বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গভীর রাত। ঘুম নেই যাঈদ -এর চোখে। থোকা থোকা অন্ধকার গলে গেছে অনেক আগেই। সব স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে। এই তো হাত বাড়ালেই তার ছ’মাসের নববধূ-পল্লবী। কেমন সহজ সারল্যে ঘুমোচ্ছে! হাত বাড়ালেই ছুঁয়ে দেয়া যাবে, কিন্তু কী আশ্চর্য! সেইটিই এতদিনে হয়ে উঠলো না। আর মাত্র ক’টা ঘন্টা। এরপর হয়তো আর কোনোদিনই ছুঁয়ে দেয়া যাবে না। ভাবতেই মনটা কেমন করে উঠে। পত্ পত্ করে উড়তে থাকে পুরোনো স্মৃতির পাতা...কী দোষ ছিল যাঈদ –এর? পল্লবীর সাথে বিয়েতে হ্যাঁ বলে দিয়েছে...এই তো? আসলে বয়সটা পাতালে চলে যাচ্ছিল। সবার উতকন্ঠা সীমা পরিসীমা ছাড়িয়ে বিরাট একটা চাপ হয়ে তার মাথায় চেপে বসেছিলো। তাই ছোট মামা যখন ছাই দিয়ে পিছল মাগুর মাছ ধরার মত তাকে কর্ণার করে ফেললো, তখন আপত্তি করার মত কিছু অবশিষ্ট ছিল না। চিঁ চিঁ স্বরে একটা ক্ষীণ আপত্তি যে করে নি তা নয়। তার মত আধা-বাউন্ডুলে কি আর যেচে যেচে খাঁচায় পুরতে চায়? কিন্তু মামা এক হুংকার দিয়ে সব উড়িয়ে দিলেন। শুধু অশেষ কৃপা করে একখানা ফটোগ্রাফ ফেলে চলে গেলেন। আর বর্তে দেয়ার ভঙ্গীতে বললেন, ‘ মেয়ে তোর অচেনা নয়, গাঁড়ল! ফটো দেখলেই চিনতে পারবি আর ভালো না লাগার কোন কারণ দেখছি না।’ কথাটা অসত্য নয়। সে একখানা ছবি বটে! পুরো ফ্রেম জুড়ে শ্যামাঙ্গী এক অনন্য লাবণ্যময়ী তরুণী! মেয়েটিকে সে ভালো করেই চেনে। স্বীকার করতে দ্বিধা নেই...
হি হ্যাড আ ক্রাশ অন হার । কিন্তু বলা হয়ে উঠেনি। সেও বেশ ক’বছর আগের কথা! অনেক বদলে গেছে, কিন্তু পল্লবীর চোখ দু’টো ঠিক আগের মতই তাকে জব্দ করে ফেললো। একে না বলে কোন পাগলে? অতএব, চিরকুমার সভা থেকে বিচ্যুত হতে হলো।
এরা পারেও বাবা! যার বিয়ে তার খোঁজ নাই, পাড়া-পড়শীর ঘুম নাই! কীভাবে কীভাবে যেন অতি সংক্ষিপ্ত সময়ে সবকিছু আয়োজন করে ফেললো। যাঈদ -এর তো আবার মতি-গতির ঠিক নাই। হুট করে হাওয়া হয়ে গেলে কেলেংকারি হয়ে যাবে...এই ভয়ে সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই সবাই তার বারোটা বাজিয়ে দিলে। ধাতস্থ হওয়ার আগেই ঐ বহুল আলোচিত ঘরে যাঈদ নিজেকে আবিষ্কার করলো। হাঁটু কাঁপছে। সে কাঁপুক, কিন্তু পল্লবী কোথায়? ফুলের স্তূপে তো দেখা যাচ্ছে না। গেলো কোথায় মেয়েটা? চোখ ঘুরিয়েই দেখলো সোফায় বসে আছে। হৈচৈ চেঁচামেচিতে ভালো করে দেখাই হয় নি। এত স্নিগ্ধ সুন্দর! বুকের কোথাও যেন অনাস্বাদিত কিন্তু মধুর একটা ভাংচুর হয়ে গেলো। এরই জন্য কি তবে এতদিনের অপেক্ষা ছিলো? কেমন মন্ত্রমুগ্ধের মত এগিয়ে গেলো।
-ও কী! ওভাবে এগিয়ে আসছেন কেন, যাঈদ ভাই?
মাঝপথেই আটকে গেলো যাঈদ। বলে কী মেয়েটা?
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now