বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আবারো

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ ছহিনুর রহমান বিন মনির (০ পয়েন্ট)

X ..... এক, . ""অর্থির দিকে বারবার চোখ যাচ্ছে। নিজেকে সামলাতে অনেক চেষ্টা করছি আমি, কিন্তু বারবার ব্যর্থ হচ্ছি। অদ্ভুত কোনো এক টানে অর্থিকে বারবার দেখছি। কিন্তু তাকে যে দেখার অধিকার আমার নেই। আমি যে সেই অধিকার হারিয়ে ফেলেছি""। - কি মি. আবির সাহেব..আপনাকে এমর হুট করেই খুব আপসেট মনে হচ্ছে? ব্যাপারটা কি?(শফিক স্যার) কথাটি শুনে শফিক স্যারের দিকে তাকালাম। বলতে গেলাম, স্যার আমাকে এখানে আর এক মূহুর্ত ভালো লাগছে না, আমি চলে যাবো। কিন্তু কি কারনে গলায় এসে কথাটি আটকে গেলো। কথাটি বলেও বলতে পারলাম না। - কী হল আবির সাহেব..কী হয়েছে আপনার? (শফিক) - নাহ স্যার কিছু না (আমি) কথাটি শেষ করেই চলে আসলাম সেখান থেকে অন্য সাইডে। তা না হলে আমি নিজেকে সামলাতে পারতাম না। অর্থিকে অবলীলায় চোখের সামনে দেখে যে বুকের হৃদস্পন্দন বারবার কেঁপে উঠছে সেটা সামলাতে আমার অসম্ভব মনে হচ্ছে। এখন মনে হচ্ছে কেনো যে আসতে গেলাম আমি এখানে? আজ যদি না আসতাম তাহলে পূরোনো স্মৃতিগুলো এভাবে মনের দরজাতে একেরপর এক কড়া নাড়তো না। আমার স্মৃতির পাতা হাতড়ে অর্থির স্মৃতিগুলো বেমানান হিসেবেই পেলাম। হাতে ড্রিংকস এর গ্লাস নিয়ে চলে গেলাম পূরোনো কিছু স্মৃতির সাগরে।.. দুই, - আবির তোমার সাথে আমার কিছু কথা বলার ছিলো। (অর্থি) - হুমম বলো.. আজ যখন বাড়িতে ছিলাম তখনি অর্থি ফোন দিয়ে বলে কথাটি। এবং দেখা করতে বলে জেস গার্ডেন পার্কে। বিকেলের দিকে চলে আসলাম পার্কে। আমার আগেই অর্থি সেখানে বসে আছে। - কি ব্যাপার আজ তুমি আগে আসলে যে? (আমি) চুপচাপ অর্থি সামনের দিকে তাকিয়ে আছে। এরপর বললো.. - আসলে আবির আমার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। কথাটি শুনে আমার মুখটা কেমন শুকনো শুকনো মনে হল। - মানে? (আমি) - তুমি কিছু একটা করো আবির। - কি হয়েছে বলবা তো? - বাড়ি থেকে বিয়ের চাপ দিচ্ছে। - আরে কিছুই হবে না, আমি আছি তো। আর আমার সাথেই তোমার বিয়ে হবে দেখে নিও। - তোমার চাকরির ব্যাবস্থা কবে হবে?? - চেষ্টা তো করেই চলেছি নাকি? - তোমার চাকরি না হওয়া অবদি বাড়িতে তো তোমার ব্যাপারে কিছুও বলতে পারবো না। - টেনশন করো না, চাকরি হয়ে যাবে ইনশাল্লাহ। - তাড়াতাড়ি আবির প্লীজ। - হুমম চলো তোমাকে বাসার কাছে নামিয়ে দিয়ে আসি। ।। দুইজন একই ক্লাসে পড়তাম আমরা। প্রথমে বন্ধুত্ব এরপর একে অপরকে ভালোবাসা। পড়াশোনা শেষ করেছি আজ দুই বছর হল। কিন্তু চাকরির কোনো দেখাই মিলাতে পারলাম না। আসলে এখন টাকার কাছেই সব কিছু। আমাতের মত ভালো ছাত্রদের খালি সার্টিফিকেট এ কাজ হয় না। সাথে টাকা আর মামা খালুদের জোর ও থাকা লাগে। তাই আমি এখনো বেকার। . - আবির? (অর্থি) - হুমম (পরেরদিন আবারো দেখা করি) - আজ সন্ধ্যায় আমাকে দেখতে আসবে। - ওহ.. - মানে? তোমার কিছু বলার নাই? -....... - চলো আমরা বিয়ে করে ফেলি। (অর্থি) - পাগল হয়েছো? খুব সহজ করেই তো বলে দিলা চলো বিয়ে করে ফেলি। একবারো ভেবেছো বিয়ের পর তোমাকে কি খাওয়াবো? বাতাস খাওয়াবো তোমাকে শুধু?? - আমি তোমাকে ছাড়া বিয়ে অন্য কাউকেই করতে পারবো না আবির। - বাসায় যাও..