বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
অনেক অনেক দিন আগে চাঁদের পাহাড়ের ওপারে দুধ সাগর পেরিয়ে সবুজে ঘেরা একটি রাজ্য ছিল।নাম ছিল তার আকাশ পুরী।
আকাশ পুরীর রাজা ছিলেন চন্দ্রকেতু।তিনি ছিলেন মস্তবীর।আর রানী শশীকলা ছিলেন যেমনি রূপবতী,তেমনি গুণবতী।
আর তাঁদের একমাত্র সন্তান ছিল রাজকুমার বৈজয়ন্ত।পিতা ও মাতার সর্বগুণের অধিকারী ছিল সে।কিন্তু তার কোনো সহোদর বা সহোদরা না থাকায় সে ছিল সঙ্গীহীন,একাকী।মন থাকত বড় উদাসীন।
রাজকুমারকে নিয়ে তাই চিন্তায় ব্যাকুল রানী মা শশীকলা।রাজার কানেও তিনি খবর তুললেন।রাজাও ব্যস্ত হয়ে উঠল।
মন্ত্রী পারিষদের সাথে গম্ভীর আলোচনার পর ঠিক হল, বৈজয়ন্তকে শিকারে পাঠানো হোক।তবে রাজকুমারের মন ভালো হতে পারে।
রাজকুমার ও পিতার আদেশ মেনে ঘোড়ার পিঠে চেপে তীর ধনুক নিয়ে চলল শিকারে।সঙ্গে গেল একহাজারী সামন্তরা।
তিন দিনে কয়েকটি হরিণ বধ করে রাজকুমারের আর শিকারে মন রইল না।তবু পিতার আদেশ পঞ্চম দিবসের পূর্বে ঘরে ফেরা নিষেধ।
তাই চতুর্থ দিনেও রাজকুমার চলল শিকারের খোঁজে।
তীর ধনুক বাগিয়ে একটি হরিণকে লক্ষ্য করল।তীর ছুটল সবেগে।কিন্তু এ কি!!ভয়ঙ্কর তীক্ষ্ম আর্তনাদ। এতো হরিণের নয়। রাজকুমার ছুটে গেল।
হরিণ পালিয়ে গেছে।তার স্থানে মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে প্রাণ ভিক্ষা করছে একটি গৃধ্র।
রাজকুমার বৈজয়ন্তের হৃদয় বড়ই কোমল।আর শত্রুও প্রাণ ভিক্ষা করলে তাকে রক্ষা করাই বীরের কর্তব্য।তাই গৃধ্রটিকে তাঁর তাঁবুতে নিয়ে যাওয়ার হুকুম দিল।আর বৈদ্যকে খবর দেওয়া হল।
বৈদ্য এসে সাময়িক ঔষধ ও কবিরাজী লেপ প্রয়োগ করলেও রাজ কুমারকে জানিয়ে দিলেন ক্ষত বড় গভীর।প্রাণের আশা ক্ষীণ।শেষ আশা রাজবৈদ্য।
রাজকুমারের জেদ চেপে গেল।যে ভাবেই হোক এই গৃধ্রের প্রাণ রক্ষা করতে হবে।গৃধ্রটি নারী।বিনা অপরাধে নারী হত্যার দায় সে কখনো নেবে না।এ যে বীরের কলঙ্ক।
সে অসুস্হ গৃধ্র সহ রাজপ্রাসাদে ফিরে এল।রাজবৈদ্যকে সংবাদ দেওয়া হল।
রাজপুত্রকে এত ব্যাকুল কখনো কেউ দেখেনি।পুত্রের ব্যাকুলতা দেখে রাজা রানী ও চিন্তিত হয়ে উঠল।
এদিকে রাজবৈদ্য পক্ষীর চিকিৎসা জানেন না।ওনার জ্ঞান অনুসারে মানুষের চিকিৎসাই শুরু করলেন।
এবং পর্যবেক্ষণ করে জানালেন মাসাধিক কাল সময় প্রয়োজন সুস্থ হতে।
রাজকুমার নিজ কক্ষেই তার থাকার ব্যবস্থা করলেন।নিজে হাতে সর্বক্ষণ সেবা করতে লাগলেন।
ধীরে ধীরে গৃধ্র সুস্থ হতে শুরু করল।রাজপুত্রের কাঁধে চেপেই সে সারাক্ষণ ঘুরে বেড়াত।রাজকুমার ও এক সঙ্গী পেয়ে সারাক্ষণ হাসিখুসি থাকত।রাজা রানীর চিন্তা ও দূর হল।
