বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
‘আরে গেলে কোথায়? দেরী হয়ে যাচ্ছে তো! তাড়াতাড়ি কর, এক্ষুণি না বের হলে শো টা ধরাই যাবে না’ সিনেমায় যাওয়া এখন প্রায় রুটিনের মত হয়ে গেছে। অভ্যস্ত ব্যস্ততায় রুমে ঢুকেই দেখা গেলো টেলিফোনটার কাছে যেন একটা পাথরের মূর্তি দণ্ডায়মান। পল্লবীর। মুখে একটা গভীর বিষাদের কালো ছায়া।
- পল্লবী, কী হয়েছে? খারাপ কোনো সংবাদ? যাঈদের চোখে উৎকণ্ঠা।
অনেকক্ষণ কোনো কথা সরে না পল্লবীর মুখে। তারপর খুব ধীরে ধীরে প্রায় ফিসফিসিয়ে টেনে টেনে বলে,
- রিয়াজের...ফোন...আগামীকা- রিয়াজের...ফোন...আগামীকালই দেশে ফিরবে...বলছে।
- ওহ, রিয়াজ! ফিরবে বলেছে... হঠাত একটা প্রচণ্ড ধাক্কা খায় যেন। অভিনয় করতে করতে ভুলেই গিয়েছিলো সেই প্রথম দিনের প্রতিশ্রুতি! পল্লবী চলে যাবে – এই ভাবনাটা নিমেষে গুড়িয়ে দেয় মিথ্যের ঘর-বসতি। হাহাকারে ভারী হয়ে আসে বুকের ভেতরটা। আলগোছে টিকেট দুটো আঙ্গুলের ফাঁক গলে লুটিয়ে পড়ে মেঝেতে। ঝড়ো বেগে বেরিয়ে পড়ে যাঈদ। একটা কথাও বলে না। আর কী বলবার আছে যাঈদের?
পার্কের নির্জন কোণটিতে ততোধিক নির্জন একটা বেঞ্চ দেখছে নিঃসঙ্গ এক মানুষের নিস্তব্ধতা। সন্ধ্যার ধূসর আলো নেমে আসছে ধীর পায়ে। উর্ধ্বপানে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে যাঈদ। বুকের ভেতর একটা তীক্ষ্ণ যন্ত্রণা হচ্ছে। পেয়ে হারানোর বেদনায় যে জ্বলেছে সেই জানে সেই অন্তক্ষরী ব্যথার বৃত্তান্ত! দু’চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়া অবাধ্য অশ্রু বিধাতার কাছে নীরব অভিযোগ জানিয়ে চলে, দেবেই যদি অমূল্য কিছু এই আজন্মের অভাগা কে তবে ছিনিয়ে নেয়া কেন? কেন?
রাত গড়ালে উদ্ভ্রান্ত পায়ে হেঁটে চলে নির্মায়িক শহর। কোথায় গেলে জুড়াবে এ জ্বালা? জানা নেই, কারো জানা নেই! অসহ্য এ জ্বালা! ০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০
যাঈদ চলে গেছে অনেকক্ষণ হয়েছে। ডাকতে গিয়েও ডাকে নি। কী লাভ? এমন পরিস্থিতিতে কী বলার থাকে? মাথাটা চেপে ধরে বসে পড়ে। মনে ঝড় বয়ে চলেছে। উচিত-অনুচিত, করণীয়-অকরণীয়, প্রতিশ্রুতি, আকাঙ্খা প্রভৃতি সব একযোগে চিতকার করে নিজ নিজ অস্তিত্বের দাবী প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে। উহ, আর পারছে না সইতে! সব তো যেমন ভেবেছিলো, তেমনই চলছিলো। নিজের সাজানো নাটক...হায়, কখন থেকে বেভুলে বিশ্বাস করতে শুরু করেছে। যাঈদকে ছেড়ে যেতে এত কষ্ট হচ্ছে কেনো? এ এক নতুনতর অনুভূতি; আগে তো কখনোই এমন হয় নি। রিয়াজের সাথের দিনগুলি মনে পড়ে যায়। সেখানে তন্ন তন্ন করে খুঁজেও এমন একটা বেদনার রং তুলে আনতে পারলো না। কী নাম দেবে এই কষ্টের? এরই নাম কি তবে...? উত্তরটা যেন জন্ম-জন্মান্তরের জানা। অঝোর ধারায় উপলব্ধিটা বুক ভিজিয়ে চলে।
খুট করে ঘরের আলোটা জ্বালিয়ে দিয়েই চমকে ওঠে যাঈদ। এ কী অবস্থা হয়েছে মেয়েটার? বিকেলের সাজ-পোশাক এখনো ছাড়ে নি; কেমন বিদ্যুৎস্পৃষ্টের মত বসে আছে! গালে জলের অস্পষ্ট দাগ।
- পল্লবী? খুব আলতো করে শুধোয়। ‘অনেক রাত হয়েছে, শোবে চলো’
পল্লবীর ঘোর কেটে যায়।
-যাঈদ, একটু বসবে? তোমার সাথে কিছু কথা ছিলো।
- কথা? জানি কী বলবে?
