বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

"অন্য ভুবনঃলুসিয়ানার কার্স" পর্ব-৪

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X অজানা পথে যাত্রা ওরা যখন ক্যাসেলে এ ফিরে আসছে,তখন চারদিক অন্ধকার হয়ে গেছে।সামারলান একটা বিশাল কুকুরের রূপ ধরে মেইন গেইট এর প্রহরীর মনোযোগ অন্য দিকে নিয়ে গেলো।এই সুযোগে বাকি ৩ জন ভেতরে ঢুকে যায়।এরপর সে গিরগিটিতে রূপান্তরিত হয়ে ক্যাসল এর দেয়াল বেয়ে ভেতরে চলে গেলো।ভেতরে গিয়েই সোজা দৌড় দিলো লাইব্রেরীতে।সেখ ানে বাকি ৩ জন আগে থেকেই ওর অপেক্ষায় ছিল। -"এখন তোমাদের প্ল্যান কি?কি করতে চাও তোমরা?"এসেই ভূমিকা ছাড়া বলা শুরু করলো সে। -"দেখো,তোমার সাহায্যের জন্যে ধন্যবাদ সামারলান।কিন্তু,সরি।আমাদের আর কোন সাহায্যের প্রয়োজন নেই।অতএব তোমরা যার যার রুম এ ফিরে যাও।সমস্যা আমাদের।আমরা বাকিটা দেখবো।"অ্যারন বলল। -"সমস্যা তোমাদের মানে??দেখো,আমি আর মারজিয়া না থাকলে তোমরা গোটা জীবনেও জানতে না যে কার কাছে যেতে হবে,কি করতে হবে।হিটর্ফের কাছ থেকেও কথা আদায় করতে পারতে না।"সামারলান ওদেরকে মনে করিয়ে দিলো। -"ঠিক তাই।আমি মনে করি,এখন আমাদের এই ব্যাপারটাতে পুরো অধিকার জন্মেছে। সো,তোমরা যেখানে যাবে,আমরাও সেখানে যাবো।" মারজিয়া সাফ সাফ জানিয়ে দিলো।অ্যারন বিরক্তিসুচক শব্দ করলো।ওদেরকে সে তাদের দলে নিতে চাচ্ছে না। -"অ্যারন,আমার মনে হয়,ওরা ঠিকই বলছে।ওরা ছাড়া আমরা এতদূর আসতে পারতাম না।অতএব ওরা থাকছে আমাদের সাথে।"এলিস জানিয়ে দিলো।এরপর ওরা একসাথে রাতের খাবার খাওয়ার জন্যে ডাইনিং হলের দিকে রওয়ানা দিলো। -"আচ্ছা,জানিস,আমি একটা কথা বেশ খানিক্ষন ধরেই ভাবছি।প্রফেসর হিটর্ফ যখন ঘুম ভেঙ্গে দেখবেন যে উনার বাজির সব গ্যাডোলিন ভুয়া তখন উনার মুখের অবস্থা যে কি হবে......"হঠাত করে মনে পড়ায় মারজিয়া বলল। -"আহা বেচারা...গ্যাডোলিনের শোকে হয়তো সারা রাত লক লোমন্ড গিলতে থাকবেন......",এ লিস বলল।এরপর ওরা ৪ জনেই একসাথে অট্টহাসি দিয়ে উঠলো। এভাবেই ২ জনের ছোট্ট দলটি হয়ে গেলো ৪ জনের দল।ওরা ৪ জন মিলে ঠিক করতে লাগলো তাদের করনীয়।ঠিক হল,ওরা আজ রাতেই রওয়ানা হবে।সেই রাতে ওরা কমন রুমের সোফায় বসে বসে অপেক্ষা করছিলো যে সবাই কখন ঘুমুতে যাবে।উত্তেজনায় ওরা বারবার ঘড়ি দেখছিল। সার্কেল প্রাসাদে ওদের লাইফটা খুবই বিরক্তিকর। টার্ম শুরুর হওয়ার আগের ৩ মাস ছাড়া পুরো বছর নিজের আত্মীয়দের সাথে দেখা করার সুযোগ হয় না ওদের।সারাক্ষণ একটা প্রাসাদ এর ভেতর নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে ওদের চলতে হয়।খুব একঘেয়ে ওদের জীবন।