এভাবে প্রায় তিন মাসাধিক কাল অতিবাহিত হল।গৃধ্র তখন সম্পূর্ণ সুস্থ।সে উড়তে পারে নিজের ডানায় ভর করে।এবার সে রাজকুমারের কাছে নিজ গৃহে ফেরবার অনুমতি চাইল।
রাজকুমারের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল।গৃধ্রকে ছেড়ে সে কি করে থাকবে!!!সেই একাকী জীবনের ভয়ে সে ভীত হয়ে পড়ল।
বহুবার গৃধ্রকে সকলে অনুরোধ করল ,কিন্তু গৃধ্র রাজী হল না।
অবশেষে বিদায় লগ্ন এসে গেল।
পরদিন ভোরে গৃধ্রের বিদায় দিন।রাজপুত্র শোকাচ্ছন্ন।
গভীর রাতে গৃধ্রের পালঙ্কে গিয়ে রাজপুত্র বসল।তখন গৃধ্র গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।রাজপুত্রের দুচোখ বেয়ে জল গড়িয়ে গৃধ্রের পালক গেল ভিজে।গৃধ্র যাতে টের না পায় রাজকুমার তাড়াতাড়ি ফিরে এল নিজের পালঙ্কে।
পরদিন ভোরে রাজপুত্র চোখ মেলল ভারাক্রান্ত মন নিয়ে, কিন্তু একি!!!!!
গৃধ্রের পালঙ্কে এ কে??? অপূর্ব এক কন্যে,রূপ লাবণ্যে,পোশাকে গহনায় এ তো কোন রাজকুমারী!!
রাজা চন্দ্রকেতু ও রানী শশীকলা ছুটে এলেন এ সংবাদে।রাজকুমারীর ঘুম ভাঙানো হল।
রাজকুমারী ঘুম ভেঙে এত অপরিচিত মানুষ দেখে ভয়ে কাঁদতে আরম্ভ করল।রানী মা মাতৃস্নেহে তাকে ভরসা দিল ও পূর্বের সকল ঘটনা বর্ণনা করল।
রাজকুমারী শান্ত হল।সে নিজের পরিচয় দিল সুন্দরপুরীর রাজকন্যা সে।নাম শকুন্তলা।তাঁর পিতা রাজা দীপ্তকেশর একজন মন্ত্রীর কু পরামর্শে বিশ্রী দেখতে পাখির সুন্দরপুরী তে স্হান নেই বলে রাজ্যের সব গৃধ্রদের হত্যা করতে থাকেন।কারো বারণই তখন তিনি শোনেন না।তাতে ক্রুদ্ধ হয়ে গৃধ্ররাজ শকুম্ভলেয় অভিশাপ দেন-
“আজ থেকে তোমার কন্যা গৃধ্রতে পরিণত হবে।”
তাঁরই অভিশাপে শকুন্তলা গৃধ্রে পরিণত হয়।রাজা দীপ্তকেশর তখন নিজ কন্যাকে হত্যার ভয়ে গৃধ্র হত্যা স্থগিত করলেন।
কিন্তু ততদিনে সুন্দরপুরীর অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে।গৃধ্রের অভাবে চারদিকে জমে উঠেছে পচা গলা আবর্জনা।শুরু হল মহামারী।মারা গেলেন রানী মা।তাঁর পিতাও অসুস্থ হয়ে পড়লেন।গৃধ্ররাজের কাছে নিজের ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা চাইলেন তিনি।
গৃধ্ররাজ তখন বললেন,
“যদি কোনোদিন তোমার কন্যা গৃধ্রকে ভালোবেসে চোখের জল ফেলে আর তাতে তার পালক ভেজে,তবেই রাজকন্যা তার আসল রূপ ফিরে পাবে।”
রাজা দীপ্তকেশর এর পরই মারা যায়।তারপর থেকে সে একাকীই ঘুরে বেড়ায়।
রাজপুত্র সব শোনার পর খুশীই হল।এবং সকলের অনুমতি নিয়ে রাজকন্যাকে বিবাহের প্রস্তাব দিল।
রাজকন্যা শকুন্তলা ও রাজী হয়ে গেল।মহা ধুমধাম করে রাজকুমার বৈজয়ন্ত আর শকুন্তলার বিবাহ সম্পন্ন হল।এরপর থেকে তারা সুখে শান্তিতে বাস করতে লাগল।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now