বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বন্ধু ছাড়া বিয়ে ইমপসিবল

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ ছহিনুর রহমান বিন মনির (০ পয়েন্ট)

X . আম্মুর পছন্দে বিয়ে করছি,বিয়ের কথা বার্তা যখন চলছিল তখন শুধু এক নজর দেখেছিলাম হবু বউয়ের বাড়িতে লজ্বায় মাথা তুলতে পারি নি তো আম্মু একদিন এসে। আম্মু:কিরে মেয়ে কি পছন্দ হইছে। আমি:আমার ফ্রেন্ডদের পছন্দ হলে আমার পছন্দ। আম্মু:তো যা তোর ফ্রেন্ডদের নিয়ে দেখে আয়। আমি:যাবো কি তাহলে। আম্মু:হ্যাঁ যা না এর কি আছে। আমি শ্রাবণ এমবিএ কমপ্লিট করে একটা ম্যাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানিতে জব করছি,তো বন্ধুদের সবাইকে ফোন করলাম।যথা সময় ওরা চলে আসলো আমার বন্ধুদের চার্টটা বলি বেশি না মাত্র সাত জন শর্ট করে সেভেন স্টার। . হবু বউ বলে লাভ কি যদি ওদের ডিসলাইক হয়।ওহ পাত্রীর নাম ই তো বলা হলো না পাত্রীর নাম জান্নাত শুনছি খুব চালাক চতুর। শ্রাবণ:দোস্ত শোন তোরা মেয়ে কিন্তু হেব্বি চালাক ঠকে আসে যাবে না,আর তোদের পছন্দ ছাড়া বিয়ে ইমপসিবল। দোস্তরা:ধুর বেটা এটা বলতে হয় কলেজ লাইফে কত জনরে ফু মাইরা উড়াইয়া দিলাম। শ্রাবণ:আরে ফু দিতে হবে না শুধু ফ্রন্ট গিয়ারটা ঠিক ঠাক রাখিস। দোস্তরা:হাহা বুঝেছি। তো সবাই গেলাম পাত্রী দেখতে,বসে আছি ড্রয়িং রুমে অনেক আপ্যায়ন করলো করবেই বা না কেনো জামাই হতে যাচ্ছি যে বন্ধুদের মধ্যে শুভ আছে নাম্বার অন টিকটিকি নামে যেমন ধুমধাম কাজে তেমন পারদর্শী। শুভ:কই আমাদের ভাবীকে দেখান। অবশেষে জান্নাত এলো। . বন্ধুরা হা করে তাকিয়ে দেখছে মনে হয় বিয়ে ওরাই করবে আমাদের মধ্যে আনিস,সুমনের মুখ ধরে হা করা চেপে ধরলো। শুভ ফিসফিসিয়ে_ শ্রাবণ:কি বলবি খুলে বল। শুভ:বিয়ে ফাইনাল। শ্রাবণ:কার। শুভ:কার আবার তোর। সেদিনের মতো পাত্রী দেখে বাসায় চলে আসলাম,সবারই নাকি ওকে পছন্দ হইছে। আম্মু:কিরে সবার পছন্দ হইছে। শ্রাবণ:আম্মু কি যে বলো না তোমার পছন্দ কেউ না করতে পারবে। আম্মু:হইছে আর পাম মারতে হবে না। শ্রাবণ:না আম্মু সত্যি। আম্মু:তো বিয়ের তারিখটা তাহলে পাকা করে ফেলি। শ্রাবণ:হুম করে ফেলো। তো অবশেষে বিয়ের ডেটটা ফাইনাল করা হলো,বিয়ের মাত্র দশ দিন বাকি আছে।বিয়ের পাঁচদিন আগে সব বন্ধুদের টাইনা আনলাম সবাই মিলে আমার জন্য শপিং করা আর হবু বউয়ের জন্য সবকিছু কেনা হলো। . বিয়ের দিন টোপর পড়ে বর সেঝে,গাড়ি ফুলে ফুলে সজ্জিত করে বিয়ে করতে গেলাম।বরের গাড়িতে মাত্র আটজন বসা যাবে। আম্মু:তো তোর কয়জন বন্ধুরা অন্য গাড়িতে যাক। শ্রাবণ:আম্মু ইমপসিবল আমার বন্ধুরা ছাড়া আমার গাড়িতে একজন ওহ এ্যালাউ না। কি করা আম্মু জানে আমি এক ঘেয়ামি যা বলি তাই করি।ছোট বোন নিঝুম এসে কান্না শুরু করলো। নিঝুম:ভাইয়া আমি তোর সাথে যাবো তা না হলে বিয়েতেই যাবো না। শ্রাবণ:ওকে চল। আম্মু:গাড়িতে যাওয়া যাবে মাত্র আটজন সেখানে আরেকজন বেশি তো বউ আনবি ক্যামনে। শ্রাবণ:আম্মু বিয়েতে টোটাল বিশটা গাড়ি যাবে প্রয়োজনে তোমার বউ মা আরেক গাড়িতে যাবে বুচ্ছ। আম্মু:এটা কেমন কথা। বিয়ে বাড়িতে গাড়ি যাচ্ছে বিয়ের গেটেই ঠুকতেই গাড়ি থামলো বিয়ের বাড়ির লোকেরা গেটে ঠুকতে দিচ্ছে না টাকা না দেওয়া পর্যন্ত। শুভ:হ্যালো আপু ভাইয়ারা এই যে খামটা রাখেন আশা রাখি সন্তুষ্ট হবেন। হ্যাঁ খামে মাত্র বিশ হাজার টাকা ছিল তাই কথা পেচানোর লোক নেই। . বিয়ের সমস্ত কাজ শেষে এবার কনেকে বিদায়ের পালা এবার হলো মহা মছিবত।