বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
এভাবে কতক্ষণ তন্ময় হয়ে ছিলো যাঈদ বলতে পারে না। ঘোর ভাঙ্গে পল্লবীর ডাকে।
-এই যে কী হলো? শুনতে পাচ্ছেন?
-অ্যাঁ, হ্যাঁ...আমায় ক’টা দিন ভাবতে দাও। ভেবো না। আমার কাছে তোমার কোনো অমর্যাদা হবে না। শুধু অভিনয়টা চালিয়ে যেও। পারবে তো?
পল্লবীকে এই প্রথম বারের মত কেমন যেন অনিশ্চিত দেখায়। তবুও খুব ধীরে ধীরে মাথা নাড়িয়ে জানায়-পারবে।
বাকী রাতটা বারান্দাতেই আকাশ-পাতাল ভেবে কেটে যায় যাঈদ –এর। সিদ্ধান্তটা নিয়েই ফেলে। অবাক কান্ড! কেমন যেন ভালো লাগতে থাকে। সেটা ত্রাণকর্তার ভূমিকায় নাকি পুরোনো গণ্ডীহীণ জীবনের অভূতপূর্ব হাতছানিতে, ঠিক ঠাহর করতে পারে না।
কয়েকদিন পরের কথা...
অভিনয়টা হচ্ছে দেখার মত! অবশ্য দেখার মত তেমন কেউ নেই যাঈদ –এর। এক ছোট মামাই শুধু খোঁজ-খবর করেন। একদিন বেড়াতেও এলেন। যাঈদ কে বকা-ঝকার বিষ-পাহাড় গিলিয়ে, বৌ-মার ভূয়সী প্রশংসা করে, গলা অব্দি খেয়ে দেয়ে বেড়িয়ে গেলেন মাহমুদ সাহেব। যাঈদ-পল্লবীর সংসার নিঁখুতই ছিলো বলা যায়। তবুও কোথায় যেন কী নেই? যাবার বেলায় একটু সরু চোখে যে তাকান নি, তা নয়! যাঈদকে তো তিনিই মানুষ করার হ্যাপা সামলেছেন। ছন্নছাড়া এই বাউন্ডুলে ছেলেটা যে সত্যিই কেমন রেখেছে এই মায়াবতী মেয়েটিকে, সে আল্লাহ্ ই ভালো জানেন।
মাহমুদ সাহেব চলে গেলে হাঁফ ছেড়ে বাঁচে যাঈদ।
-যাক বাবা! বাঁচা গেলো। দেখেছো কেমন সন্দেহের চোখে তাকাচ্ছিলেন। তবে তোমার এক্টিংটা হয়েছে দেখবার মত। যেন একেবারে সত্যিকারের হাসব্যান্ড-ওয়াইফ!
-আমরা তো সত্যিই তাই, তাই না? মুখ ফস্কে বলে ফেলে পল্লবী।
-তাই কি? যাঈদ –এর চোখে কৌতুক।
অপ্রস্তুত হয়ে যায় পল্লবী। ইদানীং মাঝে মাঝেই যাঈদ -এর উদারতা তাকে বাকরুদ্ধ করে দিচ্ছে। প্রায় অতিমানবীয়! এই যে সে নির্দ্বিধায় কী বিষম বিপত্তিতে ফেলেছে সহজ-সরল একটা মানুষ কে...তাতে মানুষটার কোনো অভিযোগ আছে বলে মনে হয় না। হাসি মুখেই যেন সব মেনে নিয়েছে। আর দশটা মানুষের মত স্বামীত্ব ফলাবার বিন্দুমাত্র চেষ্টাও করে নি। এমন কি সেই রাত ছাড়া ভালোমত তাকিয়েও দেখে না! সে কি এতটাই অনাকর্ষণীয়? আজব নারীর মন! কোথায় যেন পল্লবীর নারীত্বে উপেক্ষার জ্বালা জ্বলতে থাকে...
এমনি করেই ওদের তাসের ঘর তিনটি মাসের বুড়ি ছুঁয়ে গেলো। এখন নিরাপদ দূরত্বে ওরা বেশ ভালো বন্ধু হয়ে উঠেছে। অনেক কিছুই শেয়ার করে। সপ্তাহান্তে বাজারে যায়। যাঈদ পল্লবীর প্রায় সব ছেলেমানুষি আবদারই মেটানোর চেষ্টা করে। ভাবে ক’টা দিনই তো আছে, একটা সুখের স্মৃতি নিয়ে যাক না! একদিন সিনেমাতেও ঢুঁ মেরে এলো। ফেরার পথে এবড়ো খেবড়ো রাস্তায় বড় কষ্ট হলো। অবেলার বৃষ্টিতে রিক্সার আঁটোসাঁটো ছাউনির নীচে গা বাঁচিয়ে চলতে গিয়ে নাস্তানাবুদ হলো যাঈদ। তবুও শেষ রক্ষা হলো না। অপরাধীর মত চূড় মুখে বসে থাকল। পিত্তি জ্বলে গেলো পল্লবীর। সে কি অচ্ছুৎ নাকি?
