বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বি ছানায় উপুড় হয়ে ফুলে ফুলে কাঁদছিলো পল্লবী - বেশবাস আলুথালু। পোড়া চোখ হঠাত আটকে গেলো। শিরদাড়া বরাবর ঋজু বয়ে চলা খাঁজ কোমরের সংকীর্ন এলাকা ছাড়িয়ে আচমকা বিলীন হয়ে গেছে নিতম্বের প্রাচুর্যে - যেন কোমল একখানি কবিতা তন্ময় ছন্দে কেঁপে কেঁপে উঠছে! চেতনার গভীরে অনাদির পৌরুষে একটা বুক-ফাটা তৃষ্ণা সহসা হাহাকার করে ওঠে। হতবিহ্বল হয়ে যায় যাঈদ। পরক্ষণেই অনুশোচনা হতে থাকে। ছি ছি এ কী ভাবছে সে? আবার কে একটা ভেতর থেকে বলে ওঠে, সন্ত তো আর নও হে! তবে কেন বাপু এই দোলাচাল? এই টানাপোড়েনে খানিকটা সময় কেটে যায়। তারপর একসময় ঘোর ভেঙ্গে গেলে বুকটা হু হু করে ওঠে। পল্লবী যে কাঁদছে! যতই একতরফা হোক, ওর চোখের জল যে যাঈদের সইবে না!
খুব ধীরে ধীরে হাতটা এগিয়ে নিয়ে যায়, কিন্তু শেষমেশ ছুঁয়ে দেয় না। শুধু আলতো করে শুধোয়, পল্লবী, কী হয়েছে, কাঁদছো কেন?
যাঈদের উপস্থিতি পল্লবী ঠিকই টের পেয়েছিলো। কেন যেন মনে হতে থাকে যাঈদ যদি ওর মাথায় একটু হাত রাখতো! পল্লবীর ভেতরে এক অসহায় 'অচেনা পল্লবী' যেন কোনো এক অসতর্ক মুহূর্তে চেয়ে বসে এই নির্ভরতাটুকু। কিন্তু যাঈদ খুব কাছে এসেও হাতটা সরিয়ে নিলো যে! নির্ভরতার পরম উষ্ণতা পেতে পেতেও তা আর পাওয়া হয়ে উঠলো না। ওহ, কী অসহ্য এই ভালোমানুষি! সে কি এতটাই অস্পৃশ্য? ক্ষোভের যেন অগ্নুৎপাত ঘটে গেলো।
-আমার খুশী তাই কাঁদছি। তোমার কী? চলে যাও, চলে যাও এখান থেকে...
-আহা, কী হয়েছে বলবে তো? লাবণীর সাথেও তো পরিচিত হলে না!
-দোহাই তোমার! যা করছিলে তাই করো গিয়ে। সব আনন্দ তো তোমাদেরই...আমাকে না হয় একটু কাঁদতে দিলে... আমাকে একটু একা থাকতে দাও।
আহত চোখে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে ঘুরে পা বাড়ায় যাঈদ। আর কী একটা উপলব্ধিতে ঘন ঘন মাথা নাড়াতে থাকে। তবে কী? সহসা বুকে যেন অভাবনীয় এক উচ্ছ্বাসের রক্ত চলকে চলকে ওঠে!