তাই সত্যিকারের অ্যাডভেঞ্চারের সুযোগ পেয়ে ওরা সবাই প্রচণ্ড উত্তেজিত। ঘড়ির কাঁটা প্রায় ১২:৩০ ছুঁই ছুঁই করছে।শেষ ব্যক্তিটিও উঠে গেলো ঘুমুতে যাবে বলে।এই সুযোগ।ওরা কমন রুম থেকে বেরিয়ে এলো। গুটি গুটি পায়ে ওরা ৭ম তলা থেকে নেমে এলো।প্রতিটা ফ্লোরেই একজন করে ক্যাসল গার্ড থাকে।৭ম তলার গার্ডকে ওরা শর্টকাট নিয়ে এড়িয়ে গেলো।ষষ্ঠ তলার গার্ড অঘোরে নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে।সামারল ান ওকে কষে একটা চড় লাগাতে চেয়েছিল।কিন্তু বাকিরা বাধা দিলো।৫ম তলায় এসে ওরা ওদের পরিচিত এক পোর্টরেট এর ভেতর ঢুকে আরেকটা শর্টকাট নিয়ে সোজা ৩ তলায় চলে এলো। ৩য় তলায় ল্যান্ডিং এর সামনেই লম্বা করিডোর।সেই করিডোরে ২টি রাস্তা।একটা রাস্তা হচ্ছে সেই করিডোরের শেষ প্রান্তে,যেখান দিয়ে ওরা নিয়মিত ক্লাসে যাতায়াত করে।আর আরেকটা রাস্তা করিডোরের ঠিক মাঝখান থেকে সোজা ডান দিকে চলে গেছে।ডানের এই রাস্তাটি ওরা কখনও ব্যাবহার করে না।কারণ,সেটি কিছুদূর যাওয়ার পরেই শেষ হয়ে গিয়েছে।রাস্তাটি যেখানে শেষ ঠিক তার একটু আগে ডান পাশে একটা সিংহের মূর্তি। ওদের লক্ষ্য ওটাই।কিন্তু বিধি বাম।করিডোরের ঠিক মাঝ বরাবর একটা গম্ভীর প্রকৃতির গার্ড পাহারা দিচ্ছে। -"ব্যাটা ওখানে তাঁবু গেড়ে বসে আছে দেখছি। কিছুতেই নড়ছে না।ওকে সরাবো কিভাবে?"সামারলান ম্যাডলার বিরক্তির সাথে বলল। -"ব্যাপারটা আমার হাতে ছেড়ে দে।ডোরমিও সোপোরাস...",ফিস ফিস করে স্পেলটা কাস্ট করলো মারজিয়া।স্পেল এর প্রভাবে গম্ভীর প্রকৃতির গার্ডটা ঢুলতে লাগলো।ওর চোখের পাতা ভারি হয়ে আসছে।ধীরে ধীরে দেয়ালে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে পড়লো লোকটা। ধীর পায়ে ওরা ৪জন সিংহের মূর্তিটার কাছে গেলো।মূর্তিটার গায়ে ওয়ান্ড দিয়ে আলতো করে ২ বার টোকা দিতেই মূর্তিটি গম্ভীর গলায় বলে উঠলো,"পাসওয়ার্ড?" গার্ডের দিকে একবার তাকিয়ে অ্যারন বলল,"মেল্যানকোলি।"সিংহটা পাসওয়ার্ড শুনেই একটা ভয়ঙ্কর হুঙ্কার দিয়ে একপাশে সরে গেলো। ওরা ভয়ে ভয়ে পেছনে তাকাল।এই শব্দে না আবার গার্ডটার ঘুম ভেঙ্গে যায়।কিন্তু না।গার্ডটা অঘোরে ঘুমুচ্ছে।মারজিয়ার স্পেলটা ওকে ঠিকই ঘুম পাড়িয়ে রেখেছে।সিংহের পিছনে একটা সরু সুড়ঙ্গ।ওরা একজন আরেকজনের দিকে তাকিয়ে এক এক করে সবাই সুড়ঙ্গে প্রবেশ করলো। সুড়ঙ্গের ভেতর একদম অন্ধকার।ওরা খুব সাবধানে হাঁটছে।একজনের পিছনে আরেকজন।বেশ কিছুক্ষণ ওদেরকে সুড়ঙ্গ ধরে হাঁটতে হল। মনে হচ্ছে রাস্তাটা ওদেরকে স্কুলের অনেক নিচে নিয়ে যাচ্ছে।ঘন অন্ধকারে কিছু দেখা যাচ্ছে না দেখে ওরা ওয়ান্ড লাইট জ্বালালো।