ছি।
:- এই যে মিষ্টার নাক ছিটকাবেন না। এটা
হাসপাতাল।
:- তা আপনার কাছ থেকে শিখতে হবে না।
:- উফফ! আপনি বড্ড বেশী বকবক করতে জানেন।
:- আপনার মত পারি না।
.
আর কিছু না বলে চলে গেল। আর ফিরে আসার সময়
হাতে করে একটা নল বিশিষ্ট ফাঁপা প্লাষ্টিকের
ব্যাগ নিয়ে এল।
এনেই বলল,
:- এই নেন। এটাতে প্রশ্রাব করিবেন।
:- ইয়া আল্লাহ। এটা আমার বাপের জন্মেও ইউজ করি
নাই। এইটা দিয়ে কিভাবে......... করব?
:- সবাই যেভাবে করে।
:- আপনিও করেন এইভাবে?
:- ধুররররর! আপনি আসলেই একটা ফাজিল। মেয়েরা
না শুধু ছেলে বুড়োরা করে।
:- তা কিভাবে? যদি শিখিয়ে দিতেন।
.
{ যদিও পারি সেটা কিভাবে ইউজ করতে হয় তবুও
একটু চেতাচ্ছি আর কী! মেয়েটি যথেষ্ট চেতছে
কিন্তু ভাষায় প্রকাশ করছে না। চেহারায় ঠিকই
প্রকাশ করছে। যদি রোগীদের সাথে খারাপ বিহেভ
করে তবে তাদের চাকুরী নট হয়ে যাবে। এই কথাগুলো
যদি হাসপাতালে না বলে বাহিরে কোথাও বলতাম
তাহলে এতক্ষণে আমার চাপার দাঁত একটাও আস্ত
থাকত না। দাঁতের চিকিৎসার জন্য দন্ত স্পেশালিটি
বা ডেন্টিস্টের কাছে থাকতে হত । }
:- দেন। শিখিয়ে দিচ্ছি। পরের বার এভাবেই
লাগিয়ে পী ( প্রশ্রাব ) করবেন।
.
মেয়েটি সত্যি সত্যি শিখিয়ে দিতে চাইছিল। আমি
বাধা দিয়ে বললাম।
:- এই! আপনার কি লজ্জা শরম কিছুই নাই?
:- লজ্জা শরম থাকলে রোগীদের সেবা করা যায় না।
আমি এখানে লজ্জা করলে আপনার প্রোবলেম সলভ
হবে না। আমাদের এখানে সলভ করতেই এসেছেন।
:- তা ঠিক তবে বিবেক বেঁচতে আসিনি।
:- মানে ?
:- আপনি পুরুষের লুকানো জায়গায় হাত দিয়ে সেবা
করবেন। আমি একটা সতর্কবান মানুষ হয়ে এই কাজ
আপনাকে কেমনে করতে দেই? আর আপনি এই
ডাক্তারি পেশাটাই কেন বেছে নিলেন? অন্যকোন
পেশা ছিল না?
:- আমি অসহায় মানুষদের সেবা করতে চাই। তারজন্যই
এইটা বেছে নিয়েছি।
:- তাই বলে এই ধরনের সেবাও করবেন। জাস্ট চাকুরী
বাঁচাবার ভয়ে?
:- ডাক্তারদের ধর্মই এটা। রোগীর যেকোন সেবা
করা।
:- আচ্ছা। আমার জায়গায় অন্যকেউ হলে তো
আপনাকে ঠিকই করতে হত। রাইট?
:- হ্যা।
:- রাগ করবেন না। জাস্ট বুঝাচ্ছি। যখন আপনি পুরুষের
ঐ বিশেষ অঙ্গটিতে ধরতেন। স্বাভাবিক ভাবেই
পুরুষের মনে কামোত্তেজনা সৃষ্টি হত। রাইট?
:- হুম্ম।
:- এরপরেও কি আপনাকে বুঝাতে হবে? যদি বুঝাতে
হয় তাহলে ভাবব আপনার মাথায় বুদ্ধি বলতে কিছুই
নেই।
:- আর বুঝাতে হবে না। বুঝেছি। কিন্তু কি করব
আমরা?
:- এটা আমি বলতে পারব না। একান্তই আপনার নিজস্ব
ব্যাপার । যান এখন আমার কাছ থেকে, আমি আমার
কাজ সারব।
:-...........
:- কি হল? যান না কেন? যান বলছি। ( ধমক )
.
