বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
"বালাই"
ইমরান খান
-------------
পর্ব ৭
-------------
এই প্রথম ডাঃ রহমান উপলব্ধি করলেন, হাসপাতালে
অতিপ্রাকৃত কিছু একটা ঘটছে। যদি খুব কাছ থেকে
কারোর চোখে গুলি করা হয়, চোখ গেলে
দিয়ে একদলা ঘিলু সহ মাথার পেছনের অংশটা
ফেটে চৌচির করে বুলেটের বেরিয়ে যাওয়ার
কথা আর এরপর তার আর এক সেকেন্ডও
বেঁচে থাকা অসম্ভব। তরী মেয়েটা শুধু
বেঁচেই নেই, রক্তের একটি ফোঁটাও না
রেখে বিলকুল হাপিশ হয়ে গেছে। সদ্য ঘটে
যাওয়া ঘটনাটার কোনও জাগতিক ব্যাখ্যা খুঁজে
পেলেন না ডাঃ রহমান। জাগতিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না
এরকম ঘটনা যখন অবলীলাক্রমে ঘটে তখন আর
তাকে জাগতিক বলা চলে না। সেটা তখন
বর্হিজাগতিক, মহাজাগতিক কিংবা কে জানে হয়ত
অজাগতিক কিছু হয়ে ওঠে।
" কি ভাবতেছেন সার? আপনি কি অরে
দেখত্যাছেন? গুলি চালাইত্যাছিলেন?" আনোয়ার
সাগ্রহে জিজ্ঞেস করল।
" মমম....মনে হয় ভুল দেখেছি। চলো,
হাসপাতালের বাকি অংশগুলো ঘুরে দেখা যাক।"
মোটামুটি বেপরোয়া ভঙ্গীতে পুরো হাসপাতাল
ঘুরে বেড়ালেন দুজনে। যখন মৃত্যু দেড় হাত
সামনে এসে দাঁড়ায়, তখন মানুষ কেন, বিড়ালের
মতো নিতান্ত নিরীহ গোছের প্রাণীও
বেপরোয়া হয়ে ওঠে। কিন্তু নিষ্ফল। তরীর
চিহ্নমাত্রও আর দেখা গেল না।
" আনোয়ার! ", স্টোররুমে দাঁড়িয়ে সিগারেট
ধরিয়ে ডাকলেন ডাঃ রহমান। তারপর বললেন, "
কোথাও তো নেই। কোনও জায়গাই তো
খুঁজতে বাকি রাখলাম না।"
" আছে সার।"
সামান্য বিস্মিত হয়ে তাকিয়ে বললেন ডাঃ রহমান, "
কোথায়?"
" লাশকাটা ঘর!!! "
মর্গের দরজাটা আস্তে আস্তে খুলে গেল
ক্যাঁচকোঁচ শব্দ করে।
হাসপাতালটা উদ্বোধন হবার পর থেকে আজ
পর্যন্ত কোনও লাশ এখানে প্রবেশ করে নি।
আজই এখানে প্রথম মৃতদেহ প্রবেশ করল, তাও
একসঙ্গে তিন তিনটি। ঘরের দেওয়াল জুড়ে
অসংখ্য স্টিলের ড্রয়ার। এগুলিরই মধ্যে যে
কোনও তিনটিতে শুয়ে আছে রিনা, সিতারা এবং
সাইদুর। এক একসময় ডাঃ রহমানের মনে হত, এই
হাসপাতালে লাশকাটা ঘর রাখার দরকার কি? এখানে
অপঘাতে মারা যাওয়া রোগীর সংখ্যা নগন্য। কিন্তু
এখন মনে হচ্ছে, এর প্রয়োজন আছে।
মেন্টাল হোমে রোগীরা সাধারণত অপঘাতে মারা
যায় না ঠিকই, কিন্তু আবার একইসঙ্গে একদিনে তিন
তিনটে লাশও পড়তে পারে।
সবকিছুরই স্থান কাল পাত্র আছে। এই যে তিনি
আনোয়ারকে নিয়ে এখন এই লাশকাটা ঘরে
ঢুকছেন, জীবিত যে বেরোতে পারবেন,
তার নিশ্চয়তা কে দেবে? কোথায় কোন
ঘুপচিতে সেই রূপসী পিশাচিনী ঘাপটি মেরে থাবা
গেড়ে বসে আছে, কে বলতে পারে! যে
কোনও মূহুর্তে মাথায় একটি ইঁদুরের গর্ত নিয়ে
লুটিয়ে পড়তে পারেন টাইলস দেওয়া
মেঝেতে।
এখানে যেহেতু খুব বেশী যাতায়াতের দরকার
