বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
.
অাজ ১০ জানুয়ারি অভির জীবনের স্বরনীয় একটি দিন।
গত পাঁচ বছর ধরে দেখা যাচ্ছে অাজকের দিনে অভি কেক কেটে কাকে যেনে স্বরন করে। বরাবরের মতো অাজো সুন্দর করে সবকিছু সাজিয়ে গুছিয়ে জন্মদিনের কেক কাটার জন্য অপেক্ষা করছে। অভির বন্ধুরা জানে না অাজ কার জন্মদিন তারা শুধু জানে প্রতিবছর অাজকের এই দিনে অভি কেক কাটে কিন্তু কার জন্মদিন?
.
অভির চোখে পানি! চোখে পানি নিয়েই অভি কেক কাটলো অার মনে মনে কিছু একটা বলছিল।
অভির চোখে পানি দেখে তাঁর বন্ধুরা জিঙ্গেস করলো।
>= অাজ কার জন্মদিন?
>= অামার
>= মিথ্যে বলছোত!
>= তাহলে অার জানতে চাইবি না।
>= অবশ্যই জানতে চাইবো! অাজ তোকে বলতেই হবে এই কেক কাটার পিছনে কোন মানুষটি লুকিয়ে অাছে? অভি বলতে চাচ্ছে না কিন্তু বন্ধুদের অতি রিকুয়েস্টে বলতে বাধ্য হলো।
.
জানালার পাশে দাড়িয়ে অভি বলছে!
অাজ থেকে পাঁচ বছর অাগে সুকন্যা নামের একটা মেয়ের সাথে অামার পরিচয় হয়। সদ্য পড়ালেখা শেষ করে সুকন্যা তখন ভার্সিটি ইংলিশ ডিপার্টমেন্টের ম্যাম হিসেবে জব শুরু করে। মিষ্টি ভাষি সুকন্যা কে অামি প্রথম দেখেছিলাম রাস্তার পাশে দাড়িয়ে সে তখন একটা অন্ধ লোক কে রাস্তা পার করে দিচ্ছে! ওর এমন মানবিক কাজ দেখে অামি সেদিন মুগ্ধ হয়েছিলাম।
সুকন্যা ও অামার বাসা ছিল পাশাপাশি নতুন বাসা নিয়েছি সেই হিসেবে প্রতিদিনই মেয়েটা কে দেখতাম অার মুগ্ধ হতাম একটা মেয়ে কতোটা সুন্দর হতে পারে তা সুকন্যা কে দেখে বুঝেছিলাম।
এর কয়েকদিন পর অফিস সেরে বাসায় ফিরছি অার তখন সুকন্যা কে দেখলাম এক গাধা ছোট ছোট পথ শিশু নিয়ে বাসার ভিতর ঢুকছে অামি তখন খানিকটা অবাক হলাম।
অাশ্চর্য হলাম সে পথ শিশুদের নিয়ে কি করবে জানার খুব কৌতূহল হলো। নিজের জানার কৌতূহল মিটাতেই দেখতে পেলাম সুকন্যা তখন ছোট ছোট পথ শিশুদের নিজ হাতে খাইয়ে দিচ্ছে। সেদিন ওর প্রতি শ্রব্ধা ও ভালোবাসা অনেকটা বেড়ে গেল।
.
সেদিন থেকেই চেষ্টা করতাম মেয়েটার সাথে বন্ধুত্ব করতে তারই জের ধরে মাঝে মাঝে তাঁর সাথে কথা বলতাম।
অাস্তে অাস্তে সুকন্যার সাথে একটু ঘনিষ্ঠ হতে লাগলাম! সুকন্যা ছিল একা পরিবারের কেউ নেই এতিম খানায় বড় হয়েছে।
.
দিন যত যেতে লাগলো সুকন্যার প্রতি অামার ভালবাসা তথ বাড়তে লাগলো।
সুকন্যা কে বলেছিলাম তোমার কেমন ছেলে পছন্দ? অামার প্রশ্নের জবাবে সুকন্যার উত্তর ছিল অামাকে খুব ভালবাসবে যে ভালবাসায় থাকবে না কোন স্বার্থ একদম নিখুত হতে হবে সেই সাথে গরিব অসহায় পথ শিশুদের ভালোবাবে তাদের বিপদে পাশে দাড়াবে।
.
সুকন্যা কে তো অামি নিঃস্বার্থ ভালোবাসতাম যে ভালোবাসায় কোন খাদ ছিল না ছিল একদম নিখুত। সুকন্যার পছন্দ মতো অামিও গরিব পথ শিশুদের সাহায্য করতাম। সময় পেলেই তাদের সাথে সময় কাটাতাম। মাঝে মাঝে সুকন্যা কে নিয়ে অামার বাসায় পথ শিশুদের এক বেলা খাবার খাওয়াতাম।
.
স্বপ্ন দেখেছিলাম একটা সুন্দর সংসার সাজাবো যেখানে অামাদের কোলে একটা ফুটফুটে বাচ্চা হবে কিন্তু সব স্বপ্ন কি অার স্বার্থক হয়?
এভাবে কেটে গেল কয়েক মাস।
.