কিছুদিন হাসপাতালে থাকার পর ছুটি দেওয়া হল। ও
একটা কথা বলতে ভুলেই গেছি। সেদিনের
এক্সিডেন্টের সময় আমার পা ক্ষতিগ্রস্ত হয়
সবচেয়ে বেশী । তাই আমার ডান পা কেটে ফেলে
দেয় ডাক্তার। পা হারিয়ে হাসপাতালেই
গগনবিদারী চিৎকার করে কান্না করেছিলাম।
আমার জীবনটা এভাবে নষ্ট হয়ে গেল। আল্লাহই ভাল
জানে কি পাপ যেন করেছিলাম আমি। যার কারণে
মূল্যবান সম্পদ একটা পা হারাতে হইল।
লাঠির সাথে ভর দিয়ে হাটাহাটি করি। কত পঙ্গু
মানুষকে দেখে অনেক মায়া লাগত একসময়। কিন্তু
এখন, আজকে নিজেকে দেখে মনে হচ্ছে পঙ্গুত্ব
কতইনা কষ্টের।
এইতো কিছুদিন আগে সবার মত কতইনা দৌড় ঝাপ
করতাম। কিন্তু আজ পারি না। নিজেকে অনেক বড়
কাঙ্গাল মনে হত।
.
সাত বছর পর।
.
মুক্তাকে প্রচুর খুজেছি। রাগ করে যে কোথায়
লুকাইছে রাগপরীটা ? তার হদিস গত সাত বছর ধরেও
পেলাম না। শুধু একবার ক্ষমা চাইতে পারলে ভাল
হত। নিজেকে অনেকটা পাপমুক্ত লাগত।
একপ্রকার আশা ছেড়েই দিলাম। মুক্তাকে আর পাব
না। সাতটা বছর অনেক খুজেছি। বাস, ট্রেন, লঞ্চে
বিভিন্ন গাড়িতে ও বাসা, স্কুল,কলেজের দেওয়ালে
কতইনা পোষ্টার লাগাইছি। তবুও তাকে ফিরে পাই
নি। যাকে ছাড়া সাতটা মিনিট থাকা অসম্ভব
সেখানে সাতটা বছর। ভাবা যায়। প্রতিটা দিন,
প্রতিটা সেকেন্ড, প্রতিটা সময় কিভাবে কেঁদেছে
তা শুধু ঐ উপরের আকাশ ও বালিশটা জেনেছে।
বাইরের কেউ খুব কম জেনেছে।
.
কোন এক মাধ্যমে খবর পেলাম। চিটাগাং এ
বিদেশী ডাক্তারগন আসতেছেন। উনারা নাকি
পায়ের ভাল চিকিৎসা করেন।
যেই ভাবা সেই কাজ। টিকেট কেটে চলে গেলাম
চট্টগ্রামে। মঙ্গলবার ডাক্তাররা বসবেন। আগে
থেকে সিরিয়াল দিতে হবে।
সিরিয়ালের জন্য নাম্বারও কালেক্ট করেছি।
.
:- হ্যালো।
:- আসসালামু আলাইকুম ।
:- ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কে বলছেন?
:- আমি মেহজাবিন।
:- আমি সিরিয়ালের জন্য.......
:- ওহ শিউর! আমার কাছ থেকেই নিতে পারেন।
.
মেয়েটির সাথে কথা বলে আব্বা সিরিয়াল নিয়ে
নিল। প্রথমদিকেই আমরা ডাক্তার দেখাতে পারব।
আমার কেন যেন মনে হল? মেয়েটি মেহজাবিন না।
মুক্তা। কেননা ওর গলা আমি চিনি।
আবার রিং দিলাম।
:- হ্যালো মেহজাবিন বলছেন?
:- না। আমি শাহনাজ সুমী বলছি।
:- ও নাই?
:- না। সেতো বাইরে গেল। কেন বলুন তো?
:- ওকে একটু ডেকে দেওয়া যাবে?
:- ইম্পসিবল এট দ্যা মোমেন্ট।
:- প্লীজ.....
:- ট্রাই টু আন্ডারস্ট্যান্ড.... ওকে?
:- হুম্ম। ওকে।
.
খট করে রেখে দিল ফোনটা। আমার কেন যেন
বিশ্বাস হচ্ছে সেই মুক্তা। মুক্তার কন্ঠ এত
তাড়াতাড়ি ভুলে যাই কি করে??
আব্বা তাগিদ দিতে আরম্ভ করল যেন তাড়াতাড়ি
ঘুমাই। কাল সকালেই যেখানে যেতে হবে নাহলে
সিরিয়াল মিস।
.
পরদিন সকাল দশটায় সেখানে উপস্থিত হলাম ।
গিয়ে তো চক্ষুচড়ক গাছ। আমার মত অনেক পঙ্গুই
এখানে আমার আগেই হাজির। তেঁতুলগাছের নিচে
বসলাম। কিছুক্ষণের মাঝেই খুব সম্ভব আমার ডাক
পড়বে।
মাইকে ঘোষণা হল। ১৮৫ থেকে ২০০ পর্যন্ত
সিরিয়ালের রোগিরা ঐ পাশের বিল্ডিং এ
অবস্থান করুন। আমার হল ১৮৭। তাই আমিও সেখানে
গেলাম।
.