আমি তো বন্ধুদের একটাও রে ছাড়বো না ওদিকে ছোট বোনটাও আমাকে ছাড়া আসবে না। শ্রাবণ:তোরা সব গাড়িতে বস। সাথে নিঝুম ওহ বসলো এবার বিয়ের বাড়ির সব লোক অবাগ বরের গাড়িতে বসার সিট মাত্র একটাও নাই। শশুর মশাইয়ের আগমন,শশুররে শশুর বলা কেমন দেখায়_আব্বা। আব্বা:এটা কি শ্রাবণ বরের গাড়িতে বসার সিট একটাও নেই। শ্রাবণ:আমি আমার বন্ধুদের ছাড়া কোথাও যাইনা। আব্বা:তাই বলে বর কনে এক সাথে যাবে না,তুমি যদি ওদের সাথে যাও আমার মেয়ে কার সাথে যাবে। শ্রাবণ:ক্যান আমার আপুদের গাড়িতে যাবে। আব্বা:তোমার ছোট বোন না গেলেই তো পারে,অন্তত চেপে চেপে যাওয়া যেত। শ্রাবণ:আমার পাঁচটা বোনের মধ্যে সবার ছোট আদরের একটাই বোন ওহ আমারে ছাড়া যাবে না। অতঃপর আমার বউ আপুদের সাথে গেলো। . গাড়ি নিয়ে আমার বাড়িতে চলে আসলাম বাড়িতে ঠুকতেই সবাই অবাগ। আম্মু:কিরে সবাই আছিস বউ মা কই। শ্রাবণ:তুমিই তো বললা সিট হবে না তাই আপুদের সাথে আসছে। আম্মু:উফ এটা কেমন বিচার। শ্রাবণ:উচিত বিচার। নিঝুম:সাবাস ভাইয়া একমাত্র তুই ই শ্রেষ্ঠ নন বউ পাগলা। একটু পরেই আপুদের গাড়ি চলে আসলো,নববধূরে বরণ করা হলো শুধু আমি ছাড়া।বাসর ঘর সুসজ্জিত ভাবে সাজানো হয়েছে বাসর ঘড়ে ঠুকতেই ভয় করছে। সাঈদ:কিরে ভার্সিটিতে তো হাজারটা ছেলে মেয়েরে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিছিস আর বাসর ঘরে ঠুকতে ভয় পাচ্ছিস। শ্রাবণ:আরে বেটা বউ আর ভার্সিটি আলাদা। ওদের ধাক্কাধাক্কিতে দরজা ঠেলে ভিতরে দিলো।জান্নাত ভয়ে চিৎকার মেরে উঠলো,গিয়ে মুখ চেপে ধরলাম। জান্নাত:উহ উহ ছাড়ুন,এভাবে কেউ ঠুকে। শ্রাবণ:এমনি আছাড় খাইছি। জান্নাত:আপনার মতো লোকরে বিয়ে করা আমার জীবনে মস্ত ভুল। বাসর ঘরেই রেড লাইট জ্বলে উঠলো। . সরি টরি চেয়ে উহ সব বলতে হয় নাকি,সব মেয়েরাই পটে কেউ শুক্রবারে কেউবা মোঙ্গলবারে। দেখতে দেখতে দেড়টা বছর পার হয়ে গেছে সাত বন্ধু মিলে একটা বিজনেস খুলেছি এর মধ্যে সকাল বেলা অফিসে বসে সাত বন্ধু একটা মিটিং করছিলাম হঠাৎ ছোট বোনের ফোন। নিঝুম:তোর মেয়ে হয়েছে। শ্রাবণ:ঞ্যা আমার কি করে মেয়ে হবে। নিঝুম:উফ তোর না তোর বউয়ের। মিটিং এর মধ্যে চিৎকার মেরে দোস্ত আমার মেয়ে হয়েছে সরি আমার বউয়ের,গাড়ি বের করে মারলাম ভৌ টান সোজা হসপিটাল গিয়ে দেখি আমার ফুটফুটে একটা আম্মু এসেছে। কাছে যেতেই হাত দিতেই একটা আঙ্গুল ধরে ফেললো। জান্নাত:কি তোমার সেভেন স্টাররা কই। বলতে বলতেই সব মিষ্টির গোডাউন নিয়ে হাজির পুরো হসপিটালে মিষ্টির ছড়াছড়ি। শ্রাবণ:আমার একটা মাত্র মেয়ে নাম হবে অথৈই। জান্নাত:কেনো। শ্রাবণ:শ্রাবণের সাথে মিল রেখে অথৈই। জান্নাত:অথৈই আম্মু তুমি বাবার মতো হবে কি। অথৈই হঠাৎ দুই চোখ এক সাথে বন্ধ করে। শ্রাবণ:হেহে দেখছো। সবাই হেসে হেসে বন্ধু ছাড়া বিয়ে ইমপসিবল? ...


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১০ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now