কিন্তু একি!! ম্যাজিক ওয়ান্ড এর লাইটটা একটু জ্বলে উঠে সাথে সাথে নিভে গেলো।সবাই মিলে কয়েকবার চেষ্টা করলো ওদের ওয়ান্ড লাইট জ্বালানোর।কিন্তু না।কিছুতেই জ্বলছে না।কিছু একটা সমস্যা আছে জায়গাটাতে।ওরা ছোট সুড়ঙ্গ ধরে প্রচণ্ড অন্ধকারের মাঝে সামনে এগিয়ে যেতে লাগলো।অনেক্ষন এভাবে হাঁটার পর অবশেষে ওরা সুড়ঙ্গ থেকে বেরিয়ে এলো। ওরা দেখল ওদের সামনে একটা জঙ্গলের মত জায়গা।জঙ্গলের ভেতর একসাথে প্রবেশ করলো ওরা। ঘন অন্ধকারে কিছু দেখা যাচ্ছে না।ওরা ৪ জন ঘুটঘুটে অন্ধকারে হাতড়ে হাতড়ে সামনে হাঁটতে লাগলো। -"এত্ত অন্ধকারে কিছু দেখাও যাচ্ছে না।আবার নিজের ওয়ান্ড এর লাইট জ্বালানোও যাচ্ছে না।কি অদ্ভুত ব্যাপার স্যাপার হচ্ছে বল দেখি।" সামারলান বিরক্ত কণ্ঠে বলল।সামারলান এর কথা শুনে অ্যারন কিছু একটা বলতে যাচ্ছিলো তার আগেই হঠাত মারজিয়া ওর মুখ চেপে ধরল। -"কি হয়েছে তোমার...এমন..." -"শ...শ...চুপ।সামনে দেখো।কেউ একজন আসছে।"মারজিয়া ফিসফিস করে সবাইকে সাবধান করে দিলো।ওরা যেখানে দাঁড়িয়ে ছিল তার একটু সামনে বাম পাশের একটা কাঁটাঝোপের আড়াল থেকে জিনিসটা বেরিয়ে এলো।ছোট-খাটো একটা প্রাণী।মাথায় ঝাঁটার মত চুল। পা মাত্র একটি। সেই এক পায়ে অদ্ভুতভাবে খুঁড়িয়ে খুড়িয়ে হাঁটছে।ডান হাতে একটা লণ্ঠন ধরে রেখেছে। -"কি জিনিস এটা?এইরকম কারো কথা কোনও বই এ পড়েছি বলে মনে পড়ছে না।"খুব ক্ষীণ কন্ঠে মারজিয়া বলে উঠলো।অন্যরাও তার সাথে মাথা নাড়ালো।তারাও পড়েনি।কিন্তু একমাত্র এলিসকে বিভ্রান্ত দেখাচ্ছিল।সে ভ্রু কুঁচকে মনে করার চেষ্টা করছে স্কুলের কোন বইয়ে সে এই প্রাণীর নাম পড়েছে। -"কি এলিস?তুই পড়েছিস নাকি এর সম্পর্কে?"ফিসফি স করে অ্যারন জিজ্ঞেস করলো। -"হুম,কোথায় যেন পড়েছি,এর নামটাও একটু একটু মাথায় আসছে,হাঙ্ক...হা ঙ্কি...পাঙ্কি...এই জাতীয় নাম।" এলিসের কথা শুনে ফিক করে হেসে দিলো সামারলান ম্যাডলার। -"কি?তুমি যদি আমার থেকে এত বেশি জানো তাহলে নিজেই বল না এটার নাম কি?"এলিসের রাগ উঠে গেলো। -"আরে রে রে...রাগ করছো কেন,আসলে এত অদ্ভুত নাম শুনে হাসি আটকে রাখতে পারলাম না...হাঙ্কি পাঙ্কি।হি হি হি..." শব্দ করে হেসে উঠলো ম্যাডলার। -"শিট,সামারলান,তুই এটা কি করলি,এখন ঐটা আমাদেরকে শুনতে পেয়েছে।"মারজিয়া ভয়ার্ত গলায় বলল। শব্দ শুনে প্রাণীটি সোজা ওদের দিকে ঘাড় ফিরিয়ে তাকাল।আসছে।ওটা ধীরে ধীরে ওদের দিকেই আসছে। ওদের ঠিক সামনে দাঁড়িয়ে হাতের লণ্ঠনটা উঁচু করে ওদের দিকে ধরলো।কিছুক্ষণ ওদের দিকে তাকিয়ে কি যেন ভাবলো।তারপর হাতের লণ্ঠন নিয়ে ওদের কিছুদূর সামনে হেটে আবার পিছনে ফিরে ওদেরকে দেখলো। -"ওটা চাচ্ছেটা কি?"