বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

দহন [কষ্ট নামের বাঁগিচা]

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X রাত বেশ হয়ে গিয়েছে। আজ বেচাকেনা তেমন হয়নি তাই মনটা খুব বেশি ভালো না মুনিমের। মফস্বল শহরে ছোট্ট একটা ফার্মেসী। দিনের বেলাতেই সামান্য যা বেচাকেনা হয়। রাত হলে আর কাস্টমারের টিকিটাও দেখা যায়না। দোকানের শাটার নামাতে যাবে এসময়ে একটা কিশোর বয়সী ছেলে হন্তদন্ত হয়ে এল হাতে একটা প্রেসক্রিপশন নিয়ে। প্রেসক্রিপশনটা হাতে নিয়ে দেখল মুনিম একটা বিদেশী দামী মেডিসিন। এসব মেডিসিন সাধারণত এসব জায়গায় কেউ রাখেনা, কিন্তু কী মনে করে সে এক প্যকেট রেখেছিল কিন্তু পরে আর বিক্রী করতে পারেনি। এখনো তার দোকানের ফ্রিজে রয়ে গেছে। সম্ভবত কিছুদিন আগেই মেয়াদ শেষ হয়েছে। ফ্রিজেই তো রাখা আছে আর মাত্র সপ্তাহখানেকে কি আর এমন হবে এই ভেবে কিছুটা দ্বিধা স্বত্তেও মুনিম বললো তার কাছে আছে মেডিসিনটা। তারপর শাটার আবার খুলে ফ্রিজ থেকে মেডিসিনটা বের করে দিল। ছেলেটা তাড়াহুড়ায় তেমন কিছু খেয়াল করেনি। মেডিসিন নিয়েই ফেরার পথ ধরেছে। মনের ভেতর একটু দ্বিধাদ্বন্দ থাকলেও যন্ত্রের মত টাকাটা ক্যাশবাক্সে রাখল মুনিম। তারপর দোকান বন্ধ করে বাড়ির পথ ধরলো। বাড়ি ফিরে গোসল করে খাবার নিয়ে বসল কিন্তু সারাদিন সেরকম কিছু না খাওয়ার পরে তার গলা দিয়ে ভাত নামল না। তারপর ঘুমুতে গিয়ে আরেক সমস্যা কোনভাবেই ঘুম আসে না। কী জানি একটা খচখচ করছে মনের ভেতর। কোনভাবেই শান্তি পাচ্ছে না সে। সারারাত পায়চারী করে কাটাল মুনিম। ভোররাতের দিকে একটু চোখ বুজে এসেছিল কিন্তু তখনই একটা দুঃস্বপ্ন দেখে ঘুমটা ভেঙ্গে গেল। স্বপ্নে দেখল সে একটা লোকের গলা টিপে মারছে। ঘামতে ঘামতে বিছানার পাশে টেবিলে রাখা বোতল থেকে কয়েক ঢোক পানি খেল মুনিম। কাল রাত থেকেই তার এমনটা হচ্ছে। কোন কাজ করেই সে শান্তি পাচ্ছে না। সবকিছুতেই একটা চাপা অশান্তি। সজ্ঞানে জীবনে কখনো কারো ক্ষতি করেনি সে, তাহলে আজ এমন একটা দুঃস্বপ্ন কেন দেখল সে এই চিন্তা তাকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে। এসব সাত-পাঁচ ভাবতে ভাবতেই সকাল হয়ে গেল। কোনরকমে নাকে মুখে কিছু খাবার গুজে দোকানের দিকে রওয়ানা হলো সে। সবে দোকান খুলে বসেছে মুনিম। এমন সময় একটা মাঝবয়েসী লোক এসে একটা মেডিসিন চাইলো। মুনিম উঠে মেডিসিনটা দেওয়ার পর লোকটা বেশ খুটিয়ে খুটিয়ে এক্সপায়ার ডেট দেখলো। আবার জিজ্ঞেস করলো এক্সপায়ার ডেট ঠিক আছে তো? - হ্যা ঠিক থাকবে না মানে। আমি এক্সপায়ার্ড ওষুধ বেচিনা। বলেই থমকে উঠলো মুনিম। এটা সে কী করেছে। কাল রাতেই তো সে একটা এক্সপায়ার্ড মেডিসিন বিক্রি করেছে! নিজের বিচারবুদ্ধি ক্ষণিকের জন্য লোপ পেয়েছিল আর সে একটা জঘন্য কাজ করে ফেলেছে। কাল রাত থেকেই এতটা অশান্তিতে আছে কেন তার মন এবার সে বুঝতে পারল। চোখ ফেটে কান্না বেরোতে চাইলো মুনিমের। অনেক কস্টে কাস্টোমারের কাছ থেকে টাকাটা নিয়ে চেয়ারে বসলো সে। পুরো ব্যাপারটা বোঝার পর থেকেই নিজেকে সামলে রাখতে অনেক কস্ট হচ্ছে মুনিমের। ভাবছে ছেলেটা কি পরে মেডিসিনের এক্সপায়ার ডেট চেক করেছিল। না চেক করে থাকলে রোগীর কী অবস্থা এখন। ইশ ছেলেটাকে একবার যদি পেত তাহলে সব কিছু জানার পর হয়ত তার মনের কস্টটা একটু কমত। কিন্তু যদি কোন দূর্ঘটনা ঘটে যায়। তাহলে? কীভাবে সে প্রায়শ্চিত্ত করবে? কীভাবে সে সারাজীবন এই কস্ট, এই অশান্তিটা মনের ভেতর বয়ে নিয়ে বেড়াবে? এতটা শক্তিতো তার নেই। মনে প্রাণে সে লোকটার সুস্থতা কামনা করতে থাকলো আল্লাহর কাছে। মনে মনে তওবা করলো আর দোকান থেকে খুজে পেতে সমস্ত এক্সপায়ার্ড মেডিসিন বের করে ফেলে দিলো। দুদিন পর। আজকেও সারাদিনে তেমন বেচাকেনা হয়নি মুনিমের। রাত অনেক হয়ে গেছে, কিন্তু দোকান বন্ধ করার কোন তাড়া নেই মুনিমের। যদি সেই ছেলেটা আরেকবার আসে! সারাদিনে তেমন কিছুই খায়নি সে, কিন্তু খিদেও তেমন নেই। আর দুদিন ধরে তো দুঃস্বপ্নের জন্য সে ঘুমাতেই পারছে না। সেদিনের পর থেকে অশান্তির আগুনে পুড়ে মরছে সে। বিবেকের দহন তাকে এক মূহুর্তের জন্য শান্তি দেয়নি। হয়তো সে বিবেকের দহনে আরো খাটি মানূষ হয়েছে, কিন্তু মনের শান্তিটা সে হারিয়েছে চিরদিনের মত। এখন সারাদিন সে মনে মনে শুধু সেই ছেলেটার রোগীর সুস্থতা কামনা করে আর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে একফোটা শান্তির জন্য নীরবে কাঁদে। আপাতদৃষ্টিতে ছোট কিংবা নির্দোষ মনে হওয়া কোন ভূলও যে মানুষের জীবন আর মনের শান্তি নস্ট করে দিতে পারে এটা সে হাড়ে হাড়ে বুঝেছে। কিন্তু দুঃখের ব্যাপার এ থেকে মুক্তির উপায় যে তার জানা নেই।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৫ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now