তারপর লাবণীর সাথে আড্ডাটা আর জমলো না – কোথায় যেনো সুরটা কেটে গেছে। লাবণী চলে গেলে স্টাডিতে গিয়ে ঝিম মেরে বসে থাকলো বেশ কিছুক্ষণ। অতঃপর ডায়রীটা টেনে নিয়ে খসখস করে শব্দের পিঠে শব্দ সাজিয়ে চললো। তন্ময় হয়ে কতক্ষণ লিখে চলেছে ঠিক বলতে পারবে না – হঠাত খুব কাছেই একটা শব্দ পেয়ে মুখ তুলেই পল্লবীকে দেখতে পেলো। নতমুখে ইতস্তত দাঁড়িয়ে পায়ে নখ খুঁটছে।
-কিছু বলবে? জিজ্ঞাসা করে যাঈদ।
-আমাকে মাফ করে দাও যাঈদ! তখন অনেক কষ্ট দিয়ে ফেলেছি, তাই না? অনেক রেগে গেছো? আমার যেন কী হয়েছে ঠিক বলতে পারবো না। লাবণীর কাছে তোমাকে হয়তো ছোট করে দিয়েছি – ওঁকে আরেকদিন আসতে বলবে, কেমন? আর বলো, আমাকে ক্ষমা করবে? চোখে অনুনয় ঝরে।
- নাহ, কষ্টের কী আছে? জানো হয়তো আমি তো রাগ পুষে রাখতেই জানি না; তোমার উপর আমার কোনো রাগ নেই, করিও নি। হেসে ফেলে যাঈদ। নির্মল হাসি। অথচ সেটা কারো দোদুল্যমান বুকে স্রেফ মুগ্ধতার খঞ্জর বসিয়ে দেয়!
-সত্যি বলছো? তুমি, তুমি এত ভালো কেন? বলেই কেমন একটা অদ্ভুত ভঙ্গীতে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকে পল্লবী। যাঈদও চোখ সরিয়ে নেয় না। পিনপতন নীরবতায় জমে যাওয়া সেই সময়ে দু’টো যুবক-যুবতী যেন অন্য আলোয় দেখে নিতে চাচ্ছে আপন আপন হৃদয়ের নিষিদ্ধ কুঠুরি! সেখানে দুর্দম কিছু আকাঙ্খার শিরশিরে হাওয়া ভবিতব্যের খোলা জানালায় মুচকি হাসছে। ওখানে কারুরই বিশেষ কিছু করবার থাকে না, শুধু নিঃশর্ত আত্নসমর্পন ছাড়া!
যাঈদ-ই নীরবতা ভাঙ্গে, কী ব্যাপার? কী দেখছো অমন করে?
হঠাত কোথা থেকে একরাশ লজ্জা এসে ভীষণ বিব্রত করে ফেলে পল্লবীকে। ছুটে পালিয়ে যায় সামনে থেকে। যাঈদ পেছন থেকে ডেকে ওঠে, পল্লবী, শোন, চলে যেও না......
ডায়রীতে আরো কয়েকটি লাইন নিঃশব্দে জুড়ে যায়। ক’খানা বহুল ব্যবহৃত যুগ-যুগান্তরের শব্দ...যাদের আবেদন হয়তো কোনো কালেই ম্রিয়মান হয়ে যাবার নয়! ০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০
সময় যেন দ্রুত পায়ের বল্গা হরিণ – দুরন্ত বেগে কিছু বুঝে ওঠার আগেই হারিয়ে যায় যাঈদ-পল্লবীর খেলাঘরের অলি-গলিতে। যেতে যেতে ছুঁয়ে যেতে ভোলে না দু’ দু’টো অবুঝ মন! ছোট ছোট ভালোলাগা, নির্ভরতা, হাসি-কান্না, অভিমান জমে জমে অন্তরালে রচে যেতে থাকে বিনে সুতোর মালা। একটা আশ্চর্য সমঝোতা অভ্যস্থতার মোড়কে ধীরে ধীরে একটা জটিল সম্ভাবনার হাতছানি দিয়ে যায়। কিন্তু বাইরের অস্বীকারের ‘আমি’ টা ভেতরের মজে যাওয়া ‘আমি’ টাকে যেন গায়ের জোরেই হারিয়ে দিতে চায়! তাই কারুরই কিছু বলা হয়ে ওঠে না। এমনি টানাপোড়েনে একদিন সে দিনটা এসেই যায়। রিয়াজ দেশে ফিরছে।
লাইনটা কেটে যাবার পরও কয়েক মুহূর্ত টেলিফোনটা কানে লাগিয়ে রাখে পল্লবী। ‘পল্লবী, দেশে ফিরছি। তৈরী থেকো...অনেক কথা বলবার আছে’ কথাগুলো কানে বাজছে। অত্যন্ত খুশীর খবর, কিন্তু কেন জানি আনন্দ হচ্ছে না! বরং কী একটা খুইয়ে ফেলার আশংকায় বুকটা ধ্বক করে ওঠে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now