পড়ে না, তাই এ ঘরে আলো খুব উজ্জ্বল নয়।
হালকা কমলা রঙের আলোয় স্বপ্নের মতো
মনে হচ্ছে মর্গটাকে। তবে দুঃস্বপ্ন অবশ্যই।
ঘরে কেউ আছে কিনা তল্লাশি চালাবার প্রয়োজন
নেই। এখানে ভারী কোনও আসবাবপত্র নেই
যে তার আড়ালে কেউ লুকিয়ে থাকতে পারে।
ঘরের মাঝখানে শুধু দুটো সেন্টার টেবিল,
মৃতদেহের সুরতহাল করার জন্য। তার তলাতেও
কেউ লুকিয়ে নেই। একমাত্র হতে পারে, শত
শত লাশ সংরক্ষণের ড্রয়ারগুলোতে কেউ ঘাপটি
মেরে গুটিসুটি মেরে বসে থাকতে পারে।
তবে সে সম্ভাবনা নাকচ করে দিলেন ডাঃ রহমান,
কারণ প্রত্যেকটা ড্রয়ারে মজবুত তালা মারা। শুধু তাই
নয়, হাসপাতালের প্রত্যেকটা ঘরেই মজবুত তালা
মারা। দরজা ভাঙলেও ভাঙা যেতে পারে কিন্তু এই
তালা ভাঙা অসম্ভব। আনোয়ারকে সঙ্গে নিয়ে তিনি
হাসপাতালের প্রত্যেকটা ঘরই তন্নতন্ন করে সার্চ
করেছেন আর সার্চ করার পর প্রত্যেক ঘর ভাল
করে লক করে দিয়েছেন। বন্ধ করে
দিয়েছেন সাউন্ড প্রুফ সিস্টেম। কাজেই
যেকোনো শব্দই এখন কানে আসবে তাঁর।
তবে ভয় একটাই, সিতারার কেবিনে ঘটে যাওয়া
ঘটনাটা থেকে তিনি বুঝতে পেরেছেন, তরী
মেয়েটির অদৃশ্য হবার ক্ষমতা আছে।
ঘরের মাঝখানে এসে দাঁড়ালেন ডাঃ রহমান। ঘরের
চারদিকে সতর্ক দৃষ্টি বোলালেন। আনোয়ারও
একইরকম সতর্ক। যারা ধূমপায়ী, তাদের এরকম
অস্বস্তিকর বা ভীতিকর পরিস্থিতিতে এসে
ধূমপানের নেশা প্রবল হয়। একটা সিগারেটে
অগ্নিসংযোগ করে মুখে ধরালেন ডাঃ রহমান।
লক্ষ্য করলেন, আনোয়ার একবার এদিকে
লোভাতুর চোখে তাকিয়েই মুখটা ঘুরিয়ে নিল।
" আনোয়ার! "
" জ্বি সার।"
" খাও নাকি?"
" জ্বি, মাঝেমধ্যে সার।"
একটা সিগারেট এগিয়ে দিলেন আনোয়ারের
দিকে। দুই কান মলে জিভ কেটে আনোয়ার
বলল, " জ্বি না সার, আপনের সামনে...."
" আরে খাও, খাও। এখন আমি, তুমি বলে কিছু না।
এখন শুধু আমরা।"
অত্যন্ত লাজুক ভঙ্গিতে সিগারেটটা ধরাল
আনোয়ার। পরিস্থিতি যখন সবার জন্য বিপজ্জনক
হয়ে ওঠে তখন আর উঁচুনিচু ভেদাভেদ থাকে না।
তখন সবাই এক কাতারে চলে আসে।
মাথার ওপর ঢং করে শব্দ হল একটা। মনে হল ধাতব
কিছু দিয়ে ছাদে একটা শব্দ করল কেউ। ঝট
করে মাথা তুললেন ওপরে ডাঃ রহমান। চোখ
ছানাবড়া করে তিনি দেখলেন, ওপরে সিলিঙের
সঙ্গে টিকটিকির মতো লেগে আছে তরী।
মাথাটা একশো আশি ডিগ্রি ঘুরিয়ে তাকিয়ে আছে
তাঁদের দিকে। ঘরের হালকা কমলা আলোয় তার
চোখদুটো জ্বলছে বিড়ালের মতো। উল্টো
হয়ে হামাগুড়ি দিয়ে ছাদের এককোণে সরে এল
তরী। তারপর টিকটিকির মতো মাথা নীচের দিকে
করে উলটো হামাগুড়ি দিয়ে দেওয়াল বেয়ে
নেমে এল মাটিতে।
(পরবর্তী পর্বে সমাপ্ত)
{তবে ৫ রেটিং না দিলে পরবর্তী পর্ব দেয়া হবে না}
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now