- জানো?
- না, মানে তুমি কিচ্ছু ভেবো না। তুমি আর রিয়াজ যেমনটি চেয়েছিলে তেমনটিই হবে – আমি বাধা হয়ে দাঁড়াবো না। তুমি কাল সকালেই চলে যেতে পারো। চাইলে তোমায় পৌঁছে দিয়েও আসতে পারি তোমার বান্ধবীর বাসায়...
- এই বুঝলে? আবার চোখ ঝাপসা হয়ে আসে। তোমরা, তোমরা সবাই এক, কেউই বুঝতে চাও না... অতটা অনুগ্রহ না করলেও চলবে; আমিই নিজেই চলে যেতে পারবো। দরকার নেই, আমার কারোকেই দরকার নেই। ধরা গলায় শেষের কথাগুলো বলে উঠে চলে যায় পল্লবী। পাথর মুখে বসে থাকে যাঈদ।
বাথরুমে শাওয়ারের নীচে ভিজে চলেছে পল্লবী। ভিজেই চলেছে...যেন বেদনার দাগ ধুয়ে ফেলতে চাইছে। আর একটা নিষ্ফলা রাগ কিংবা অভিমান, যাঈদের প্রতি। কাপুরুষ কোথাকার, কে অত ভালমানুষ হতে বলেছে? নিজের বৌ –কে ধরে রাখতে এত সংকোচ! নিকুচি করি ঐ ভালমানুষিতার। যদি সব ঝেড়ে ফেলে একটিবার বলতো? হ্যাঁ, একবার একটা ছোট্ট অনুরোধ। ফেলতে কি পারতো পল্লবী? কিন্তু বললো না যে! হঠাত বড় অভিমান হয়ে যায়। তবে তাই হোক। শাওয়ারের অবিরাম শীতল ধারাও যেন সে অভিমানের আঁচে বাষ্প হয়ে উড়ে যেতে থাকলো। ০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০
গভীর রাত। স্মৃতির পাতা ওল্টানো এখানেই থেমে যায়। বাস্তবে ফিরে আসে যাঈদ ইধাম। গভীর মমতায় আবার দেখতে থাকে পল্লবীর ঘুমন্ত মুখখানা। আজব নারীর মন। আনমনে আউড়ে চলে, ‘স্ত্রীয়াশ্চরিত্রম দেবা ন জানন্তি কুতো মনুষ্যা’ অর্থাৎ- নারী জাতির চরিত্র দেবতাই জানেন না আর তো মানুষ! কী আছে এই রহস্যময়ীর মনে। কীসের ইঙ্গিত ছিলো ওর শেষের কথাগুলিতে? বোঝেনি বলাটা তো আসলে আত্মপ্রতারণার শামিল! অথচ গতবাঁধা সেই কথাগুলো বলে সে সম্ভাবনাটুকুই ভণ্ডুল করে দিয়েছে। নিজের উপরেই রাগ হতে থাকে। বলেছিলো, পল্লবী বলেছিলো। হয়তো মুখে বলেনি কিন্তু সে অর্বাচীন, বুঝতে পারে নি! হঠাত যা কখনো করে নি তাই করে ফেললো। মৃদু হাতে স্পর্শ করে চোখ, ঠোঁট......... কেঁপে ওঠে কি পল্লবী? হয়তো মনের ভুল। তবুও ঝটিতে হাত সরিয়ে নেয়। মুখে এক অদ্ভুত প্রশান্তি খেলা করে। এই ছোঁয়া সে মনে রাখবে...বাকী জীবনটা কে জানে হয়তো এই স্পর্শ-সুখেই কাটিয়ে দিতে হবে। একটা দী
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now