বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
.
→এক কাপ চা একটা সিগারেট,এককালে বালিকার স্বপ্নের কারন হওয়া বালকের সেই কোমল ঠোঁটাখানা অাজ পুরে ছারখার করে চলছে । হয়তো তখন বালকের এই লিকার চা অার জলন্ত সিগারেটে পোড়া এই ঠোঁটখানা ছিলো বালিকা তোমার স্বপ্ন দেখার কারন । তুমি কতকত বাচ্চামি করে বেচারাকে বাঁচিয়ে রাখতে । অার বোকা বালক অবুঝ ভাবে তোমার সেই বাচ্চামিতে খুঁজে নিত তার বেঁচে থাকার কারন । মনে পরে তোমার সেদিনের সেই শীতের বিকেলের কথা ?
তুমি কোন এক শীতের বিকেলে বালককে বলেছিলে,তোমায় নিয়ে অামি রোজ রঙিন স্বপ্নের চাদরে শুয়ে থাকি, সে স্বপ্নে থাকে অনাবিল প্রশান্তির ছোঁয়া।তুমি তো এটাও বলেছিলে 'প্রতিটা শীতের বিকেল গরম ধোয়া ওঠা লিকার চায়ের সাথে বালকের হাতে হাত গুজেদিয়ে কাটাতে চাও । বেচারা বোকা বালক,তোমার কথায় অবুঝ ভাবে খানিকটা লাফিয়ে তোমাকে শক্ত করে কিছুখন জাপটে রেখেছিল সেদিন । জানো মেয়ে? তুমি বড্ড নিষ্ঠুর, তবে সেটা বালকের অাজও মেনে নিতে কষ্ট হয় । সে চায় তুমি বাঁচো । অন্য খাঁচায় বন্দি হয়ে হলেও তোমার মত বাঁচো । তবে তুমি বাঁচো যেমনটা তুমি চাও ঠিক সেভাবেই থাকো । কিন্তু খুব জানতে ইচ্ছে করে । সত্যিই কি তোমার মত বেঁচে অাছো ? অাচ্ছা এখনকি শীতের বিকেলে এমনটা হয় না । যে তুমি চায়ের কাপ হাতে নিয়ে সেই অদ্ভুত স্মৃতির ভাবনায় ভুলেই গেলে চায়ের কথা ?
.
এই বোকা ছেলেটার পেছনে ফেলে অাসা দিনগুলো শুধু তোমায় নিয়ে স্বপ্ন দেখতে দেখতে কাটত । কতশত স্বপ্ন সে তোমায় নিয়ে দেখেছিল। প্রতিটা স্বপ্নে শুধু তোমার বিচরন । কিন্তু সেই তুমি অাজ সকালের ঘুম ভাঙাও অন্যের বুকে মাথা চেপে ।
.
অাচ্ছা অাজ তো শরৎতের বিকেল । তোমার মনে অাছে কোন এক শরৎতের দিনে ঠিক এমন একটা বিকেলে তুমি অবুঝ শিশুর মত বায়না ধরেছিলে ক্লান্ত প্রান্তরে সাদা কাঁশ ফুলের ঢেউয়ে ভাসবে । সেদিন সেই পাগল ছেলেটা শত ব্যস্ততার মাঝেও তোমার ডাকে সারা দিয়ে ছুটতে ছুটতে এসেছিল তোমার কাছে । নির্জন দিগন্ত হঠাৎ তোমার অদ্ভুত বায়না বাদাম খাবে । বোকা বালক সেই জনমানব শূন্য প্রান্তে তোমার কাছে একটা বয়স্ক বাদামওয়ালা নিয়ে এসেছিল । ঠিক সেই সময়টা তোমার চেহারায় কেমন যেন এক প্রকার সতেজতা দেখা দিচ্ছিল তোমার চোখ ছলছল করছিল । অাচ্ছা মেয়ে! সেদিনের সেই চোখের জল কি মিথ্যে ছিলো ? এই নিষ্ঠুর প্রশ্নটা প্রতিটা শিশির ভেজা সকালে বোকা বালকের হৃদয়ে কম্পনের সৃষ্টি করে । সে কম্পন অনেকটা ভয়ংকর ভাবে চলতে থাকে । এই মেয়ে,তুমি না এই প্রশ্ন কে বেশি নিষ্ঠুর ?
.
তোমার কি হুটকরে ঝুম বৃষ্টি ঝড়া কোন রাতে বুকের ভেতরে কেঁপে ওঠে না । সেদিনের সেই বৃষ্টির রাতের কথা ভেবে । সেদিন রাতে তুমি অার সে দুজনে ফিসফিসিয়ে কথা বলছিলে । দুজনের চোখেমুখে অদ্ভুত এক শিহরন। হঠাৎ ঝুম বৃষ্টি শুরু । তুমি প্রবল উচ্ছ্বাসিত হয়ে । অতি কোমল কন্ঠে বলেছিলে -- এখন যদি তোমার হাতে হাত রেখে ভিজতে পারতাম,তাহলে বেশ হতো।
হয়তো সেসব পেছনের গল্প তুমি ময়লা ভেবে তোমার মনের নর্দমায় ফেলে রেখেছ।
.
সেদিনের সেই সহজসরল ছেলেটা অাজ সিগারেটকে করেছে তার অতি ঘনিষ্ঠ সংঙ্গী । নিকোটিনের ধুসর ধোয়ার সাথে অাজ তার বাড়াবড়ি রকমের সক্ষতা । সে সক্ষতা প্রতিনিয়ত ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়ে চলছে । অাচ্ছা তুমি যদি সেই রাঙিন স্বপ্নগুলোর বাস্তবিক রৃপ নাই দিতে পারবে । তবে কেনো? কেনো এই অবুঝ ছেলেটাকে মিথ্যে স্বপ্ন দেখিয়েছিলে ? সে তো একাএকা তার সতন্ত্র সত্তা নিয়ে বেশ ছিল ।
.
যদি কোনদিন সে তার দীপ্ত কন্ঠে তোমার ছলনাময়ী চোখে চোখ রেখে তোমার কাছে প্রশ্ন করে । কেনই বা নিজে থেকে এলে? অার কেনই বা হঠাৎ করে উধাত্ত হয়ে গেলে । তখন কি তুমি তার চোখেচোখ রেখে উত্তরটা দিতে পারবে ? তোমার মধ্যে কি কিঞ্চিৎ অপরাধবোধ কাজ করবে না ? নাকি তুমি নির্লজ্জ ভাবে বলবে -- অাপনাকে তো ঠিক চিনতে পারলাম না।
জানো বালিকা তুমি সত্যিই বড্ড নিষ্ঠুর। তবে তোমার এই নিষ্ঠুরতা অাজও বালকের অবুঝ মনটা মেনে নিতে চায় না।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now