বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
নক,নক...
বিরক্তিতে চোখ-মুখ কুঁচকে গেলো রিয়াজের। দেখবে না ভেবেও চোখের কোণা দিয়ে মুঠোফোনের স্ক্রীণটাতে চোখ বুলিয়ে নিলো,আহ, জ্বালালো দেখছি! এখন এক মুহূর্ত দম নেবার অবসর নেই। প্রচণ্ড ব্যস্ত–যেভাবেই হোক থিসিসের কাজ শেষ করতেই হবে; আগামীকালের মধ্যে দু’টো চ্যাপ্টার না লিখলেই নয়। এই অবস্থায় ‘যেভাবে পারো প্লীজ একটা কল করবে, এক্ষুণি? ’ এইরকম একটা বার্তা পেলে কেমন লাগে? রাগে গরগর করে উঠলো ভেতরটা, কিন্তু বিরক্তিটা যেমন দ্রুত এসেছিলো, তেমনি দ্রুত পড়ে গেলো! হঠাত কেমন একটা অপরাধবোধ হতে থাকে – কীভাবে সে এটা ভাবতে পারে? এ যে পল্লবীর আহ্বান! পল্লবী, যার কাছে ফিরে যাবার জন্য সে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। হঠাত করে রিয়াজের বড্ড অনিশ্চিতবোধ হতে থাকে। সে কী সত্যিই ফিরে যেতে চায়? অবান্তর প্রশ্ন, কিন্তু সেটাই কেন জানি বিরাট ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গীতে তার দিকে তাকিয়ে থাকলো।
মানুষের মন বড় বিচিত্র! সময় নেই জেনেও রিয়াজ আলগোছে হারিয়ে গেলো সেই সব দিনগুলোতে – হয়তো কোথাও তার সত্তার একটা অংশ পুরো বিষয়টিকে নতুন আলোয় দেখতে চাইছে। পল্লবী যারিন –তার সহপাঠীই ছিলো বটে! কিন্তু ঐ যে কেউ কেউ থাকে না, যাদের নিয়ে স্বপ্ন দেখতে দোষ থাকে না, কিন্তু পেতে গেলেই দুঃসাহস হয়ে যায় –পল্লবী যে তাদের দলেই ছিলো! তাছাড়া আরো একটা ব্যাপার ছিলো বৈকি, তিন পুরুষের শত্রুতা ভোলে কী করে! তাই মন চাইলেও বাস্তববোধের কষাঘাতে নিরাপদ দূরত্বেই থেকে যাওয়া হতো তার। কিন্তু একদিন সেসব কর্পূরের মত উবে গেলো। নাহ, সেটায় রিয়াজের কোনো বীরত্ব ছিলো না; পল্লবীর অসামান্য স্পষ্টবাদীতাই রিয়াজকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলো। ‘না’ বলার ফুরসতই পায় নি; নিদারুন কম্পমান হাঁটুটাকে সামলাতেই যে বেশি ব্যস্ত ছিলো! তোতলাতে তোতলাতে কী একটা বলতে চেয়েছিলো কিন্তু পল্লবীর বাঁধ-ভাঙ্গা হাসিতে তা পাত্তাই পায় নি। তার পরের ঘটনাগুলো খুব দ্রুত ঘটে গেলো। কিছু বোঝার আগেই সে পল্লবীর বাঁধা সুরে গাইতে থাকলো। পল্লবীরা যা চায়, তাই হয়তো আদায় করে নিতে পারে। তাতে পল্লবীদের দৃঢ়তা নাকি অন্যপক্ষের দুর্বলতা প্রকাশ পায়, সেটা অবশ্যই বিতর্কযোগ্য! সে যা হোক, রিয়াজের যা হবার তাই হয়ে গেলো। প্রবাসী হবার পূর্বে প্রতিশ্রুতিও দিয়ে ফেললো। কেউ জানতে চাইলো না সে আসলেই কী চায়?