আর দেখতে আসছে বিয়ে তো আর করতে আসছে না? - তুমি কিছু একটা করো আবির। কিছু না বলেই অর্থিকে বাসায় রেখে আসলাম। আর এটাই যে ওর সাথে আমার শেষ দেখা হবে ভাবতেই পারিনি। পরেরদিন ওর বান্ধবির কাছ থেকে জানতে পারি অর্থির ঐ রাতেই বিয়ে হয়ে যায়। কথাটি খালি নির্বাক হয়েই শুনেছিলাম আমি। এভাবে নিজের কাছের মানুষটাকে হারাবো ভাবতেই পারিনি। চোখ থেকে সে সময় অবিরত না হারিয়ে যাওয়ার অশ্রু পড়ছিলো। .. তিন, . - আবির...? কারো ডাকে বাস্তবে ফিরলাম। পিছনে তাকিয়ে অর্থিকে দেখবো সেটা আশা করিনি। অর্থি চলে যাওয়ার চার মাস পরেই খুব কষ্টে শফিক স্যারের দৌলতে চাকরিটা পেয়েছি। আর অর্থি যে শফিক স্যারের স্ত্রী তা আমি জানতাম না। - কী ভাবছো? (অর্থি) - আপনি এখানে? মানে আমার কাছে?? - কেমন আছো?? আমার কথায় কোনো কান না দিয়ে..প্রশ্ন করলো। একটু চুপ থেকেই বললাম.. - হুমম ভালোই আছি। - আমি কেমন আছি জানতে চাওনা? কিছু না বলেই চুপ করে ওর মুখের দিকে তাকিয়ে রইলাম। তাকিয়ে খুজে পেলাম কিছু অপ্রত্যাশিত ভালোবাসার টান। স্পষ্ট বুঝতে পারছি সেই টানের গুরুত্ব। কিন্তু সেই টানে যে আমাকে আর যাওয়া যাবে না। অর্থি এখন অন্য কারো স্ত্রী। - আসলে আমি এখানে ইচ্ছে করে আসতে চাইনি। আর আপনি যে শফিক স্যারের স্ত্রী আমি সেটা জানতাম না। যদি জানতাম তাহলে আসতাম না এখানে। আর আপনি চলে যান না হলে লোকজন খারাপ ভাববে। (আমি) - আমি এতকিছু জানতে চেয়েছি তোমার কাছে? (অর্থি) এবারো চুপ করে মাথাটা কিন্চিৎ নিচু করে দাঁড়িয়ে রইলাম। - আবির আমাকে এখনো ভালোবাসো তাই না?? কথাটি শোনা মাত্রই সেখান থেকে সোজা বের হয়ে আসলাম। হয়ত ও চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে ছিলো। কিন্তু আমি পিছন ফিরে আর তাকায়নি। তবে আর একটু সময় সেখানে থাকলে চোখ দিয়ে পানি পড়তো। আর তখনি মুখ দিয়ে সত্য কথাটি বের হয়ে যেত। যেটা আমি আর চাই না বলতে অর্থিকে যে এখনো ভালোবাসি তোমায়। কি দরকার আর এসবের? মনে হতে লাগলো কেনো যে শফিক স্যারের বিবাহ পার্টিতে আজ আসতে গেলাম? প্যান্টের দুই পকেটে হাত গুজে ল্যামপোষ্টের রাস্তায় হেঁটে চলেছি। চিৎকার দিয়ে বলতে ইচ্ছে করছে আজ.. ""টাকার কাছেই সব। এই সমাজের মানুষ টাকা ও চাকরি ওয়ালা লোকের মুল্য দেয়। কোনো সার্টিফিকেট এর কাজ চলে না এখানে। মেয়েরা বা মেয়ের বাবারাই টাকাওয়ালা লোক চাই। এখানে ভালোবাসা মুল্যহীন। তবে বাস্তবতা আমাদের এক হতে দিলো না। বাস্তবতার কাছে আমরা সবাই পরাজিত""।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ যদি ছেলে বেলা টা আবারো ফিরে পেতাম!!!
→ ক্রুসেড-০৬: আবারো সংঘাত - আসাদ বিন হাফিস
→ আবারো ফিরে আসা.............!
→ আবারো রূপন্তী
→ আবারো মিষ্টি বউ
→ আবারো সিনিয়র
→ বাঘ তো এইশুনে আবারো দৌড়
→ আবারো অভিমান ৩

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now