অ্যারন বলল। প্রাণীটা এক দৃষ্টিতে ওদের দিকে তাকিয়ে আছে।এবার সে আরও কিছুদূর সামনে গিয়ে আবার পিছন ফিরে তাকালো। -"সম্ভবত ওটা চায় আমরা ওটার পিছু পিছু যাই।সে হয়তো আমাদের রাস্তা দেখাতে চায়।সম্ভবত এই জায়গায় ওকে রাখাই হয়েছে গাছটার কাছে যারা আসবে তাদেরকে রাস্তা দেখানোর জন্যে।"সামারলান বিজ্ঞের মত বলল।বাকিরাও মাথা নেড়ে তাকে সমর্থন জানালো। একজন ছাড়া। -"তুমি কিভাবে বুঝলে এটা তোমাকে ঠিক জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে?তুমি জানো না,জাদুর দুনিয়ার ১ নাম্বার নিয়মই হচ্ছে 'অপরিচিত কোন কিছুকে বিশ্বাস করবে না?'এলিস বিজ্ঞের মত বলে উঠলো। -"হুম,তাহলে সবার প্রথমে তোমাকেই অবিশ্বাস করা উচিত।কারণ তুমি আমার অপরিচিত।"গোঁয়ারের মত বলল সামারলান। -"তোমার ওই গোঁয়ার্তুমিই তোমাকে একদিন ডোবাবে।দেখে নিও।"এলিসের পাল্টা জবাব। -"আরে রে রে...তোমরা ঝগড়া করে কি লাভ? ব্যাপারটা হচ্ছে,আমরা তো জানি না এই প্রাণী কি ধরনের,তার স্বভাব কি।সে কি চায়।আমি বলি কি,আমরা ওকে ফলো করি।তবে নিরাপদ দূরত্বে থেকে। ঠিক আছে?সে যদি কোন হাঙ্কি পাঙ্কি করার চেষ্টা করে তাহলে সাথে সাথেই ওকে উড়িয়ে দেবো,কেমন?"মারজিয়া ত্বরিতগতিতে সমাধান দিলো।সবাই মাথা নেড়ে সম্মতি দিলো।হাতের ওয়ান্ডগুলো শক্ত করে ধরল ওরা। প্রাণীটির দিকে যেতেই সে আরও কিছুদূর এগিয়ে গেলো।কিছুতেই সে ওদের একদম কাছে আসছে না।হয়তো নিজেই দূরত্ব বজায় রাখতে চাচ্ছে।ঘন অন্ধকারে ওরা প্রাণীটির লন্ঠনের আলোয় পথ চলতে লাগলো।ওদের নিজেদের ওয়ান্ড লাইট যেহেতু জ্বলছে না সেহেতু অপরিচিত কারো লন্ঠনের আলোকে বিশ্বাস করা ছাড়া ওদের উপায় কি?লন্ঠনটাকে দেখে যদিও মনে হচ্ছে সেটা অনেক তীব্রভাবে জ্বলছে কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে লন্ঠনটির আলো তার আশেপাশের জায়গাগুলোকে খুবই মৃদুভাবে আলোকিত করছে।এভাবে কিছুক্ষণ অদ্ভুত প্রাণীটির লন্ঠনের আলোয় হাঁটার পর আশে পাশে ওরা অনেকগুলো ডোবা দেখতে পেলো। ডোবাগুলোর মাঝখানের আইল দিয়ে ওদেরকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যাচ্ছে প্রাণীটি। -"ব্যাটার মতলবটা কি?পথ দেখিয়ে দেখিয়ে কই কই নিয়ে যাচ্ছে?"এলিস বলল। -"হয়তো ঠিক পথেই নিয়ে যাচ্ছে।গাছটা হয়তো কোন ডোবার পাশেই আছে।"সামারলান ওকে নিশ্চিত করলো। প্রাণীটা হঠাত করে বলা নেই কওয়া নেই একটা ডোবার ঠিক সামনে দাঁড়িয়ে গেলো।এতই আচমকা দাঁড়িয়ে গেলো যে সামারলান আর একটু হলে ওর গায়ের উপর পড়ে যেতো। -"কি ব্যাপার,দাঁড়িয়ে গেলে কেন?কিছু বলতে চাও?"