একদিন রাত্রে ছাদে বসে সুকন্যা ও অামি অাড্ডা দিচ্ছি কথার ফাকে সুকন্যা বললো তুমি তো গিটার বাজাতে পারো?
চলো অামরা গান গাই! তুমি গিটার বাজাবে অার অামি গান গাইবো।
জোৎস্না রাত চাঁদের অালোতে ছাদে বসে সেদিন সুকন্যা গান গাইছিল অার অামি গিটার বাচ্ছাছিলাম। সুকন্যার কন্ঠে তখন ভেসে উঠলো ও অামার বন্ধু গো চির সাথী পথচলা! তোমাকে নিয়ে ঘড়েছি অামি মঞ্জিল ভালবাসা।
.
সেদিন সুকন্যার গানের অর্থ অামি খোজতে লাগলাম কিন্তু পেলাম না।
ভাবতে লাগলাম সুকন্যা কি অামায় ভালবাসে নাকি শুধু বন্ধু ভাবে?
সেদিন রাত্রে অনেক ভেবে ডিসিশন নিলাম অাগামিকাল সুকন্যা কে বলে দিব অামার ভালবাসার কথা।
.
অফিসের কাজ সেরে ভাবছি সুকন্যা কে ফোন করে কোথাও অাসতে বলবো অাজকে অামার ভালবাসার কথা বলবোই। সুকন্যা কে ফোন করলাম কিন্তু সে রিসিভ করছে না একনাগাড়ে কয়েকটা কল করলাম কিন্তু রিসিভ করলো না ভাবছি হয়তো ব্যাসি অাছে।
.
দুপুরের লান্ঝ শেষে কাজে মনোযোগী হলাম তখনি সুকন্যার নাম্বার থেকে ফোন অাসলো কিন্তু অামি বস এর সামনে থাকায় রিসিভ করতে পারেনি অাবারো কল অাসলো রিসিভ করতে পারেনি। তৃতীয় বার যখন ফোনের রিংটোন বেজে উঠলো মনের ভিতর কেমন জানি একটা ধাক্কা খেলাম। সুকন্যার কোন বিপদ হয়নি তো ফোন টা রিসিভ করতেই অপার থেকে সুকন্যার কান্না কন্ঠে ভেসে অাসলো।
তোমাকে অার হয়তো দেখতে পারবো না। একা পৃথিবীতে একা এসেছিলাম একা যেতে হচ্ছে! এই কয়েকমাসে তোমাকে খুব ভালবেসেছি! খুব বলতে ইচ্ছে হচ্ছে তোমাকে ভালবাসি।
অামার অায়ু শেষ। এই বলেই অামি কিছু বলার অাগেই ফোনটা কেটে গেল। সুকন্যার কথা গুলো শুনে বুঝতে পারলাম ওর বিপদ হয়েছে?
কিন্তু সে কোথায় অাছে কোথায় খোজবো কিছুই তো জানি না। সাথে সাথে গাড়ি নিয়ে বেড়িয়ে পড়লাম সুকন্যা কে খোজতে! যদিও সুকন্যা কে খুজে পেয়েছিলাম কিন্তু জীবিত না।
.
ভার্সিটি শেষ করে সুকন্যা সেদিন বাসায় ফিরছিল অার তখনি দেখতে পেলো একটি বাসায় অগ্নি কান্ড ঘটেছে যেখানে একটি ছোট শিশু রুমের ভিতর অাটকে অাছে।
সুকন্যা তখন ভাবেনি নিজের কথা ভাবলো না তার ভালোবাসার কথা। ছোট শিশুটার জীবন বাঁচাতেই মানবতার কাজে ঝাপিয়ে পড়েছিল সুকন্যা। শিশুটার জীবন বাঁচাতে পারলেও নিজের জীবন বাঁচাতে পারলো না।
.
সেদিন চিৎকার করে কেঁদেছিলাম অার বলেছিলাম অামায় ছেড়ে তুমি কেনো চলে গেলে?
একবারো অামার কথা ভাবলে না।
অামার এই কথাগুলো হয়তো সুকন্যার কাছে পৌছায়নি কিন্তু প্রতিবছর তাঁর জন্মদিন অামাকে তাঁর কথা স্বরন করিয়ে দেয়। সুকন্যা নিজের ভালবাসা নিজের জীবন বির্সজন দিয়ে প্রমান করলো মানুষ মানুষের জন্য।
.
জানালার পাশে দাড়িয়ে গল্পটা বলতে বলতে অভি কেঁদে উঠলো। এই কান্না গর্বের! সুকন্যা কে নিয়ে অভি গর্বিত। এমন একটা মানুষ কে ভালবেসেছিল যে বিশ্বাস করতো মানুষ মানুষের জন্য।
.
অভির কাছ থেকে না জানা গল্পটা শুনে তাঁর বন্ধুদের চোখেও পানি চলে অাসলো। চোখের কোনায় জল নিয়েই অভি তখন বেরিয়ে পড়লো পথ শিশুদের এক বেলা খাবার খাওয়াতে। এভাবেই সুকন্যা বেঁচে থাকুক অভির মাঝে।
.
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now