একদিন উইক-এন্ডের সকালে তৈরি হচ্ছিলো পল্লবী। বাইরে বেড়াতে যাবে। হঠাত টুংটাং শব্দে কলিং বেল বেজে ওঠে। দরজা খুলেই হকচকিয়ে যায়। অসামান্য রুপবতী এক তরুণী হাসিমুখে দাঁড়িয়ে আছে। রোদ চশমাটা উঁচু করে চুলের অরণ্যে গোঁজা। সে বোধহয় পল্লবীর থেকেও বেশি আশ্চর্য হয়ে গেছে!
-যদুদা আছেন? যদি কিছু মনে না করেন...আ...আপনি কে?
- যদুদা? আপনি কি যাঈদ কে মীন করছেন?
-ঐ একি কথা! যদুদাই ওয়ান এন্ড ওনলি দ্য গ্রেট যাঈদ!
- আমি ওঁর স্ত্রী। আসুন, ভেতরে আসুন। আপনাকে তো ঠিক চিনলাম না!
-আমি লাবণী। এ মা! যদুদা টা কী পাজি! বিয়ে করেছে কই বললো না তো? সেদিনই তো দেখা হলো। এত করে বললাম ঠিকানাটা দিলোই না। শেষে কী কষ্ট করেই না যোগাড় করেছি!
-ও, তাই নাকি? বসুন, আমি ওঁকে ডেকে দিচ্ছি।
ব্যালকনিতে অলসভাবে একটা বইয়ের পাতা ওল্টাচ্ছিলো যাঈদ। ভ্রমণ নিয়ে একটা বই। পড়তে পড়তেই নস্টালজিক হয়ে যায়। আহ, কতদিন হয়ে গেলো নিরুদ্দেশ ডুব দেয় না! ছোটমামার উপর একধরণের ভোঁতা রাগ হতে থাকে। ওইরকম আষ্টে-পৃষ্ঠে না ধরলে হয়তো এখন কোনো না কোনো জঙ্গল কিংবা নদী-পাহাড়ে প্রকৃতির খুব কাছাকাছি থাকা যেত। আহ! ঘেন্নার এই আটপৌরে জীবনে হারিয়ে যেতে বসা বন্যতার গন্ধ তাকে বড় ব্যাকুল করে দিতে থাকে। এমনি সময় ঘোর ভেঙ্গে যায় পল্লবীর ডাকে।
-এই যে সাধুবাবা, যাও নীচে যাও। তোমার লাবণী এসেছেন!
-হ্যাঁ, কে? কার কে এসেছেন? হেসে ফেলে যাঈদ। পল্লবীর স্বরে চরম বিরক্তি কিংবা অন্য কিছু একটা(!) ছিলো যেটাতে যাঈদ বেশ কৌতুকবোধ করতে থাকে।
-কে একজন লাবণী এসেছেন তাঁর ‘যদুদা’ –এর সাথে দেখা করতে। ঢং দেখে বাঁচি না! দিলো তো আজকের বেড়ানোটা মাটি করে। বাই দ্য ওয়ে, তোমার ডাক নাম যে যদু...কখনো বলো নি তো!
-ওহ! লাবণী এসেছে?? কী আশ্চর্য! আর হ্যাঁ, ওটা আমার ঠিক ডাক নাম নয়; কেবল কাছের ক’জনের কাছেই আমি যদুদা।
হাসতে হাসতে নীচে নেমে আসে যাঈদ। বসার ঘরে অস্থিরভাবে একটা ম্যাগাজিনের পাতা উলটে দেখছিলো লাবণী। যাঈদ চেঁচিয়ে ওঠে,
-কী রে হতচ্ছাড়ি! তুই কীভাবে এখানে এলি?
-যাও, তোমার সাথে কথা নাই! কত কী করে ফেলেছো...একটুও জানালে না? বিয়ে করেছো...সেটাও বলো নি! ঠিকানাও দিতে চাও নি। তোমার কী হয়েছে, বলো তো? লাবণীর মুখে মেঘ জমছে।
-দাঁড়া, দাঁড়া এই মন খারাপটা না তোকে মোটেই মানাচ্ছে না! বাঁদরের মন খারাপ কেউ কি কখনো দেখেছে? বলেই ঠা ঠা করে হাসতে থাকে।
-এই! ভালো হবে না কিন্তু বলে দিলাম। আমি বাঁদর? তুমি কী? তুমি হনুমান। হেসে ফেলে লাবণী।
এরপর কথোপকথন চলতে থাকে। যাঈদ যাই বলে তাতেই হেসে কুটিপাটি হয়ে যাচ্ছে লাবণী মেয়েটা। যাঈদকেও অনেকদিন পর বেশ উৎফুল্ল দেখাচ্ছে। বেশ অন্তরঙ্গ এই দৃশ্যপটটা আড়াল থেকে দেখতে থাকে পল্লবী। কোনো এক অব্যখ্যেয় কারণে বুকের কোথায় যেন খচখচ করতে থাকে যার আসলে কোনো মানেই নেই! এমন কেন হচ্ছে ওর? বুকের গভীরে সবারই একটা ঠোঁটকাটা ‘আমি’ থাকে যে কোনো রাখঢাকের তোয়াক্কা করে না। এইক্ষণে সেই ‘আমি’ টার মুখোমুখি হয়ে একেবারে হতবিহ্বল হয়ে পড়ে পল্লবী। না, এ এ হতে পারে না। এ যে অনুচিত! দ্রুত মুঠোফোনে একটা ক্ষুদেবার্তা লিখে ফেললো। গন্তব্য-ইংল্যান্ড।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now