মারজিয়া প্রাণীটিকে জিজ্ঞেস করলো। প্রাণীটা একবার ওদের দিকে তাকালো,এরপর হাতের লন্ঠনটা সামনের দিকে ধরে সেদিকে তাকালো।ডোবাটার ওপাশে একটা বিশাল গাছ।সেই গাছ।সেই বিশাল চিরসবুজ ওক গাছ। -"হুররে...দেখেছো,দেখেছো...বলেছ িলাম না,এ আমাদের রাস্তা দেখিয়ে গাছটার কাছে নিয়ে যাবে,তোমরাই না আমার কথা বিশ্বাস করলে না,"সামারলান বিশ্বজয়ের ভঙ্গিতে বললো। -"সে তো বুঝলাম,কিন্তু গাছটার কাছে যাবো কিভাবে?ডোবার ভেতর দিয়ে যাওয়া ছাড়া তো আর রাস্তা দেখছি না।"অ্যারন বলল। -"তোমরা কি গাছটাকে প্রশ্ন করতে চাও,নাকি চাও না?চাইলে তোমাদের ওই ডোবায় নামতে হবে।"সামারলান বলল। -"আমি নামবো না।আমার জামা ময়লা হয়ে যাবে।"কাঁদো কাঁদো ভঙ্গিতে মারজিয়া অভিযোগ জানালো। -"অ্যাডভেঞ্চার করার কথা যখন বলছিলি তখন খেয়াল ছিলো না?যখন অ্যাডভেঞ্চারে এসেই পড়েছিস তখন আর এত চিন্তা করলে হবে না।" সামারলান ওকে মনে করিয়ে দিলো। -"আচ্ছা আচ্ছা,ঠিক আছে,তুই নাম,আমরা তোর পিছে পিছে আসছি।"মারজিয়া বিতৃষ্ণার সাথে বলল।ওরা সবাই ডোবায় নামার জন্যে প্রস্তুত।শুধু একজন ছাড়া।এলিস।সে এতক্ষণ ধরে প্রাণীটাকে দেখছে আর মনে করার চেষ্টা করছে যে এর কথা কোথায় পড়েছে। বাকি ৩ জন ডোবায় নামতে যাবে তখনই ওর মাথায় বিদ্যুৎ চমকের মত এলো নামটা। ওর নাম হচ্ছে......হিঙ্কি পাঙ্ক।রাতের বেলা একাকী পথিক দেখলে লন্ঠন নিয়ে এগিয়ে আসে,এটাই সেটা...ও নিশ্চিত...পথিক দেখলে লন্ঠন নিয়ে এগিয়ে আসে...আর রাস্তা দেখায়,আর...আর...... -"এইইইই...ঐখানে নামবি না......"এলিস চিৎকার করে উঠলো।ওর এই মাত্র কিছু একটা মনে পড়লো। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে।খুব জোরে একটা আর্তনাদ করে উঠলো সামারলান ম্যাডলার।ও ডুবে যাচ্ছে।ধীরে ধীরে পানির নিচে চলে যাচ্ছে।ওটা কোন সাধারণ ডোবা নয়। চোরাবালি। সামারলানের কোমর পর্যন্ত ডুবে গেছে,বাকি অংশটাও ধীর ধীরে নিচে চলে যাচ্ছে।ও চিৎকার করছে জোরে জোরে।ভয়ানক ভাবে হাত পা ছুঁড়ছে।সামারলান ডুবে যাওয়া মাত্র হিঙ্কি পাঙ্ক এক দৌড়ে ঝোপের আড়ালে পালিয়ে গেলো। সেই সাথে ডোবার অপর পাশে থাকা গাছটাও অদৃশ্য হয়ে গেলো। -"সামারলান,হাত পা ছুড়বে না,প্লিজ...এতে আরও তাড়াতাড়ি নিচে চলে যাবে...স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকো।"এলিস ভয়ার্ত গলায় চিৎকার দিয়ে উঠলো। কিন্তু সামারলান ওর কথায় কান দিচ্ছে না।ভয়ংকর ভাবে চিৎকার করতে করতে হাত পা ছুড়েই যাচ্ছে।ডুবে যাচ্ছে...বুক পর্যন্ত ডুবে গেছে। বিস্ফারিত চোখে সব দেখছিলো অ্যারন আর মারজিয়া।ওরা ভাগ্যিস নামেনি।এলিসের চিৎকার শুনে জায়গায় দাঁড়িয়ে গেছে। -"প্লিজ কেউ ওকে বাঁচাও,প্লিজ...দোহাই তোমাদের...