টিকেট কালেক্টর, টিকেট চেক করছে প্রত্যেকেরই।
আমারো করা হল। একটা ছোট বই আছে সেটাতে
সবকিছু লেখা। কিস্তির বই দেখছেন? এই বইটা
দেখতে সেরকমই। আমার সব সমস্যা এখানে লেখা
আছে।
খেয়াল করলাম এক ফোটা পানি আমার হাতে এসে
পড়ল। উপরের দিকে তাকাতেই সবচেয়ে বড় শকটাই
খেলাম । অজান্তেই বলে ফেললাম।
:- তুই?
:- ( নিশ্চুপ )
:- কি মনে করেছিস? চিনব না আমি । হিজাব
করেছিস তাই চিনতে পারব না। ওর থেকে কঠিন
হিজাব থাকলেও আমি তোকে ঠিকই চিনে ফেলব।
আর এটাতো সাধামাটা হিজাব ।
হ্যা। এটাই মুক্তা। আমাকে এই অবস্থায় দেখে
নিজের চোখের পানি আটকাতে পারে নি ।
:- কি রে.? কি করে এই অবস্থা হল তোর?
:- আগে ডাক্তার দেখানোর ব্যাবস্থা কর। পরে সব
বলব।
:- হ্যা চল।
.
ডাক্তার দেখিয়ে বাসায় আসলাম। ডাক্তার
আমাকে নকল পা দিয়েছে। এখন আমি পূর্বের মত
হাটা চলাফেরা করতে পারি। তবুও কেন যেন তৃপ্তি
আসে না। যাক এই উসিলায় তো মুক্তাকে খুজে
পেয়েছি। এটাই লাখো কোটি শুকরিয়া ।
বাসায় ফিরে এসে মুক্তাকে নিয়ে পড়লাম সবাই।
কেন হারিয়ে গিয়েছিল? কি অপরাধ ছিল আমাদের?
কোন প্রশ্নের উত্তরই সে দিল না।
আমি আর ও যখন কথা বলছিলাম। তখন শুধু জিজ্ঞেস
করেছিলাম।
:- কি রে তোর বউকে দেখছি না যে?
:- আমারো একই প্রশ্ন। তোর জামাই কই?
দুজনেই চুপচাপ। কি উত্তর দেব? থাকলে তো দেব।
আব্বা আম্মার চাপে শেষে বলল, এখনো নাকি বিয়ে
করে নি। একজনের অপেক্ষায় আছে।
.
কার জন্য অপেক্ষা করছে কিছুতেই বের করা গেল
না। আমি আগের থেকে একটু চালাক হইছি তাই বুঝতে
পেরেছি কার জন্য অপেক্ষা করছে?
সেই ব্যাক্তিটি নিশ্চয়ই অনেক সৌভাগ্যবান। আর
সেই সৌভাগ্যবান লোকটা আমি। আমার জন্য এতদিন
অপেক্ষা করেছে।
মেয়েটা অতি অভিমানী ছিল। তাই সেদিনের সেই
কথায়ই ব্যাপক কষ্ট পায়। তাই পরেরদিন ই চট্টগ্রামে
চলে আসে। আর লোক লাগিয়ে ঢাকার সব সম্পত্তি
বিক্রি করে। চট্টগ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে
থেকে যায়। ওর বিশ্বাস ছিল যে, আমি একদিন ওর
শুন্যতা বুঝে ওর খুজে সেখানে যাব।
আসলে নিয়তি আমার পক্ষে ছিল তাই তো সাতবছর
পরে হলেও মুক্তাকে পেয়েছি।
আজ আমি খুশী, শুধু খুশী না। বহত খুশী ।
.
এক ঢিলে দুই পাখি মেরে তবেই ঢাকা ফিরব। এক
পাখি মারছি আরেক পাখি মারতে দুই সপ্তাহ সময়
লাগব। মানে বিয়ে করব। মুক্তার সাথে বিয়ে, বাসর,
হানিমুন সব সেড়ে তবেই ঢাকা ফিরব। এমন ব্যবস্থা
করব যেন ঢাকা যাওয়ার এক বছর পরেই আব্বা ডাক
শুনতে পারি।
.
আর কত আব্বা ডাকব? এবার কেউ ডাকুক আমি শুনব।
হি হি হি আমাকে আর লজ্জা দিপেন ন্নাহ। যদি
দাওয়াত খাইতে মন চায় তবে ক্লোজ আপ টুথপেষ্ট
দিয়ে ভাল করে দাঁত মেজে ফকফকা করে ফেলুন আর
চৌদ্দদিন অপেক্ষা করুন। কী বেশী হয়ে যায়?
তাহলে মাত্র দুই সপ্তাহ অপেক্ষা করুন । অনেক
কমাইছি আর কমাইতে পারুম না। এটা আমার হোম
মিনিষ্টারের আদেশ নয় অধ্যাদেশ ।
.
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now