তারপর মাস তিনেক আগে এলো সেই দুর্যোগের ঘনঘটা। পল্লবীর বিয়ে। প্রথমটায় স্তম্ভিত হয়ে গেলেও এবারেও চালকের আসনে পল্লবী। যা প্ল্যান করবার পল্লবীই করলো। সে শুধু সম্মতিজ্ঞাপন ছাড়া কিছু করতে পারলো না। কারণ ঐ সময়ে সব ফেলে তার পক্ষে আসা সম্ভব ছিলো না। তাছাড়া পুরো ব্যাপারটাই যে বড় গোলমেলে, পল্লবীকে আসলেই সে সেই শত্রু পরিবারের বাধা ঠেলে ছিনিয়ে আনতে পারবে কিনা – সেটা বড় প্রশ্নসাপেক্ষ! কিন্তু সেটা শুনছে কে? বড় অসহায় লাগতে থাকে...কিন্তু এরই মাঝে একধরণের ‘হাঁফ ছেড়ে বাঁচা’ –এর মত একটা অনুভূতি নীরবে খেলে যায়। সেদিন নিজের কাছেই ভীষণ লজ্জিতবোধ করেছিলো রিয়াজ।
বোতাম চাপতে থাকে -......০০৮৮০১৯২......। পল্লবীর নাম্বার -বাংলাদেশে।
উসখুস করছিলো পল্লবী, এতক্ষণ লাগে একটা কল করতে? সময় যেন কাটছে না, নীচের হাস্যরত যুগল কানে যেন বিষ ঢেলে দিচ্ছে। অর্থহীণ ঈর্ষা –ছি, ছি এমনতো হবার কথা নয়! এ কী হচ্ছে তার? জিতেই যে অভ্যস্ত, ক্রমান্বয়ের পরাজয় তার ভালো লাগার কথা নয়। কিন্তু কীসের হার, কার কাছে হার? অবচেতনে যে দুর্মুখ সত্যগুলি প্রায়-শান্ত জলের মত নিরুপদ্রবে বইছে, চেতনায় সেইটিই উঠে আসে আবেগের বেনো জল হয়ে। হাপুস নয়নের জলে ভেসে যেতে থাকে বালিশের কানা। তখনিই মুঠোফোনটা বেজে ওঠে।
-হ্যালো! ( কান্না বিজড়িত...) চাপা কান্নার শব্দে হকচকিয়ে যায় রিয়াজ।
-হ্যালো পল্লবী, কী হয়েছে? কাঁদছো কেন?
কীভাবে বলে কেন কাঁদছে? সে কি বলার মত? তবুও কোনোমতে বলে,
-জানি না! রিয়াজ, আমি আর পারছি না! প্লীজ আমাকে এ যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দাও। আমি কিছু জানি না, তুমি চলে এসো। আমাকে নিয়ে যাও এখান থেকে।
-কেন, কী হয়েছে? শান্ত হও, প্লীজ। সবই তো জানো, প্ল্যানটাও তো তোমার করা? কী, ভুল বলেছি?
-আমার কিছু জানার দরকার নেই। অনেক বুঝেছি, আর কিচ্ছু বুঝতে চাই না!
-মাথা ঠান্ডা করো। আর তো মাত্র কয়টা দিন। থিসিসটা জমা দিয়েই সোজা চলে আসবো। তাছাড়া আমারও কিছু কথা ছিলো...
-কী কথা? এখনিই বলতে পারো, বলে পল্লবী।
-নাহ, আজকে তুমি শোনার মত অবস্থায় নেই। পরে বলবো।
পল্লবী জোর করে কিন্তু রিয়াজ রাজী হয় না। আসলে তার সাহসে কুলোয় না। মনের ভেতরের গুড়গুড়ে সিদ্ধান্তটা বলে ফেলার জন্যও তো প্রস্তুতি দরকার। আজকেই বলে ফেলা যেতো, কিন্তু পল্লবীর এ অবস্থায় মায়া হয়ে গেলো। কাঁদতে থাকা কোনো নারীকে খুব সাবলীলভাবে কঠিন কোনো কথা বলে দেয়া যায় না। অন্তত কোনো পুরুষের পক্ষেই সেটা সহজে সম্ভব হয়ে ওঠে না। রিয়াজও পারলো না। খুট করে লাইনটা কেটে দিয়ে একরকম পালিয়ে বাঁচল।
বড় অবাক হয়ে গেলো পল্লবী। কী কথা বলতে গিয়েও বলতে পারলো না রিয়াজ? একটা অজানা আশংকায় মনের ভেতর কু ডেকে উঠলো। ভেবেছিলো রিয়াজের সাথে কথা বলে মনটা হাল্কা করবে। কিন্তু তা তো হলোই না, উল্টে মনটা আরো খারাপ হয়ে গেলো। আরো বেশি সিক্ততায় ভিজে চললো বালিশের সর্বংসহা বুক!
আড়ালে দাঁড়িয়ে পল্লবীর আকুতির কিছু কিছু ধরে ফেলে যাঈদ। মুখে একটা ক্ষীণ হাসির রেখা এসেই মিলিয়ে যায়। আশ্চর্য!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now