কিছু একটা করো...",মারজিয়া চিৎকার দিয়ে উঠলো।নিজের সবচেয়ে কাছের বন্ধুটার পরিণতি দেখে ওর মাথা থেকে পা পর্যন্ত কাঁপছে।ভুলেই গেছে যে সে ম্যাজিক করতে পারে। অ্যারন ওয়ান্ডটা সামনের দিকে দিয়ে চিৎকার করে উঠলো, -"সাস্পেন্ডিয়াম লেভিটেটাম........",ওর ওয়ান্ডের মুখে এক ঝলক আলো দেখা গেলো।কিন্তু একি!!স্পেলটা প্রয়োগ করেছিলো সামারলানকে উপরে তুলার জন্যে। কিন্তু কাজ হয়নি!!সে আবার চেষ্টা করলো, -"সাসপেন্ডিয়াম লেভিটেটাম...",আবার আলোর ঝলকানি।এবারো কিছুই হল না।সামারলান গলা পর্যন্ত নিচে চলে গেছে।জীবন আর মৃত্যুর মাঝে আর বেশি দূরত্ব নেই।অ্যারন মরিয়া হয়ে বার বার চিৎকার করে উঠলো, -"সাস্পেন্ডিয়াম লেভিটেটাম...সাস ্পেন্ডিয়াম লেভিটেটাম...সাস ্পেন্ডিয়াম..." কিছুতেই কিছু হচ্ছে না।সামারলানের মুখ ডুবে গেছে।ওর মুখে কাদা ঢুকে যাচ্ছে।অ্যারনের পিছন থেকে একটা কণ্ঠ ভেসে এলো, -"নেক্টোলাইনিয়াম ইরাক্টো...",এলিস এতক্ষণ স্ট্যাচুর মত দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সব দেখছিল।এবার সে সম্বিত ফিরে পেল।স্পেলটা কাস্ট করার সাথে সাথে এলিসের ম্যাজিক ওয়ান্ড থেকে একটা লম্বা বাঁকানো দড়ি বেরিয়ে সামারলানের হাতকে সাপের মত জড়িয়ে ধরলো।সামারলান এক হাতে সেটা ধরতে চেষ্টা করলো।এলিস যেই দড়িটা টান দিতে যাবে সাথে সাথে দড়িটা সম্পূর্ণ হাওয়ায় মিলিয়ে গেলো।সামারলানের এখন আর শুধু হাত দেখা যাচ্ছে।খুব বেশি আর সময় নেই।এলিস আবার চেষ্টা করলো। আবারো একটা দড়ি বের হল,সামারলানের হাতে পেঁচিয়ে গেলো এবং প্রায় সাথে সাথেই অদৃশ্য হয়ে গেলো।এখানে কিছু একটা সমস্যা হয়েছে।ওরা যত স্পেলই চেষ্টা করছে কোনটাই কাজ করছে না।ওরা অনেক দেরিতে হলেও বুঝতে পারলো যে এটাই এই স্থানটির স্বকীয় বৈশিষ্ট্য।এখানে কোন স্পেলই কাজ করবে না। ওদের আতঙ্কিত চোখের সামনেই ধীরে ধীরে সামারলান ডুবে গেলো চোরাবালিতে। ভয়ঙ্কর এক নীরবতা নেমে এলো রহস্যময় জায়গাটিতে।তবে তা বেশিক্ষণের জন্যে নয়। সেই নীরবতাকে খান খান করে ভেঙ্গে দিলো বুক বিদীর্ণ করা এক চিৎকার।মারিজিয়ার চিৎকার করে কাঁদছে। সামারলান যেখানে ডুবে গেছে সেখানে এক দৃষ্টিতে ক্লান্তভাবে তাকিয়ে থাকলো ওরা ৩ জন। প্রচণ্ড হতাশা ওদেরকে জেঁকে ধরেছে। মারজিয়ার ফোঁপানোর শব্দ এই নির্জন এবং অদ্ভুত রকমের রহস্যময় স্থানে বারবার প্রতিফলিত হচ্ছে। (চলবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ "অন্য ভুবনঃলুসিয়ানার কার্স" পর্ব ৩
→ "অন্য ভুবনঃলুসিয়ানার কার্স" পর্ব-০১
→ "অন্য ভুবনঃলুসিয়ানার কার্স" পর্ব-০২

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now