বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
-কী? যাঈদ ভাই?? এখনো তোমার ভাই? তো কীসের সম্মতি দিয়ে এলে? যাঈদের মুখে খুনসুঁটির হাসি। ধীরে ধীরে এগুতে থাকে।
-খবরদার বলছি! যেখানে ছিলেন, সেখানেই থাকেন। মজা পেয়ে যায় যাঈদ। থামার কোনো লক্ষণ অবশ্য দেখা গেলো না।
-যদি না থাকি? কী করবে? ( হাসি...)
-আমি কিন্তু চেঁচাবো...
দমে যায় যাঈদ। হাল ছেড়ে দিয়ে ধপ করে বসে পড়ে মুখোমুখি সোফাটাতে। মুখে জমাট বিস্ময়।
-আচ্ছা বাবা, চেঁচাতে হবে না। কী আজব! ব্যাপার কী? আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না। কেন তোমার কাছে যেতে পারবো না? আর চেঁচিয়ে কী লাভটা হবে শুনি? আমরা তো বাসর ঘরে আছি গো?
-ভুলে যান সে ইচ্ছে। শখ কত! নিজের চেহারা দেখেছেন আয়নাতে?
-বলো কী! আমার চেহারাতো সেইরকম খারাপ নয় বলেই জেনে আসছি...অন্ততঃ মেয়ে পটানোর মত যথেষ্ট কারুকার্য আছে বলেই জানতাম। তুমিও তো জানতে। কী জানতে না?
-আমার জানতে বয়েই গেছে। ঠোঁট উল্টে বলে পল্লবী। তারপর হঠাত কী হয়...সেই জেদী জেদী ভাবটা মুছে গিয়ে একটা কোমল কাঁদো কাঁদো ভাব সুশ্রী মুখটাতে জায়গা করে নেয়।
-আমাকে বাঁচান যাঈদ ভাই! আমি জানি অত্যন্ত অদ্ভুত কথা বলছি। কিন্তু বিশ্বাস করুন এছাড়া আমার আর কোনো উপায় ছিলো না। আমি, আমি একজনের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ! (কান্না...)
যেনো বিনা মেঘে বজ্রপাত হলো! বেশ হতভম্ভ হয়ে গেলেও কোনোমতে সামলিয়ে নিয়ে বললো, ‘ বলে যাও, থেমো না’
-রিয়াজ আমার সহপাঠী। প্রায় বছর চারেক আগে আমরা প্রেমে পড়ে যাই। এটা একধরণের হঠকারিতা বলতে পারেন। গ্রামে রিয়াজদের সাথে আমাদের তিন পুরুষের শত্রুতা। আমাদের এই সম্পর্ক কেউ মেনে নেবে না জেনেও বোকামিটা করে ফেলি। ভালোই কাটছিলো আমাদের দিনগুলো। হঠাত রিয়াজ আরো পড়বে বলে ইংল্যান্ড চলে গেলো। যাবার আগে বলেছিলাম অন্ততঃ চুপিচুপি বিয়েটা সেরে নেই। কিন্তু ও রাজী হলো না; ছাত্রাবস্থায় সে কোনো দায়িত্ব নিতে ইচ্ছুক ছিলো না। আমরা সিদ্ধান্ত নেই কোনোপ্রকারে চারটা বছর কাটিয়ে দেব। তারপর সে নিজেই সব শত্রুতা ভুলে আমাকে সদর্পে চাইবে আমার পরিবারের কাছ থেকে। সব ঠিক ছিলো। কিন্তু সমস্যা শুরু হলো ও চলে যাবার পর থেকে। বাবা-মা উঠে পড়ে লাগলেন আমার বিয়ের জন্য। কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলো পল্লবী।
-তারপর? যাঈদ জিজ্ঞাসু চোখে তাকিয়ে থাকে।
-জানেন, কত বিচিত্র উপায়ে যে ঠেকিয়ে রেখেছি। শেষে একদিন সব অজুহাত ফুরিয়ে গেলো; রিয়াজের কথাটাও বলতে পারছিলাম না। সইতেও পারছিলাম না, বলতেও পারছিলাম না। তারপর একদিন...একদিন আপনার মামা এলেন। বাবা-মা আর অপেক্ষা করতে চাইলেন না। আমি না বললে উনারা ইমোশনাল ব্লাকমেলের ফাঁদে ফেললেন আমাকে। আর ঠেকাতে পারলাম না। একটা আশা কিন্তু রয়ে গেলো মনে...শুধু সেটার উপর ভরসা করেই...
-কী সেটা শুনি?
-বেশ অনেকটা সময় আপনারা আমাদের প্রতিবেশী ছিলেন। সে সূত্রে আপনাকে চিনি। এমনিতে খুব গম্ভীর থাকলেও আমার সাথে কেন জানি খুবই রসিকতা করতেন। খুবই জ্বালাতেন। (অসভ্য কোথাকার! মনে মনে বলে) স্বভাবে একটু পাগলা হলেও...মানে বলতে চাইছিলাম মোটের উপর আপনাকে সবাই বেশ ভালো মানুষ হিসেবে জানত। মানুষের বিপদে আপদে আপনিই থাকতেন সবার আগে।
-হয়েছে আর বলতে হবে না। তারপরে বলো।
-আমার মনে হয়েছে কেবল আপনিই বুঝবেন আমার সমস্যাটা এবং আমাদের উদ্ধার করতে পারেন এই ঝামেলা থেকে। আর চার-পাঁচ মাসের মধ্যেই রিয়াজের পড়াশুনা শেষ হয়ে যাবে। খুবই ব্যস্ত। এই মুহুর্তে ওর পক্ষে সব ফেলে আসা সম্ভব হচ্ছে না। রিয়াজের সাথে আমার কথা হয়েছে। ও আপনাকে বিশ্বাস করে। আমি বলেছি আপনাকে সব বুঝিয়ে বললে আপনি হয়তো রাজী হবেন আমাকে ওর আমানত হিসেবে রাখতে। বলুন যাঈদ ভাই, আমাদের এ অনুরোধটুকু রাখবেন। আমাকে এ কয়টা মাসের জন্য আশ্রয় দেবেন? তারপর না হয় কোনো একটা অযুহাতে বিবাহ-বিচ্ছে... পল্লবীর চোখে অনুনয় ঝরে।
কথাটা শেষ করতে দেয় না যাঈদ। তড়িঘড়ি বলে ওঠে,
-বুঝেছি, বুঝেছি আর বলতে হবে না। তারপর গভীর ভাবনায় ডুবে যায়। নিয়তির কী নির্মম পরিহাস! যে খাঁচা থেকে পালিয়ে বেড়িয়েছে এতটা বসন্ত, এখন সেই খাঁচাই কিনা স্বয়ং পালিয়ে যেতে চাইছে! গভীর বিষাদে ভারাক্রান্ত হয়ে যায় বুকটা। বন্ধন জাতীয় ব্যাপারগুলো কেন জানি তার ধাতে সয় না; যতবারই কাছে টানতে চেয়েছে, ততবারই দূরে সরে যেতে হয়েছে। ভেবেছিলো এবার হয়তো তার ব্যতিক্রম হবে। কিন্তু এ কী শুনছে সে? এও কি সম্ভব? মনের ভেতর উচিত-অনুচিতের দুরন্ত ঝড় সাইক্লোনের বেগে ধেয়ে চলছে। নিয়তি এ কোন অদ্ভুত বাস্তবতায় তাকে টেনে নিলো?
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now